Connect with us

মত দ্বিমত

আরেকটি গণঅভ্যুত্থানের প্রয়োজনীয়তা: ব্যক্তিজীবন, ইতিহাস ও রাষ্ট্রচিন্তার আলোকে

Published

on

পর্ষদ

একটি গণঅভ্যুত্থানের পর হঠাৎ যদি আরেকটির ডাক পড়ে, তবে জনগণ কি সেটাকে সাড়া দেবে?

এই প্রশ্নের জবাব দেওয়ার আগে, আসুন আমি আমার ব্যক্তিগত কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করি। যদিও সরাসরি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা দিয়ে কী গণঅভ্যুত্থানের তুলনা ঠিক হবে? হবে, অবশ্যই হবে। তবে প্রথমে জীবনের সহজ সহজ অভিজ্ঞতার কথা বলি।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পর কিন্তু একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ হয় এবং পরে আমরা পরাধীনতার বেড়াজাল ভেঙে স্বাধীন হয়েছিলাম। তবে সেই স্বাধীনতা ঠিকমতো ধরে রাখতে পারিনি। কারণ কী জানেন? আমিও জানি না। তবে আমার কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আছে, সেগুলো শেয়ার করি।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

আমি আগে আমার লেখায় বলেছি, আমি ৭১-এর যুদ্ধের রণক্ষেত্রের খুদে মুক্তিযোদ্ধা। বড় দায়িত্ব এবং কর্তব্য পালন করেছি। না কোনো পদবির কারণে, না নেহায়েত মায়ার কারণে, বরং অনুপ্রেরণার কারণে। আমার ছোটবেলার গ্রাম নহাটা এখনও নহাটাই আছে; নেই শুধু আমি এবং আমার শেষের মধুর স্মৃতিগুলো। তবে সেগুলো মনের মাঝে লুকিয়ে আছে। মাঝে মাঝে মনে পড়ে, তখন স্মৃতিচারণ করি। আজ সেই স্মৃতিচারণের কিছু অংশ শেয়ার করছি, শেয়ার ভ্যালুর কনসেপ্ট থেকে।

আমার পরিবার এবং আত্মীয়-স্বজনের অনেকেই তখন নামকরা রাজনীতিবিদ ছিলেন, এমপি, জেলার মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, যুদ্ধ করে শহীদ হয়েছেন এবং মুক্তিযুদ্ধের ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন, বীর প্রতীক হয়েছেন। নড়াইল নানাবাড়ি, মাগুরা দাদাবাড়ি; মাঝখানে বয়ে গেছে প্রাণপ্রিয় নবগঙ্গা নদী। এপাড়ে সবাই দাদা-দাদি, কাকা-চাচি, চাচাতো ভাই-বোন, মাসি-পিসি, খুড়ো-খুড়ি; ওপাড়ে নান-নানি, মামা-মামি, মামাতো ভাই-বোন, মাসি-পিসি, খুড়ো-খুড়ি, বন্ধু-বান্ধব। মতদ্বিমত থাকলেও দেশের স্বার্থে সবাই ছিল একমত, কিন্তু সেটা এখন আর আগের মতো নেই।

আমি যে খুদে মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম, তার জন্য কারও কাছ থেকে সনদপত্র নিতে হয়নি বা সংসদ থেকে পাস করানোর জন্য সুপারিশ করার দরকার হয়নি। তারপর সেই ১৯৮৫ সাল থেকে বিদেশে বসবাস। ওসব কাগজপত্র দিয়ে তো বাকিজীবন কাটিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই সেগুলো এখন কথার কথা। তবে আমার জীবনের প্রথম পাসপোর্টটা কিন্তু এখনও যত্ন করে রেখে দিয়েছি।

গত কয়েক বছর আগে সুইডেনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে গিয়েছিলাম পাসপোর্ট নিতে। গিয়ে দেখি ছোটবেলার এক বাল্যবন্ধু সেখানে রাষ্ট্রদূত। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আমার কোনো পুরোনো পাসপোর্ট আছে কিনা। তিনি সেই ১৯৮৫ সালের পাসপোর্ট দেখে সম্ভবত তাঁর সকল সহকর্মীদের দেখিয়েছিলেন এই মর্মে যে কীভাবে এত সুন্দর, পরিপাটি অবস্থায় এত বছর ধরে একটি কাগজের পাসপোর্ট থাকতে পারে! আমার সহধর্মিণী অনেক যত্ন করে আমার শুধু পাসপোর্ট নয়, আমাকেও পরিপাটি অবস্থায় ধরে রেখেছেন, আলহামদুলিল্লাহ।

এখন আসি মূল কথায়। আমি সুইডেন আসার পর প্রেম-প্রীতি করেছি, বেশ করেছি, ভালোই করেছি। এমনকি একজনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল গভীর ভালোবাসার। কথা সত্য, তারপরও বিরহের চিঠি তিনি লিখে পাঠালেন; সম্পর্ক শেষ হয়ে গেল। পরিবারের মুরুব্বিরা বললেন, আর বিদেশি নয়, খুব হয়েছে, এবার দেশে গিয়ে বিয়ে-শাদি করতে হবে। বিদেশি মেয়েরা টিকবে না। কেউ বলতে শুরু করল, এত বড় একটি ঘটনার পর নতুন করে কোনো কিছু করা যাবে না বা হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না, ইত্যাদি ইত্যাদি।

পরিবারের মধ্যে তখন উপদেশ দেওয়ার জন্য লোকের অভাব ছিল না। যেমনটি ছোটবেলায় দেখেছি, পুকুর ভরা মাছ, গোয়াল ভরা গরু, গোলা ভরা ধান; ঠিক তেমনি উপদেশ দেওয়ার জন্য শুভানুধ্যায়ীদের অভাব ছিল না। কিন্তু ঠেলা সামলানোর সময় কেউ কখনো ছিল না। এটা আমাকেই করতে হয়েছে।

যাই হোক, সবাইকে উপেক্ষা করে আমি আবার নতুন প্রেমে পড়েছি এবং বিয়ে করেছি। এখনও সংসার করছি। আমার এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে চাই, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পর স্বাধীনতার সংগ্রাম এবং মুক্তি; আমার ভালোবাসার বিচ্ছেদের পর নতুন জীবন শুরু। আমি কি তাহলে বোঝাতে পেরেছি? ব্যক্তিজীবনের এই অভিজ্ঞতাই আমাকে শিখিয়েছে, একটি ব্যর্থতার পর নতুন সূচনা সম্ভব; আর সেই শিক্ষা থেকেই আমি রাষ্ট্র ও সমাজের পরিবর্তনের প্রশ্নটি বিবেচনা করি।

তা যদি পারি, তবে জুলাই সনদ যদি সত্যিই বাস্তবায়িত করতে হয়, তবে আবারও গণঅভ্যুত্থান ঘটাতে হবে এবং এখনই দেরি করা চলবে না। এই “জুলাই সনদ” কেবল একটি দাবি নয়; এটি ন্যায়, গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক প্রতীকী অঙ্গীকার, যা জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের পথনির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এটি মূলত রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সুশাসন এবং জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত একটি নীতিগত কাঠামো।

