রাজনীতি
একদল সংস্কার ভেস্তে দিচ্ছে, নির্বাচন পেছানোর চেষ্টা করছে আরেক দল: নাহিদ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন, একদল সংস্কারকে ভেস্তে দিচ্ছে, আরেক দল নির্বাচনকে পেছানোর চেষ্টা করছে।
জুলাই সনদ, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দেওয়া সংস্কার বাস্তবায়নের সুপারিশ ইস্যুতে বিএনপি ও জামায়াতের পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়ে কথা বলেন তিনি।
রোববার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নাহিদ। সংবাদ সম্মেলনে কোনো লিখিত বক্তব্য ছিল না। সরাসরি প্রশ্নোত্তর পর্ব দিয়েই শুরু হয় সংবাদ সম্মেলন।
এসময় তিনি বলেন, জামায়াতের কার্যক্রমে মনে হচ্ছে যে নির্বাচনকে পেছানোর কোনো অভিসন্ধি তাদের আছে কিনা, দুরভিসন্ধি আছে কিনা। একদল সংস্কারকে ভেস্তে দিচ্ছে, আরেক দল নির্বাচনকে পেছানোর চেষ্টা করছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে আমাদের মূল্যায়ন এটাই। তবে আমরা এই দুইটার কোনোটাই চাই না। আমরা চাই যথাসময়ে নির্বাচন হবে ফেব্রুয়ারিতে এবং জুলাই সনদেরও আইনি ভিত্তি পাবে এবং বাস্তবায়ন হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি ঐকমত্য কমিশনের শুরু থেকেই মৌলিক বিষয়গুলোতে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে বিরোধিতা করার চেষ্টা করেছে। ফলে সংস্কারের পক্ষে তারা কতটুকু আছে, এ বিষয়ে জনগণের ভেতর প্রশ্ন আছে, আমাদের কাছেও প্রশ্ন আছে। আবার অন্যদিকে জামায়াতের কার্যক্রমে মনে হচ্ছে, নির্বাচনকে পেছানোর কোনো দুরভিসন্ধি তাদের আছে কি না। ফলে একদল সংস্কারকে ভেস্তে দিচ্ছে, আরেক দল নির্বাচনকে পেছানোর চেষ্টা করছে।
গণভোট আগে হবে, না নির্বাচনের দিন হবে- এটাতে বিএনপি-জামায়াত আবার একটা দ্বন্দ্বে চলে গিয়েছে বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। এই দ্বন্দ্ব অযথা ও অপ্রয়োজনীয় বলেন তিনি।
উচ্চকক্ষে পিআর, দুই কক্ষে পিআরের দাবি এনে এই ইস্যুটাকে ঘুরিয়ে দেওয়ার একটা চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সনদে কী কী সংস্কার হবে, কী কী প্রস্তাব থাকবে এবং সেটার আইনি ভিত্তিটা কীভাবে হবে, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আদেশ জারি করবেন কি না- এগুলো প্রধান ইস্যু ও প্রধান তর্কের জায়গা। এই জায়গাগুলোতে একমত হলে গণভোট আমরা নির্বাচনের দিনও করতে পারি, আগেও করতে পারি। সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করতে পারি।
এনসিপি ফেব্রুয়ারিতে যথাসময়ে নির্বাচন এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়ন চায় বলে উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা মনে করি চলতি মাসের মধ্যেই আদেশ জারি হয়ে যাওয়া উচিত। মৌলিক সংস্কারে যে জায়গাগুলোতে ঐকমত্য হয়েছে, আমরা মনে করি সেসব বিষয়ে গণভোটে যাওয়া উচিত। গণভোট নির্বাচনের দিন হতে পারে, আগেও হতে পারে। এটা সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত।’
জুলাই সনদ অবশ্যই এবং অবশ্যই অধ্যাপক ইউনূসকে জারি করতে হবে বলে মন্তব্য করেন নাহিদ। তিনি বলেন, জুলাই সনদ যদি তথাকথিত রাষ্ট্রপতির থেকে জারি হয়, রাষ্ট্রপতি কার্যালয় থেকে থেকে জারি হয়, তাহলে এই সনদের কোনো আইনি ও রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি হবে না।
