জাতীয়
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাঁড়াশি অভিযান, ১১৮৬ ভুয়া শিক্ষক চিহ্নিত
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) সাঁড়াশি অভিযানে ধরা খেলো ১১৮৬ জন ভুয়া সনদধারী শিক্ষক। এদের মধ্যে চার শতাধিক শিক্ষকের সনদ জাল ও ভুয়া এবং তিন শতাধিক শিক্ষকের সনদ অগ্রহণযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব শিক্ষকের কাছ থেকে বেতন-ভাতা হিসেবে তাদের নেওয়া ২৫৩ কোটি টাকা আদায় করতে সুপারিশ করেছে অধিদপ্তর। এ ছাড়া সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেহাত হওয়া ৭৯৩ একর জমি উদ্ধারেও সুপারিশ করেছে ডিআইএ।
ডিআইএ সূত্র জানায়, দেড় দশক ধরে জাল সনদ ধরার ব্যাপারে কার্যকর কোনো অভিযান হয়নি। বরং বহু ক্ষেত্রে জাল সনদ ধরা হলেও ঘুষের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। জাল সনদের সাড়ে ১২ হাজার আটকে থাকা ফাইল নতুন করে যাচাই করতে গিয়েই বেরিয়ে এসেছে ভয়াবহ চিত্র, যেখানে ১২ জন পরিদর্শকের নেতৃত্বে একটি চক্র শিক্ষকদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে ভুয়া সনদধারীদের ছাড় দিত। এখন এসব সনদ যাচাই করে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি ডিআইএ অডিটের নামে কোনো কর্মকর্তা যেন অর্থ লেনদেন করতে না পারে, সে বিষয়েও কঠোর সতর্কতা জারি করেছে অধিদপ্তর।
নথি বলছে, ডিআইএ গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাল সনদ বিরোধী অভিযানে ১ হাজার ১৮৬ জনকে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রাজশাহী বিভাগে রয়েছে ৭৭৯ জন, খুলনা বিভাগে ১৭৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৪ জন ও ঢাকা বিভাগে ৭০ জন। পুলিশের সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চ আরও ১৩৪ জন জাল সনদধারী শিক্ষকের তালিকা পাঠিয়েছে। এ ছাড়া মাদ্রাসা অধিদপ্তর আলাদা তদন্ত করে ১২০ জন শিক্ষকের জাল সনদ বাতিল করে তাদের ইনডেক্স কর্তন করেছে। ধরা পড়া জাল সনদের মধ্যে রয়েছে এনটিআরসিএ শিক্ষক নিবন্ধন, জাতীয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, রয়েল, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ, যেটাকে নেকটার সনদ বলা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন একাডেমিক সনদও রয়েছে। চিহ্নিত হওয়া জাল সনদের মধ্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ রয়েছে ১৪৮টি ও শিক্ষক নিবন্ধন বা এনটিআরসিএ সনদ ১২০টি। বাকিগুলো বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সনদ।
কর্মকর্তা জানান, ডিআইএর প্রধান কাজ স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর বা সংস্থায় পরিদর্শন ও নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা। পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা তুলে ধরার পাশাপাশি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এর ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিয়ে থাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংস্থাটি গত এক বছরে চার শতাধিক শিক্ষকের জাল ও ভুয়া সনদ চিহ্নিত করে তাদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। আরও তিন শতাধিক শিক্ষকের সনদ অগ্রহণযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেহাত হওয়া ৭৯৩ একর জমি উদ্ধারে সুপারিশ, ভুয়া নিয়োগ, অর্থ আত্মসাৎ এবং ভ্যাট, আইটিসহ বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অনিয়মের কারণে প্রায় ২৫৩ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতের সুপারিশ করেছ সংস্থাটি।
জানতে চাইলে ডিআইএ পরিচালক অধ্যাপক এম এম সহিদুল ইসলাম বলেন, এ দপ্তরের মূল কাজ হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক, প্রশাসনিক ও নিয়োগের প্রক্রিয়া ঠিক আছে কি না, তা অডিট করা। পাশাপাশি ওইসব প্রতিষ্ঠানে একাডেমিক সুপারভিশন ঠিক আছে কি না, দেখে সুপারিশ করা। কিন্তু বিগত সময়ে এ কাজটি যথাযথভাবে হয়নি। আমি যোগদান করেই জাল সনদ ধরতে একটি সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছি। সেই অভিযানে চার শতাধিক ভুয়া সনদ, তিন শতাধিক অগ্রহণযোগ্য সনদ চিহ্নিত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। সামনে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি জানান, সুপারিশে এসব শিক্ষকের এমপিও বাবদ নেওয়া অর্থ (বেতন-ভাতা) ফেরত নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এখন নিয়মানুযায়ী চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করার আগে শিক্ষাগত সব সনদ যথাযথভাবে যাচাই করার কথা। কিন্তু জাল সনদ জানার পরও অবৈধ সুবিধা নিয়ে বিষয়টি চেপে যান মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা। ফলে সনদ জাল হওয়ার পরও তারা এমপিওভুক্ত হয়ে যান। পেতে থাকেন বেতন-ভাতা বাবদ সরকারি অর্থও। তবে এনটিআরসিএর মাধ্যমে অনলাইনে সনদ যাচাইয়ের ব্যবস্থা করার পর জাল সনদের হার কিছুটা কমেছে।
মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক বি এম আব্দুল হান্নান ডিআইএর অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, একজন শিক্ষক যদি জাল সনদে চাকরি নেন, তিনি শুধু সরকারের সঙ্গে প্রতারণা নয়, তার পুরো চাকরি জীবনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করেন। এসব শিক্ষককে ধরতে অধিদপ্তরের যদি কোনো সহযোগিতা প্রয়োজন হয়, আমরা তা-ও করতে প্রস্তুত আছি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব (নিরীক্ষা ও আইন) জহিরুল ইসলাম বলেন, জাল সনদধারীদের একটি তালিকা শিক্ষা উপদেষ্টার কাছে জমা হয়েছে শুনেছি। তালিকায় থাকা শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি ও নিয়োগ বাতিল এবং অর্থ ফেরত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও করতে চাই আমরা, যাতে ভবিষ্যতে কেউ যেন এমন কাজ করার সুযোগ না পায়।
ঘুষ নিয়ে জাল সনদ ছাড়, সাড়ে ১২ হাজার ফাইলে বাণিজ্য: সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিআইএতে জাল সনদধারী শিক্ষকদের ফাইল আটকে রেখে এক ধরনের বাণিজ্যে হতো। কয়েকজন পরিদর্শক সিন্ডিকেট করে জাল সনদের নামে এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সূত্র বলছে, এই সিন্ডিকেটে অন্যতম সদস্য ছিলেন ২৪তম বিসিএসের কর্মকর্তা সাবেক পরিদর্শক ড. এনামুল হক ও মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম মাসুম। সিন্ডিকেটে আরও ছিলেন পরিদর্শক কে এম শফিকুল ইসলাম, মনকিউল হাসানাত, দেলোয়ার হোসেন, শাহিনুর ইসলাম, সাদিয়া সুলতানা, আশরাফুল রহমান খান, রিপন মিয়া, সরকার মোহাম্মদ শফিউল্লাহ দিদার, কামরুন নাহার, মোহাম্মদ ওয়ায়েছ আলকারনী মুন্সী। তারা প্রায় সাড়ে ১২ হাজার ফাইল আটকে রেখেছিলেন, যার বেশিরভাগই ছিল ভুয়া সনদধারী শিক্ষকদের ফাইল। এসব ফাইল নতুন করে যাচাই-বাছাই করতে গিয়েই বেরিয়ে এসেছে জালিয়াতির ভয়াবহ চিত্র।
এ বিষয়ে ডিআইএ পরিচালক সহিদুল ইসলাম বলেন, একটি দপ্তরে প্রায় ১২ হাজারের বেশি ফাইল অনিষ্পত্তি অবস্থায় ছিল। এখন সেই ফাইল যাচাই করতে গিয়ে দেখি বেশিরভাগ ফাইল জাল সনদ-সংক্রান্ত। এসব ফাইলে কী হয়েছিল তা বুঝে নেন।
ডিআইএর কড়া সতর্কতা, অভিযোগ জানালে পরিচয় গোপন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) পরিদর্শনের নামে যে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন থেকে সবাইকে কঠোরভাবে সতর্ক থাকতে বলেছে। এক গণবিজ্ঞপ্তিতে অধিদপ্তর জানিয়েছে, তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অফিস আদেশ ছাড়া কোনো পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না এবং এই কাজের জন্য অর্থ লেনদেন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।
ডিআইএ বলেছে, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে তারা সব সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পরিদর্শন ও নিরীক্ষা পরিচালনা করে। এই অডিট চলাকালীন যদি কোনো প্রতিষ্ঠান প্রধান অথবা অন্য কোনো ব্যক্তি পরিদর্শন ও নিরীক্ষার নামে কোনো ধরনের টাকা দাবি করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে অধিদপ্তরকে মোবাইল বা ইমেইলে অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে। অভিযোগ তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় কঠোরভাবে গোপন রাখা হবে বলেও জানানো হয়।
এমকে
জাতীয়
এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বাতিলের বিল পাস
সংসদ সদস্যদের (এমপি) জন্য বিদ্যমান শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। ‘সংসদ সদস্য পারিতোষিক ও ভাতাদি সংশোধন বিল-২০২৬’ নামে এই বিলটি পাসের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের একটি সুবিধা প্রত্যাহার করা হলো।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব নীতিগত ও চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করা হয়। সংশ্লিষ্ট বৈঠকে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং সরকারি ব্যয় হ্রাসের লক্ষ্যকে বিবেচনায় রেখে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানানো হয়।
মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন করা হলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। গেজেট প্রকাশের পর নতুন এই বিধান কার্যকর হবে।
এর আগে ‘দ্য মেম্বার্স অব পার্লামেন্ট (রেমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাওয়েন্সেস) অর্ডার, ১৯৭৩’-এর আওতায় সংসদ সদস্যরা শুল্কমুক্তভাবে গাড়ি আমদানির সুবিধা পেয়ে আসছিলেন, যা এখন থেকে আর বহাল থাকবে না।
জাতীয়
সরকারের ১৫ সংস্থা ও অধিদপ্তরের শীর্ষ পদে নতুন মুখ