একজন মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী জানেন? একজন ভালো জীবনসঙ্গী বা সঙ্গিনী পাওয়া। এর থেকে কঠিন এবং একই সঙ্গে সহজ কাজ পৃথিবীতে আর কিছু নেই। সবাই তো সুখী হতে চায়। কেউ সুখী হয়, কেউ হয় না। তাই বলে কি থেমে গেলে চলবে? না। লেগে থাকতে হবে। শুধু নিতে নয়, দিতেও শিখতে হবে।

ইতিহাস, সংগ্রাম এবং ব্যক্তিজীবনের অভিজ্ঞতা আমাদের একটাই শিক্ষা দেয়, ব্যর্থতা শেষ নয়; অধ্যবসায়ই সাফল্যের পথ দেখায়। ব্যক্তি ও জাতির অগ্রগতি নির্ভর করে সাহস, আত্মত্যাগ এবং পুনর্জাগরণের ওপর।

এই প্রসঙ্গে বিশ্বের দিকে তাকালে আমরা একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদাহরণ দেখতে পাই, পুয়ের্তো রিকো। ক্যারিবীয় সাগরের বুকে অবস্থিত এই ছোট্ট ভূখণ্ডটির নিজস্ব কোনো স্বাধীন সামরিক শক্তি নেই। তবুও দেশটি স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের পথে অগ্রসর হচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো এবং নাগরিক অধিকার রক্ষায় তারা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে। যুদ্ধ বা সামরিক প্রতিযোগিতার পরিবর্তে তারা উন্নয়ন, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং মানবকল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।

পুয়ের্তো রিকোর রাজনৈতিক অবস্থান অনন্য। এটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বশাসিত অঞ্চল, যেখানে জনগণ তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও প্রশাসনিক কাঠামো বজায় রেখে বহির্বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করে। সামরিক শক্তির অনুপস্থিতি তাদের দুর্বল করেনি; বরং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং কূটনৈতিক বাস্তবতা তাদের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করেছে। এই বাস্তবতা আমাদের একটি মৌলিক প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়, একটি ছোট ভূখণ্ড যদি সংঘাত ছাড়াই সুন্দরভাবে এগিয়ে যেতে পারে, তবে আমরা কেন পারব না?

আমাদের শক্তি কি কেবল অস্ত্রে, নাকি ঐক্যে? একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত ক্ষমতা তার জনগণের সংহতি, আত্মমর্যাদা এবং স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতায় নিহিত। আমরা ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে তা প্রমাণ করেছি। যদিও কেউ কেউ আবেগের বশে বলেন, আমরা চাইলে তিন দিনেই ভারত জয় করতে পারি, কিন্তু বাস্তব শক্তি যুদ্ধের আহ্বানে নয়, বরং আত্মবিশ্বাস, ন্যায় এবং নৈতিক দৃঢ়তায় প্রতিফলিত হয়। প্রশ্ন হলো, আমরা কী চাই, সংঘাত, না মর্যাদাপূর্ণ সহাবস্থান?

তারা কেন আমাদের ওপর কর্তৃত্ব বা নেতৃত্ব দেবে, যদি আমরা তা না চাই? একটি স্বাধীন জাতির সিদ্ধান্ত তার জনগণের হাতেই থাকা উচিত। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে পারিবারিক মতভেদ থাকতে পারে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই মতভেদের সুযোগে প্রতিবেশী কোনো দেশের নাক গলানোর অবকাশ আমরা কেন দেব? একটি আত্মমর্যাদাসম্পন্ন জাতি নিজের সমস্যার সমাধান নিজেই করে, অন্যের ওপর নির্ভর করে নয়।

ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে, ঐক্য শক্তি দেয়, বিভক্তি দুর্বলতা ডেকে আনে। ব্যক্তিজীবনের মতো রাষ্ট্রজীবনেও সত্য একই: সংকট আসে, বিভ্রান্তি আসে, কিন্তু দৃঢ় সংকল্প থাকলে পথ খুঁজে পাওয়া যায়। যেমন ভালোবাসার বিচ্ছেদের পর নতুন জীবন শুরু করা সম্ভব, তেমনি জাতীয় জীবনের সংকটের পরও পুনর্জাগরণ সম্ভব।
সুতরাং, প্রশ্নটি আবারও ফিরে আসে, আমরা কি পারব না? অবশ্যই পারব, যদি আমরা নিজেদের ওপর আস্থা রাখি, ঐক্য বজায় রাখি এবং স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণে অটল থাকি।

আমরা যে পারবো না, এই কথাটি বলা যাবে না; পারতে আমাদের হবেই। তবে হ্যাঁ, সবাইকে আমরা এই মহৎ কাজে পাশে পাবো না। কারণ যারা দেশের বারোটা বাজিয়ে চলেছে, তারা কিন্তু আমাদের নিজেদের লোক, পরিবারের সদস্য। বিশ্বাস না হয়, খোঁজ নিয়ে দেখুন, দয়া করে। এখন উপায় একটাই – ঐক্য, সাহস এবং সত্যের পথে অবিচল অগ্রযাত্রা। এই পথ চলতে চলতে একটি অনুভূতি হৃদয়ে অনুরণিত হয়।

চোখ বুজে হাত বাড়িয়ে দিলে যদি অনুভব করা যায় একে অপরের হৃদস্পন্দন, যদি বোঝা যায় আমরা একই স্বপ্নে বিশ্বাসী, তবে তা কোনো কল্পনা নয়; এটি এক চিরন্তন অঙ্গীকারের শিখা। ঝড়-বৃষ্টির অন্ধকার ভেদ করে যেমন সূর্যের আলো উঁকি দেয়, তেমনি ঐক্যের শক্তি দূর করে জাতির দীর্ঘদিনের বেদনা। নিঃসঙ্গতার অবসান ঘটে, জন্ম নেয় নতুন আশার আলো। এই অনুভূতি হারাতে চাই না, কারণ এটাই আমাদের বিশ্বাস, আমাদের শক্তি, আমাদের ভবিষ্যৎ।

আসুন, আমরা একসঙ্গে হাত রাখি, হৃদয়ের স্পন্দন শুনি এবং একই স্বপ্নে বিশ্বাস করি। কারণ দেশটা কারো একার নয়, এটা আমাদের সবার।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন।

শেয়ার করুন:-

মত দ্বিমত

সংসদীয় গণতন্ত্রে এক নীরব দৃশ্য: নেতৃত্ব নাকি অভিনয়

Published

on

পর্ষদ

চাল নেই, ডাল নেই, মাছ নেই—কিছুই নেই। সব পাকিস্তানিরা লুটে নিয়ে গেছে, রেখে গেছে শুধু চোরদের। ওরা যদি চোরগুলোও নিয়ে যেত! সেই একই মধুর বাঁশি বেজে চলেছে বছরের পর বছর, তবে কিছুটা ভিন্নভাবে। আওয়ামী লীগ সব পাচার করেছে। পরে বিএনপির হাওয়া ভবন সব নিয়ে বেগমপাড়া তৈরি করেছে। তারপর জাতীয় পার্টি দেশটাকে ফাঁকা করেছে, পরে আবার বিএনপি সব শেষ করেছে।