এক প্রশ্নের উত্তরে নাহিদ বলেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, রাজনৈতিক অনৈক্য তত তৈরি হবে, দ্বন্দ্ব-প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। তবে আওয়ামী লীগ প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে বলেন তিনি। নির্বাচনকে ভন্ডুল করার সব ধরনের ষড়যন্ত্র আওয়ামী লীগের জায়গা থেকে করা হবে বলেন নাহিদ। আওয়ামী লীগ বিভিন্ন দলে অনুপ্রবেশ করে নির্বাচন ভন্ডুলের ষড়যন্ত্র যাতে করতে পারে সে জন্য সব দলকে সতর্ক থাকতে আহ্বান জানান নাহিদ।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে নাহিদ বলেন, আমরা মনে করি, এই যে গণহত্যা, এটা আসলে দল হিসেবে আওয়ামী লীগ অপরাধ করেছে, কেবল ব্যক্তি হিসেবে শেখ হাসিনা নয়৷
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, ভারত যদি বাংলাদেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চায়, তাহলে অবশ্যই ভারতকে আওয়ামী লীগের চোখে বাংলাদেশকে দেখার নীতি থেকে সরে আসতে হবে। তাদের বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে হবে।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, তার দল আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে। কোন আসন থেকে নির্বাচন করতে চান, জানতে চাইলে নাহিদ সাংবাদিকদের বলেন, আমি যেহেতু ঢাকার সন্তান, আমাকে তো ঢাকা থেকেই হয়তো…৷ আর আমরা এখন পর্যন্ত ৩০০ আসন ধরেই এগোচ্ছি। আমরা হয়তো এই মাসেই আমাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করব। তখনই আসলে দেখা যাবে যে আমাদের কে কোথা থেকে দাঁড়াচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির দলীয় প্রতীকের ব্যাপারে তিনি বলেন, নতুন দল হিসেবে সহযোগিতার পরিবর্তে আমাদের কাজে বাধা তৈরি করছে নির্বাচন কমিশন। অথচ শাপলা কলির যে সিদ্ধান্ত, সেটি তারা এক মাস আগেও দিতে পারতো। আমরা শাপলাই চাই।
রাজনীতি
কার্ড দিতে গিয়ে বিএনপির তেল ফুরিয়ে গেছে : নাহিদ
বিএনপি কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে জনগণের মন ভোলানোর চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘এসব কার্ড দিতে গিয়ে বিএনপির তেল ফুরিয়ে গেছে, জ্বালানি ফুরিয়ে গেছে। অথচ মন্ত্রীরা সংসদে বলছেন, জ্বালানির সংকট নেই। তারা বাস্তব সমস্যাকে অস্বীকার করছেন, অর্থনৈতিক সমস্যাকে অস্বীকার করছেন।
দেশের আইন-শৃঙ্খলার যে ক্রমান্বয়ে অবনতি হচ্ছে, সেটাকেও অস্বীকার করছে বর্তমান সরকার।’
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা দেশের ও জনগণের স্বার্থে এই সরকারকে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু বিএনপি সরকার সহযোগিতার সব দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে।
আমার জানা নেই, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত কম সময়ে, মাত্র দুই মাসে, এত অজনপ্রিয় কোনো সরকার হয়েছিল কি না। এই সরকার গত দুই মাসে যে পরিমাণ অজনপ্রিয় হয়েছে, আমরা জানি না আগামী ছয় মাস পর এই সরকারের কী হবে।’
বিরোধীদলীয় হুইপ বলেন, ‘আমরা দেশে কোনো অস্থিতিশীলতা চাই না। আমাদের দাবি একটাই গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে প্রকৃত সম্মান দেওয়া।
এ দাবি আদায়ের জন্য আমরা সংসদে যেমন থাকব, রাজপথেও থাকব, ইনশাআল্লাহ।’
