প্রবাস
ফের বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানীর তালিকায় অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করে আবারও বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানীদের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান।
গবেষণা, অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষ ও বৈশ্বিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এডি সায়েন্টিফিক ইনডেক্স র্যাঙ্কিং ২০২৬-এ তিনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং শাখায় মালয়েশিয়ায় প্রথম, এশিয়ায় দ্বিতীয় এবং বিশ্বে সপ্তম স্থান অর্জন করেছেন।
সম্প্রতি প্রকাশিত এডি সায়েন্টিফিক ইনডেক্স ২০২৬ অনুযায়ী, ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনোলজি/মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে বিশ্বের ৩৩ হাজার ৩৭১ জন বিজ্ঞানীর মধ্যে এই মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান অর্জন করেন অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান।
২০২৫ সালেও একই র্যাঙ্কিংয়ে তিনি বিশ্বে সপ্তম অবস্থানে ছিলেন, যা তার গবেষণায় ধারাবাহিক উৎকর্ষ ও স্থিতিশীল সাফল্যের সুস্পষ্ট প্রমাণ।
এছাড়া, স্কলারজিপিএস ২০২৫ অনুযায়ী টেকসই জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি গবেষণায় তিনি বিশ্বসেরা বিজ্ঞানী হিসেবে প্রথম স্থান অর্জন করেন। একই বছরে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও এলসেভিয়ারের যৌথ বিশ্লেষণে প্রকাশিত বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায়, মালয়েশিয়ার বিজ্ঞানীদের মধ্যে এনার্জি গবেষণায়ও তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন।
অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান সানওয়ে ইউনিভার্সিটি থেকে উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবনে উৎকর্ষতা পুরস্কার এবং শিক্ষার্থীদের কৃতজ্ঞতা স্বীকৃতি (শিক্ষাদান) পুরস্কার লাভ করেন। পাশাপাশি, ২০২৫ সালের ওবাদা পুরস্কারে ‘বিশিষ্ট বিজ্ঞানী’ ক্যাটাগরিতে তিনি সম্মানিত হন। বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে এই পুরস্কার বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। ২০২৫ সালে সারা বিশ্ব থেকে মাত্র আটজন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী এই সম্মানে ভূষিত হন-যাদের মধ্যে অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান অন্যতম।
গুগল স্কলারে তথ্য অনুযায়ী, অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমানের এইচ-ইনডেক্স ১৪৫ এবং তার গবেষণায় ৮৬ হাজারেরও বেশি সাইটেশন রয়েছে। তিনি ময়মনসিংহ জেলার কৃতি সন্তান এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী।
বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ার স্বনামধন্য সানওয়ে ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করছেন।
২০১৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত নিজ গবেষণা ক্ষেত্রে শীর্ষ ১ শতাংশ গবেষক হিসেবে অবস্থান করার জন্য তিনি ক্ল্যারিভেট অ্যানালিটিক্স কর্তৃক বিশ্বসেরা গবেষক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। তার গবেষণা কার্যক্রম মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃকও স্বীকৃত।
এমএক্সিন-ভিত্তিক ন্যানোম্যাটেরিয়াল গবেষণায় স্কোপাস ডেটা বিশ্লেষণে মালয়েশিয়ায় প্রথম স্থান এবং ন্যানোফ্লুইড গবেষণায় ওয়েব অব সায়েন্স অনুযায়ী বিশ্বে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন তিনি।
তরুণ গবেষকদের অনুপ্রাণিত করতে অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান তার ২৮ বছরের গবেষণা অভিজ্ঞতা অনলাইন সেমিনার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং একটি ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে শেয়ার করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি, অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তায়ও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
নিজ উদ্যোগে ১৫ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি ব্যয়ে তিনি সানওয়ে ইউনিভার্সিটিতে একটি অত্যাধুনিক গবেষণাগার স্থাপন করেছেন। এই গবেষণাগারে জ্বালানি প্রযুক্তি, উন্নত উপাদান, এনার্জি স্টোরেজ, সৌর শক্তি এবং বিশুদ্ধ পানি উন্নয়ন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা পরিচালিত হচ্ছে।
জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ সরকার তাকে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) সম্মাননা প্রদান করে।
এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান বলেন, এই অর্জন কোনো একক ব্যক্তির নয়। শিক্ষার্থী, গবেষণা দল, সহকর্মী, প্রতিষ্ঠান ও অর্থায়নকারী সংস্থার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই অর্জন শুধু একজন গবেষকের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বরং এটি মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষা ও গবেষণায় নতুন নতুন মাইলফলক অর্জনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান।
প্রবাস
ফ্রান্সে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জনপ্রতিনিধিদের নতুন প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ
ফ্রান্সে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার রক্ষা, কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতকরণ এবং প্রশাসনিক সহায়তা জোরদারের লক্ষ্যে আত্মপ্রকাশ করেছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জনপ্রতিনিধিদের নতুন সংগঠন— “আসোসিয়াসিয়োঁ দে জেল্যু ফ্রঁসেজ দোরিজিন বাংলাদেশ”।
গত রবিবার (১২ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। ২০২৬ সালে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে বিজয়ী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাউন্সিলরদের সমন্বয়ে গঠিত এই প্ল্যাটফর্মটি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি সংগঠিত ও প্রাতিষ্ঠানিক কণ্ঠস্বর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
সংগঠনটির লক্ষ্য হচ্ছে প্রশাসনিক পর্যায়ে বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, তাদের সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা এবং একটি শক্তিশালী কমিউনিটি কাঠামো গড়ে তোলা।
নবগঠিত সংগঠনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কৌশিক রাব্বানী (সেইন্ট ডেনিস), সেক্রেটারি নাহিদুল মোহাম্মদ (সেইন্ট ডেনিস), সহ-সভাপতি জুবায়েদ আহমেদ (ইভরি সুর সেইন) এবং ট্রেজারার তানিয়া তুনু (গার্ঝ-লে-গোনেস)।
সংগঠন গঠন প্রসঙ্গে সভাপতি কৌশিক রাব্বানী বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান, অধিকার সংরক্ষণ এবং ফরাসি সমাজে তাদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে এই প্ল্যাটফর্ম কাজ করবে। আমরা চাই, এই প্ল্যাটফর্মটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল ও কার্যকর প্রতিনিধিত্বকারী শক্তিতে পরিণত হোক।
উদ্যোক্তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে ফ্রান্সের জাতীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, বিশেষ করে সংসদ সদস্যরাও এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত হবেন। এতে সংগঠনটি আরও শক্তিশালী, গতিশীল এবং কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ঐক্য, সহযোগিতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে। পাশাপাশি ফরাসি সমাজে বাংলাদেশি কমিউনিটির ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তোলা এবং তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেও সংগঠনটি তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এমএন
জাতীয়
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টারের পদত্যাগ
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার আকবর হোসেন পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ওই পোস্টে আকবর হোসেন লিখেছেন, ‘ডিয়ার অল—লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার পদ থেকে আমি পদত্যাগ করেছি। একান্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে সেখানে দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টির সঙ্গে অন্য কোনো কিছুর সম্পর্ক নেই। ধন্যবাদ।’
২০২৪ সালের নভেম্বরে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার হিসেবে তাকে নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
তবে তার পদত্যাগের বিষয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
প্রেস মিনিস্টার হিসেবে যোগদানের আগে তিনি বিবিসি বাংলার ঢাকা অফিসে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
আন্তর্জাতিক