গত ১৬ বছর গণভবনে বসে স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে গুম, খুন, নির্যাতন ও দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে। নতুন করে আবারও সেই মেহনতি মানুষের এক সাগর রক্তের বিনিময়ে জুলাই সনদ সংগঠিত হয়েছে—ভেবেছিলাম দেশ স্বাধীন হবে। কিন্তু নতুন শকুনের উৎপত্তি; সে যেন মহামারীর মতো উড়ে এসে জুড়ে বসেছে, এমনকি দেশের ক্রিকেট বোর্ডেও। হায় আল্লাহ! এ কী তুমি দেখালে? শিলিগুড়ি থেকে এসেছে ভারতের গোলাম, আর লন্ডন থেকে এসেছে বাবা-মার সুবাদে “আই হ্যাভ এ প্লান”।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

তার মুখে বুলি নেই, তবুও বলতে শোনা যায় আগের সেই প্যাঁচাল—একই বাজনা, যা বেজে চলেছে দীর্ঘ ৫৫ বছর আগ থেকেই। “আমরা যখন দায়িত্ব নিই, তখন দেশের অবস্থা ছিল অত্যন্ত ভঙ্গুর। অর্থনৈতিক খাত থেকে শুরু করে যোগাযোগব্যবস্থা—সবকিছুই ছিল বিপর্যস্ত। মনে হয়েছিল যেন একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের দায়িত্ব নিয়েছি।” আর কতকাল শুনবে জাতি এই প্যাঁচাল?

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

আমাদের দুর্ভাগ্য, ইতিহাস যেন বারবার একই অধ্যায়ে ফিরে আসে। ৭১-এর পরে যাকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যিনি সংবিধান রচনায় যুক্ত ছিলেন, তিনি মুক্তিযুদ্ধের বিভীষিকা প্রত্যক্ষ করেননি; তিনি ছিলেন দেশের বাইরে, পাকিস্তানে। কাকতালীয়ভাবে আবারও এমন এক নেতৃত্বের আবির্ভাব, যিনি জনগণের ত্যাগ-তিতিক্ষার বাস্তবতা থেকে দূরে অবস্থান করেছেন। ফলে জাতির মনে প্রশ্ন জাগে—ইতিহাস কি আবার নিজেকে পুনরাবৃত্তি করছে?

এই প্রেক্ষাপটে সংসদীয় গণতন্ত্রে এক বিস্ময়কর দৃশ্যের জন্ম হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান তর্কে নেই, বিতর্কে নেই, আলোচনায় নেই। সংসদে একের পর এক বিল পাস হয়েছে, অথচ তিনি নিজে কোনো বিল উত্থাপন করেননি। তাঁর পরিবর্তে সব বিল উত্থাপন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। নেতৃত্বের এই নীরবতা গণতন্ত্রে এক বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

তিনি যেন সংসদের ভিড়ে এক স্থির প্রতিচ্ছবি—কথাহীন, অভিব্যক্তিহীন; শান্ত নদীর মতো স্থির, শিমুল তুলোর মতো কোমল। তর্ক-বিতর্কে নেই, আলাপেও নেই; গায়ে কাদা নেই, মুখে বুলি নেই। যেন ক্ষমতার আসনে বসে থাকা এক নীরব প্রতীক।

এই নীরবতার কথা মনে করিয়ে দেয় চার্লি চ্যাপলিনের কথা। তিনি কথা না বলেও তাঁর অভিব্যক্তি, অঙ্গভঙ্গি ও অভিনয়ের মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে আনন্দ দিয়েছেন, মানবতার গভীর সত্য তুলে ধরেছেন। তাঁর নীরবতা ছিল শিল্প, ছিল প্রতিবাদের ভাষা, ছিল বিনোদনের অনন্য মাধ্যম।

কিন্তু এখানে পার্থক্য স্পষ্ট। চাপ্লিনের নীরবতা মানুষকে হাসিয়েছে, ভাবিয়েছে এবং অনুপ্রাণিত করেছে। আর এই নীরবতা জাতিকে আনন্দ নয়, বরং অস্বস্তি ও জ্বালাতন উপহার দিচ্ছে। সেখানে ছিল সৃজনশীলতা; এখানে দেখা যাচ্ছে দায়িত্বহীনতার প্রতীকী রূপ।

এ যেন সংসদীয় আসনে বসে থাকা এক পুতুল—নিজস্ব আলোহীন, অন্যের আলোয় আলোকিত। চাঁদের মতো, যার নিজস্ব দীপ্তি নেই; সূর্যের আলোয় জ্বলে ওঠে। তেমনি এই নেতৃত্বও অন্যের সিদ্ধান্তের প্রতিফলন মাত্র।

অতএব প্রশ্ন থেকে যায়—এ কি সত্যিকারের নেতৃত্ব, নাকি কেবল এক নীরব অভিনয়?
-জাগো বাংলাদেশ, জাগো।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, প্রাক্তন পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

শিক্ষাব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় অনুদান হোক না একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

Published

on

পর্ষদ

শিক্ষা একটি জাতির মূল ভিত্তি এবং অগ্রগতির চালিকাশক্তি। এটি কেবল জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং একটি শক্তি, যা ব্যক্তি, সমাজ এবং জাতির অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করে। কিন্তু বর্তমান দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার উদ্দেশ্য, পদ্ধতি এবং কাঠামো নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ কেমন হওয়া উচিত?

একটি শক্তিশালী শিক্ষাব্যবস্থা কেবল চাকরি প্রদানে সক্ষম হবে না, বরং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল, মানবিক এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতায় সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলবে। তাই আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা হতে হবে এমন একটি কাঠামো, যা শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত করে এবং তাদের মননশীল, উদ্ভাবনী ও নৈতিক দক্ষতা বিকাশে সহায়ক হবে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

কর্মমুখী ও প্রযুক্তিমুখী শিক্ষা

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

আজকের যুগে শিক্ষা কেবল পুঁথিগত বিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারবে না। প্রযুক্তি কর্মক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নতুন সুযোগ তৈরি করছে—যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, রোবটিক্স এবং ডিজিটাল লিটারেসি। তাই শিক্ষাব্যবস্থায় কর্মমুখী এবং প্রযুক্তিমুখী শিক্ষার সমন্বয় অপরিহার্য। শিক্ষার্থীদের কোডিং, রোবটিক্স এবং ডিজিটাল লিটারেসিতে পারদর্শী করে তোলা জরুরি।

ভার্চুয়াল রিয়ালিটি (VR) এবং অগমেন্টেড রিয়ালিটি (AR) ব্যবহার করে পাঠদানের পদ্ধতি আরও কার্যকর ও আকর্ষণীয় করা যায়। কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে উঠবে। উদাহরণ হিসেবে জার্মানি ও জাপানের কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থা অনুসরণ করা যেতে পারে।

শুধু কর্মমুখী নয়, প্রযুক্তি এবং মানবিক শিক্ষার ভারসাম্য নিশ্চিত করা উচিত। শিক্ষার্থীরা যেন চিন্তাশীল, সমস্যা সমাধানকারী এবং নৈতিক দিক থেকে সচেতন নাগরিক হিসেবে তৈরি হয়।

