আন্তর্জাতিক
পুতিনের যে প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে পরমাণু ঝুঁকি বাড়ালেন ট্রাম্প
কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের ক্ষেত্রে সদ্য মেয়াদোত্তীর্ণ সীমা স্বেচ্ছায় বাড়ানোর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ট্রাম্প বলেন, তিনি চান দুই দেশের আলোচকরা বসে একটি নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা করুক। পুরনো চুক্তিটিকে তিনি খারাপভাবে আলোচিত বলে মন্তব্য করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, আগের চুক্তি অর্থাৎ নিউ স্টার্ট (New START)-এর মেয়াদ বাড়ানোর পরিবর্তে পারমাণবিক বিশেষজ্ঞদের দিয়ে একটি নতুন, উন্নত ও আধুনিক চুক্তির ওপর কাজ করা উচিত যুক্তরাষ্ট্রের, যা দীর্ঘদিন কার্যকর থাকবে।
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, নতুন চুক্তিতে তিনি চীনকেও অন্তর্ভুক্ত করতে চান। তবে বেইজিং কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি।
প্রতিবেদন অনুসারে, নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার অর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার বিশাল পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর নিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়া বা না থাকা, যা পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে নতুন উদ্বেগজনক এক সময়ে সম্ভাব্য অস্ত্র প্রতিযোগিতা নিয়ে আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
পুতিন গত বছর বলেছিলেন, ওয়াশিংটন একই প্রতিশ্রুতি দিলে রাশিয়া আরও এক বছরের জন্য চুক্তিটি মেনে চলবে। তবে সেই প্রতিশ্রুতি না মেলা এবং চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া নিয়ে বৃহস্পতিবার দুঃখ প্রকাশ করেছে মস্কো।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, পারমাণবিক অস্ত্রের ক্ষেত্রে রাশিয়া স্থিতিশীলতার বিষয়ে দায়িত্বশীল ও সুচিন্তিত অবস্থান বজায় রাখবে।
এদিকে আল জাজিরা বলছে, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনার জন্য আবুধাবিতে থাকা মার্কিন ও রুশ প্রতিনিধিদল নিউ স্টার্ট চুক্তি ছয় মাস বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা করেছে বলে জানা গেছে।
বলা হচ্ছে, চুক্তিটিতে আর কোনো আনুষ্ঠানিক মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ না থাকায় এটি একটি অনানুষ্ঠানিক হ্যান্ডশেক বা সমঝোতা হতে পারে।
সম্প্রতি ভারত ও পাকিস্তানের মতো পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ বিশ্লেষকদের উদ্বিগ্ন করেছে। তাদের আশঙ্কা, সংঘাতে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে যে নিষেধাজ্ঞা ও চুক্তিগুলো ছিল, সেগুলো ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। এর আগে পশ্চিমা দেশগুলোর ইউক্রেনকে সমর্থনের জবাবে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন পুতিন, যা পর্যবেক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
প্রথম স্টার্ট (START) চুক্তি ১৯৯১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়। নিউ স্টার্ট নামের চুক্তিটি ২০১০ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ স্বাক্ষর করেন। এতে প্রতিটি দেশকে সর্বোচ্চ ১,৫৫০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং ৭০০টি মোতায়েনযোগ্য ও ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমারু বিমানে সীমাবদ্ধ রাখা হয়।
২০২১ সালে পুতিন ও তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে চুক্তিটির মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানো হয়।
এমএন
আন্তর্জাতিক
সৌদির চাপে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত, পিছু হটলেন ট্রাম্প
ইরানের অবরোধ ভাঙতে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় মিত্রদের তীব্র আপত্তির মুখে মাত্র দেড় দিনের মাথায় সেই পরিকল্পনা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের খবরে বলা হয়েছে, কূটনৈতিক ও সামরিক চাপে পড়ে ট্রাম্প প্রশাসন ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামের এই উদ্যোগ থেকে সাময়িকভাবে সরে এসেছে।
গত রোববার সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি উদ্যোগের ঘোষণা দেন। এর লক্ষ্য ছিল ইরানের হুমকি ও হামলার মধ্যেও পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা।
এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ এবং নজরদারি ব্যবস্থা জাহাজের নিরাপত্তা দিত। মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে কয়েকটি জাহাজকে নিরাপদে প্রণালি অতিক্রম করাতেও সক্ষম হয়েছিল।
তবে ঘোষণার পরপরই সৌদি আরবসহ গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় দেশগুলো অসন্তোষ প্রকাশ করে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ট্রাম্পের ঘোষণায় সৌদি নেতৃত্ব বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হয়েছিল। এরপর রিয়াদ ওয়াশিংটনকে জানিয়ে দেয়, তারা আর যুক্তরাষ্ট্রকে সৌদির প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে দেবে না। একইসঙ্গে সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার করেও সামরিক অভিযান চালানো যাবে না।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাম্প সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। কিন্তু সেই আলোচনায়ও অচলাবস্থা কাটেনি। ফলে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পকে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত করতে হয়।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান পরিচালনায় আঞ্চলিক মিত্রদের আকাশসীমা ও ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যুদ্ধবিমান, জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ এবং সহায়ক বিমানের জন্য এই সহযোগিতা ছাড়া বিকল্প পথ প্রায় নেই।
কাতার, ওমানসহ আরও কয়েকটি উপসাগরীয় দেশও অভিযোগ তোলে যে অভিযানের ঘোষণা দেওয়ার আগে তাদের সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় করা হয়নি।
এক মধ্যপ্রাচ্যীয় কূটনীতিক জানান, ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ওমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে। যদিও ওমান আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেনি।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, আঞ্চলিক মিত্রদের আগেই অবহিত করা হয়েছিল।
‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিতের পর ট্রাম্প জানান, যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তিনি সাময়িক বিরতি দিয়েছেন। ইরানও নতুন একটি শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাকিস্তান এই মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এদিকে ট্রাম্প বুধবার বলেন, গত চব্বিশ ঘণ্টায় খুব ভালো আলোচনা হয়েছে এবং ইরান সমঝোতায় আগ্রহী। তবে একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে আবারও ইরানে ব্যাপক বোমা হামলা চালানো হতে পারে।
মূলত আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। রিপাবলিকানদের একটি অংশ চাইছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস না করা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাওয়া হোক।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের জন্য আগামী সপ্তাহে বেইজিং সফরের আগেই ইরান ইস্যুর সমাধান চান ট্রাম্প।
ইরানের পার্লামেন্টের জ্যেষ্ঠ সদস্য এব্রাহিম রেজায়ি বলেছেন, যুদ্ধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না, যা তারা আলোচনায় পায়নি।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রয়োজন হলে ইরান কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত।
তবে জর্ডানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের অর্থনৈতিক অবস্থা দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য দেশটির নেই।
আন্তর্জাতিক
বিজয়ের দলের ১০৭ এমপির একযোগে পদত্যাগের হুঁশিয়ারি
ভারতের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে বড় চমক দেখিয়েছে বিজয় থালাপতির দল তামিলাগা ভেট্ট্রি কাজাগাম (টিভিকে)। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পায়নি দলটি। ফলে জোট নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে তার দলের ১০৭ এমপি একযোগে পদত্যাগের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
শুক্রবার (৮ মে) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্রাবিড় মুনেত্র কড়গম (ডিএমকে) বা সর্বভারতীয় আন্না দ্রাবিড় মুনেত্র কড়গম (এআইএডিএমকে) সরকার গঠনের চেষ্টা করলে দলের ১০৭ এমপি পদত্যাগ করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে টিভিকে। দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।
ডিএমকে ও এআইএডিএমকের শিবিরে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। এম কে স্টালিনের ডিএমকে এবং ই পালানিস্বামীর এআইএডিএমকে একসঙ্গে সরকার গঠনের চেষ্টা করছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। এ দুই দলের জোট হলে সর্বাধিক জনসমর্থন পাওয়া দল টিভিকে পিছিয়ে পড়তে পারে।
