অর্থনীতি
৩৬ দিনে ২৪ দফা দাম পরিবর্তন, আজ সোনার ভরি কত?
বছরের শুরু থেকেই চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সোনার বাজারে। বিশ্ববাজারের উত্থান-পতনের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে গিয়ে দেশের বাজারে ইদানিং ১২ ঘণ্টাও টিকছে না নির্ধারিত দাম; উত্থান-পতন চলছে দিনে রাতে। এমনকি ৫ ঘণ্টার ব্যবধানেও সোনার দামে পরিবর্তন হতে দেখা গেছে। ফলশ্রুতিতে, বছরের প্রথম ৩৬ দিনেই ২৪ দফা সোনার দাম পরিবর্তন করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনকে (বাজুস)।
সোনার দামের অস্থির উত্থান-পতনের এ খেলায় অবশ্য হঠাৎ একটু স্থিরতার দেখা মিলেছে গতকাল বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি)। আগের দিন মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুই দফায় বড় দুই লাফের পর এখন পর্যন্ত নতুন করে আর দাম পরিবর্তন করেনি বাজুস। ওইদিন সকালে দেশের বাজারে সোনার দাম ভরিতে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা বাড়ানোর পর বিকেলে আবার ১০ হাজার ৯০৬ টাকা বাড়িয়েছিল বাজুস। এতে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম দাঁড়িয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।
বুধবার কার্যকর হওয়া এ রেটেই আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দেশের বাজারে বিক্রি হচ্ছে সোনা।
বাজুসের সবশেষ মূল্যতালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম এখন পড়ছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৫ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
এর আগে, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুই দফায় কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬০ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৬৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ১ হাজার ৮৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ওইদিন ৫ ঘণ্টার ব্যাবধানে দুইবার পরিবর্তন হয়েছিল সোনার দাম।
সব মিলিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ২৪ বার সোনার দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ১৬ দফা; কমানো হয়েছে ৮ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল সোনার দাম; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।
এমএন
অর্থনীতি
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তিতে সম্পর্ক আরও উচ্চতায় নিতে চায় বাংলাদেশ: তিতুমীর
শিক্ষা, কৃষি গবেষণাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশকে সহায়তা করেছে যুক্তরাষ্ট্র বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিতে চায় বাংলাদেশ।
বুধবার (৬ মে) সচিবালয়ে সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
তিতুমীর বলেন, শিক্ষা, কৃষি গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করে আসছে। এই সহযোগিতার পরিধি আরও বাড়াতে চায় ঢাকা। তার মতে, পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি সম্পর্ক উন্নয়নের একটি কার্যকর মাধ্যম হতে পারে।
শ্রী ব্রেন্ডান লিঞ্চের নেতৃত্বাধীন একটি দল গত সোমবার ঢাকায় এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে দলটি বাণিজ্যমন্ত্রী শ্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে প্রথম বৈঠক করে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঢাকায় থাকবে দলটি।
বৈঠক শেষে ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের কাছে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে মার্কিন কোম্পানি বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি করা হলো কি না।
জবাবে তিনি বলেন, ‘চুক্তিতে কিছু বিষয় থাকে, যেগুলো আমরা দেখছি দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয় হিসেবে। আমরা চাই যে সম্পর্ক আরও উচ্চতায় যাক। যেকোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে সেগুলোকে সম্মান জানাতে হয়।’
ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আরও বলেন, ‘যে চুক্তির মধ্যে কনসালটেশনের ব্যাপারগুলো আছে, সেই কনসালটেশন এবং তার মেকানিজম বাড়িয়ে বাংলাদেশের স্বার্থকে আমরা আরও এগিয়ে নিতে চাই। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। আমরা চাই এ বাজার আরও বাংলাদেশি পণ্যের বাজার হোক।’
শ্রী ব্রেন্ডান লিঞ্চের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক প্রসঙ্গে ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘আমরা অনেক পণ্য নিয়ে কথা বলেছি। নির্দিষ্ট করে বললে ওষুধ। আর অর্থমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আমি বিভিন্ন দেশ সফর করছি এবং আমাদের একটাই লক্ষ্য, বাংলাদেশকে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়।’
অর্থনীতি
আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম
আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও ঊর্ধ্বগতি স্বর্ণের দামে। মার্কিন ডলারের দরপতন এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা ঘিরে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিমুক্ত সম্পদের দিকে ঝোঁকার কারণে বুধবার (৬ মে) একদিনেই স্বর্ণের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
বুধবার (০৬ মে) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে এসব তথ্য।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ডের দাম বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৬৪৭.০৯ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে জুন মাসে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪,৬৫৮ ডলারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে স্বর্ণের দামে এই ঊর্ধ্বগতি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার অগ্রগতির খবরে বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ডলারের দুর্বলতা স্বর্ণকে আরও আকর্ষণীয় করেছে।