আদর্শ শিক্ষকের ভূমিকা

শিক্ষক শুধু একটি পেশা নয়, এটি মহান দায়িত্ব। একজন আদর্শ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কেবল পরীক্ষা বা ভালো ফলাফলের জন্য প্রস্তুত করেন না, বরং তাদের মনের গভীরে প্রভাব ফেলেন।

আমার বড় ভাই, প্রফেসর ড. মান্নান মৃধা, সুইডেনের কেটিএইচ রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক, এমন একজন আদর্শ শিক্ষকের উদাহরণ। তিনি ক্লাসে গল্পের মাধ্যমে জটিল বিষয় সহজে বোঝান। বাস্তব জীবনের উদাহরণ ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের কৌতূহল বাড়ান। পরীক্ষার চাপে হতাশ না করে, সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করেন।

শিক্ষাব্যবস্থার সমস্যাগুলো ও সমাধান

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা এখনও পরীক্ষার ফলাফলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল। এতে সৃজনশীলতা বাধাগ্রস্ত হয়। সমাধানের জন্য প্রজেক্ট-ভিত্তিক লার্নিং এবং ক্লাসরুম-বাইন্ডারী শিক্ষা চালু করা প্রয়োজন। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, যেমন প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল শিক্ষার সুযোগ দেওয়া। শিক্ষকদের জন্য এআই ও ইন্টারেক্টিভ টুল ব্যবহারের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা।

স্টাডি লোন: শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ

উন্নত দেশের মডেল অনুসারে, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য স্টাডি লোন চালু করা জরুরি। কম সুদে সহজ শর্তে লোন প্রদান শিক্ষার্থীদের আর্থিক চাপ কমাবে এবং তাদের শিক্ষা গ্রহণে উৎসাহ যোগাবে।

সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের মতো ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের আর্থিক স্বাধীনতা এবং সৃজনশীল কাজের সুযোগ বৃদ্ধি করেছে। শিক্ষাজীবন শেষে শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে লোন পরিশোধ করতে পারবে, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।

ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের শিক্ষার উদাহরণ

  • ফিনল্যান্ড: পরীক্ষার চাপ কমিয়ে সৃজনশীলতা ও সহযোগিতার ওপর জোর।
  • জাপান: কর্মমুখী কারিগরি শিক্ষার জন্য বিখ্যাত।
  • সুইডেন ও ফিনল্যান্ডে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সব কিছুই বিনামূল্যে, দশম শ্রেণি থেকে মাসিক ভাতা ও ধারের ব্যবস্থা।

দেশের শিক্ষার নতুন কাঠামো ও দায়িত্ব

শিক্ষার মান উন্নত করতে আমাদের দেশেও প্রাথমিক স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই বিতরণ করা এবং শিক্ষার ধরণ পরিবর্তন করা দরকার। সৃজনশীল ও কার্যকর শিক্ষার জন্য কাজের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ (on-the-job training) এবং বাস্তব জীবনের উদাহরণ ব্যবহার। মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য স্টাডি লোন ও আর্থিক সহায়তা। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং মনিটরিং পদ্ধতি চালু করা।

শিক্ষার্থীর সাফল্য মানেই দেশের সাফল্য। একটি সচেতন জাতির নৈতিক মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলির উন্নয়ন শিক্ষার মাধ্যমেই সম্ভব।

উপসংহার: শিক্ষার ভবিষ্যৎ আমাদের হাতে

যদি আমরা শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক, সৃজনশীল এবং মানবিকভাবে শক্তিশালী করতে পারি, তবে আগামী প্রজন্ম শান্তিপূর্ণ, দক্ষ এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। আমাদের উচিত শিক্ষার প্রতি গভীর মনোযোগ। প্রযুক্তি ও মানবিক গুণাবলির সমন্বয়ে একটি টেকসই ভবিষ্যতের পথ তৈরি করা। শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক ও শিক্ষাগত সমর্থন নিশ্চিত করা।

শুধু বর্তমানের চাহিদা নয়, আগামী দশ বছর পর শিক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা বিবেচনা করে পরিকল্পনা করা জরুরি। সৃজনশীল শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও মানসম্মত শিক্ষকতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের দৃঢ় নীতি এবং দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ অপরিহার্য।

শিক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশ হতে পারে একটি উদ্ভাবনী, সমৃদ্ধ এবং নৈতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ জাতি। দেশের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা যদি এই দিকনির্দেশনা মেনে গড়ে তোলা হয়, তবে জাতি অর্জন করবে জ্ঞানের আলো, সক্ষম নাগরিক এবং স্থিতিশীল উন্নয়নের পথ।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, প্রাক্তন পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

চাকরি বনাম রাজনীতি: জবাবদিহিতার অভাবে গণতন্ত্রের সংকট

Published

on

পর্ষদ

আধুনিক বিশ্বে একটি বিষয় স্পষ্ট, কোনো চাকরি আজীবনের নিশ্চয়তা নয়। কর্মদক্ষতা, বাজারের চাহিদা, এবং চুক্তির শর্ত, এই তিনের ওপর নির্ভর করে একজন কর্মীর অবস্থান নির্ধারিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বে বহুল পরিচিত “নিয়োগ এবং বরখাস্ত” নীতি মূলত এই বাস্তবতার প্রতিফলন। একজন কর্মী যতদিন প্রতিষ্ঠানকে মূল্য দিতে পারে, ততদিনই তার অবস্থান টিকে থাকে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই বাস্তবতা যদি কর্পোরেট জগতে প্রযোজ্য হয়, তাহলে রাজনীতিতে কেন নয়?

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

রাজনৈতিক ক্ষমতা: চুক্তি আছে, জবাবদিহিতা নেই

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

গণতন্ত্রে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা জনগণের কাছে নানা প্রতিশ্রুতি দেয়। এটি মূলত একটি অলিখিত “সামাজিক চুক্তি”- যেখানে জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা অর্পণ করে, আর নির্বাচিত প্রতিনিধি সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দায়িত্ব নেয়।

এই চুক্তির মৌলিক ভিত্তি হলো বিশ্বাস এবং জবাবদিহিতা। জনগণ তাদের সার্বভৌম ক্ষমতার একটি অংশ প্রতিনিধির হাতে তুলে দেয় এই প্রত্যাশায় যে সেই ক্ষমতা জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হবে। কিন্তু যখন সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন বাস্তবে দেখা যায় না, তখন এই চুক্তির নৈতিক ভিত্তিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সংসদের মেয়াদ পাঁচ বছর। এই পাঁচ বছর ধরে একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি কার্যত একটি “নিরাপদ চাকরি” ভোগ করেন, তার পারফরম্যান্স যেমনই হোক না কেন। এখানেই মূল সমস্যা:

  • প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কোনো তাৎক্ষণিক শাস্তি নেই।
  • পারফরম্যান্স মাপার কোনো নিরপেক্ষ কাঠামো নেই।
  • জনগণের সরাসরি জবাবদিহিতা দাবি করার কার্যকর পদ্ধতি নেই।

