খেলাধুলা
জোড়াতালি দিয়ে বিপিএল আয়োজন করতে চান না তামিম
তামিম ইকবাল বলেছেন, শুধুমাত্র আয়োজনের জন্য জোড়াতালি দিয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) করতে চান না তারা। বিশেষ করে গেল ২০২৫ সালে ফিক্সিং ইস্যু এবং পেমেন্ট ইস্যু নিয়ে আলোচনা ছিল বেশি। সর্বশেষ আসরেও ছিল দল নিয়ে সমালোচনাসহ নানা অব্যবস্থাপনার কথা বলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৬ মে) মিরপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমি জোড়াতালি দিয়ে বিপিএলের মতো টুর্নামেন্ট করব না। আমরা যদি ফ্র্যাঞ্চাইজি না পাই, তাহলে আমার মনে হয় বিপিএল করা উচিত না। শুধু করার জন্য বিপিএল করার থেকে না করাই ভালো। আমি সবসময় বিশ্বাস করি নিয়মিত বিপিএল হওয়া উচিত। কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজি।’
তিনি আরও বলেন, নিয়মিত বিপিএল আয়োজন হওয়া প্রয়োজন হলেও সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো।
তামিম আরও বলেন, ‘আমি যদি কোনো কিছু করি, যার কারণে বিসিবি ভোগান্তিতে পড়ে তাহলে আমাকে ধরতে হবে। আপনি ভুল করতেই পারেন। তবে জেনেশুনে যখন আপনি ভুল করেন তখন সেটা ক্রাইম।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অ্যাডহক কমিটির সদস্য ফাহিম সিনহা বলেন, ‘দুটি দলের সঙ্গে চুক্তিই হয়নি। একটি আসর খেলে ফেলেছে। (দুই দল সিলেট এবং নোয়াখালী) চট্টগ্রাম রয়্যালসের দায়িত্ব বিসিবি নিয়ে নিয়েছিল। বিসিবির এই ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ভুগতে হচ্ছে। সামনে যেন এমনটা না হয় আমরা এটা নিশ্চিত করব। কোয়াবের প্রেসিডেন্ট মিঠুনের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্লেয়ারদের কীভাবে চুক্তি হয় এটায় বিসিবি দিক নির্দেশনা দেবে। যেন প্লেয়াররা বিপদে না পরে।’
খেলাধুলা
সূর্যবংশীকে খেলানোয় রাজস্থানের বিরুদ্ধে শিশুশ্রমের অভিযোগ
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) মানেই চার-ছক্কার রোমাঞ্চ আর নতুন তারাদের উত্থান। তবে এবারের আসরে রাজস্থান রয়্যালসের তরুণ ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশী মাঠের পারফরম্যান্স ছাপিয়ে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের আইপিএলে অংশগ্রহণকে ‘শিশুশ্রম আইন লঙ্ঘনের’ অভিযোগ এনেছেন কর্ণাটকের এক সমাজকর্মী।
সি এম শিবকুমার নায়েক নামের ওই সমাজকর্মী বৈভব সূর্যবংশীর আইপিএলে খেলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার দাবি, এত অল্প বয়সে একটি বাণিজ্যিক টুর্নামেন্টে খেলা আইনতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ এবং এটি ‘শিশুশ্রম’-এর নামান্তর। এই বিষয়ে তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে শিবকুমার নায়েক স্পষ্ট করে বলেছেন যে, পেশাদার ক্রিকেট ব্যবস্থার মাধ্যমে কিশোর সূর্যবংশীকে ‘শোষণ’ করা হচ্ছে। তিনি শিশু অধিকার ও শিশুশ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
শিবকুমার নায়েক ভিডিওতে আরও বলেন, “রাজস্থান রয়্যালসের এই ১৫ বছর বয়সী কিশোর বৈভব সূর্যবংশীকে শোষণ করা হচ্ছে। সে কেবলই এক শিশু, বয়স মাত্র ১৫। এই বয়সেই তাকে আইপিএলের মতো পেশাদার ক্রিকেটে নিয়ে আসা হয়েছে। এটি শিশুশ্রম ছাড়া আর কিছুই নয়।”
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এত বড় একটি লিগে তারা একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে কীভাবে খেলাতে পারে? এই অল্প বয়সে ক্রিকেট খেলার বদলে তার উচিত পড়াশোনা করা, স্কুলে যাওয়া এবং নিজের শিক্ষা সম্পন্ন করা।”
শিবকুমার মনে করেন, এই ঘটনা দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি ‘খুবই খারাপ নজির’ তৈরি করছে। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাজস্থান রয়্যালস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিতর্ক যাই থাকুক না কেন, বৈভব সূর্যবংশী ব্যাট হাতে আইপিএলে নিজের জাত চিনিয়েছেন। ২০২৫ সালের এপ্রিলে মাত্র ১৪ বছর ২৩ দিন বয়সে তার আইপিএল অভিষেক হয়। এরপর থেকে তিনি বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে নিয়মিত রেকর্ড বই ওলট-পালট করে দিচ্ছেন। ২০২৫ এবং ২০২৬ আইপিএলের দুই আসর মিলিয়ে ১৭ ম্যাচে তার সংগ্রহ ৬৫৬ রান। এই সময়ে তার গড় ৩৮.৫৯ এবং স্ট্রাইক রেট অবিশ্বাস্য ২২৪.৬৬! এর মধ্যে রয়েছে দুটি সেঞ্চুরি ও তিনটি ফিফটি।
২০২৫ আইপিএলে গুজরাট টাইটানসের বিপক্ষে মাত্র ৩৮ বলে ১০১ রানের ইনিংস খেলে তিনি ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন। মাত্র ৩৫ বলে করা সেই সেঞ্চুরিটি ছিল আইপিএল ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম তিন অঙ্কের ইনিংস।
সাফল্যের এই ধারা তিনি ২০২৬ আইপিএলেও ধরে রেখেছেন, সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ৩৭ বলে ১০৩ রানের আরেকটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন এই বাঁহাতি।
