আন্তর্জাতিক
ইরানের সঙ্গে খুবই ভালো আলোচনা হয়েছে, বললেন ট্রাম্প
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও চরম উত্তেজনার মধ্যেই ওমানের রাজধানী মাস্কাটে এক পরোক্ষ সংলাপে বসেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা। গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় ইরানের সঙ্গে খুবই ভালো আলোচনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গত কয়েকদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সামরিক শক্তি জড়ো করেছে মার্কিনিরা। এরমধ্যেই আলোচনা হয়েছে। এ আলোচনার লক্ষ্য ছিল উত্তেজনা বৃদ্ধি আটকানো।
ভালো আলোচনা হয়েছে জানিয়ে ট্রাম্প তার সরকারি বিমান এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের বলেন, “ইরান নিয়ে আমাদের খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে ইরান চুক্তি করতে মরিয়া। আমরা আগামী সপ্তাহে আবারও বৈঠকে বসতে যাচ্ছি।”
আলোচনার মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
ওমানে আলোচনা চলার মধ্যেই দেশটিকে নিয়ে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরমাধ্যমে তেহরানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প এই আদেশে বলেছেন, যেসব দেশ ইরান থেকে পণ্য কিনবে সেসব দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র সেকেন্ডারি শুল্ক আরোপ করবে।
এদিকে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গতকাল ইরানি ও মার্কিন প্রতিনিধি দলের মধ্যে মূলত পরমাণু ইস্যু নিয়ে কথা হয়েছে। এতে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ইস্যু উত্থাপনই করা হয়নি। ইরান বৈঠকে জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করবে না। এর বদলে অন্য কিছু বিবেচনা করলে সেখানে তারা ছাড় দিতে পারে।
এমএন
আন্তর্জাতিক
ভারতের সংসদে বাংলাদেশকে নিয়ে একাধিক আলোচনা
ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় বাংলাদেশ-ভারত বিদ্যমান সম্পর্ক এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং চীন-পাকিস্তান প্রভাব নিয়ে বিরোধী দলগুলোর করা বিভিন্ন প্রশ্নের লিখিত উত্তর দেন ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং।
তাকে প্রশ্ন করা হয় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এ মুহূর্তে স্পর্শকাতর সম্পর্ক চলছে কি না এবং পাকিস্তান এটির সুযোগ নিচ্ছে কি না। যা তাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
জবাবে কীর্তি বর্ধন বলেন, “প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে রয়েছে অত্যন্ত গভীর ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত সম্পর্ক; এমনকি আমাদের সামাজিক বন্ধনও অভিন্ন। আমাদের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল লক্ষ্য হলো জনকল্যাণমুখী উন্নয়ন। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় নিয়মিত বিভিন্ন বৈঠক ও পারস্পরিক মতবিনিময় অব্যাহত রয়েছে।”
পাকিস্তান কোনো সুযোগ নিচ্ছে কি না এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অন্য দেশগুলোর থেকে স্বাধীন।”
এছাড়া বাংলাদেশের যেসব জায়গায় ভারতের জাতীয় স্বার্থ রয়েছে সেগুলোর ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং স্বার্থগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তাকে আরেকটি প্রশ্ন করা হয়— বাংলাদেশে সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে (কথিত) প্রকাশ্যে হত্যার ব্যাপারে ভারত সরকার কোনো আলোচনা করেছে কি না।
জবাবে তিনি বলেন, “ভারত ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশ সরকারের কাছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠকসহ সকল প্রাসঙ্গিক পরিবেশে উত্থাপন করে আসছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে এই বিষয়টি তুলেছেন এবং গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সাথে বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বিষয়টি আলোচনা করেছেন।”
তাকে আলাদা অপর এক প্রশ্নে জিজ্ঞেস করা হয় ‘বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান জোটের’ বিষয়টি ভারত সরকার আমলে নিয়েছে কি না। কারণ এই দেশগুলোর সঙ্গেই ভারতের সবচেয়ে বেশি সীমানা রয়েছে। যদি এটি আমলে নেওয়া হয়েও থাকে তাহলে এ থেকে উদ্ভূত সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা হুমকি সম্পর্কে সরকার কী করছে?