জনগণের ভোট কি কেবল ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য, নাকি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার। ফলে গণতন্ত্র একটি “একদিনের নির্বাচন” কেন্দ্রীক ব্যবস্থায় পরিণত হয়, যেখানে বাকি সময়টুকু প্রায় সম্পূর্ণ অনিয়ন্ত্রিত।

কর্পোরেট বনাম রাজনীতি: একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক ক্ষমতা এবং কর্পোরেট চাকরির মধ্যে মৌলিক পার্থক্য বেশ স্পষ্ট। কর্পোরেট ক্ষেত্রে নিয়োগ মূলত চুক্তিভিত্তিক। একজন কর্মী নিয়মিতভাবে মূল্যায়িত হয়, তার পারফরম্যান্স মাপা হয় এবং যদি সে কাজ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে চাকরি হারানোর বাস্তব পরিণতি থাকে। ফলোআপ এবং জবাবদিহিতা ধারাবাহিক।

রাজনীতিতে কিন্তু বিষয়টি পুরোপুরি ভিন্ন। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়োগ ভোটের মাধ্যমে হয়, কিন্তু তাদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের কোনও স্বচ্ছ ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়া নেই। ব্যর্থতার ফলও প্রায় নেই, আর জবাবদিহিতা সীমিত। সংসদে উপস্থিতি, আইন প্রণয়নে অবদান, নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন, এসব নিয়ে নিয়মিত কোনো ফলোআপ নেই।

অর্থাৎ, যেখানে কর্পোরেট বিশ্বে কর্মীর দায়িত্ব ও ক্ষমতা স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত, সেখানে রাজনীতিতে সেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কাঠামো অনিয়ন্ত্রিত। ফলে জনগণের ক্ষমতা প্রাপ্ত প্রতিনিধির হাতে অপ্রকাশ্যভাবে চলে যায়, যা গণতন্ত্রের মূল নৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

বাংলাদেশের বাস্তবতা: সমস্যার মূল কোথায়?

  • বাংলাদেশে সমস্যাগুলো বহুমাত্রিক:
  • দলীয় নিয়ন্ত্রণ সংসদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে।
  • স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে না।
  • নাগরিক সমাজ ও মিডিয়ার ওপর চাপ থাকে।
  • নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কোনো বাধ্যতামূলক ট্র্যাকিং নেই।

প্রতিটি নির্বাচনের আগে কর্মসংস্থান, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, এবং সেবার মান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু নির্বাচনের পরে এই প্রতিশ্রুতিগুলোর অগ্রগতি নিয়ে কি কোনো বাধ্যতামক, প্রকাশ্য মূল্যায়ন হয়। সংসদে উপস্থিতি, বিতর্কে অংশগ্রহণ, বা নিজ নির্বাচনী এলাকার বাস্তব উন্নয়ন, এসব কি কখনো নিয়মিতভাবে জনগণের সামনে উপস্থাপিত হয়। ফলে রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রায়শই “চুক্তির বাইরে” অবস্থান করে।

আন্তর্জাতিক বাস্তবতা: কোথায় কী হচ্ছে?

রিকল ইলেকশন ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে জনগণ সরাসরি নির্বাচিত প্রতিনিধিকে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অপসারণ করতে পারে। তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে নাগরিকরা সরকারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারে এবং প্রশ্ন তুলতে পারে। উন্নত গণতন্ত্রে বিভিন্ন স্বাধীন প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে সরকারের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে এবং রিপোর্ট প্রকাশ করে।

কী করণীয়: একটি কার্যকর রাজনৈতিক রোডম্যাপ

১. নির্বাচনী ইশতেহারকে আইনি বাধ্যবাধকতার আওতায় আনতে হবে।
২. প্রতিটি জনপ্রতিনিধির জন্য পারফরম্যান্স সূচক নির্ধারণ করতে হবে।
৩. জনগণের হাতে সরাসরি অপসারণের ক্ষমতা দিতে হবে।
৪. স্বাধীন মূল্যায়ন কমিশন গঠন করতে হবে।
৫. ডিজিটাল স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

গণতন্ত্র কেবল নির্বাচন নয়, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, যেখানে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং কর্মদক্ষতা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আজকের বাস্তবতায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, রাজনীতিকে “দায়বদ্ধ পেশা” হিসেবে পুনঃসংজ্ঞায়িত করা। যেখানে প্রতিশ্রুতি হবে চুক্তি, ক্ষমতা হবে দায়িত্ব, এবং জনগণ হবে চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রক।

এখনই সময় সিদ্ধান্ত নেওয়ার, আপনি কি কেবল ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন, নাকি সেই ক্ষমতার জবাবদিহিতারও দাবি করবেন? কোনো জবাবদিহিতা ছাড়া গণতন্ত্র কেবল একটি আনুষ্ঠানিক কাঠামো হয়ে থাকবে। জাগো বাংলাদেশ জাগো।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, প্রাক্তন পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

শত্রু কি বাইরে, নাকি ক্ষমতার ভেতরেই

Published

on

পর্ষদ

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে দুর্নীতি, সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদ মনোভাবের কারণে গণতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করছে, যা গণতন্ত্রের জন্য এক বৃহৎ হুমকি এবং বিশ্বমঞ্চে এর গ্রহণযোগ্যতাকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী দেশের রাজনৈতিক দলগুলো, যাদের নৈতিক অবক্ষয়, ব্যক্তিগত স্বার্থ এবং পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি দেশের ভিত্তিকে চিরস্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

এ তথ্যের সত্যতা সহজেই ধরা পড়ে ইতিহাসের নানা ঘটনার মাধ্যমে। ইন্দিরা গান্ধীর পরিণতি করুণ ছিল, শত্রুর গুলিতে নয়, নিজের দেহরক্ষীর গুলিতে তার জীবন শেষ হলো।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

‎শেখ মুজিবের পিতা শেখ লুৎফর রহমানের দেহ নামাতে যে লোকটি কবরে নেমেছিল, শেখ মুজিবের মাতার মৃ’ত্যুতে যে লোকটি মাটিতে শুয়ে কান্নায় গড়াগড়ি করেছিলো, শেখ কামালের বিয়ের উকিল বাপ যে মানুষটি ছিলো! ১৯৭৫ সালের ১৪ই আগস্ট দুপুরে যে লোকটি বাসা থেকে তরকারী রান্না করে নিয়ে গিয়ে বঙ্গবন্ধুকে খাইয়েছিলো, তারপরের দিন ১৫ই আগষ্ট শেখ মুজিবকে যারা খুন করেছিল স্বপরিবারে, তাদের মধ্যে রাজনৈতিকভাবে যে লোকটি জড়িত ছিলো তার নাম খন্দকার মোশতাক।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

‎বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন, সেনাবাহিনীর ভেতরের অভ্যন্তরীণ কলহ, বদলি সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব এবং ক্ষমতার অস্থিরতার কারণে সেনাবাহিনীর একটি অংশের হাতে তিনি খুন হন, ‎হত্যাকারীরা ছিল সেনাবাহিনীর ভেতরে তার বেশ কাছের ও পরিচিত কর্মকর্তা।

