অর্থনীতি
শিগগির আসছে ২৫০০ কোটি টাকার সপ্তম বিনিয়োগ সুকুক
নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলার গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (IRIDPNFL) বিপরীতে ৭ম ‘বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগ সুকুক’ ইস্যু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইসলামী শরীয়াহ্ ভিত্তিক এই সুকুকের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে বড় ধরনের অর্থনৈতিক গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পাবলিকেশন্সের পরিচালক (এক্স ক্যাডার-প্রকাশনা) ও সহকারী মুখপাত্র সাঈদা খানম।
এর আগে, সোমবার (৩ নভেম্বর) ওই ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ডেপুটি গভর্নর ও ডেট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের অধীনে গঠিত শরীয়াহ্ এডভাইজরি কমিটির ১ম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ড. মো. কবির আহাম্মদ।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়, ইজারা পদ্ধতিতে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ৭ বছর মেয়াদি সুকুক ইস্যু করা হবে। এই সুকুকের মাধ্যমে নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলার ২০টি উপজেলার পল্লী এলাকায় সড়ক উন্নয়ন, প্রশস্তকরণ, পুনর্বাসন, ঢাল রক্ষাকরণ, এবং হাট-বাজার ও পর্যটন এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কৃষি ও অকৃষি অর্থনীতির প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে, গ্রামীণ জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং পরিবহন ব্যয় ও সময় উভয়ই হ্রাস পাবে। এই কারণে সুকুকটির নামকরণ করা হয়েছে ‘IRIDPNFL Socio-Economic Development Sukuk’।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এই সুকুক ইস্যু করার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পেশাল পারপাস ভেহিকল (SPV) হিসেবে মোট ২৪ হাজার কোটি টাকার ছয়টি সুকুক সফলভাবে ইস্যু করেছে।
অর্থনীতি
সোনার দামে বড় পতন, ভরিতে কমলো ৭৬৪০ টাকা
দেশের বাজারে ফের বড় ধরনের দরপতন হয়েছে সোনার দামে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ভরি প্রতি ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনকে (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন দাম নির্ধারণের কথা জানান।
এদিন সকাল ১০টার দিকে নতুন করে সোনার দাম সমন্বয় করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। নতুন করে সমন্বয়ের পর দেশের বাজারে এখন ভরি প্রতি ২২ ক্যারেটের সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম এখন ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৪২ হাজার ৯০৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৮ হাজার ২০২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা দাম ১ লাখ ৭০ হাজার ৪১১ টাকা পড়বে।
এর আগে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুই দফায় সোনার দাম ভরিতে ১৬ হাজার ৩৩০ টাকা বাড়িয়েছিল বাজুস। এতে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম দাঁড়িয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
গত বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার আগ পর্যন্ত দেশের বাজারে এ দামেই বিক্রি হয়েছে সোনা।
সব মিলিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত (৩৭ দিন) ২৫ বার সোনার দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ১৬ দফা; কমানো হয়েছে ৯ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল সোনার দাম; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে, গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।
এমএন
অর্থনীতি
পোশাক খাতের সংকট মোকাবিলায় সরকারের সহযোগিতা চায় বিজিএমইএ
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ নানা প্রতিকূলতায় দেশের তৈরি পোশাক শিল্প এক ভয়াবহ ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও রপ্তানি কমে যাওয়ায় এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় ৪০০টি কারখানা। এই সংকট মোকাবিলায় এবং আসন্ন ঈদুল ফিতর ও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে জরুরি আর্থিক ও নীতিগত সহায়তার অনুরোধ জানিয়েছেন বিজিএমইএ।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বিজিএমইএ-র একটি প্রতিনিধিদল এই অনুরোধ জানায়।
বিজিএমইএ’র ওই প্রতিনিধিদলে ছিলেন, বিজিএমইএ এর সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে ছিলেন সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান এবং পরিচালক ফয়সাল সামাদ।
