টেলিকম ও প্রযুক্তি
এআই অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে ৮ হাজার কর্মী ছাঁটাই করতে যাচ্ছে মেটা
কয়েক হাজার কর্মী ছাঁটাই করতে যাচ্ছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আগামী মাসের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার কর্মী ছাঁটাই করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরের প্রথম ধাপের বড় আকারের ছাঁটাই ২০ মে থেকে শুরু করতে যাচ্ছে। পরবর্তীতে আরও কর্মীদের ছাঁটাই করতে পারে। একটি সূত্র জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিকানায় থাকা প্রতিষ্ঠানটি প্রথম ধাপে তাদের বৈশ্বিক কর্মীবাহিনীর প্রায় ১০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৮,০০০ কর্মী ছাঁটাই করবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে আরও ছাঁটাই হতে পারে। যদিও এর তারিখ ও পরিমাণ এখনো নির্ধারিত হয়নি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে। এর আগে রয়টার্স জানিয়েছিল, মেটা তাদের মোট কর্মীর ২০ শতাংশ বা তারও বেশি ছাঁটাই করতে পারে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি মেটা।
কোম্পানির কার্যক্রমকে নতুনভাবে সাজাতে প্রতিষ্ঠানটির সিইও মার্ক জাকারবার্গ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ব্যাপক বিনিয়োগ করছেন। প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বড় কোম্পানিগুলোর মধ্যেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
উদাহরণ হিসেবে, অ্যামাজন সম্প্রতি প্রায় ৩০ হাজার করপোরেট কর্মী ছাঁটাই করেছে। এছাড়া ফেব্রুয়ারিতে ফিনটেক কোম্পানি ব্লক, আইএনসি তাদের প্রায় অর্ধেক কর্মী ছাঁটাই করেছে। এই দুই ক্ষেত্রেই এআইনির্ভর দক্ষতা বৃদ্ধিকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
চাকরি ছাঁটাই পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট লেঅফ.এওয়াইআই জানিয়েছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজার ২১২ কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৫৩ হাজার। ২০২২ সালের শেষে ইয়ার অব ইফিশিয়েন্সি পুনর্গঠনের পর এটিই সবচেয়ে বড় ছাঁটাই হতে যাচ্ছে। ওই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২১ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছিল। বর্তমানে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা আগের তুলনায় ভালো হলেও, ব্যবস্থাপনা স্তর কমানো এবং এআইনির্ভর দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার মেনলো পার্ক-ভিত্তিক এই কোম্পানিতে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৭৯,০০০ কর্মী কাজ করছেন। সম্প্রতি মেটা তাদের রিয়েলিটি ল্যাবস বিভাগে পুনর্গঠন করেছে এবং বিভিন্ন দল থেকে ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে ‘অ্যাপ্লায়েড এআই’ নামে নতুন একটি ইউনিট গঠন করেছে। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোড লিখতে ও জটিল কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম এআই এজেন্ট তৈরিতে কাজ করবে।
টেলিকম ও প্রযুক্তি
সংশোধন হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের করা টেলিকম নীতিমালা
অংশীজনদের নানা আপত্তির মধ্যেই গেল বছরের ২২ সেপ্টেম্বর টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও লাইসেন্সিং নীতিমালা-২০২৫ প্রণয়ন করে অন্তর্বর্তী সরকার। যেখানে টেলিকম খাতের সব লাইসেন্সকে তিন স্তরে নামিয়ে আনা হয়। তবে এই নীতিমালা প্রণয়ন নিয়ে আপত্তি তুলে সংশোধনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নীতিমালাটি পর্যালোচনার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অংশীজনদের আপত্তি এবং দেশীয় বিনিয়োগকারীদের অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ার আশঙ্কার কারণে এই সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার এই নীতিমালা প্রণয়ন করে, যেখানে টেলিকম খাতের সব লাইসেন্সকে তিন স্তরে নামিয়ে আনা হয়। তবে এটি নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক ছিল। পর্যালোচনায় দেখা গেছে—নীতিমালায় ৬৫ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগ থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সব স্তরে ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ফলে মোবাইল অপারেটররা চাইলে টাওয়ার বা ফাইবার নেটওয়ার্কের ব্যবসায়ও যুক্ত হতে পারবে।