‎ইতিহাসের পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায়, এক একটা সাম্রাজ্যের পতন হয়েছে তাদের সব চাইতে কাছের মানুষদের হাত ধরে। সৌদি আরবের বাদশা ফয়সাল যখন তার ভাইপো’কে আলিঙ্গন করার উদ্দেশ্যে দু হাত বাড়িয়ে দিলেন, প্রতি উত্তরে হঠাৎ’ই পকেট থেকে পি’স্তল বের করে পরপর তিনটা গু’লি করে বসলেন।

‎পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো ১৯৭৯ সালে এক বহুল বিতর্কিত মামলায় ফাঁসিতে ঝুলেন। অনেকের মতে, এটি ছিল বিচার নয়, বরং ক্ষমতার রাজনীতির নিষ্ঠুর প্রতিফলন। ‎তার কন্যা বেনজির ভুট্টো ২০০৭ সালে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে ফেরার পথে হামলার শিকার হয়ে নিহত হন। গুলি, বিস্ফোরণ এবং তদন্তের অস্পষ্টতা, সব মিলিয়ে তার মৃত্যুও আজও এক অমীমাংসিত রহস্য হয়ে আছে। ‎একই পরিবারের দুই প্রজন্ম, একজন রাষ্ট্রের হাতে, আরেকজন অদৃশ্য ষড়যন্ত্রের ছায়ায়, প্রাণ হারান। এখানেও প্রশ্ন একই থাকে, শত্রু কি বাইরে ছিল, নাকি ভেতরেই লুকিয়ে ছিল?

‎বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও সেই একই প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসে, ক্ষমতার পতন, প্রতিশ্রুতির ভাঙন, এবং জনগণের আস্থার সংকট। শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনকালকে অনেকে একতরফা ও কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক শাসন হিসেবে দেখেছেন, যেখানে বিরোধী কণ্ঠ দমন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। একই সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক বলয়ের মধ্যে চাটুকারিতা, তোষামোদ এবং বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত।

‎অনেক বিশ্লেষকের মতে, এই পরিবেশ, রাজনৈতিক আনুগত্যের অন্ধ প্রতিযোগিতা এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন, নেতৃত্বকে ধীরে ধীরে বাস্তবতা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় রাষ্ট্রযন্ত্রের কিছু অংশের অতিরিক্ত আনুগত্য বা নীরব সমর্থন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

‎ফলস্বরূপ, যে আস্থা ও নিয়ন্ত্রণের ওপর একটি শাসনব্যবস্থা দাঁড়িয়ে থাকে, সেটিই একসময় ভেঙে পড়ে। ইতিহাস যেমন দেখিয়েছে, ক্ষমতার চারপাশে যখন শুধুই প্রশংসা আর আনুগত্য ঘিরে ধরে, তখন পতনের বীজও ভেতরেই জন্ম নেয়।

অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে ঘিরে জনমতের মধ্যে যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে, তা আর কোনোভাবেই অগোচর রাখা যায় না। গণভোটে ৭০% মানুষের হ্যাঁ ভোটের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই সনদের বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতির ভাঙন, এই সবের কারণে জনগণের মধ্যে প্রতারণার অনুভূতি ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।

এটি আর কোনো রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় নয়; এটি দেশের মানুষের চোখে সরাসরি প্রতারণা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার। অনেকে দেখছে, শক্তিশালী নেতা এবং তার ঘনিষ্ঠ বলয় দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সামরিক বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উসকানি ও চাটুকারিতা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
জনগণের মধ্যে যে দ্বিধা ছিল, তা এখন সরাসরি প্রশ্নে এবং প্রশ্ন থেকে তীব্র ক্ষোভে রূপ নিয়েছে। প্রত্যাশা ছিল পরিবর্তনের, কিন্তু বাস্তবতায় অনেকে দেখছে প্রতিশ্রুতি এবং বাস্তবতার ফারাক ক্রমেই বাড়ছে।

গণভোট, সংস্কার প্রতিশ্রুতি এবং তথাকথিত নতুন রাজনৈতিক ধারার মাধ্যমে যে আস্থা তৈরি করা হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন নিয়ে জনমনে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়েছে, অনেকে একে সরাসরি প্রতারণা হিসেবেও দেখছে। এটি আর উপেক্ষা করার মতো অবস্থায় নেই।

অনেকের চোখে বিষয়টি এখন ব্যক্তি বা দল নয়; বরং একটি মৌলিক প্রশ্ন, রাষ্ট্র কি সত্যিই জনগণের জন্য, নাকি ক্ষমতার জন্য একই নাটকের পুনরাবৃত্তি ঘটছে?
এই বাস্তবতায় সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া আর নিছক অপেক্ষা বা হতাশায় সীমাবদ্ধ নেই; নীরব ক্ষোভ ধীরে ধীরে জমাট বাঁধছে। ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, এই ক্ষোভ উপেক্ষিত থাকলে তা একসময় বিস্ফোরিত হয় এবং তখন আর কোনো সতর্কবার্তা কার্যকর হয় না।

এটি একটি স্পষ্ট সতর্কসংকেত, যে কোনো ক্ষমতাসীন শক্তির জন্য। জনগণের আস্থা একবার ভেঙে গেলে, তা শুধু ভোটের ফলাফলে নয়, বাস্তবতার মাটিতেও তার জবাব চায়।

এখন কথা হলো, শত্রু কি সত্যিই বাইরে, নাকি সবচেয়ে কাছের মানুষের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে! ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, ক্ষমতার চারপাশে যখন শুধুই আনুগত্য এবং স্বার্থের রাজনীতি থাকে, তখন পতনের বীজও তার ভেতরেই জন্ম নেয়। এখন প্রশ্ন দক্ষিণ এশিয়ার গণতন্ত্র কি অগ্রগতির পথে অটল থাকবে, নাকি ক্ষমতার জন্য স্বার্থপর কৌশল ও স্বজনপ্রীতি তাকে পুনরায় পতনের দিকে ঠেলে দেবে?

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, প্রাক্তন পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

বাংলাদেশের ইউনিয়ন নেতৃত্বের জন্য একটি কার্যকর রোডম্যাপ

Published

on

পর্ষদ

বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর হলো ইউনিয়ন। এখান থেকেই রাষ্ট্রের সঙ্গে মানুষের সরাসরি সম্পর্ক তৈরি হয়, এখানেই প্রতিদিন গড়ে ওঠে আস্থা কিংবা জন্ম নেয় হতাশা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অনেক ক্ষেত্রে এই নেতৃত্ব তার দায়িত্বের গভীরতা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়। ফলে উন্নয়ন, ন্যায়বিচার এবং মানুষের প্রত্যাশার মধ্যে একটি স্পষ্ট ফাঁক থেকে যায়। এই প্রেক্ষাপটে, একটি কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক রোডম্যাপ এখন সময়ের দাবি, যা ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃত্বকে দায়িত্বশীল, জবাবদিহিমূলক এবং মানবিক পথে পরিচালিত করতে পারে।