১০৭টি আসন জিতে টিভিকে দাবি করছে, একক বৃহত্তম দল হিসেবে সরকার গঠনের জন্য গভর্নরের উচিত তাদের আমন্ত্রণ জানানো। তবে তামিলনাড়ুর গভর্নর আর ভি আর্লেকার বিজয়কে সরকার গঠনের দাবি জানাতে অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, বিজয়ের হাতে পর্যাপ্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য বিজয় যে পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছিলেন, তা-ও তিনি গ্রহণ করেননি।
সূত্র জানিয়েছে, টানা দুই দিনের মধ্যে দ্বিতীয় বৈঠকেও গভর্নর জানিয়েছেন, সরকার গঠনের জন্য অন্তত ১১৮ এমপির সমর্থনের চিঠি জমা দিতে হবে। রাজভবনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
এনডিটিভি জানিয়েছে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে টিভিকের আরও ১০টি আসন প্রয়োজন। এরই মধ্যে কংগ্রেসের ৫ এমপি তাদের সমর্থন দিয়েছে। বাম দল এবং কয়েকটি ছোট দলের সঙ্গে বাকি সমর্থন জোগাড়ে আলোচনা চলছে। সূত্র বলছে, বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ারও প্রস্তুতি নিচ্ছে টিভিকে।
সূত্র: এনডিটিভি
আন্তর্জাতিক
হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌবাহিনী ও ইরানের মধ্যে তীব্র সংঘাত
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌবাহিনীর তিনটি ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ইরানীয় বাহিনী ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক কমান্ড। এই ঘটনাটি গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইউএসএস ট্রক্সটন, ইউএসএস ম্যাসন এবং ইউএসএস রাফায়েল পেরাল্টা নামের তিনটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার যখন হরমুজ প্রণালী হয়ে ওমান উপসাগরের দিকে যাচ্ছিল, তখন ইরানীয় বাহিনী সেগুলোর ওপর ‘বিনা উস্কানিতে’ আক্রমণ চালায়।
ইরানি বাহিনী এই আক্রমণে একসাথে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং ছোট দ্রুতগামী নৌযান ব্যবহার করেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা এই আক্রমণকে অত্যন্ত সুসংগঠিত এবং তীব্র বলে বর্ণনা করেছেন। তবে সেন্টকম নিশ্চিত করেছে যে, মার্কিন জাহাজগুলোর কোনো ক্ষতি হয়নি এবং তারা সফলভাবে সব আক্রমণ প্রতিহত করেছে।
জবাবে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিন বাহিনী ইরানের ভূখণ্ডে অবস্থিত সেইসব স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যেখান থেকে আক্রমণগুলো পরিচালনা করা হচ্ছিল। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এবং আধা-সরকারি ফারস (Fars) নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে ইরানীয় সশস্ত্র বাহিনী এবং ‘শত্রু’ পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি হয়েছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনী একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পর ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখায়।
ইরানি গণমাধ্যমগুলো আরও জানিয়েছে, বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ এবং এমনকি রাজধানী তেহরানের কাছেও ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কেশম দ্বীপের বাহমান পিয়ারের বাণিজ্যিক অংশে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ইরান এই হামলার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে এবং একে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনার ওপর সরাসরি মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, মার্কিন বাহিনীর পাল্টা হামলায় ইরানের জাহাজ এবং সামরিক অবকাঠামোর “বিরাট ক্ষতি’ (Great damage) হয়েছে।
ট্রাম্প তার পোস্টে ইরানকে অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত নতুন চুক্তিতে আসার আহ্বান জানান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, ইরান যদি শীঘ্রই শান্তি আলোচনায় ফিরে না আসে, তবে আরও ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। ট্রাম্প এই পাল্টা আক্রমণকে অত্যন্ত সফল বলে উল্লেখ করেছেন এবং আমেরিকান বাহিনীর সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন।