মার্কিন ভিসা নিয়ে দূতাবাসের জরুরি সতর্কবার্তা
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা থাকলেই দেশটিতে প্রবেশের নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না বলে সতর্ক করেছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস।
শনিবার (২৮ মার্চ) দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং অবস্থানের মেয়াদ নির্ধারণের পূর্ণ ক্ষমতা থাকে প্রবেশস্থলের (পোর্ট অব এন্ট্রি) ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার হাতে।
দূতাবাস জানায়, একটি ইউএস ভিসা থাকা মানেই যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের শতভাগ নিশ্চয়তা নয়। একজন ভ্রমণকারী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন কিনা এবং কতদিন সেখানে অবস্থান করতে পারবেন, তার শর্তাবলি নির্ধারণ করেন সংশ্লিষ্ট প্রবেশস্থলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা। অর্থাৎ, ভিসা থাকা সত্ত্বেও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা চাইলে যে কাউকে প্রবেশে বাধা দিতে পারেন।
ভিসাধারীদের সতর্ক করে পোস্টে আরও বলা হয়, পারমিটের মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা বা ভিসার ধরন অনুযায়ী অনুমোদিত নয় এমন কোনো কাজে (যেমন: টুরিস্ট ভিসায় গিয়ে চাকরি করা) জড়িত হওয়া গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের নিয়ম লঙ্ঘনের ফলে ভবিষ্যতে ওই ব্যক্তির ওপর যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে।
মার্কিন দূতাবাস স্পষ্ট জানিয়েছে, সঠিকভাবে ভিসা ব্যবহার করা সম্পূর্ণভাবে ভ্রমণকারীর নিজস্ব দায়িত্ব। নিয়ম মেনে দেশটিতে অবস্থান এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফিরে আসার ওপরই পরবর্তী ভিসা প্রাপ্তি বা ভ্রমণের সুযোগ নির্ভর করে।
সম্প্রতি ভিসা জালিয়াতি এবং অতিরিক্ত সময় অবস্থানের বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপের অংশ হিসেবেই দূতাবাস থেকে নিয়মিত বিরতিতে এমন সচেতনতামূলক বার্তা দেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক
ইইউর বাইরে অভিবাসী আটক কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব পাস
ইউরোপীয় পার্লামেন্টে অভিবাসননীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরে ‘রিটার্ন হাব’ বা অভিবাসী আটক কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ভোটে প্রস্তাবটির পক্ষে ৩৮৯ জন আইনপ্রণেতা সমর্থন দেন, বিপক্ষে ভোট পড়ে ২০৬টি এবং ৩২ জন ভোটদানে বিরত থাকেন। এই সিদ্ধান্তকে ইউরোপের অভিবাসনব্যবস্থায় একটি কঠোর ও বিতর্কিত মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রস্তাবটি পাসের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমীকরণেও বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।
ডানপন্থী দলগুলো এবার চরম ডানপন্থীদের সঙ্গে সমন্বয় করে অবস্থান নেয়, যা অতীতে খুব একটা দেখা যায়নি। অন্যদিকে বামপন্থী ও কেন্দ্রপন্থী শক্তিগুলো এর বিরোধিতা করে। নতুন ব্যবস্থায় ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলো এখন এককভাবে কিংবা ছোট জোট গঠন করে তৃতীয় দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে পারবে, যার মাধ্যমে অনিয়মিত অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত না পাঠিয়ে ইইউর বাইরের নির্ধারিত কেন্দ্রে পাঠানো হবে। ইতিমধ্যে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক ও গ্রিস আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে।
ইউরোপের চরম ডানপন্থী দলগুলো এ সিদ্ধান্তকে তাদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন হিসেবে দেখছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসননীতির প্রশংসা করে একই ধরনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে আসছে। বেলজিয়ামের ভ্লামস বেলাং এবং জার্মানির এএফডি দল ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আদলে অভিবাসী শনাক্ত ও বহিষ্কারের জন্য বিশেষ বাহিনী গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে।
তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই উদ্যোগকে গভীর উদ্বেগের চোখে দেখছে।
ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির ইইউ অ্যাডভোকেসি পরিচালক মার্টা ওয়েলান্ডার বলেন, এই ভোট ‘শরণার্থী অধিকারের জন্য ঐতিহাসিক পশ্চাদপসরণ’। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এটি একটি নতুন শাস্তিমূলক ইইউ আশ্রয় ও অভিবাসনব্যবস্থার পথ প্রশস্ত করবে, যা নিরাপত্তা খোঁজা মানুষদের নিরুৎসাহিত, আটক এবং বহিষ্কার করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। ইইউর এমন একটি ব্যবস্থা থাকা উচিত, যা জীবন রক্ষা করে, যা বেঁচে থাকাকে অপরাধী করে না।’
এ ছাড়া উদ্বেগ জানিয়েছে প্ল্যাটফরম ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন অন আনডকুমেন্টেড মাইগ্র্যান্টস (পিকাম)। সংস্থাটির অ্যাডভোকেসি কর্মকর্তা সিলভিয়া কার্তা বলেন, ‘এই ভোট একটি বিপজ্জনক মোড় নেওয়ার ইঙ্গিত দেয়, কারণ কেন্দ্র ডানপন্থী শক্তিগুলো চরম ডানপন্থীদের সঙ্গে জোট বেঁধে একটি দমনমূলক এজেন্ডা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছ।
এই বিষাক্ত জোট গণ-আটক, পরিবারের থেকে বিচ্ছেদ এবং বহিষ্কারের পথ প্রশস্ত করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের আইসিইকে করতে দেখেছি এবং অসংখ্য জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।’
অন্যদিকে সমর্থকরা বলছেন, ‘এই নীতি অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ফরাসি কেন্দ্র-ডানপন্থী এমইপি ফ্রাঁসোয়া-জাভিয়ের বেলামি বলেন, ‘এই সংস্কারের মাধ্যমে যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা সরলভাবে এই নীতিকে নিশ্চিত করবে, যদি আপনি অনিয়মিতভাবে ইউরোপে আসেন, তবে নিশ্চিত যে আপনি এখানে থাকতে পারবেন না।’
কেন্দ্র-বামপন্থী এসঅ্যান্ডডি গ্রুপের ইতালীয় এমইপি সেসিলিয়া স্ত্রাদা এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বলেন, ‘এই ভয়াবহ আইনগুলো আমাদের সমাজকে দুর্বল করবে, ভয় বাড়িয়ে তুলবে এবং নিরপরাধ মানুষদের কারাগার ও বহিষ্কারের ভয়ে লুকিয়ে থাকতে বাধ্য করবে।’
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনি এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘এটি ইউরোপকে একটি ‘বিশ্বাসযোগ্য অভিবাসন নীতি’র দিকে এগিয়ে নেবে। রিটার্ন হাবগুলো অনিয়মিত অভিবাসীদের জন্য প্রত্যাবাসনের দেশ শনাক্ত করার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে, যার মধ্যে শুধু তাদের নিজ দেশ নয়, তৃতীয় দেশও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এটি প্রত্যাবাসনকে আরো কার্যকর করা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা এবং ইউরোপকে একটি বেশি বিশ্বাসযোগ্য অভিবাসননীতি প্রদানের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’
সমালোচকদের মতে, ইইউর বাইরে এসব কেন্দ্র স্থাপন করলে মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে। ফ্রান্স, স্পেনসহ কয়েকটি দেশও এই মডেলের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অনেকের মতে, এসব কেন্দ্র বাস্তবে ‘আইনি কৃষ্ণগহ্বর’-এ পরিণত হতে পারে।
উল্লেখ্য, নতুন আইনের আওতায় যারা দেশ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানাবে, তাদের জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এর মধ্যে আটক এবং ভবিষ্যতে ইইউতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রবাস
রফিকুল ইসলাম মাদানীর ছেলে মারা গেছেন
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও মদিনা মুনাওয়ারা শাখার সভাপতি মাওলানা সাইয়েদ রফিকুল ইসলাম মাদানীর বড় ছেলে হাফেজ নাঈম বিন রফিক ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
শনিবার (২১ মার্চ) দুপুর ২টায় মদিনা মুনাওয়ারার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ২৪ বছর।
পারিবারিক সূত্রে জানায়, সম্প্রতি তার শরীরে দুরারোগ্য ক্যানসার ধরা পড়ে, যা ইতোমধ্যে চতুর্থ স্তরে পৌঁছায়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে মদিনার হায়াত আল-ওতানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।
তিনি স্ত্রী, পিতা-মাতা, দুই ভাই ও এক বোন রেখে গেছেন। রোববার বাদ জোহর মসজিদে নববীতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে জান্নাতুল বাকিতে তাকে দাফন করা হবে বলে জানা গেছে।
এদিকে মরহুমের মাগফিরাত কামনা করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান এবং আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
তাছাড়া মরহুমের পিতা মাওলানা সাইয়েদ রফিকুল ইসলাম মাদানী তার সন্তানের রূহের মাগফিরাতের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেছেন।