বৈঠকে বিজিএমইএ প্রতিনিধিদল বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ নানা প্রতিকূলতায় শিল্পটি এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। বৈশ্বিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জের কারণে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৪৩% হ্রাস পেয়েছে এবং ২০২৫-এর অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর, এই তিন মাসে পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় তৈরি পোশাকের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি গড়ে ৯ দশমিক ৪৩% হ্রাস পেয়েছে।
তারা জানান, গত এক বছরে বিভিন্ন কারণে, বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, পণ্যের মূল্য কমে যাওয়া ও অর্ডার কম পাওয়া প্রভৃতি কারণে প্রায় ৪০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং আরও অনেক কারখানা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
প্রতিনিধিদল অর্থ সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, সরকারি ছুটি এবং পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে কর্ম দিবসের সংখ্যা অনেক কমে আসবে। ৬০ দিনের মধ্যে কারখানা মাত্র ৩৫ দিন খোলা থাকলেও মার্চ মাসে নিয়মিত বেতনের পাশাপাশি বোনাস এবং অগ্রিম বেতন মিলিয়ে কারখানাগুলোকে প্রায় দ্বিগুণ মজুরি পরিশোধ করতে হবে। এতে করে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়বে, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) প্রতিষ্ঠানগুলো। এ পরিস্থিতিতে সঠিক সময়ে ব্যাংকিং সহায়তা না পেলে এসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শ্রমিকদেরকে মজুরি ও উৎসব ভাতা পরিশোধ করা এবং উৎপাদন সচল রাখা সম্ভব হবে না। এতে করে শিল্পে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।
বৈঠকে বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণের জন্য দুটি সুস্পষ্ট অনুরোধ জানান। এগুলো হলো— ১. লিয়েন ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রক্রিয়াধীন থাকা বকেয়া নগদ সহায়তার আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করে অর্থ ছাড়করণের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান। এর ফলে কারখানাগুলোর ক্যাশ-ফ্লো ব্যবস্থাপনায় স্বস্তি আসবে এবং ২. আসন্ন ঈদ ও নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বোনাস নিশ্চিত করতে ৬ মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ ‘সফট লোন’ বা স্বল্প সুদে সহজ শর্তে ঋণ হিসেবে প্রদানসহ অন্যান্য জরুরি সহযোগিতা প্রদান।
বৈঠকে বিজিএমইএ নেতারা দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অর্থ সচিব বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলের প্রস্তাবসমূহ গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ইতিবাচক আশ্বাস প্রদান করেন।
এমএন
অর্থনীতি
৩৬ দিনে ২৪ দফা দাম পরিবর্তন, আজ সোনার ভরি কত?
বছরের শুরু থেকেই চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সোনার বাজারে। বিশ্ববাজারের উত্থান-পতনের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে গিয়ে দেশের বাজারে ইদানিং ১২ ঘণ্টাও টিকছে না নির্ধারিত দাম; উত্থান-পতন চলছে দিনে রাতে। এমনকি ৫ ঘণ্টার ব্যবধানেও সোনার দামে পরিবর্তন হতে দেখা গেছে। ফলশ্রুতিতে, বছরের প্রথম ৩৬ দিনেই ২৪ দফা সোনার দাম পরিবর্তন করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনকে (বাজুস)।
সোনার দামের অস্থির উত্থান-পতনের এ খেলায় অবশ্য হঠাৎ একটু স্থিরতার দেখা মিলেছে গতকাল বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি)। আগের দিন মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুই দফায় বড় দুই লাফের পর এখন পর্যন্ত নতুন করে আর দাম পরিবর্তন করেনি বাজুস। ওইদিন সকালে দেশের বাজারে সোনার দাম ভরিতে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা বাড়ানোর পর বিকেলে আবার ১০ হাজার ৯০৬ টাকা বাড়িয়েছিল বাজুস। এতে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম দাঁড়িয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।
বুধবার কার্যকর হওয়া এ রেটেই আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দেশের বাজারে বিক্রি হচ্ছে সোনা।
বাজুসের সবশেষ মূল্যতালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম এখন পড়ছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৫ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
এর আগে, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুই দফায় কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬০ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৬৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ১ হাজার ৮৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ওইদিন ৫ ঘণ্টার ব্যাবধানে দুইবার পরিবর্তন হয়েছিল সোনার দাম।