এদিকে মঙ্গলবার (০৫ মে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে সামরিক অভিযান তিনি সাময়িকভাবে স্থগিত করছেন। ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য সমঝোতার পথে অগ্রগতির কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা থামানোর ইঙ্গিতে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে। সাধারণত তেলের দাম ও ভূরাজনীতির এমন সমীকরণ স্বর্ণের বাজারকে চাঙা করে তোলে। বাজার বিশ্লেষক সংস্থা ওয়ান্ডার সিনিয়র মার্কেট অ্যানালিস্ট কেলভিন ওংয়ের মতে, অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি কিছুটা হ্রাস পাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে আবারও স্বর্ণে মনোনিবেশ করছেন।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। বুধবার বিশ্ববাজারে রূপার দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৬ দশমিক ৯৫ ডলারে পৌঁছেছে। প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও যথাক্রমে ৩ দশমিক ৪ এবং ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে।
অর্থনীতি
এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.০৪ শতাংশ, খাদ্যেও চাপ বৃদ্ধি
দেশে গত এপ্রিল মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৪ শতাংশে। একই সঙ্গে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতেই মূল্যস্ফীতির চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
বুধবার (৬ মে) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চ মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ, যা এপ্রিল মাসে বেড়ে ০.৩৩ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়।
খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি এপ্রিল মাসে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশে, যা মার্চে ছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। অর্থাৎ খাদ্য মূল্যস্ফীতিও ০.১৫ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে।
এদিকে মার্চ মাসে সার্বিক খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ থাকলেও এপ্রিলে সেটি বেড়ে ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪৮ শতাংশ।
এছাড়া এপ্রিলে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৫ শতাংশে। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৩ শতাংশ ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৮১ শতাংশ।
এপ্রিল মাসে শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০২ শতাংশে। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৮১ শতাংশ ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১৫ শতাংশ।
অর্থনীতি
দেশের বাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম, কত দামে বিক্রি হচ্ছে আজ
দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে এখন দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম বাড়ানো হয়েছে।
বুধবার (৬ মে) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এর ঠিক একদিন আগে ৫ মে একই পরিমাণ অর্থে সোনার দাম কমানো হয়েছিল। সেই কমানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আবার সমপরিমাণে দাম বাড়ানো হলো।
নতুন দামে ২১ ক্যারেট সোনার ভরি ২ হাজার ৪১ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা। ১৮ ক্যারেট সোনার ভরি ১ হাজার ৭৫০ টাকা বাড়িয়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা। সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি ১ হাজার ৪৫৮ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকা।
এর আগে ৫ মে সকাল ১০টা থেকে ২২ ক্যারেট সোনার দাম কমিয়ে রাখা হয়েছিল ২ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা। অন্যান্য ক্যারেটেও একইভাবে দাম হ্রাস করা হয়েছিল এবং আজ সকাল পর্যন্ত সেই দামেই বিক্রি চলছিল।
সোনার পাশাপাশি রুপার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন দামে ২২ ক্যারেট রুপার ভরি ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা। ২১ ক্যারেট রুপা ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা। ১৮ ক্যারেট রুপা ৪ হাজার ৬০৭ টাকা। সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৪৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, অল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার দামের ওঠানামায় বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অর্থনীতি
ঈদের আগে বকেয়া পরিশোধ ছাড়াই ঋণ পাবেন চামড়া ব্যবসায়ীরা
আসন্ন ঈদুল আজহার উপলক্ষে চামড়া ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণ পাওয়ার শর্ত শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগের ঋণের বকেয়া পরিশোধ না করেও নতুন করে ঋণ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, চামড়া খাতে যেসব ব্যবসায়ীর আগের ঋণ পুনঃতফসিল করা রয়েছে, তাদের নতুন ঋণ নিতে হলে পূর্বে বকেয়ার একটি অংশ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে ঈদকে সামনে রেখে এই শর্ত সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে।
চামড়া শিল্প দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিমুখী খাত। এই খাতের বড় অংশের কাঁচামাল আসে ঈদুল আজহার সময় কোরবানির পশুর চামড়া থেকে। তাই এই সময় ব্যবসায়ীদের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ থাকাটা খুবই জরুরি। এতে চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিক্রি সবকিছুই ঠিকভাবে করা সম্ভব হবে।
এ প্রেক্ষাপটে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, চামড়া ব্যবসায়ীদের প্রয়োজন অনুযায়ী চলতি মূলধন ঋণ দ্রুত মঞ্জুর ও বিতরণ করতে। শুধু বড় ব্যবসায়ী নয়, গ্রাম ও হাট পর্যায়ের সংগ্রাহকরাও যেন এই সুবিধা পান, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সার্কুলার অনুযায়ী, যেসব ব্যবসায়ীর আগের ঋণ পুনঃতফসিল করা রয়েছে, তারা নতুন করে চামড়া কেনার জন্য ঋণ নিতে গেলে সাধারণত একটি নির্দিষ্ট অর্থ পরিশোধ করতে হয়। এবার সেই বাধ্যবাধকতা আগামী ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত শিথিল করা হয়েছে। ফলে আগের বকেয়া নিষ্পত্তি না করেও নতুন করে ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন অনেক ব্যবসায়ী।
এছাড়া ব্যাংকগুলোকে ২০২৬ সালের জন্য চামড়া খাতে ঋণ বিতরণের একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা গত বছরের চেয়ে কম রাখা যাবে না। নির্ধারিত লক্ষ্য ও বাস্তবায়নের তথ্য আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ উদ্যোগের ফলে ঈদের সময় চামড়া বাজারে তারল্য সংকট কমবে। সহজ শর্তে ঋণ পেলে ব্যবসায়ীরা স্বাচ্ছন্দ্যে চামড়া কিনতে পারবেন, এতে বাজারে ন্যায্য দাম নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে।




