ধর্ম ও জীবন
একমাসে ১ কোটি ৪৮ লাখের বেশি মুসল্লির ওমরাহ পালন
সৌদির ভেতর ও বাইরে থেকে রজব মাসে এ পর্যন্ত ওমরাহ আদায় করেছেন ১ কোটি ৪৮ লাখ মুসল্লি। সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় এবং মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর বিষয়ক সাধারণ কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দেখা গেছে, শুধু রজব মাসে বিদেশ থেকে ওমরাহ পালন করতে সৌদি আরবে প্রবেশ করেছেন ২০ লাখের বেশি মুসল্লি। তারা বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশসহ নানা অঞ্চল থেকে এসেছেন।
কর্তৃপক্ষ বলছে, ওমরাহ পালনকারীর এই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি সৌদি আরবের আধুনিক ও দক্ষ সেবাব্যবস্থার প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি হাজি ও মুসল্লিদের জন্য গড়ে তোলা উন্নত সুযোগ-সুবিধা ও ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতাও তুলে ধরে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভিসা ও ভ্রমণ প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল সেবা চালু করা, অনলাইন বুকিং, স্মার্ট অ্যাপ ব্যবহার এবং সমন্বিত পরিবহন ও আবাসন ব্যবস্থার কারণে মুসল্লিদের যাতায়াত ও ইবাদত আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে। এতে স্বল্প সময়ে বেশি মানুষ নির্বিঘ্নে ওমরাহ পালন করতে পারছেন।
হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সৌদি ভিশন ২০৩০–এর লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই হজ, ওমরাহ ও জিয়ারত ব্যবস্থার উন্নয়নে ধারাবাহিক কাজ করে যাচ্ছে সরকার। এর উদ্দেশ্য হলো দুই পবিত্র মসজিদে মুসল্লিদের প্রবেশ সহজ করা এবং যাত্রা পরিকল্পনা থেকে শুরু করে দেশে ফেরার আগ পর্যন্ত একটি নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও পরিপূর্ণ আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা।
মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীতে সেবার মান আরও বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল সিস্টেমের আরও আধুনিকায়ন, ভিড় ব্যবস্থাপনা জোরদার করা এবং স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সেবার সম্প্রসারণ।
কর্তৃপক্ষের আশা, এসব পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে ওমরাহ ও হজ পালনকারীদের সংখ্যা আরও বাড়বে এবং মুসল্লিরা আরও স্বস্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে তাদের ইবাদত সম্পন্ন করতে পারবেন।
এমকে
আন্তর্জাতিক
যুদ্ধের ডামাডোল পেরিয়ে হজে যাচ্ছেন ৩০ হাজার ইরানি
চলতি বছর প্রায় ৩০ হাজার ইরানি নাগরিক হজে অংশ নেবেন। আগামী সপ্তাহ থেকে তাদের যাত্রা শুরু হবে বলে জানিয়েছে দেশটির হজ ও তীর্থযাত্রা বিষয়ক সংস্থা।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের হজ ও তীর্থযাত্রা সংস্থার একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি সৌদি আরবে পৌঁছায়।
তারা জানায়, প্রথম দফায় ইরানি হজযাত্রীরা ২৫ এপ্রিল মদিনায় পৌঁছাবেন। সেখান থেকে তারা নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে মক্কায় গিয়ে হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন। তবে তারা স্থলপথে না আকাশপথে সৌদি আরবে যাবেন সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ইরানের হজ ও তীর্থযাত্রা সংস্থার একজন প্রতিনিধি বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ একাধিকবার ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের, বিশেষ করে ইরানি হজযাত্রীদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।
