প্রবাস
কাতারে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল দূতাবাস
কাতারে বাংলাদেশি প্রবাসীদের ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে অভিবাসনের জন্য প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণে অর্থ আত্মসাৎ করছে দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিরা। এমন অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছে দোহায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।
এই বিষয়ে কাতারে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সতর্কবার্তা দিয়েছে কাতারের দোহায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ইউরোপ ও আমেরিকার স্বপ্নীল উন্নত জীবনের আশ্বাস দিয়ে নানা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বাংলাদেশিদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করছে। পরবর্তী সময়ে এ প্রলোভনের বশবর্তী হয়ে অনেক কাতার প্রবাসী বাংলাদেশি বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে প্রতারিত ও সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। ইতোমধ্যে অনেকে বাংলাদেশ দূতাবাসে এ বিষয়ে অভিযোগ দাখিল করেছেন।
দূতাবাস বলছে, এ প্রেক্ষিতে ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে যাবার জন্য লোভের বশবর্তী হয়ে কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে যেকোনও পরিমাণ অর্থ প্রদানে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হলো।
কাফি
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র
বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন দূতাবাস জানায়, ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করেছে ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট, যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। এসব দেশের অভিবাসীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের ব্যয়ে সরকারি সহায়তা গ্রহণের হার বেশি।
তবে এই স্থগিতাদেশ পর্যটক ও শিক্ষার্থী ভিসাসহ অনভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, অভিবাসীদের অবশ্যই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে এবং তারা যেন আমেরিকানদের ওপর আর্থিক বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়। স্টেট ডিপার্টমেন্ট বর্তমানে সব স্ক্রিনিং এবং যাচাইকরণ নীতিগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করছে।
এর উদ্দেশ্য হলো- উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীরা যাতে যুক্তরাষ্ট্রে বেআইনিভাবে কল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণ করতে না পারে বা তারা যেন রাষ্ট্রীয় বোঝা হয়ে না ওঠে, তা নিশ্চিত করা।
২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্টেট ডিপার্টমেন্ট নিম্নোক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য সব প্রকার ইমিগ্র্যান্ট বা অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করেছে- আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামা দ্বীপপুঞ্জ, বাংলাদেশ, বার্বাডোস, বেলারুশ, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ব্রাজিল, বার্মা (মিয়ানমার), কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, কোত দিভোয়ার, কিউবা, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গো, ডোমিনিকা, মিশর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি।
এছাড়া গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজ প্রজাতন্ত্র, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টিনিগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, পাকিস্তান, রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গো, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস ও নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনস, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান এবং ইয়েমেন তালিকায় রয়েছে।
প্রবাস
অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয়ে কড়াকড়ি, ঝুঁকিতে বাংলাদেশও
অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার প্রক্রিয়া আরো কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রস্তাবিত নীতিতে আবেদনকারীদের অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও অনলাইন কার্যক্রমের গভীর যাচাইয়ের ইঙ্গিত থাকায় বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার আবেদনকারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার বিরোধীদলীয় রাজনীতিক নেতা অ্যাঙ্গাস টেইলর অভিবাসন ব্যবস্থায় কঠোরতা আনার প্রস্তাব তুলে ধরে আশ্রয় আবেদনকারীদের পরিচয় ও কার্যক্রম যাচাইয়ের ওপর জোর দিয়েছেন। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, ভিসা ও আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এতে আবেদনকারীদের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা, বক্তব্য এবং কার্যক্রম যাচাইয়ের সুযোগ বাড়বে।
তবে অভিবাসন বিষয়ে বিজ্ঞজনদের মতে, প্রস্তাবিত নীতিগুলো বাস্তবায়িত হলে এর প্রভাব পড়তে পারে বিভিন্ন স্তরে। নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে আবেদন প্রস্তুত আরও জটিল ও প্রমাণনির্ভর হয়ে উঠবে। চলমান আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাইয়ের মুখোমুখি হতে পারে এবং ভিসাধারীদের মধ্যেও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে।