জবাবে ভারতীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ভারত সরকার ভারতের নিরাপত্তা ও অর্থনীতি সংক্রান্ত স্বার্থের ওপর সার্বক্ষণিক নজর এবং এগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। যার মধ্যে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোর বিষয়ও আছে।”
‘সবার আগে প্রতিবেশি’ এ নীতি অনুযায়ী ভারত সরকার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত কূটনৈতিক আলোচনা, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া নিজস্ব নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষা করার পাশাপাশি এই অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে ভারত সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এমএন
আন্তর্জাতিক
পুতিনের যে প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে পরমাণু ঝুঁকি বাড়ালেন ট্রাম্প
কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের ক্ষেত্রে সদ্য মেয়াদোত্তীর্ণ সীমা স্বেচ্ছায় বাড়ানোর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ট্রাম্প বলেন, তিনি চান দুই দেশের আলোচকরা বসে একটি নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা করুক। পুরনো চুক্তিটিকে তিনি খারাপভাবে আলোচিত বলে মন্তব্য করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, আগের চুক্তি অর্থাৎ নিউ স্টার্ট (New START)-এর মেয়াদ বাড়ানোর পরিবর্তে পারমাণবিক বিশেষজ্ঞদের দিয়ে একটি নতুন, উন্নত ও আধুনিক চুক্তির ওপর কাজ করা উচিত যুক্তরাষ্ট্রের, যা দীর্ঘদিন কার্যকর থাকবে।
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, নতুন চুক্তিতে তিনি চীনকেও অন্তর্ভুক্ত করতে চান। তবে বেইজিং কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি।
প্রতিবেদন অনুসারে, নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার অর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার বিশাল পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর নিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়া বা না থাকা, যা পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে নতুন উদ্বেগজনক এক সময়ে সম্ভাব্য অস্ত্র প্রতিযোগিতা নিয়ে আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
পুতিন গত বছর বলেছিলেন, ওয়াশিংটন একই প্রতিশ্রুতি দিলে রাশিয়া আরও এক বছরের জন্য চুক্তিটি মেনে চলবে। তবে সেই প্রতিশ্রুতি না মেলা এবং চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া নিয়ে বৃহস্পতিবার দুঃখ প্রকাশ করেছে মস্কো।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, পারমাণবিক অস্ত্রের ক্ষেত্রে রাশিয়া স্থিতিশীলতার বিষয়ে দায়িত্বশীল ও সুচিন্তিত অবস্থান বজায় রাখবে।
এদিকে আল জাজিরা বলছে, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনার জন্য আবুধাবিতে থাকা মার্কিন ও রুশ প্রতিনিধিদল নিউ স্টার্ট চুক্তি ছয় মাস বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা করেছে বলে জানা গেছে।
বলা হচ্ছে, চুক্তিটিতে আর কোনো আনুষ্ঠানিক মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ না থাকায় এটি একটি অনানুষ্ঠানিক হ্যান্ডশেক বা সমঝোতা হতে পারে।
সম্প্রতি ভারত ও পাকিস্তানের মতো পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ বিশ্লেষকদের উদ্বিগ্ন করেছে। তাদের আশঙ্কা, সংঘাতে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে যে নিষেধাজ্ঞা ও চুক্তিগুলো ছিল, সেগুলো ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। এর আগে পশ্চিমা দেশগুলোর ইউক্রেনকে সমর্থনের জবাবে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন পুতিন, যা পর্যবেক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
প্রথম স্টার্ট (START) চুক্তি ১৯৯১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়। নিউ স্টার্ট নামের চুক্তিটি ২০১০ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ স্বাক্ষর করেন। এতে প্রতিটি দেশকে সর্বোচ্চ ১,৫৫০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং ৭০০টি মোতায়েনযোগ্য ও ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমারু বিমানে সীমাবদ্ধ রাখা হয়।
