আন্তর্জাতিক
হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌবাহিনী ও ইরানের মধ্যে তীব্র সংঘাত
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌবাহিনীর তিনটি ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ইরানীয় বাহিনী ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক কমান্ড। এই ঘটনাটি গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইউএসএস ট্রক্সটন, ইউএসএস ম্যাসন এবং ইউএসএস রাফায়েল পেরাল্টা নামের তিনটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার যখন হরমুজ প্রণালী হয়ে ওমান উপসাগরের দিকে যাচ্ছিল, তখন ইরানীয় বাহিনী সেগুলোর ওপর ‘বিনা উস্কানিতে’ আক্রমণ চালায়।
ইরানি বাহিনী এই আক্রমণে একসাথে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং ছোট দ্রুতগামী নৌযান ব্যবহার করেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা এই আক্রমণকে অত্যন্ত সুসংগঠিত এবং তীব্র বলে বর্ণনা করেছেন। তবে সেন্টকম নিশ্চিত করেছে যে, মার্কিন জাহাজগুলোর কোনো ক্ষতি হয়নি এবং তারা সফলভাবে সব আক্রমণ প্রতিহত করেছে।
জবাবে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিন বাহিনী ইরানের ভূখণ্ডে অবস্থিত সেইসব স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যেখান থেকে আক্রমণগুলো পরিচালনা করা হচ্ছিল। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এবং আধা-সরকারি ফারস (Fars) নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে ইরানীয় সশস্ত্র বাহিনী এবং ‘শত্রু’ পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি হয়েছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনী একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পর ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখায়।
ইরানি গণমাধ্যমগুলো আরও জানিয়েছে, বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ এবং এমনকি রাজধানী তেহরানের কাছেও ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কেশম দ্বীপের বাহমান পিয়ারের বাণিজ্যিক অংশে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ইরান এই হামলার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে এবং একে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনার ওপর সরাসরি মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, মার্কিন বাহিনীর পাল্টা হামলায় ইরানের জাহাজ এবং সামরিক অবকাঠামোর “বিরাট ক্ষতি’ (Great damage) হয়েছে।
ট্রাম্প তার পোস্টে ইরানকে অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত নতুন চুক্তিতে আসার আহ্বান জানান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, ইরান যদি শীঘ্রই শান্তি আলোচনায় ফিরে না আসে, তবে আরও ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। ট্রাম্প এই পাল্টা আক্রমণকে অত্যন্ত সফল বলে উল্লেখ করেছেন এবং আমেরিকান বাহিনীর সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন।
এই উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই পথে সংঘাতের ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত ৮ এপ্রিল থেকে দুই দেশের মধ্যে একটি অঘোষিত ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলে আসছিল। কিন্তু রোববারের এই সংঘর্ষের পর সেই শান্তি প্রক্রিয়া এখন অনিশ্চিত। সেন্টকম জানিয়েছে যে, তারা উত্তেজনা বাড়াতে চায় না, তবে আমেরিকান বাহিনীকে রক্ষায় তারা যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
অন্যদিকে, পাকিস্তান এই সংকটে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করলেও এখন পর্যন্ত কোনো ফলপ্রসূ সমাধান আসেনি। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা পাকিস্তানের মাধ্যমে পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
হরমুজ প্রণালীতে এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কাকে আবারও উসকে দিয়েছে। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি, অন্যদিকে ইরানের সামরিক পাল্টা জবাব, এই দ্বৈরথে বিশ্ববাসী এখন গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। কূটনৈতিক সমাধান না মিললে হরমুজ প্রণালী অদূর ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী রণক্ষেত্রে পরিণত হতে পারে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
আন্তর্জাতিক
সৌদির চাপে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত, পিছু হটলেন ট্রাম্প
ইরানের অবরোধ ভাঙতে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় মিত্রদের তীব্র আপত্তির মুখে মাত্র দেড় দিনের মাথায় সেই পরিকল্পনা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের খবরে বলা হয়েছে, কূটনৈতিক ও সামরিক চাপে পড়ে ট্রাম্প প্রশাসন ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামের এই উদ্যোগ থেকে সাময়িকভাবে সরে এসেছে।
গত রোববার সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি উদ্যোগের ঘোষণা দেন। এর লক্ষ্য ছিল ইরানের হুমকি ও হামলার মধ্যেও পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা।
এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ এবং নজরদারি ব্যবস্থা জাহাজের নিরাপত্তা দিত। মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে কয়েকটি জাহাজকে নিরাপদে প্রণালি অতিক্রম করাতেও সক্ষম হয়েছিল।