সরকার একযোগে ১৫টি সংস্থা, অধিদপ্তর ও কর্তৃপক্ষের শীর্ষ পদে নতুন নিয়োগ দিয়েছে। এর মধ্যে ১১টি অধিদপ্তর ও সংস্থায় নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) এবং চারটি প্রতিষ্ঠানে চেয়ারম্যান ও রেজিস্ট্রার জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এসব নিয়োগের আদেশ জারি করে।
এর মধ্যে রয়েছে খাদ্য, পরিবেশ, কৃষি বিপণন, ট্রেডমার্কস, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর; জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিট, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগ, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোসহ ১১ অধিদপ্তর ও সংস্থায় নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ), বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের রেজিস্ট্রার জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মু. জসীম উদ্দিন খানকে খাদ্য অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাকে এই নিয়োগ দিয়ে তার চাকরি খাদ্য মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরে নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. লুৎফর রহমান। এজন্য তার চাকরি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরে মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এম এম আরিফ পাশা। এজন্য তার চাকরি কৃষি মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব দিল আফরোজকে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক করা হয়েছে। এজন্য তার চাকরি স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। পেটেন্ট, শিল্প নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হয়েছেন বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এ এস এম মুস্তাফিজুর রহমান। এজন্য তার চাকরি শিল্প মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে নতুন মহাপরিচালক হয়েছেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের পরিচালক খোন্দকার আনোয়ার হোসেন। এজন্য তার চাকরি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) মহাপরিচালক হয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুন। এজন্য তার চাকরি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তার চাকরি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামানকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক করে তার চাকরি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পরিকল্পনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবুল হাসনাত মুহম্মদ আনোয়ার পাশা। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব দেলোয়ার হোসেনকে গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিটের (জিআইইউ) মহাপরিচালক নিয়োগ দিয়ে তার চাকরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের রেজিস্ট্রার জেনারেল হয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাসান মাহমুদ। তার চাকরি স্থানীয় সরকার বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
এদিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রাজা মো. আব্দুল হাইকে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার চাকরি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হয়েছেন অতিরিক্ত সচিব মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বর্তমানে গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু/কালভার্ট নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক। তার চাকরি খাদ্য মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ হাবীবুর রহমানকে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার চাকরি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
জাতীয়
একনেকে ১৭ প্রকল্প উত্থাপন, পাস ১৫ : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১৭টি প্রকল্প উত্থাপন করা হলেও ১৫টি প্রকল্প পাস হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।
রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একনেকের ১০ম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয় এবং বাস্তবায়ন, প্রয়োজনীয়তা ও ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