সৌদি আরব জানিয়েছে, আসন্ন হজ মৌসুমকে সামনে রেখে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। তারা ইরানি হজযাত্রীদের আগমনের অপেক্ষায় রয়েছে। হজের সব আনুষ্ঠানিকতা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সৌদি কর্মকর্তারা আরও জানান, হজে আসা মেহমানদের আন্তরিকতা ও উষ্ণ আতিথেয়তার মাধ্যমে স্বাগত জানাতে তারা প্রস্তুত।
ধর্ম ও জীবন
সুরা কাহাফের ১০ আয়াতের ফজিলত
মানুষকে সঠিক পথ দেখানোর জন্য মহান আল্লাহ যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রসুল পাঠিয়েছেন। এসব নবী-রসুলের গাইডবুক হিসেবে দিয়েছেন কিতাব। এসব কিতাবের মধ্যে সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব হচ্ছে আল-কোরআন।
সুরা কাহাফ কোরআনের ১৫তম পারার ১৮ নম্বর সুরা। কাহাফ মানে গুহা। এ সুরায় ১১০টি আয়াত রয়েছে, আর রুকুর সংখ্যা ১২। সুরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে।
হাদিসের বর্ণনা অনুসারে সুরা কাহাফ তেলাওয়াতের অন্যতম ফজিলত হলো — এ সুরা পাঠ করলে মহান আল্লাহর বিশেষ রহমত বর্ষিত হয়। এক সাহাবি সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করছিলেন। তার বাড়িতে একটি ঘোড়া বাঁধা ছিল। ঘোড়াটি তখন লাফালাফি করতে লাগল। তখন ওই সাহাবি শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন। তখন তিনি দেখলেন, একখণ্ড মেঘ এসে তাকে ঢেকে দিয়েছে। তিনি নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলেন। তখন তিনি বললেন, হে অমুক! তুমি এভাবে তেলাওয়াত করবে। এটাতে প্রশান্তি ছিল, যা কোরআন তেলাওয়াতের কারণে নাজিল হয়েছিল। (বুখারি: ৩৬১৪)
কিয়ামতের দিন এ সুরা তার পাঠকারীকে আলোকিত করবে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ পড়বে, তার পায়ের নিচ থেকে আসমান পর্যন্ত নুর প্রজ্বলিত হবে এবং কিয়ামতের দিন তার জন্য উজ্জ্বল হবে। আর দুই জুমার মধ্যবর্তী সব গুনাহ ক্ষমা করা হবে। (তাফসিরে ইবনে কাসির: ৬/৩৯৮)
প্রতি জুমায় এ সুরা তেলাওয়াত করলে এক জুমা থেকে অন্য জুমার মধ্যবর্তী সময়ের জন্য নুর প্রজ্বলিত করে রাখা হয়। আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করবে, তার জন্য দুই জুমা পর্যন্ত নুর প্রজ্বলিত হবে। (সুনানে দারিমি ৩৪০৭)
মুসলমান হিসেবে সবারই পবিত্র কোরআন পড়া জরুরি। আর শুদ্ধভাবে তেলাওয়াত শেখা ফরজ। কেউ যদি পুরো সুরা পাঠ করতে না পারে, সে অন্তত এ সুরার প্রথম ১০ আয়াত তেলাওয়াত করতে পারে।
হযরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি সুরা কাহাফের প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকবে। (মুসলিম: ৮০৯, আবু দাউদ: ৪৩২৩)
এমএন
ধর্ম ও জীবন
দেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বিদ্যমান
প্রখ্যাত আলেম মিজানুর রহমান আজহারি সম্প্রতি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ‘ইসলামে সম্প্রীতির অনন্য বার্তা’ শিরোনামে নিজের একটি আলোচনার ভিডিও শেয়ার করেছেন।