২০২১ সালে পুতিন ও তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে চুক্তিটির মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানো হয়।
এমএন
আন্তর্জাতিক
ওবামা দম্পতিকে বানররূপে দেখিয়ে ট্রাম্পের ভিডিও পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার একটি নির্বাচন-সংক্রান্ত ষড়যন্ত্রমূলক ভিডিও পোস্ট করেছেন। যেখানে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও তার স্ত্রী মিশেল ওবামাকে বানরের রূপে দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় শীর্ষস্থানীয় ডেমোক্র্যাট নেতাদের তীব্র সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত প্রায় এক মিনিটের ওই ভিডিওর শেষের দিকে প্রায় এক সেকেন্ডের জন্য ওবামা দম্পতিকে বানরের রূপে দেখানো হয়েছে। ভিডিওতে তাদের শরীর দেখানো হয়েছে বানরের শরীরের মতো এবং মুখাবয়ব রাখা হয়েছে তাদের চেহারার মতোই।
ভিডিওটিতে আবারও ভিত্তিহীন দাবি করা হয়েছে, ব্যালট গণনাকারী প্রতিষ্ঠান ডোমিনিয়ন ভোটিং সিস্টেমস ২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের কাছ থেকে বিজয় ‘ছিনিয়ে নিতে’ সহায়তা করেছিল। শুক্রবার ভোর পর্যন্ত ভিডিওটি প্রেসিডেন্টের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক হাজারের বেশিবার লাইক পেয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের কার্যালয় এই পোস্টের তীব্র নিন্দা জানায়। তিনি ২০২৮ সালের ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতার সম্ভাব্য দাবিদার এবং ট্রাম্পের একজন কট্টর সমালোচক।
নিউসমের প্রেস অফিস এক্সে লিখেছে, ‘প্রেসিডেন্টের এই আচরণ জঘন্য। প্রত্যেক রিপাবলিকানকে এখনই এর নিন্দা জানাতে হবে।’ বারাক ওবামার ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং সাবেক শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বেন রোডসও ভিডিওটির দৃশ্যপটের নিন্দা করেন।
এমএন
আন্তর্জাতিক
নতুন ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি উন্মোচন করল ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) একটি নতুন ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি উন্মোচন করেছে। বুধবার দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান চিফ অব স্টাফ আবদোলরহিম মুসাভি ও আইআরজিসির এয়ারোস্পেস ডিভিশনের কমান্ডার সাইয়্যেদ মাজিদ মুসাভির উপস্থিতিতে ঘাঁটিটি উন্মোচন করা হয়। এসময় ঘাঁটিতে আইআরজিসির ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটগুলোর সক্ষমতা ও কার্যকারিতা পর্যালোচনা করা হয়।
পাশাপাশি কৌশলগত এই ইউনিটের অগ্রগতি ও প্রস্তুতি সম্পর্কে সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ব্রিফ করা হয়।
ঘাঁটি পরিদর্শনকালে আবদোলরহিম মুসাভি বলেন, ‘প্রযুক্তিগত সব দিক উন্নত করার মাধ্যমে ইরান তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা শক্তিশালী করেছে, যা দেশের প্রতিরোধক্ষমতা আরো বাড়িয়েছে। তিনি দাবি করেন, শত্রুপক্ষের যেকোনো পদক্ষেপের মোকাবিলায় ইরান প্রস্তুত।
মুসাভি আরো বলেন, ‘গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর আমরা আমাদের সামরিক মতবাদে পরিবর্তন এনেছি।
প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে সরে এসে এখন আমরা আক্রমণাত্মক কৌশলের দিকে এগোচ্ছি, যেখানে দ্রুত ও ব্যাপক পরিসরের অভিযান, অসমমিত যুদ্ধ এবং কঠোর সামরিক কৌশলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা যখন চরমে, ঠিক সেই সময়েই এই ঘোষণা এলো। ওয়াশিংটন সম্প্রতি ইরানের আশপাশের অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে এবং তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে অথবা হামলার ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