ব্রিফিংয়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, একনেক সভায় মোট ১৭টি প্রকল্প উত্থাপন করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১৫টি প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং অধিকাংশ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। তবে কয়েকটি প্রকল্প শর্তসাপেক্ষে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং কিছু প্রকল্পের ক্ষেত্রে সংশোধন বা অতিরিক্ত যাচাইয়ের নির্দেশনা রয়েছে। তিনি জানান, প্রকল্পগুলোর বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় মন্তব্য দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে চলমান ও প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো পুনর্বিবেচনার একটি সিদ্ধান্ত আগে থেকেই নেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী যেসব প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা কমে গেছে বা যেগুলো বর্তমান প্রেক্ষাপটে আর প্রাসঙ্গিক নয়, সেগুলো চিহ্নিত করে পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। অনেক প্রকল্প এমন অবস্থায় রয়েছে, যেগুলোর বাস্তব প্রয়োজন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার বিষয়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, ব্যয়ের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী হওয়া এবং প্রতিটি খাতে অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জানান, নেওয়া প্রকল্পগুলো দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কতটা ভূমিকা রাখবে এবং সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ এসব বিষয় গভীরভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ একনেকের সদস্যবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয়
তরুণ প্রজন্ম শিক্ষক-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধেও অশালীন মন্তব্য করতে দ্বিধা করে না: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বর্তমান তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ, এমনকি ইউনিফর্ম পরিহিত শিক্ষার্থীরাও শিক্ষক কিংবা মন্ত্রীদের বিরুদ্ধেও অশালীন মন্তব্য করতে দ্বিধা করে না।
রোববার (২৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত ‘বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে এক কর্মশালায় তিনি এ মন্তব্য করেন। গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা এবং উদ্ভাবকদের স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করাই কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে অনেকেই ফেসবুকে লাইভে এসে অপ্রাসঙ্গিক ও অসংলগ্ন মন্তব্য করছেন। কেউ কেউ ‘হাই’, ‘গো অ্যাহেড’, ‘ডু আ রিসার্চ’—এ ধরনের মন্তব্য করেন, যা অনেক সময় উদ্দেশ্যহীনভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ অবস্থায় তরুণ প্রজন্ম নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আজকের তরুণরা, এমনকি ইউনিফর্ম পরিহিত শিক্ষার্থীরাও শিক্ষক বা মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য করতে দ্বিধা করছে না। এতে প্রশ্ন উঠছে—আমরা আমাদের তরুণ প্রজন্মকে কোন পথে নিয়ে যাচ্ছি এবং তারা কি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে? দেশের ভবিষ্যৎ শক্তি হিসেবে পরিচিত ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে আমরা কতটা কাজে লাগাতে পারছি, সেটিও ভাবার বিষয়।
মেধাস্বত্ব বিষয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ব ব্যবস্থায় বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে আছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেশের উদ্ভাবন ও মেধাস্বত্ব বিদেশে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন ও ট্রেডমার্ক পাচ্ছে, কিন্তু দেশে তা যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না। এর পেছনে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার দুর্বলতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কর্মশালায় উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
এমএন
জাতীয়
রূপপুরে ২৮ এপ্রিল শুরু হচ্ছে জ্বালানি লোডিং, আগস্টে গ্রিডে আসবে বিদ্যুৎ
পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগামী মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ডিসেম্বর অথবা আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ পাওয়া যেতে পারে।
তিনি আরও জানান, দ্বিতীয় ইউনিটটি প্রায় এক বছর পর পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে আসতে পারে।
এর আগে ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য কমিশনিং লাইসেন্স প্রদান করে। এর ফলে ২৮ এপ্রিল জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু করার পথ প্রশস্ত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সময় স্বল্পতার কারণে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট উপস্থিত থাকতে পারছেন না।
তবে অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীসহ রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা প্রকল্প এলাকায় উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
এদিকে, জ্বালানি লোডিংয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগে মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রোসাটমের মহাপরিচালকের সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে।