আইপিএলের বাইরেও সূর্যবংশী তার প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। চলতি বছর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে তিনি আলো ছড়ান, ফাইনালে ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে মাত্র ৮০ বলে ১৭৫ রানের দানবীয় ইনিংস খেলে ভারতকে শিরোপা জেতান। এই টুর্নামেন্টে তিনি সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও অর্জন করেন।
এছাড়াও, ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে সবচেয়ে কম বয়সে লিস্ট ‘এ’ সেঞ্চুরি এবং বিহারের দ্রুততম ব্যাটসম্যান হিসেবে ১৫০ রানের ইনিংস খেলার রেকর্ডও এখন সূর্যবংশীর দখলে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ২০২০ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের জন্য সর্বনিম্ন বয়সের নিয়ম চালু করে। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, পুরুষ ও নারী ক্রিকেটের পাশাপাশি অনূর্ধ্ব-১৯ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও অংশ নিতে হলে একজন খেলোয়াড়ের বয়স অন্তত ১৫ বছর হতে হবে। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই নিয়ম চালু করা হয়েছিল।
তবে, এই নিয়ম শুধু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রযোজ্য। ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর ক্ষেত্রে আইসিসির এই নীতিমালা বাধ্যতামূলক নয়। ফলে, আইপিএলের মতো ঘরোয়া লিগে ১৫ বছর বয়সী খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আইসিসির সরাসরি কোনো বিধিনিষেধ নেই। এই বিষয়টিই বর্তমান বিতর্কের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে নৈতিকতা ও আইনের ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
খেলাধুলা
বাংলাদেশ সফরের সূচি প্রকাশ করল অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দল তাদের বাংলাদেশ সফরের সূচি প্রকাশ করেছে। জুন মাসে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়া।
সূচি অনুযায়ী, ওয়ানডে সিরিজের তিনটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। ম্যাচগুলো হবে ৯, ১১ ও ১৪ জুন।
এরপর দুই দল চট্টগ্রামে যাবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে। ১৭, ১৯ ও ২১ জুন তিনটি টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লে. মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে।
বাংলাদেশ সফরের আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। সেই সিরিজ শেষ করেই বাংলাদেশে আসবে তারা।
এমএন
খেলাধুলা
বিসিবির আজকের সভায় যেসব সিদ্ধান্ত হলো
আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার পর তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত বিসিবির ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি তাদের চতুর্থ সভা সম্পন্ন করেছে।
বুধবার (৬ মে) মিরপুর বিসিবি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় আগামী নির্বাচন এবং ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট জনবল নিয়োগ নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বর্তমান অ্যাডহক কমিটি। এরই ধারাবাহিকতায় বিসিবি গঠনতন্ত্রের ১২.৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, তিনটি ক্যাটাগরিতে ১৯২ জন কাউন্সিলরের নাম আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সংস্থা, ক্লাব এবং সংগঠনগুলোর তালিকা চূড়ান্ত করেছে বোর্ড। কাউন্সিলর মনোনয়নের জন্য খুব শীঘ্রই এসব প্রতিষ্ঠানকে চিঠি পাঠানো হবে, যা আগামী ১৬ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে বিসিবিতে জমা দিতে হবে।
সারাদেশের ৬৪টি জেলায় নতুন কোচ নিয়োগের লক্ষ্যে একটি মূল্যায়ন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। বর্তমান জেলা কোচদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন করে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। আবেদনকারীদের দক্ষতা যাচাইয়ে তাত্ত্বিক (Theoretical) ও ব্যবহারিক (Practical) উভয় ধরনের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচিত করার আশ্বাস দিয়েছে বিসিবি।
বোর্ডের ম্যাচ রেফারি এবং আম্পায়ারদের চাকরির মেয়াদ আরও তিন মাস বৃদ্ধি করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, তাঁদের পূর্ববর্তী চুক্তির মেয়াদ গত ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে শেষ হয়েছিল। ঘরোয়া ক্রিকেটের ধারাবাহিকতা রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অ্যাডহক কমিটির এই সভায় জানানো হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করাই বর্তমান পর্ষদের প্রধান লক্ষ্য।
খেলাধুলা
বিদায় বেলায় বাংলাদেশকে নিয়ে ক্যাবরেরার আবেগঘন বার্তা
গত ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) তার সঙ্গে আর চুক্তি নবায়ন না করায় আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয় তার অধ্যায়। বাংলাদেশ অধ্যায় শেষ হওয়ার পর এবার ক্যাবরেরা আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন।