ওই আলোচনায় তিনি বলেন, ‘আমরা মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, পাহাড়ি, নৃগোষ্ঠী—সবাই মিলেমিশে একাকার। আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশ। আমাদের পারস্পরিক সম্প্রীতি, ভালোবাসা, সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ ও বোঝাপড়া বেশ দৃঢ়।
তবে মাঝে মাঝে কিছু মানুষ এই সম্প্রীতির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করে। আমরা যে শান্তিতে ও সুখে আছি, তা অনেকের সহ্য হয় না। তাই এসব দুর্বৃত্তের বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
আমাদের দেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বিদ্যমান।
হিন্দুদের পূজার দিনে আমরা তাফসির মাহফিল করি না, আবার আমাদের তাফসিরুল কোরআনের প্রোগ্রামের দিন হিন্দু ভাইয়েরাও কোনো বিঘ্ন ঘটায় না। এমনকি হিন্দুদের পূজায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পাশাপাশি মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও নিরাপত্তা দিতে এগিয়ে আসে। সারা বিশ্বে এমন উদাহরণ খুব কমই দেখা যায়।’
রাব্বুল আলামিন বলেছেন, ‘হে ঈমানদার বান্দারা! তারা আল্লাহ ছাড়া যেসব দেব-দেবীর উপাসনা করে, তোমরা তাদের গালি দিও না।
কারণ এতে তারা শত্রুতাবশত আল্লাহকে গালি দিতে পারে।’ তাই কোনো ধর্মকে ছোট করা যাবে না। অন্য ধর্মকে অবমাননা করা মানে ইসলামকেই ছোট করা। এতে মানুষ ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট না হয়ে বরং দূরে সরে যেতে পারে।
আজহারি আরো বলেন, ‘আমরা নিজেরাই অনেক সময় মুসলিম হয়েও ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারি না।
অথচ বিশ্বনবী (সা.) মুশরিকদের সঙ্গে হুদাইবিয়ার সন্ধি করেছিলেন। মদিনায় হিজরতের পর তিনি সব ধর্মাবলম্বীকে নিয়ে মদিনা সনদ প্রণয়ন করেন। ইসলাম অন্য ধর্মের প্রতি সহনশীলতার শিক্ষা দেয়, আর এর উত্তম উদাহরণ বিশ্বনবীর জীবনেই পাওয়া যায়।’
সংখ্যালঘুদের অধিকার প্রসঙ্গে বিশ্বনবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো সংখ্যালঘুর ওপর জুলুম করবে, তার অধিকার হরণ করবে বা সম্পদ ছিনিয়ে নেবে, কিয়ামতের দিন আমি তার বিপক্ষে দাঁড়াব।’ অর্থাৎ সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় ইসলাম অত্যন্ত কঠোর।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘আপনি নামাজি, হাজি—কিন্তু পাশের হিন্দু প্রতিবেশীর জমি দখল করতে চান—এটা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। কিয়ামতের দিন সেই নির্যাতিত ব্যক্তির পক্ষেই বিশ্বনবী (সা.) অবস্থান নেবেন।’
ইসলাম অমুসলিম প্রতিবেশীর সঙ্গে উত্তম আচরণের নির্দেশ দেয়। প্রতিবেশী হিন্দু বা অন্য ধর্মের হলেও তাকে কষ্ট দেওয়া যাবে না। বরং অসুস্থ হলে খোঁজ নেওয়া, ফলমূল নিয়ে যাওয়া—এসবের মাধ্যমে সুন্দর আচরণ প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে। এতে ইসলামের সৌন্দর্য ফুটে ওঠে।
এ ছাড়া ইসলাম অমুসলিম মা-বাবার প্রতিও সদাচরণের নির্দেশ দেয়। কেউ ইসলাম গ্রহণ করলেও তার অমুসলিম মা-বাবাকে অবহেলা করা যাবে না। বরং তাদের সঙ্গে উত্তম আচরণই ইসলামের শিক্ষা।
তিনি বলেন, ‘ইসলাম সংকীর্ণ নয়, বরং উদার। বিশ্বনবী (সা.) অমুসলিমদের উপহার গ্রহণ করেছেন এবং তাদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনও করেছেন। প্রয়োজনে অমুসলিমদের কাছ থেকে সহযোগিতা নেওয়াও বৈধ।’