বিপরীতে টাওয়ার বা এনটিটিএন লাইসেন্সধারী দেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাবমেরিন কেবল বা আন্তর্জাতিক পরিষেবার লাইসেন্স না দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া বর্তমানে টেলিকম খাতের ৮০ শতাংশ রাজস্বই মোবাইল অপারেটরদের দখলে। নতুন নীতিমালায় বাকি ২০ শতাংশ রাজস্বের ভাগীদার ছোট ব্রডব্যান্ড ও অবকাঠামো প্রতিষ্ঠানগুলো অস্তিত্বসংকটে পড়ার আশঙ্কা করছে।
নির্বাচনের আগেই বিএনপি এই নীতিমালার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল। গত ৩ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, ‘একতরফা এই নীতিতে বড় কম্পানিগুলো ছোটদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করবে। প্রযুক্তির স্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকায় ছোট কম্পানিগুলো টিকে থাকতে পারবে না।’ বর্তমান সরকার সেই উদ্বেগকেই আমলে নিয়ে সংশোধনের কাজ শুরু করেছে।
ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আমিনুল হক দাবি করেন, নীতিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে যে ফাইবার আউটপুট দেওয়ার একচ্ছত্র অধিকার যেন ইন্টারনেট সেবাদাতাদের হাতে থাকে।
ফাইবার অ্যাট হোমের চিফ ইনফরমেশন অফিসার সুমন আহমেদ সাবির মনে করেন, বড় অপারেটররা সরাসরি না এসে ভিন্ন নামে অবকাঠামো ব্যবসায় ঢুকে পড়ার সুযোগ রয়েছে, যা রোধ করা জরুরি।
সামিট কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ আল ইসলামের মতে, মোবাইল অপারেটররা যদি ফাইবার ব্যবসায় ঢুকে পড়ে, তবে ন্যাশনাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড কানেক্টিভিটি সার্ভিস প্রোভাইডারদের (এনআইসিএসপি) ব্যবসা বলে কিছু থাকবে না।
রবির চিফ করপোরেট অফিসার সাহেদ আলম ঢালাও রিভিউর চেয়ে সুনির্দিষ্ট সমস্যাগুলো সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, তথ্য এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় মিলে একটি ‘ক্লাস্টার’ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় বর্তমানে এই নীতিমালার সংশোধনী চূড়ান্ত করার কাজ করছে, যাতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় থাকে।
জাতীয়
সারা দেশে ইন্টারনেট নিয়ে দুঃসংবাদ দিল বিএসসিসিএল
দেশে তিন দিন ইন্টারসেবা বিঘ্নিত হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিসিএল)। দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল (SEA-ME-WE-5) রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের কারণে সেবা বিঘ্নিত হকে পারে বলে জানানো হয়েছে।
আজ বুধবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিসিএল)। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে বিএসসিসিএল কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞপ্তি বলা হয়েছে, কুয়াকাটায় স্থাপিত দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সিস্টেমের ‘শাট ফল্ট’ মেরামতের কাজ শুরু হবে বৃহস্পতিবার। ওই দিন রাত ১০টা থেকে শুরু হয় মেরামতকাজ চলবে সোমবার (১৩ এপ্রিল) ভোর ৬টা পর্যন্ত। অর্থাৎ, মোট ৩ দিন ৮ ঘণ্টা চলবে এই রক্ষণাবেক্ষণকাজ।
ফলে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাত থেকে পরবর্তী তিন দিন সারা দেশে বিঘ্নিত হতে পারে ইন্টারনেট সেবা।
এই সময়ে ইন্টারনেট সেবায় থাকতে পারে ধীরগতি।
বিএসসিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (চালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ) মোহাম্মদ জাকিরুল আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে দ্রুতই সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে মেরামতকাজ। সঠিকভাবে মেরামত শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ফের নিশ্চিত করা হবে স্বাভাবিক সেবা।
টেলিকম ও প্রযুক্তি
রাজধানীতে যাত্রা শুরু করেছে আধুনিক পডকাষ্ট স্টুডিও
বর্তমান যুগ ডিজিটাল কন্টেন্টের। এখন ভিডিও প্রোডাকশন ও পডকাস্ট শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং ব্যবসা, ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং এবং যোগাযোগের অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার। এই ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্র নয়াপল্টনে যাত্রা শুরু করেছে একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ ভিডিও প্রোডাকশন সুবিধাসম্পন্ন ‘দেশ সমাচার স্টুডিও’ ।
নয়াপল্টনের চায়না টাউনে অবস্থিত এই স্টুডিওটি অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যেই কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, করপোরেট প্রতিষ্ঠান এবং মিডিয়া পেশাজীবীদের মধ্যে আস্থার জায়গা তৈরি করে নিয়েছে। যারা ঢাকায় একটি মানসম্মত এবং প্রফেশনাল পডকাস্ট স্টুডিও খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি এখন প্রথম পছন্দ।
স্টুডিওর সুযোগ-সুবিধা