২০২২ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়া এই স্প্যানিশ কোচের অধীনে বাংলাদেশ ৩৯টি ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে জয় ও ড্র ১০টি করে এবং হার ১৯টি। তার অধীনে দলটি ভুটান ও মালদ্বীপের বিপক্ষে তিনটি করে জয়, কম্বোডিয়ার বিপক্ষে দুটি এবং সিশেলস ও ভারতের বিপক্ষে একটি করে জয় পায়।
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পর এবার বিদায়ী পোস্টে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করলেন। বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে লম্বা সময় ধরে থাকা প্রধান কোচ তিনি। তার অধীনে ১৪ বছরে প্রথমবার সাফের সেমিফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ। দুই দশকেরও বেশি সময় পর ভারতকে হারানোর মতো সাফল্যও আছে তাদের, যা গর্বিত করেছে স্প্যানিশ কোচকে।
ক্যাবরেরা লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে আমার পথচলা শেষ হলো। চার বছর ও চার মাস পর, জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘতম, আমি এমন অবিস্মরণীয় স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা নিয়ে বিদায় নিচ্ছি, যার প্রতিটি মুহূর্ত সার্থক ছিল।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমরা মাঠে ও মাঠের বাইরে অনেক লম্বা পথ চলেছি। হাজারো ভক্তের সামনে খেলা থেকে শুরু করে দর্শকে ঠাসা স্টেডিয়ামগুলোতে অবিস্মরণীয় রাত, এমন সব মুহূর্ত তৈরি হয়েছে যেগুলো সবসময় বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে।’
লম্বা পোস্টে তার আরও কথা, ‘একসঙ্গে আমরা দৃঢ় পরিচিতি ও প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা তৈরি করেছি, যার মাধ্যমে আমরা মহাদেশের শক্তিশালী জাতীয় দলগুলোর বিপক্ষে ধারাবাহিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। ১৪ বছর পর সাফ সেমিফাইনালে ওঠা, ২২ বছরে প্রথমবার ভারতকে হারানো এবং ২০১৬ সালের পর ফিফার সর্বোচ্চ র্যাংকিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু মাইলফলক আমরা ছুঁয়েছি।’
ক্যাবরেরার দাবি, তার অধীনেই বাংলাদেশের ফুটবলের শক্ত ভিত তৈরি হয়েছে। তিনি বললেন, ‘বিশেষ করে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আমরা যে পথ তৈরি করেছি, তার জন্য আমি গর্বিত। এই সময়ে ২১ জন অনূর্ধ্ব-২৩ খেলোয়াড়ের অভিষেক হয়েছে, যারা এশিয়ার অন্যতম তরুণ জাতীয় দল প্রতিষ্ঠা করেছে এবং ভবিষ্যতের জন্য শক্ত ভিত তৈরি করেছে।’
খেলাধুলা
শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে খেলাধুলার ওপর জোর ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর
জয়-পরাজয় নয়, খেলাধুলার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত তরুণ প্রজন্মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখা। ডিভাইস-আসক্তি থেকে তরুণদের দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
তিনি বলেন, পাবলিক ও প্রাইভেট, সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রীড়া বিভাগ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের মাধ্যমে ক্রীড়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আগামী বছর থেকে প্রাথমিক স্তরের চতুর্থ শ্রেণি থেকেই খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হবে এবং প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগের দেওয়া হবে। আগামীর বাংলাদেশকে শান্তিপূর্ণ করে গড়ে তোলার অন্যতম মাধ্যম হোক খেলাধুলা।
সোমবার (৪ মে) বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) তিন দিনব্যাপী আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অ্যাথলেটিকস (ছাত্র-ছাত্রী) ও বাস্কেটবল (ছাত্র) প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলোয়াড় তৈরি করতে সরকার ইতোমধ্যে ৩০০-এর বেশি ক্রীড়া কার্ড প্রদান করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে এ কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ’র সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এয়াকুব আলী ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের গেস্ট অব অনার ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আব্দুল মজিদ এবং কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রতিমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “বর্তমান সরকারের ক্রীড়া উন্নয়নের যে উদ্যোগ, তা সত্যিই ক্রীড়া ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি জিমনেসিয়াম থাকলেও ভেতরে অডিটোরিয়াম নেই, সুইমিং পুল নেই, হোস্টেল নেই। স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগ প্রতিষ্ঠার স্মারকলিপিসহ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক ক্রীড়া উন্নয়নে আপনার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।”
উল্লেখ্য, এবারের প্রতিযোগিতায় দেশের ২১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। মোট ৩০টি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা ৪ মে থেকে ৬ মে পর্যন্ত চলবে।
এমএন