তিনি আরো উল্লেখ করেন, তায়েফ থেকে ফিরে আসার সময় বিশ্বনবী (সা.) মক্কায় প্রবেশের জন্য মুতইম ইবনে আদির সাহায্য নিয়েছিলেন, যদিও তিনি মুসলিম ছিলেন না। তবু তার সেই সহযোগিতা বিশ্বনবী (সা.) কখনো ভোলেননি।
সর্বশেষে তিনি বলেন, ‘অমুসলিম মানেই শত্রু নয়। আমাদের মূল শক্তি হলো ভালোবাসা। এই ভালোবাসা দিয়েই আমরা পৃথিবী জয় করতে চাই।’
জাতীয়
হজ যাত্রীদের টিকেটের দাম কমলো ১২ হাজার টাকা
হজযাত্রীদের জন্য টিকিটের খরচ কমিয়েছে সরকার। এবার হজ ফ্লাইটের টিকিটপ্রতি ১২ হাজার টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
রোববার (১২ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, এবার কোনো চার্টার্ড ফ্লাইট পরিচালনা ছাড়াই ৭৮ হাজারের বেশি হজযাত্রীকে পরিবহন করা হচ্ছে। আর হজযাত্রায় টিকিটপ্রতি ১২ হাজার টাকা খরচ কমানো হয়েছে।
অন্যদিকে দুপুরে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হজ ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভা শেষে ধর্মমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ জানান, ২০২৬ সালের হজ ফ্লাইট শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) রাতে থেকে শুরু হচ্ছে। এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ধর্মমন্ত্রী বলেন, আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী হাজি ক্যাম্প পরিদর্শনে যেতে পারেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেও হজ ফ্লাইটের শিডিউলে বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় হবে না বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে হজযাত্রীরা নির্বিঘ্নে সৌদি আরবে পৌঁছাতে পারেন।
মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫শ’ জন হজযাত্রী পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরবে যাবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ২৬০ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭২ হাজার ৩৪৪ জন হজযাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।
ধর্ম ও জীবন
বৈধ হলেও যে ৩ কাজ ইসলামে নিন্দনীয়
ইসলামের প্রতিটি নির্দেশনা দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণেই হয়ে থাকে। কিছু কাজ অবস্থা বিবেচনায় বৈধ হলেও যথাসম্ভব দূরে থাকতে উৎসাহিত করেছেন নবীজি (স.)। মূলত উম্মতের সুন্দর জীবন ও শঙ্কামুক্ত পরকালের জন্যই নবীজির এমন নির্দেশনা। নিচে তেমনই তিনটি নিন্দনীয় বৈধ কাজের পরিচয় তুলে ধরা হলো।
১. ভিক্ষাবৃত্তি
ইসলামে ভিক্ষাবৃত্তিকে জায়েজ রাখা হয়েছে নিঃস্ব, গরিব, মিসকিন, ঋণগ্রস্ত ও অসহায়দের কল্যাণার্থে। কিন্তু একে প্রবলভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। রাসুল (স.) বলেছেন, ‘কষ্ট করে পিঠে বোঝা বহন করে জীবনযাপন করা ভিক্ষাবৃত্তি থেকে উত্তম ও শ্রেষ্ঠতর।’ (বুখারি: ১৪৭১) অন্য হাদিসে আছে, ‘নিশ্চয়ই ওপরের হাত নিচের হাত থেকে উত্তম।’ (বুখারি: ১৪২৭)
সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে যারা ভিক্ষাবৃত্তি করে তাদের পরকালে কঠিন শাস্তির হুঁশিয়ারি রয়েছে। রাসুল (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের সম্পদ বাড়ানোর জন্য মানুষের কাছে সম্পদ ভিক্ষা করে বেড়ায় বস্তুত সে আগুনের ফুলকি ভিক্ষা করছে। কাজেই এখন তার ভেবে দেখা উচিত— সে বেশি নেবে না কম নেবে!’ (মুসলিম: ২২৮৯)। আরেক সহিহ বর্ণনায় এসেছে ‘যে ব্যক্তি সবসময় মানুষের কাছে চেয়ে থাকে, সে কেয়ামতের দিন এমনভাবে উপস্থিত হবে যে, তার চেহারায় কোনো গোশত থাকবে না।’ (বুখারি: ১৪৭৪)