দেশ সমাচার স্টুডিওতে রয়েছে আধুনিক সব প্রযুক্তি। এখানে মাল্টি-ক্যামেরা সেটআপের মাধ্যমে একই সাথে কয়েক জন মিলে পডকাস্ট বা টক-শো রেকর্ড করা যায়। এছাড়া ব্রডকাস্ট মানের অডিও সিস্টেম এবং সিনেমাটিক লাইটিং সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে, যা প্রতিটি ভিডিওকে দেয় প্রিমিয়াম লুক। শুধু পডকাস্ট নয়, এখানে ইউটিউব কন্টেন্ট, ফেসবুক লাইভ এবং করপোরেট ইন্টারভিউয়ের জন্য রয়েছে আলাদা সেটআপ।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে ভিডিও কন্টেন্টের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ইউটিউব ও ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মে টিকে থাকতে হলে এখন কোয়ালিটির ওপর জোর দিতেই হবে। এই বাস্তবতায় দেশ সমাচার স্টুডিওর মতো আধুনিক স্পেসগুলো নতুন উদ্যোক্তা ও ক্রিয়েটরদের জন্য সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে। এখানে রেডি-টু-শুট সেটআপ থাকায় ক্লায়েন্টরা কোনো ঝামেলা ছাড়াই খুব দ্রুত শুটিং সম্পন্ন করতে পারেন।
দেশ সমাচার স্টুডিওর কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা সাশ্রয়ী খরচে আন্তর্জাতিক মানের সেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাদের এখানে ভিডিও এডিটিং, কালার গ্রেডিং এবং পোস্ট-প্রোডাকশনের সুবিধাও রয়েছে। অর্থাৎ, আইডিয়া থেকে শুরু করে চূড়ান্ত ভিডিও আউটপুট পর্যন্ত সব সেবা মিলছে এক ছাদের নিচে।
যোগাযোগের ঠিকানা: আপনার যেকোনো প্রোডাকশন বা বুকিংয়ের জন্য যোগাযোগ করুন।
- ফোন নম্বর: 01720210657
- ওয়েবসাইট: https://studio.deshshamachar.com
- ফেসবুক পেইজ: https://www.facebook.com/deshshamacharstudio
টেলিকম ও প্রযুক্তি
শিশুদের সামাজিক মাধ্যমে আসক্তি: মেটা-গুগলকে ৬ মিলিয়ন ডলার জরিমানা
শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি তৈরির অভিযোগে মেটা ও গুগলকে ৬ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। লস অ্যাঞ্জেলেসের আদালত এক তরুণীর দায়ের করা মামলার রায়ে এ সিদ্ধান্ত দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, মেটার ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ এবং গুগলের ইউটিউব এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের—বিশেষ করে তরুণদের—আসক্ত করে তোলে এবং এতে ওই তরুণীর মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘কেলি’ নামে পরিচিত ২০ বছর বয়সী ওই তরুণীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৬০ লাখ মার্কিন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বিচারাধীন একই ধরনের শত শত মামলার ক্ষেত্রে এই রায় গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের ঘোষণা দিয়েছে মেটা ও গুগল। মেটা বলেছে, কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য একটি জটিল বিষয়, যা কোনো একটি অ্যাপের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা যায় না। অন্যদিকে গুগলের দাবি, এই মামলায় ইউটিউবকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং এটি একটি দায়িত্বশীল ভিডিওভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম।
জুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কেলিকে ৩০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ এবং আরও ৩০ লাখ ডলার শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। মোট জরিমানার ৭০ শতাংশ বহন করবে মেটা এবং বাকি ৩০ শতাংশ গুগল। আদালতের মতে, প্ল্যাটফর্ম পরিচালনায় প্রতিষ্ঠান দুটি ‘বিদ্বেষ, দমনমূলক মনোভাব বা জালিয়াতি’র আশ্রয় নিয়েছে।
পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা এই বিচারের শেষ দিনে আদালতের বাইরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের অভিভাবকদের ভিড় দেখা যায়। রায় ঘোষণার পর অনেক অভিভাবক উল্লাস প্রকাশ করেন।
এর এক দিন আগে নিউ মেক্সিকোর একটি আদালতও মেটাকে দোষী সাব্যস্ত করে জানায়, তাদের প্ল্যাটফর্ম শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কনটেন্ট ও যৌন শিকারিদের সংস্পর্শে নিয়ে যাচ্ছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফরেস্টারের গবেষণা পরিচালক মাইক প্রুলক্স বলেন, ধারাবাহিক এসব রায় প্রমাণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর প্রতি জনগণের সহ্যের সীমা অতিক্রম করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। যুক্তরাজ্যও ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নিয়েছে।