স্থানীয় সরকার নেতৃত্ব কোনো পদ নয়, এটি একটি দায়িত্ব। ইউনিয়ন পর্যায়ের একজন নেতা কেবল নির্বাচিত প্রতিনিধি নন, তিনি মানুষের আস্থা, আশা এবং ভবিষ্যতের বাহক। বাংলাদেশের গ্রামগুলোতে উন্নয়ন, ন্যায় এবং সামাজিক সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে হলে নেতৃত্বকে হতে হবে সৎ, সক্রিয় এবং মানুষের সঙ্গে সংযুক্ত।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

এই রোডম্যাপটি এমন কিছু বাস্তবধর্মী নির্দেশনা তুলে ধরে, যা অনুসরণ করলে একজন নতুন বা আগ্রহী ইউনিয়ন নেতা তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারবেন।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ গড়ে তোলা

একজন নেতার প্রথম কাজ হলো মানুষকে জানা। ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রাম, প্রতিটি পরিবার, প্রতিটি শ্রেণির মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে। মানুষের সমস্যা সরাসরি শুনতে হবে, কৃষক, শ্রমিক, নারী, যুবক, প্রবীণ, সবার কথা। শুধু শোনা নয়, সেই সমস্যাগুলো নথিভুক্ত করা এবং সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। মানুষ যেন অনুভব করে, তাদের কথা গুরুত্ব পাচ্ছে, এটাই নেতৃত্বের ভিত্তি।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা

নেতৃত্বের প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হয় স্বচ্ছতার মাধ্যমে। ইউনিয়নের বাজেট, প্রকল্প, সিদ্ধান্ত, সবকিছু জনগণের সামনে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা উচিত। যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্থানীয় প্রতিনিধি, শিক্ষক, সমাজের সম্মানিত ব্যক্তি এবং সাধারণ জনগণের মতামত নেওয়া প্রয়োজন। ব্যক্তিগত স্বার্থকে পেছনে রেখে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

শিক্ষাকে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা

গ্রামের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য শিক্ষার বিকল্প নেই। প্রাথমিক শিক্ষা শক্তিশালী করা, স্কুলের পরিবেশ উন্নত করা, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনা, এসবের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। যুবকদের জন্য কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করা দরকার, যাতে তারা কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়। মেয়েদের শিক্ষা নিশ্চিত করা একটি উন্নত সমাজ গঠনের অন্যতম শর্ত।

মানবিক ও সহানুভূতিশীল নেতৃত্ব গড়ে তোলা

একজন নেতা কেবল প্রশাসক নন, তিনি মানুষের অভিভাবকও। ইউনিয়নের দরিদ্র, অসহায় এবং পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য বিশেষ সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, এই মৌলিক বিষয়গুলোতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। মানুষের কষ্ট বোঝা এবং সেই অনুযায়ী কাজ করাই প্রকৃত নেতৃত্ব।

নৈতিকতা ও সততাকে অগ্রাধিকার দেওয়া

দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্বই একটি সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। কোনো অনিয়ম, পক্ষপাত বা স্বজনপ্রীতির সঙ্গে আপস করা যাবে না। একজন নেতা নিজের ভুল স্বীকার করতে জানেন, এবং তা সংশোধন করার সাহস রাখেন, এটাই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তোলা নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় সম্পদ।

পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা

শুধু তাৎক্ষণিক কাজ নয়, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রয়োজন। ইউনিয়নের অবকাঠামো, রাস্তা, সেতু, স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, সবকিছু নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা করতে হবে। কৃষি উন্নয়ন, সেচ ব্যবস্থা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং প্রযুক্তির ব্যবহার, এসব বিষয়েও দৃষ্টি দিতে হবে, যাতে উন্নয়ন টেকসই হয়।

তরুণদের সম্পৃক্ত করা

একটি ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার তরুণদের উপর। যুবকদের সংগঠিত করে তাদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরি করতে হবে। তাদের নতুন ধারণা ও উদ্যোগকে উৎসাহ দিলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন দ্রুত আসে। তরুণদের অংশগ্রহণ ছাড়া উন্নয়ন অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

নিয়মিত মূল্যায়ন ও সংশোধন

প্রতিটি উদ্যোগের ফলাফল নিয়মিত মূল্যায়ন করা জরুরি। জনগণের মতামত নিয়ে কাজের অগ্রগতি যাচাই করতে হবে। যেখানে সমস্যা দেখা দেবে, সেখানে দ্রুত সংশোধন করতে হবে। একজন নেতা তার সিদ্ধান্তের দায়িত্ব নেন, এটাই তার বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করে।

সমাপনী ভাবনা

বাংলাদেশের ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃত্ব যদি সৎ, জবাবদিহিমূলক এবং মানবিক হয়, তবে গ্রাম থেকেই একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে ওঠা সম্ভব। মানুষ বড় কিছু চায় না। তারা চায় একজন সৎ প্রতিনিধি, যে তাদের কথা শুনবে, পাশে থাকবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যারা নেতৃত্বে আসতে চান, তাদের জন্য এই বার্তা স্পষ্ট, নেতৃত্ব মানে ক্ষমতা নয়, দায়িত্ব। নেতৃত্ব মানে শাসন নয়, সেবা।

যদি এই নীতিগুলো অনুসরণ করা যায়, তবে বাংলাদেশের প্রতিটি ইউনিয়নই হতে পারে উন্নয়ন, ন্যায় এবং মানবিকতার এক একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। তবে মনে রাখতে হবে, এই লেখাটি একা বাংলাদেশের সমস্যার সমাধান করবে না। কিন্তু যদি প্রস্তাবনায় যে দিকনির্দেশনা আছে, তা সত্যিকার অর্থে গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে এটি একটি শক্তিশালী শুরু হতে পারে।

কারণ সমস্যা কেবল নীতির অভাব নয়, বরং প্রয়োগের ঘাটতি, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, জবাবদিহির দুর্বলতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতার অপব্যবহার। আমি যে বিষয়গুলো তুলে ধরেছি, যেমন মানুষের সঙ্গে সংযোগ, স্বচ্ছতা, শিক্ষা, নৈতিকতা, তরুণদের সম্পৃক্ততা, এসবই মূল সমস্যার কেন্দ্রে আঘাত করে। তাই এগুলো প্রাসঙ্গিক, বাস্তবধর্মী এবং প্রয়োজনীয়। তবে এখানে তিনটি শর্ত আছে:

প্রথমত, রাজনৈতিক সদিচ্ছা
শুধু কাগজে নয়, বাস্তবে যদি কেন্দ্র থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত এই নীতিগুলো মানার ইচ্ছা থাকে, তবেই পরিবর্তন সম্ভব।

দ্বিতীয়ত, প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োগ
এই ধারণাগুলোকে নিয়ম, প্রক্রিয়া এবং বাধ্যতামূলক কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে। না হলে এগুলো পরামর্শ হিসেবেই থেকে যাবে।

তৃতীয়ত, নাগরিক চাপ ও অংশগ্রহণ
মানুষ যদি নিজের অধিকার দাবি না করে, তাহলে কোনো ভালো নীতিও কার্যকর হয় না।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, তোমার লেখাটি সমস্যার “সমাধান” না, বরং “সমাধানের পথনকশা”।

এটি যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়, তাহলে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি শুরু হতে পারে। আর বাংলাদেশের বাস্তবতায়, অনেক বড় পরিবর্তনই নিচু স্তর থেকে শুরু হয়েছে।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, প্রাক্তন পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

পুঁজিবাজারের সর্বশেষ

পর্ষদ পর্ষদ
পুঁজিবাজার1 day ago

পর্ষদ সভার তারিখ জানালো এসকোয়ার নিট

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এসকোয়ার নিট কম্পোজিট পিএলসি পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করেছে। আগামী ২০ এপ্রিল বিকাল ৪টায় কোম্পানিটির পর্ষদ সভা...