সব মিলিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ২৪ বার সোনার দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ১৬ দফা; কমানো হয়েছে ৮ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল সোনার দাম; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।
এমএন
অর্থনীতি
আরও ১৭ কোটি ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক
দুই দিনের ব্যবধানে দেশের ১৬ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরও ১৭ কোটি ১০ লাখ (১৭১ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ক্রয় করা এসব ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। ডলার কেনার ক্ষেত্রে কাট-অফ হারও ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সূত্র মতে, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ১৬ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত আরও ২১ কোটি ৮৫ লাখ (২১৮.৫০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। এর ফলে ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়াল ৩৮৯.৫০ মিলিয়ন বা ৩৮ কোটি ৯৫ লাখ মার্কিন ডলার। আর চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
একই দরে গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পাঁচ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ৫ কোটি ৫০ লাখ (৫৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত ২০ জানুয়ারি দুই বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার, ১২ জানুয়ারি ১০ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার, ৬ জানুয়ারি ১৪টি ব্যাংক থেকে ২২ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, আজ আমরা ১৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১২২.৩০ টাকা কাট-অফ রেটে মোট ১৭ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার ক্রয় করেছি। এর ফলে ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়াল ৩৮৯.৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ক্রয় দাঁড়াল ৪ হাজার ৩২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
এমএন
অর্থনীতি
২ লাখ ১০ হাজার টন সার কিনছে সরকার
মরক্কো, সৌদি আরব ও দেশীয় প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে ২ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন সার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৮০ হাজার টন ডিএপি সার, ৭০ হাজার টন ইউরিয়া এবং ৬০ হাজার টন টিএসপি সার রয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে এক হাজার ৩৭০ কোটি ৯১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৭৫ টাকা।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সূত্র মতে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মরক্কো থেকে এই সার আনতে ব্যয় হবে ৩১৯ কোটি ৫১ লাখ ৮ হাজার টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম পড়বে ৬৫১ মার্কিন ডলার।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের আর এক প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে মরক্কোর এই প্রতিষ্ঠান থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই সার আনতে ব্যয় হবে ১৮৪ কোটি ৫৩ লাখ ৯৫ হাজার ৭৩০ টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম পড়বে ৫০১ দশমিক ৩৩ মার্কিন ডলার।
মরক্কোর এই প্রতিষ্ঠান থেকে আরও ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার কেনার প্রস্তাব নিয়ে আসে কৃষি মন্ত্রণালয়। এটিও অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। এই সার আনতে ব্যয় হবে ১৮৪ কোটি ৫৩ লাখ ৯৫ হাজার ৭৩০ টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম পড়বে ৫০১ দশমিক ৩৩ মার্কিন ডলার।
এ ছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয়ের আর এক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সৌদি আরবের মা’আদেন এবং বাংলাদেশ কৃষি বিএডিসির মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ২০২৬ সালের প্রথম লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। সৌদি আরব থেকে এই সার আনতে ব্যয় হবে ৩২৩ কোটি ৯২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম পড়বে ৬৬০ মার্কিন ডলার।
এদিকে বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি- নিউট্রিনেটস কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই সার আনতে ব্যয় হবে ২০৫ কোটি ৩১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৪০ টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম পড়বে ৪১৮ দশমিক ৩৩ মার্কিন ডলার।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশ-এর কাছ থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কাফকো থেকে এই সার কিনতে ব্যয় হবে ১৫৩ কোটি ৮ লাখ ৩৫ হাজার ৮৭৫ টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম পড়বে ৪১৫ দশমিক ৮৭৫ মার্কিন ডলার।
এমএন