এই উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই পথে সংঘাতের ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত ৮ এপ্রিল থেকে দুই দেশের মধ্যে একটি অঘোষিত ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলে আসছিল। কিন্তু রোববারের এই সংঘর্ষের পর সেই শান্তি প্রক্রিয়া এখন অনিশ্চিত। সেন্টকম জানিয়েছে যে, তারা উত্তেজনা বাড়াতে চায় না, তবে আমেরিকান বাহিনীকে রক্ষায় তারা যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
অন্যদিকে, পাকিস্তান এই সংকটে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করলেও এখন পর্যন্ত কোনো ফলপ্রসূ সমাধান আসেনি। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা পাকিস্তানের মাধ্যমে পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
হরমুজ প্রণালীতে এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কাকে আবারও উসকে দিয়েছে। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি, অন্যদিকে ইরানের সামরিক পাল্টা জবাব, এই দ্বৈরথে বিশ্ববাসী এখন গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। কূটনৈতিক সমাধান না মিললে হরমুজ প্রণালী অদূর ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী রণক্ষেত্রে পরিণত হতে পারে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
আন্তর্জাতিক
পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়া হলো, মমতাকে অব্যাহতি
মমতা ব্যানার্জি নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার ভেঙে দিয়েছেন গভর্নর আরএন রবি। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরও মমতা ব্যানার্জি পদত্যাগ না করায় তৈরি হওয়া সাংবিধানিক জটিলতার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) মধ্যরাতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নতুন সরকার গঠনের আগে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ না করায় রাজ্যে অন্তর্বর্তী প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, নতুন মুখ্যমন্ত্রী আগামী ৯ মে শপথ নেবেন।
ফলে প্রশ্ন ওঠে, ৮ মে মধ্যরাত থেকে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ পর্যন্ত বাংলা চালাবেন কে? এক অভূতপূর্ব সাংবিধানিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা জোড়াল হচ্ছিল।
এই অবস্থায় সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে মমতা ব্যানার্জি নেতৃত্বাধীন সরকার ভেঙে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন গভর্নর আরএন রবি। বিবৃতি জারি করে এই পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা।
উল্লেখ্য, সংবিধানে ১৭২ ধারা অনুযায়ী, রাজ্য বিধানসভার মেয়াদ তার প্রথম অধিবেশনের তারিখ থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত থাকে। পাঁচ বছর শেষে বিধানসভাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায়। এর জন্য গভর্নরের কোনো পৃথক আদেশের প্রয়োজন হয় না।
ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪ নম্বর অনুচ্ছেদের (২) নম্বর দফার (খ) উপ-দফা অনুযায়ী প্রাপ্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে রাজ্যপাল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে আগামী দুদিন রাজ্যের দায়িত্বভার সামলাবেন রাজ্যপাল রবি। গভর্নরের এ পদক্ষেপের ফলে ১৮তম বিধানসভা গঠনের পথ মসৃণ হলো।
সূত্র : এনডিটিভি
আন্তর্জাতিক
ইসরায়েলকে হুমকি দিলে জীবন ঝুঁকিতে পড়বে : নেতানিয়াহু
ইসরায়েলকে কেউ হুমকি দিলে তার জীবন ঝুঁকিতে পড়বে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ হুমকি দিয়েছেন। খবর আল জাজিরার।
বুধবার এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, আমি আমাদের শত্রুদের স্পষ্ট করে বলতে চাই, কোনো সন্ত্রাসীর দায়মুক্তি নেই। যারা ইসরায়েলকে হুমকি দেবে, তারা নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলবে।
লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হামলায় হিজবুল্লাহর এলিট রাদওয়ান ইউনিটের কমান্ডার আহমদ বালুত নিহত হওয়ার ঘটনায় মন্তব্য করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সে হয়তো সংবাদমাধ্যমে পড়েছিল যে বৈরুতে তার দায়মুক্তি আছে। কিন্তু এখন আর তা হবে না।’
নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, আহমদ বালুত বৈরুতে গোপন ঘাঁটি থেকে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতিগুলোর বিরুদ্ধে হামলা পরিচালনা করে যাচ্ছিলেন।
নেতানিয়াহু আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় হামাসের সদস্যদের লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এ ক্ষেত্রে বেসামরিক কেউ হতাহত হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।