পর্ষদ পর্ষদ
পুঁজিবাজার1 day ago

পর্ষদ সভার তারিখ জানালো ইউনিলিভার কনজিউমার

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার লিমিটেড পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করেছে। আগামী ২০ এপ্রিল বিকাল ৪টায় কোম্পানিটির পর্ষদ সভা...

পর্ষদ পর্ষদ
পুঁজিবাজার1 day ago

পর্ষদ সভার তারিখ জানালো পিপলস ইন্স্যুরেন্স

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি পিপলস ইন্স্যুরেন্স পিএলসি পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করেছে। আগামী ২৩ এপ্রিল বিকাল ৩টায় কোম্পানিটির পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত...

পর্ষদ পর্ষদ
পুঁজিবাজার1 day ago

ব্লক মার্কেটে লেনদেন ৩০ কোটি টাকার

সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ব্লক মার্কেটে মোট ৪১টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এদিন ব্লক মার্কেটে ৩০ কোটি...

পর্ষদ পর্ষদ
পুঁজিবাজার1 day ago

দরপতনের শীর্ষে মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক

সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন শেষে দরপতনের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক...

পর্ষদ পর্ষদ
পুঁজিবাজার1 day ago

দর বৃদ্ধি শীর্ষে মীর আক্তার হোসেন

সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯০টি কোম্পানির মধ্যে ১২৩টির শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে।...

পর্ষদ পর্ষদ
পুঁজিবাজার1 day ago

লেনদেনের শীর্ষে খান ব্রাদার্স

সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন শেষে তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে খান ব্রাদার্স পি.পি. ওভেন ব্যাগ...

সোশ্যাল মিডিয়া

তারিখ অনুযায়ী সংবাদ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০  
পর্ষদ
আন্তর্জাতিক11 minutes ago

চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যে‌তে চাইলে ব্যয় বহনের প্রমাণ দিতে হবে

পর্ষদ
আন্তর্জাতিক15 minutes ago

ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষাচুক্তি স্থগিত করল ইতালি

পর্ষদ
খেলাধুলা23 minutes ago

সংবাদমাধ্যমে আসছেন সাকিব, আনছেন নিজস্ব নিউজ প্ল্যাটফর্ম

পর্ষদ
খেলাধুলা30 minutes ago

আগামী বছরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরছে বগুড়ায়

পর্ষদ
আন্তর্জাতিক41 minutes ago

যুদ্ধে ইরানের ক্ষয়ক্ষতি ২৭০ বিলিয়ন ডলার

পর্ষদ
জাতীয়53 minutes ago

ক্রুড অয়েল সংকটে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার বন্ধ ঘোষণা

পর্ষদ
অর্থনীতি1 hour ago

ছেঁড়া-ফাটা নোট নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্ত

পর্ষদ
সারাদেশ2 hours ago

তারাবুনিয়ায় রাতে গৃহবধূর গলা থেকে স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাই

পর্ষদ
আন্তর্জাতিক2 hours ago

হরমুজ অবরোধ অব্যাহত থাকলে খাদ্য ‘বিপর্যয়ের’ মুখে পড়বে বিশ্ব: এফএও

পর্ষদ
স্বাস্থ্য2 hours ago

হাম ও উপসর্গ নিয়ে প্রাণ গেল আরও ৯ শিশুর

পর্ষদ
আন্তর্জাতিক11 minutes ago

চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যে‌তে চাইলে ব্যয় বহনের প্রমাণ দিতে হবে

পর্ষদ
আন্তর্জাতিক15 minutes ago

ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষাচুক্তি স্থগিত করল ইতালি

পর্ষদ
খেলাধুলা23 minutes ago

সংবাদমাধ্যমে আসছেন সাকিব, আনছেন নিজস্ব নিউজ প্ল্যাটফর্ম

পর্ষদ
খেলাধুলা30 minutes ago

আগামী বছরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরছে বগুড়ায়

পর্ষদ
আন্তর্জাতিক41 minutes ago

যুদ্ধে ইরানের ক্ষয়ক্ষতি ২৭০ বিলিয়ন ডলার

পর্ষদ
জাতীয়53 minutes ago

ক্রুড অয়েল সংকটে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার বন্ধ ঘোষণা

পর্ষদ
অর্থনীতি1 hour ago

ছেঁড়া-ফাটা নোট নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্ত

পর্ষদ
সারাদেশ2 hours ago

তারাবুনিয়ায় রাতে গৃহবধূর গলা থেকে স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাই

পর্ষদ
আন্তর্জাতিক2 hours ago

হরমুজ অবরোধ অব্যাহত থাকলে খাদ্য ‘বিপর্যয়ের’ মুখে পড়বে বিশ্ব: এফএও

পর্ষদ
স্বাস্থ্য2 hours ago

হাম ও উপসর্গ নিয়ে প্রাণ গেল আরও ৯ শিশুর

পর্ষদ
আন্তর্জাতিক11 minutes ago

চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যে‌তে চাইলে ব্যয় বহনের প্রমাণ দিতে হবে

পর্ষদ
আন্তর্জাতিক15 minutes ago

ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষাচুক্তি স্থগিত করল ইতালি

পর্ষদ
খেলাধুলা23 minutes ago

সংবাদমাধ্যমে আসছেন সাকিব, আনছেন নিজস্ব নিউজ প্ল্যাটফর্ম

পর্ষদ
খেলাধুলা30 minutes ago

আগামী বছরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরছে বগুড়ায়

পর্ষদ
আন্তর্জাতিক41 minutes ago

যুদ্ধে ইরানের ক্ষয়ক্ষতি ২৭০ বিলিয়ন ডলার

পর্ষদ
জাতীয়53 minutes ago

ক্রুড অয়েল সংকটে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার বন্ধ ঘোষণা

পর্ষদ
অর্থনীতি1 hour ago

ছেঁড়া-ফাটা নোট নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্ত

পর্ষদ
সারাদেশ2 hours ago

তারাবুনিয়ায় রাতে গৃহবধূর গলা থেকে স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাই

পর্ষদ
আন্তর্জাতিক2 hours ago

হরমুজ অবরোধ অব্যাহত থাকলে খাদ্য ‘বিপর্যয়ের’ মুখে পড়বে বিশ্ব: এফএও

পর্ষদ
স্বাস্থ্য2 hours ago

হাম ও উপসর্গ নিয়ে প্রাণ গেল আরও ৯ শিশুর