বিশেষ করে, যাদের অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা প্রকাশ্য বা অনলাইনে দৃশ্যমান, তাদের জন্য ঝুঁকি বাড়তে পারে।
সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র বিষয়ক দপ্তর আশ্রয় আবেদন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর ব্যক্তিগতভাবে নির্যাতনের আশঙ্কা, প্রমাণের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং দেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করে থাকে।
সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, কেবল রাজনৈতিক পরিচয় নয় বরং আবেদনকারীর ব্যক্তিগতভাবে ঝুঁকির মুখে থাকার বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করতে হয়।
অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসনবিষয়ক আইনজীবীদের মতে, ভবিষ্যতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যাচাই বাধ্যতামূলক হলে আবেদন প্রক্রিয়া আরো কঠোর ও তথ্যনির্ভর হয়ে উঠবে এবং পূর্বের কার্যক্রমের সঙ্গে বর্তমান দাবির অসামঞ্জস্য থাকলে তা আবেদন বাতিলের কারণ হতে পারে।
সিডনির বাংলাদেশি কমিউনিটির আবিদুর রহমান জানান, সাম্প্রতিক বাংলাদেশ থেকে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কমিউনিটির একাংশ মনে করছেন, অতীতে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন এমন ব্যক্তিদের জন্য নতুন নীতি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। অন্যদিকে কেউ বলছেন, যাদের প্রকৃতপক্ষে ব্যক্তিগত ঝুঁকি রয়েছে এবং যারা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারবেন, তাদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন তেমন প্রভাব ফেলবে না।
একজন আবেদনকারীর অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে কমিউনিটির অপর একটি সূত্র জানায়, তিনি দেশে সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই সংক্রান্ত ছবি ও তথ্য রয়েছে। বর্তমানে আশ্রয়ের আবেদন করতে গিয়ে তিনি শঙ্কায় রয়েছেন।
কারণ নতুন যাচাই ব্যবস্থায় তার পূর্বের অবস্থান তার দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। যদিও এ ধরনের অভিজ্ঞতা যাচাইযোগ্য নয়, তবুও কমিউনিটির মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যানগত দিক থেকে দেখা যায়, অস্ট্রেলিয়ায় প্রতি বছর বিভিন্ন দেশ থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আশ্রয় আবেদন জমা পড়ে। যার একটি অংশ দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চল থেকে আসে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অনেক আবেদনই প্রাথমিক পর্যায়ে বাতিল হয়, প্রধানত পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাব বা বিশ্বাসযোগ্যতার ঘাটতির কারণে। যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর হলে বাতিলের হার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এদিকে ‘নিরাপদ দেশ’ তালিকা নিয়ে আলোচনাও সামনে এসেছে। কোনো দেশকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে সেই দেশ থেকে আসা আশ্রয় আবেদন সাধারণত কম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং দ্রুত নিষ্পত্তির আওতায় আনা হয়। বাংলাদেশকে এই তালিকায় যুক্ত করার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না থাকলেও, এ ধরনের প্রস্তাবনা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় নতুন বাংলাদেশি আশ্রয় প্রাথনাকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকদের মতে, অতিরিক্ত যাচাই প্রক্রিয়া প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্যও জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা নিরাপত্তার কারণে প্রকাশ্যে তাদের অবস্থান তুলে ধরতে পারেন না বা অনলাইনে সক্রিয় থাকেন না। ফলে কেবল অনলাইন উপস্থিতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিলে বাস্তব পরিস্থিতি পুরোপুরি প্রতিফলিত নাও হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অভিবাসন ইস্যু ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। লিবারেল-ন্যাশনাল জোট এই বিষয়টিকে নির্বাচনী অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরছে, যেখানে সীমান্ত নিরাপত্তা ও ভিসা ব্যবস্থার কঠোরতার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের প্রস্তাব রাজনৈতিক বিতর্ককে আরো তীব্র করে তুলছে।
এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার ভিসা মাইগ্রেশনের বিষয়ে পরামর্শক নাসির উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে আরো কঠোর, যাচাইকেন্দ্রিক এবং তথ্যনির্ভর হয়ে উঠছে। এতে একদিকে দুর্বল বা অসংগত আবেদন কমে আসতে পারে। অন্যদিকে প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য শক্তিশালী প্রমাণ উপস্থাপনের প্রয়োজনীয়তা আরো বাড়বে। নতুন বাস্তবতায় রাজনৈতিক পরিচয় বা অতীত ভূমিকার চেয়ে ব্যক্তিগত ঝুঁকি প্রমাণই হয়ে উঠতে পারে আশ্রয় পাওয়ার প্রধান নির্ধারক।
প্রবাস
ফ্রান্সে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জনপ্রতিনিধিদের নতুন প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ
ফ্রান্সে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার রক্ষা, কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতকরণ এবং প্রশাসনিক সহায়তা জোরদারের লক্ষ্যে আত্মপ্রকাশ করেছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জনপ্রতিনিধিদের নতুন সংগঠন— “আসোসিয়াসিয়োঁ দে জেল্যু ফ্রঁসেজ দোরিজিন বাংলাদেশ”।
গত রবিবার (১২ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। ২০২৬ সালে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে বিজয়ী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাউন্সিলরদের সমন্বয়ে গঠিত এই প্ল্যাটফর্মটি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি সংগঠিত ও প্রাতিষ্ঠানিক কণ্ঠস্বর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
সংগঠনটির লক্ষ্য হচ্ছে প্রশাসনিক পর্যায়ে বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, তাদের সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা এবং একটি শক্তিশালী কমিউনিটি কাঠামো গড়ে তোলা।
নবগঠিত সংগঠনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কৌশিক রাব্বানী (সেইন্ট ডেনিস), সেক্রেটারি নাহিদুল মোহাম্মদ (সেইন্ট ডেনিস), সহ-সভাপতি জুবায়েদ আহমেদ (ইভরি সুর সেইন) এবং ট্রেজারার তানিয়া তুনু (গার্ঝ-লে-গোনেস)।
সংগঠন গঠন প্রসঙ্গে সভাপতি কৌশিক রাব্বানী বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান, অধিকার সংরক্ষণ এবং ফরাসি সমাজে তাদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে এই প্ল্যাটফর্ম কাজ করবে। আমরা চাই, এই প্ল্যাটফর্মটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল ও কার্যকর প্রতিনিধিত্বকারী শক্তিতে পরিণত হোক।
উদ্যোক্তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে ফ্রান্সের জাতীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, বিশেষ করে সংসদ সদস্যরাও এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত হবেন। এতে সংগঠনটি আরও শক্তিশালী, গতিশীল এবং কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ঐক্য, সহযোগিতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে। পাশাপাশি ফরাসি সমাজে বাংলাদেশি কমিউনিটির ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তোলা এবং তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেও সংগঠনটি তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এমএন
জাতীয়
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টারের পদত্যাগ
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার আকবর হোসেন পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ওই পোস্টে আকবর হোসেন লিখেছেন, ‘ডিয়ার অল—লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার পদ থেকে আমি পদত্যাগ করেছি। একান্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে সেখানে দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টির সঙ্গে অন্য কোনো কিছুর সম্পর্ক নেই। ধন্যবাদ।’
২০২৪ সালের নভেম্বরে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার হিসেবে তাকে নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
তবে তার পদত্যাগের বিষয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
প্রেস মিনিস্টার হিসেবে যোগদানের আগে তিনি বিবিসি বাংলার ঢাকা অফিসে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
আন্তর্জাতিক
মার্কিন ভিসা নিয়ে দূতাবাসের জরুরি সতর্কবার্তা
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা থাকলেই দেশটিতে প্রবেশের নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না বলে সতর্ক করেছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস।
শনিবার (২৮ মার্চ) দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং অবস্থানের মেয়াদ নির্ধারণের পূর্ণ ক্ষমতা থাকে প্রবেশস্থলের (পোর্ট অব এন্ট্রি) ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার হাতে।
দূতাবাস জানায়, একটি ইউএস ভিসা থাকা মানেই যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের শতভাগ নিশ্চয়তা নয়। একজন ভ্রমণকারী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন কিনা এবং কতদিন সেখানে অবস্থান করতে পারবেন, তার শর্তাবলি নির্ধারণ করেন সংশ্লিষ্ট প্রবেশস্থলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা। অর্থাৎ, ভিসা থাকা সত্ত্বেও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা চাইলে যে কাউকে প্রবেশে বাধা দিতে পারেন।
ভিসাধারীদের সতর্ক করে পোস্টে আরও বলা হয়, পারমিটের মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা বা ভিসার ধরন অনুযায়ী অনুমোদিত নয় এমন কোনো কাজে (যেমন: টুরিস্ট ভিসায় গিয়ে চাকরি করা) জড়িত হওয়া গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের নিয়ম লঙ্ঘনের ফলে ভবিষ্যতে ওই ব্যক্তির ওপর যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে।
মার্কিন দূতাবাস স্পষ্ট জানিয়েছে, সঠিকভাবে ভিসা ব্যবহার করা সম্পূর্ণভাবে ভ্রমণকারীর নিজস্ব দায়িত্ব। নিয়ম মেনে দেশটিতে অবস্থান এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফিরে আসার ওপরই পরবর্তী ভিসা প্রাপ্তি বা ভ্রমণের সুযোগ নির্ভর করে।
সম্প্রতি ভিসা জালিয়াতি এবং অতিরিক্ত সময় অবস্থানের বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপের অংশ হিসেবেই দূতাবাস থেকে নিয়মিত বিরতিতে এমন সচেতনতামূলক বার্তা দেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