শুনানিতে মেটার প্রধান মার্ক জাকারবার্গ বলেন, প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী ১৩ বছরের কম বয়সীদের এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের অনুমতি নেই। তবে অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, কম বয়সীরাও এসব অ্যাপ ব্যবহার করছে। তিনি দাবি করেন, বয়স শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া আরও উন্নত করার চেষ্টা চলছে।
এই মামলায় শুরুতে স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটকও আসামি ছিল, তবে বিচারের আগেই তারা সমঝোতায় পৌঁছায়।
বাদীপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, এসব প্ল্যাটফর্ম আসক্তি তৈরির উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে এবং শিশুদের প্রবেশ ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। কেলি জানান, তিনি অল্প বয়স থেকেই এসব ব্যবহার শুরু করেন, যা তার মানসিক স্বাস্থ্য, আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
আইনজীবীদের মতে, এই রায় একটি স্পষ্ট বার্তা—শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানই জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নয়। আগামী জুনে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালতে একই ধরনের আরেকটি মামলার বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
টেলিকম ও প্রযুক্তি
কনটেন্ট নজরদারিতে এআই বাড়াচ্ছে মেটা
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কনটেন্ট মডারেশন বা নজরদারি পদ্ধতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। এখন থেকে সন্ত্রাসবাদ, শিশু নির্যাতন কিংবা প্রতারণামূলক কনটেন্ট শনাক্তে মানুষের বদলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-কে বেশি প্রধান্য দেওয়া হবে।
একই সঙ্গে থার্ড-পার্টি বা তৃতীয় পক্ষের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মেটা এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, ব্যবহারকারীদের জন্য নিরাপদ প্ল্যাটফর্ম নিশ্চিত করতে উন্নত এআই সিস্টেম ধাপে ধাপে চালু করা হবে। যখনই এই এআই বিদ্যমান পদ্ধতির চেয়ে ভালো পারফরম্যান্স দেখাবে, তখনই তা স্থায়ীভাবে কার্যকর হবে।
মেটার দাবি, গ্রাফিক কনটেন্ট বা বীভৎস দৃশ্য এবং প্রতারকদের প্রতিনিয়ত বদলে যাওয়া কৌশলগুলো শনাক্ত করা মানুষের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ। এসব কাজে এআই ব্যবহার করলে নির্ভুলতা বাড়বে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। প্রাথমিক পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, মেটার নতুন এআই সিস্টেম মানুষের তুলনায় দ্বিগুণ পরিমাণ যৌন প্রস্তাবসংক্রান্ত কনটেন্ট শনাক্ত করতে পেরেছে। একই সঙ্গে ভুলের হার কমেছে প্রায় ৬০ শতাংশ।
বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার প্রতারণার চেষ্টা রুখে দিচ্ছে মেটার এই নতুন প্রযুক্তি। বিশেষ করে সেলিব্রিটিদের নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলা, অ্যাকাউন্ট হ্যাকের উদ্দেশ্যে নতুন লোকেশন থেকে লগইন করা কিংবা অস্বাভাবিকভাবে পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের চেষ্টাগুলো এআই আগেভাগেই ধরে ফেলছে। এতে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঝুঁকি অনেক কমেছে।
পুরোপুরি নয়। মেটা স্পষ্ট করেছে যে, বিশেষজ্ঞরা এআই-কে প্রশিক্ষণ দেওয়া ও তদারকির কাজ করবেন। বিশেষ করে অ্যাকাউন্ট বন্ধের বিরুদ্ধে আপিল নিষ্পত্তি কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কোনো তথ্য দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সিদ্ধান্তে মানুষের অংশগ্রহণই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
গত এক বছরে মেটা তাদের কনটেন্ট নীতিমালায় বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থার্ড-পার্টি ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রাম বন্ধ করে ‘কমিউনিটি নোটস’ মডেল চালু করেছে মেটা। এর পাশাপাশি রাজনৈতিক কনটেন্টের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের নিজস্ব পছন্দের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
একই সঙ্গে ব্যবহারকারীদের তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে ২৪ ঘণ্টা সচল একটি ‘এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট’ বা সহকারী চালু করছে মেটা। এটি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাপের পাশাপাশি ডেস্কটপের হেল্প সেন্টারেও পর্যায়ক্রমে যুক্ত করা হচ্ছে। শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে বিশ্বজুড়ে মামলা ও চাপের মুখে থাকা মেটার এই নতুন পদক্ষেপ প্ল্যাটফর্মটিকে কতটা নিরাপদ করতে পারে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।