ইসলাম কর্মহীন ও বেকারত্ব সমর্থন করে না বলেই প্রিয়নবী (স.) সাহায্যপ্রার্থীকে ‘বনে গিয়ে কাঠ কেটে’ সাবলম্বিতা অর্জনের পথ দেখিয়েছিলেন। (বুখারি: ২০৭৫)
২. ঋণগ্রহণ
প্রিয়নবী (স.) ‘ঋণ, রোগ, শত্রু’ এ তিন জিনিসকে ক্ষুদ্র ও সামান্য বিবেচনা করতে নিষেধ করেছেন। তাই বাধ্য হলেও ঋণগ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। পাওনাদারের পাওনা হাককুল ইবাদ তথা বান্দার অধিকার। ইসলামে ঋণগ্রস্তকে অর্থসংশ্লিষ্ট ইবাদত (হজ, জাকাত, কোরবানি, ফিতরা) স্থগিত রেখে আগে ঋণ পরিশোধের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পাওনাদারের পাওনা পরিশোধ না করলে মহান আল্লাহও ঋণগ্রহীতাকে ক্ষমা করবেন না। জান্নাত পিয়াসী মুমিনদের এ ব্যাপারে সদা সতর্ক থাকা জরুরি। সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তির মৃত্যু হবে অহংকার, খেয়ানত এবং ঋণ থেকে মুক্ত হয়ে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (তিরমিজি: ১৫৭২; ইবনে মাজাহ: ২৪১২)
অর্থাৎ ঋণগ্রস্ত হয়ে মারা গেলে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। তাছাড়া রাসুলুল্লাহ (স.) মৃত ব্যক্তির সম্পদ তার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টনের আগে মৃতের ঋণ পরিশোধ করার ব্যাপারে জোর তাগিদ দিয়েছেন। (মুসনাদ আহমদ: ১৭২২৭) অন্য হাদিস থেকে জানা যায়, আল্লাহর পথে শহিদ হওয়া ব্যক্তিও তার ঋণের কারণে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেন না। (মুসনাদ আহমদ: ২২৪৯৩)
৩. বিবাহবিচ্ছেদ
ইসলামি শরিয়তে অতি প্রয়োজনে তালাকের অবকাশ থাকলেও বিষয়টি অপছন্দনীয়। দুটি মন ও পরিবারের মেলবন্ধনে সংসার সুখের স্বর্গ এবং তা বজায় রাখা ইবাদততুল্য। কিন্তু তা একেবারেই অসম্ভব হলে বিবাহবিচ্ছেদ একটি উপায় মাত্র। পবিত্র কোরআনে এ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেওয়ার জন্য ‘তালাক’ নামক একটি সুরা আছে। এছাড়া সুরা বাকারা, নিসা, নূর, মুজাদালা প্রভৃতি সুরায় বিবাহবিচ্ছেদসংক্রান্ত বিভিন্ন পারিভাষিক বিশ্লেষণ আছে।
পারিবারিক বৈরীতা প্রকট হলেও প্রথমে শান্তি ফিরিয়ে আনার নির্দেশনা দিয়ে মহান আল্লাহ বলেন, আর যদি তোমরা তাদের উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদের আশঙ্কা করো তাহলে স্বামীর পরিবার থেকে একজন বিচারক এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন বিচারক পাঠাও। যদি তারা মীমাংসা চায় তাহলে আল্লাহ উভয়ের মধ্যে মিল করে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞানী, সম্যক অবগত। (সুরা নিসা: ৩৫)
আল্লাহ তাআলা পুরুষদের নির্দেশ দিয়েছেন ‘তাদের সঙ্গে সৎভাবে জীবনযাপন করবে।’ (সুরা নিসা: ১৯) হাদিসে আছে, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে সর্বোত্তম।’ (মেশকাত, পৃষ্ঠা- ২৮১)। আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (স.) বলেন, ‘তোমরা বিয়ে করো, কিন্তু তালাক দিয়ো না। কেননা একটি তালাক সম্পন্ন হলে আল্লাহর আরশ কেঁপে ওঠে।’ (আহকামুল কোরআন, ৩৯ খ-, পৃষ্ঠা- ১৩৩)
নবীজি যেসব কাজে নিরুৎসাহিত করেছেন, সেসব কাজ থেকে আল্লাহ আমাদের দূরে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।