এর আগে রোববার ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, আবদোলরহিম মুসাভি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ‘ভুল পদক্ষেপ’ গোটা অঞ্চলে যুদ্ধের আগুন ছড়িয়ে দিতে পারে।
তিনি বলেন, ‘সামান্যতম ভুলই ইরানকে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার স্বাধীনতা দেবে। তখন কোনো আমেরিকান নিরাপদ থাকবে না এবং এই অঞ্চলের আগুন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের গ্রাস করবে।’
এমএন
আন্তর্জাতিক
৮০০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলকে ইলন মাস্ক
বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ এবার রেকর্ড ৮০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। মার্কিন এই উদ্যোক্তার রকেট নির্মাণ প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআই একীভূত হওয়ার পর এই বিশাল সম্পদ অর্জিত হলো। ইতিহাসে আর কোনো ব্যক্তি এককভাবে এত বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হতে পারেননি।
ফোর্বস ম্যাগাজিনের হিসাব অনুযায়ী, এই একীভূতকরণের ফলে যৌথ প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ২৫ ট্রিলিয়ন ডলার। এর মাধ্যমে মাস্কের সম্পদ বেড়েছে প্রায় ৮৪ বিলিয়ন ডলার, যা তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণকে নিয়ে গেছে রেকর্ড ৮৫২ বিলিয়ন ডলারে।
চুক্তির আগে স্পেসএক্সে ইলন মাস্কের আনুমানিক ৪২ শতাংশ মালিকানা ছিল, যার মূল্য ধরা হয়েছিল প্রায় ৩৩৬ বিলিয়ন ডলার। গত ডিসেম্বরের দরপত্র অনুযায়ী ব্যক্তিমালিকানাধীন এই কোম্পানিটির মোট মূল্যায়ন ছিল ৮০০ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, চলতি মাসের শুরুতে এক্সএআই একটি বেসরকারি তহবিল সংগ্রহ করে, যেখানে কোম্পানিটির মূল্যায়ন ধরা হয় ২৫০ বিলিয়ন ডলার। এতে মাস্কের প্রায় ৪৯ শতাংশ মালিকানার মূল্য দাঁড়ায় ১২২ বিলিয়ন ডলার।
একীভূতকরণের পর স্পেসএক্সের মূল্যায়ন করা হয়েছে ১ ট্রিলিয়ন ডলার এবং এক্সএআইয়ের ২৫০ বিলিয়ন ডলার। ফোর্বসের হিসাবে, নতুন যৌথ প্রতিষ্ঠানে ইলন মাস্কের মালিকানা প্রায় ৪৩ শতাংশ, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫৪২ বিলিয়ন ডলার।
এর ফলে স্পেসএক্স এখন মাস্কের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর কাছে টেসলার প্রায় ১২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে, যার মূল্য আনুমানিক ১৭৮ বিলিয়ন ডলার। পাশাপাশি টেসলার শেয়ার অপশন রয়েছে আরও প্রায় ১২৪ বিলিয়ন ডলারের, যদিও এর মধ্যে গত নভেম্বর অনুমোদিত রেকর্ড পারিশ্রমিক প্যাকেজ অন্তর্ভুক্ত নয়।
এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে এটি ইলন মাস্কের দ্বিতীয় বড় একীভূতকরণ। গত মার্চে তিনি তাঁর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কোম্পানি এক্সএআই এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স একীভূত করার ঘোষণা দেন। ওই সময় এক্সএআইয়ের মূল্যায়ন ধরা হয়েছিল ৮০ বিলিয়ন ডলার এবং এক্সের ৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২২ সালে ঋণ বাদ দিয়ে টুইটার অধিগ্রহণে ব্যয় করা অর্থের কাছাকাছি।
তবে এসব চুক্তিতে মাস্ক একই সঙ্গে ক্রেতা ও বিক্রেতার ভূমিকায় থাকায় ঘোষিত মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। বর্তমানে সব প্রতিষ্ঠানই স্পেসএক্সের কাঠামোর আওতায় এসেছে। এর পাশাপাশি, স্পেসএক্স চলতি বছরের শেষ দিকে আইপিও আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে, ফলে শিগগিরই এসব কোম্পানিকে শেয়ারবাজারের কঠোর নজরদারির মুখোমুখি হতে হবে।
এর আগে গত ডিসেম্বরেই ইলন মাস্ক ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ৭০০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের মাইলফলক অতিক্রম করেন। বৈশ্বিক গবেষণা সংস্থা ইনফরমা কানেক্ট একাডেমির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যেই মাস্ক ট্রিলিয়নিয়ার—এক লাখ কোটি ডলারের মালিক—হতে পারেন। সেই লক্ষ্যেই দ্রুত এগিয়ে চলেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের।
এমএন