তবে ঘোষণার পরপরই সৌদি আরবসহ গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় দেশগুলো অসন্তোষ প্রকাশ করে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ট্রাম্পের ঘোষণায় সৌদি নেতৃত্ব বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হয়েছিল। এরপর রিয়াদ ওয়াশিংটনকে জানিয়ে দেয়, তারা আর যুক্তরাষ্ট্রকে সৌদির প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে দেবে না। একইসঙ্গে সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার করেও সামরিক অভিযান চালানো যাবে না।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাম্প সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। কিন্তু সেই আলোচনায়ও অচলাবস্থা কাটেনি। ফলে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পকে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত করতে হয়।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান পরিচালনায় আঞ্চলিক মিত্রদের আকাশসীমা ও ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যুদ্ধবিমান, জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ এবং সহায়ক বিমানের জন্য এই সহযোগিতা ছাড়া বিকল্প পথ প্রায় নেই।
কাতার, ওমানসহ আরও কয়েকটি উপসাগরীয় দেশও অভিযোগ তোলে যে অভিযানের ঘোষণা দেওয়ার আগে তাদের সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় করা হয়নি।
এক মধ্যপ্রাচ্যীয় কূটনীতিক জানান, ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ওমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে। যদিও ওমান আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেনি।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, আঞ্চলিক মিত্রদের আগেই অবহিত করা হয়েছিল।
‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিতের পর ট্রাম্প জানান, যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তিনি সাময়িক বিরতি দিয়েছেন। ইরানও নতুন একটি শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাকিস্তান এই মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এদিকে ট্রাম্প বুধবার বলেন, গত চব্বিশ ঘণ্টায় খুব ভালো আলোচনা হয়েছে এবং ইরান সমঝোতায় আগ্রহী। তবে একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে আবারও ইরানে ব্যাপক বোমা হামলা চালানো হতে পারে।
মূলত আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। রিপাবলিকানদের একটি অংশ চাইছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস না করা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাওয়া হোক।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের জন্য আগামী সপ্তাহে বেইজিং সফরের আগেই ইরান ইস্যুর সমাধান চান ট্রাম্প।
ইরানের পার্লামেন্টের জ্যেষ্ঠ সদস্য এব্রাহিম রেজায়ি বলেছেন, যুদ্ধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না, যা তারা আলোচনায় পায়নি।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রয়োজন হলে ইরান কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত।
তবে জর্ডানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের অর্থনৈতিক অবস্থা দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য দেশটির নেই।
আন্তর্জাতিক
বিজয়ের দলের ১০৭ এমপির একযোগে পদত্যাগের হুঁশিয়ারি
ভারতের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে বড় চমক দেখিয়েছে বিজয় থালাপতির দল তামিলাগা ভেট্ট্রি কাজাগাম (টিভিকে)। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পায়নি দলটি। ফলে জোট নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে তার দলের ১০৭ এমপি একযোগে পদত্যাগের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
শুক্রবার (৮ মে) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্রাবিড় মুনেত্র কড়গম (ডিএমকে) বা সর্বভারতীয় আন্না দ্রাবিড় মুনেত্র কড়গম (এআইএডিএমকে) সরকার গঠনের চেষ্টা করলে দলের ১০৭ এমপি পদত্যাগ করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে টিভিকে। দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।
ডিএমকে ও এআইএডিএমকের শিবিরে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। এম কে স্টালিনের ডিএমকে এবং ই পালানিস্বামীর এআইএডিএমকে একসঙ্গে সরকার গঠনের চেষ্টা করছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। এ দুই দলের জোট হলে সর্বাধিক জনসমর্থন পাওয়া দল টিভিকে পিছিয়ে পড়তে পারে।
১০৭টি আসন জিতে টিভিকে দাবি করছে, একক বৃহত্তম দল হিসেবে সরকার গঠনের জন্য গভর্নরের উচিত তাদের আমন্ত্রণ জানানো। তবে তামিলনাড়ুর গভর্নর আর ভি আর্লেকার বিজয়কে সরকার গঠনের দাবি জানাতে অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, বিজয়ের হাতে পর্যাপ্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য বিজয় যে পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছিলেন, তা-ও তিনি গ্রহণ করেননি।
সূত্র জানিয়েছে, টানা দুই দিনের মধ্যে দ্বিতীয় বৈঠকেও গভর্নর জানিয়েছেন, সরকার গঠনের জন্য অন্তত ১১৮ এমপির সমর্থনের চিঠি জমা দিতে হবে। রাজভবনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
এনডিটিভি জানিয়েছে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে টিভিকের আরও ১০টি আসন প্রয়োজন। এরই মধ্যে কংগ্রেসের ৫ এমপি তাদের সমর্থন দিয়েছে। বাম দল এবং কয়েকটি ছোট দলের সঙ্গে বাকি সমর্থন জোগাড়ে আলোচনা চলছে। সূত্র বলছে, বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ারও প্রস্তুতি নিচ্ছে টিভিকে।
সূত্র: এনডিটিভি
আন্তর্জাতিক
পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়া হলো, মমতাকে অব্যাহতি
মমতা ব্যানার্জি নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার ভেঙে দিয়েছেন গভর্নর আরএন রবি। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরও মমতা ব্যানার্জি পদত্যাগ না করায় তৈরি হওয়া সাংবিধানিক জটিলতার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) মধ্যরাতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নতুন সরকার গঠনের আগে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ না করায় রাজ্যে অন্তর্বর্তী প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, নতুন মুখ্যমন্ত্রী আগামী ৯ মে শপথ নেবেন।
