স্বাস্থ্য
দেশে পৌঁছেছে হাম-রুবেলার ১৫ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নতুন টিকা চালান গ্রহণের পর স্বাস্থ্য খাতের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি জানিয়েছেন, হাম-রুবেলার ১৫ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছেছে।
বুধবার (৬ মে) ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় দ্রুততার সঙ্গে টিকার বড় মজুত তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। সর্বশেষ চালানে ইউনিসেফের মাধ্যমে হাম-রুবেলা টিকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডোজ দেশে এসেছে।
তিনি জানান, নিয়মিত ভিত্তিতে টিকা সরবরাহ অব্যাহত থাকবে এবং প্রতি সপ্তাহেই নতুন চালান দেশে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আসন্ন দিনগুলোতে আরও বড় একটি টিকা চালান আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে টিকা সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল অবস্থায় আছে এবং অতীতের মতো ঘাটতির কোনো পরিস্থিতি নেই। সরকারের লক্ষ্য হলো একটি স্থায়ী বাফার স্টক গড়ে তোলা, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সংকট তৈরি না হয়।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি চলমান টিকাদান কর্মসূচিতে লক্ষ্য অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পুরো লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে টিকা কার্যক্রমে সময় লাগে, তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতির জন্য অস্থায়ী চিকিৎসা সুবিধাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়।
মন্ত্রী আন্তর্জাতিক অংশীদার ও গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, সহযোগিতা ও জনসচেতনতার কারণে টিকাদান কার্যক্রম আরও সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য
দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর প্রাণহানি
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম এবং হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও ৬টি শিশু মারা গেছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৪ শত পঁয়তাল্লিশটি শিশু এ রোগ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
এর ফলে গত ৫১ দিনে দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট শিশুমৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ শত সতেরোতে।
এর আগের দিন, অর্থাৎ সোমবারের ২৪ ঘণ্টার তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ের মধ্যে সতেরোটি শিশুর মৃত্যু হয়েছিল, যা দেশে প্রথমবার হাম শনাক্ত হওয়ার পর থেকে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমএন
স্বাস্থ্য
হামের ভয়াবহ রূপ: একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক শিশুর মৃত্যু
দেশে হামের পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে মোট ১৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ২ জনের এবং উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ১৫ জন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, একদিনে এত সংখ্যক শিশুর মৃত্যু এর আগে ঘটেনি।
সোমবার (৪ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১৪৫৬ জন রোগী।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোলরুম জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা ১৩০২ জন। আর গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৭৯৩ জনে।
একই সময়ে নিশ্চিত হামের রোগীর সংখ্যা গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫৪ জন। আর ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত মোট নিশ্চিত রোগী ৫ হাজার ৪৬৭ জন।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীর তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে ভর্তি হয়েছেন ২৮ হাজার ৮৪২ জন এবং একই সময়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৫ হাজার ১৫১ জন।
মৃত্যুর তথ্যে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ২ জনের এবং ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত মোট নিশ্চিত হামে মৃত্যু ৫২ জনে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামে আরও ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট মৃত্যু হয়েছে ২৫৯ জনের।
স্বাস্থ্য
হাম ও হমের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ শিশুর মৃত্যু
দেশে হাম ও হমের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ২৬১ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
রোববার (০৩ মে) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আক্রান্তের হার বাড়ার পাশাপাশি দেশের হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপও ক্রমাগত বাড়ছে।
এর আগে গত শনিবারের পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছিল, হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে ৪ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ১ হাজার ২৪ জন। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে মৃত্যু ও আক্রান্ত-উভয় সংখ্যাই আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিশুদের দ্রুত টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। হঠাৎ জ্বর বা শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে বিলম্ব না করে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তাঁরা।
এমএন
স্বাস্থ্য
দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশু প্রাণ হারিয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৮৫ শিশু।
শুক্রবার (১ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১১৫ শিশুর। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১৪৬।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯ জনে। অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩১ জনে।
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ায় ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হয় ঝুঁকিপূর্ণ ৩০ উপজেলায় জরুরি টিকাদান। এরপর ১২ এপ্রিল থেকে দেয়া হয় ঢাকার দুই সিটি, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায়। আর ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে হামের টিকাদান কার্যক্রম চালু হয়।
গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শতভাগ শিশুকে হামে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে।
স্বাস্থ্য
হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন হামে আক্রান্ত ছিল এবং বাকি ৬ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ ছিল।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ৩টি শিশুই ঢাকার। অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে বরিশালে ২ জন, ঢাকায় ২ জন, রাজশাহীতে ১ জন এবং সিলেটে ১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে দেশে মোট ২২৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ৪৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ২৭৬টি শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ দেখা দিয়েছে।
অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩৪ হাজার ৬৬২টি শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৩ হাজার ৩৪৮ জন শিশু। তবে আশার কথা হলো, ১৯ হাজার ৯৯১ জন শিশু ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৮৫৬ শিশুর শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করার এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।
এমএন