ফলে প্রশ্ন ওঠে, ৮ মে মধ্যরাত থেকে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ পর্যন্ত বাংলা চালাবেন কে? এক অভূতপূর্ব সাংবিধানিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা জোড়াল হচ্ছিল।
এই অবস্থায় সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে মমতা ব্যানার্জি নেতৃত্বাধীন সরকার ভেঙে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন গভর্নর আরএন রবি। বিবৃতি জারি করে এই পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা।
উল্লেখ্য, সংবিধানে ১৭২ ধারা অনুযায়ী, রাজ্য বিধানসভার মেয়াদ তার প্রথম অধিবেশনের তারিখ থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত থাকে। পাঁচ বছর শেষে বিধানসভাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায়। এর জন্য গভর্নরের কোনো পৃথক আদেশের প্রয়োজন হয় না।
ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪ নম্বর অনুচ্ছেদের (২) নম্বর দফার (খ) উপ-দফা অনুযায়ী প্রাপ্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে রাজ্যপাল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে আগামী দুদিন রাজ্যের দায়িত্বভার সামলাবেন রাজ্যপাল রবি। গভর্নরের এ পদক্ষেপের ফলে ১৮তম বিধানসভা গঠনের পথ মসৃণ হলো।
সূত্র : এনডিটিভি
আন্তর্জাতিক
ইসরায়েলকে হুমকি দিলে জীবন ঝুঁকিতে পড়বে : নেতানিয়াহু
ইসরায়েলকে কেউ হুমকি দিলে তার জীবন ঝুঁকিতে পড়বে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ হুমকি দিয়েছেন। খবর আল জাজিরার।
বুধবার এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, আমি আমাদের শত্রুদের স্পষ্ট করে বলতে চাই, কোনো সন্ত্রাসীর দায়মুক্তি নেই। যারা ইসরায়েলকে হুমকি দেবে, তারা নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলবে।
লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হামলায় হিজবুল্লাহর এলিট রাদওয়ান ইউনিটের কমান্ডার আহমদ বালুত নিহত হওয়ার ঘটনায় মন্তব্য করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সে হয়তো সংবাদমাধ্যমে পড়েছিল যে বৈরুতে তার দায়মুক্তি আছে। কিন্তু এখন আর তা হবে না।’
নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, আহমদ বালুত বৈরুতে গোপন ঘাঁটি থেকে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতিগুলোর বিরুদ্ধে হামলা পরিচালনা করে যাচ্ছিলেন।
নেতানিয়াহু আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় হামাসের সদস্যদের লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এ ক্ষেত্রে বেসামরিক কেউ হতাহত হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক
দুর্নীতির দায়ে চীনের সাবেক দুই মন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড
ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগে চীনের সাবেক দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফেংহে ও লি শাংফুকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি সামরিক আদালত। তবে দুই বছরের স্থগিতাদেশ থাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কোনো অপরাধে জড়িত না হলে তাদের সাজা পরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপ নেবে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি ও সিনহুয়ার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। আদালত জানিয়েছে, দুই সাবেক মন্ত্রীই বড় অঙ্কের ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। আদালত তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে গুরুতর বলে উল্লেখ করে সর্বোচ্চ শাস্তি ঘোষণা করে।
রায়ের বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, ওয়েই ফেংহে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। অন্যদিকে লি শাংফুর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের পাশাপাশি ঘুষ প্রদানেও জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে আদালত জানায়। দুজনই চীনের কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের সাবেক সদস্য এবং স্টেট কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
আদালতের নির্দেশে তাদের রাজনৈতিক সব অধিকার আজীবনের জন্য বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের ব্যক্তিগত সব সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ওয়েই ফেংহে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। ২০২৩ সালের মার্চে তাকে সরিয়ে লি শাংফুকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী করা হয়। তবে লি শাংফুর মেয়াদ ছিল স্বল্পস্থায়ী। দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে তাকে বরখাস্ত করা হয়। এর আগেই তিনি হঠাৎ জনসমক্ষে অনুপস্থিত হয়ে পড়েন, যা নিয়ে তখন থেকেই নানা জল্পনা শুরু হয়।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে সিনহুয়া জানায়, তদন্তে লি শাংফুর বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ ঘুষ গ্রহণ এবং অন্যদের ঘুষ দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে বলা হয়, তিনি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন এবং ব্যক্তিগত সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করেছেন।
অন্যদিকে ওয়েই ফেংহের বিরুদ্ধে তদন্তে উঠে আসে, দায়িত্বে থাকাকালে তিনি বিপুল অর্থ ও মূল্যবান সম্পদ ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন নিয়োগ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় অবৈধ সুবিধা দিতে সহায়তা করেছেন বলেও প্রমাণ পাওয়া যায়।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সাম্প্রতিক সময়ে সেনাবাহিনীতে চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে ‘বিপ্লবী শুদ্ধি অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের মাধ্যমে পুনর্গঠনের পথে এগোচ্ছে।