এনসিপির এই আহ্বায়ক বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছে। বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনগণ প্রতিজ্ঞা নিয়েছিল, দেশে আর নতুন কোনো স্বৈরতন্ত্র ফিরে আসতে দেওয়া হবে না। সেই প্রতিজ্ঞা থেকেই দেশে সংস্কারের কার্যক্রম শুরু হয়।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘কিন্তু বিএনপি প্রতি পদে পদে সংস্কার কার্যক্রমে বাধা দিয়ে আসছিল।
এক পর্যায়ে তারা বাধ্য হয়ে ঐকমত্য কমিশনে আসে এবং সেখানে এসেও প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রমে নোট অব ডিসেন্ট দিতে থাকে। সবশেষে রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জনগণের চাপে তারা গণভোটে রাজি হলেও নির্বাচনের পরপরই গণভোটকে অস্বীকার করা শুরু করেছে। যে বিএনপির জন্ম হয়েছিল গণভোটের মাধ্যমে, সেই বিএনপি আজ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ের গণভোটকে অস্বীকার করছে। কার্যত বিএনপি তার অস্তিত্বকেই অস্বীকার করতে শুরু করেছে।’
নাহিদ আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে বিএনপি যেভাবে আওয়ামী লীগের মতো দলীয়করণ শুরু করেছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে তারা একই পথে এগোচ্ছে। বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের মতো দেশকে পুরোনো স্বৈরাচারের পথে নিয়ে যেতে চায়, তাহলে আবারও দেশের জনগণ তাদের প্রতিহত করবে। বাংলাদেশের তরুণ সমাজ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।’
রাজনীতি
হাজার চেষ্টা করলেও আ. লীগ হতে পারবেন না— বিএনপিকে জামায়াত আমির
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা একসঙ্গে মজলুম ছিলাম। বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই, হাজার চেষ্টা করেন, আওয়ামী লীগ হতে পারবেন না। দুর্বল আওয়ামী লীগ হতে পারবেন। আওয়ামী লীগ জাতিকে নিয়ে বিরোধীদলকে নিয়ে ব্যঙ্গবিদ্রেুাপ করত।
আজকে তারা কোথায়! আপনারা এদের কাজ শুরু করেছেন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধা জাতীয় সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। জামায়াতে ইসলামী এ সমাবেশের আয়োজন করেছে। বিএনপি প্রতিটি বিষয়ে পতিত ও পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের পথ ধরে হাঁটা শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।
বিএনপি জাতির সঙ্গে প্রতারণা করছে মন্তব্য করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, প্রত্যেকটি বিষয়ে বিএনপি বিরোধিতা করে চলছে। এটি জাতির সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা। তারা তাদের নিজেদের ইশতেহারের বিরোধিতা করছে। আমার বোধহয়, তারা যে বিরোধিতা করছে, এই জ্ঞানটাও তারা হারিয়ে ফেলেছে।
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরো বলেন, প্রিয় বিএনপি, ভুলে যাবেন না। এই জুলাই না হলে—এই মায়েদের এই বাবাদের এই ভাইদের এই বোনদের—সন্তান, স্বামী, ভাই, বোন জীবন না দিলে আপনারা ক্ষমতার তাখত ইনজয় করতে পারতেন না। তখতে বসে সব ভুলে গেছেন।
রাজনীতি
জামায়াত কখনও সুস্থ চিন্তা করতে পারে না: মির্জা ফখরুল
জামায়াতে ইসলাম কখনও সুস্থ চিন্তা করতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির এক যৌথ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। মহান মে দিবস সফল করার লক্ষ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে–এমন বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এর মাধ্যমে আবারও দেশে বিভেদ ও ধূম্রজাল সৃষ্টি করা হচ্ছে। তারা আসলে ভিন্নভাবে দেশে স্বৈরশাসন ফিরিয়ে আনার পাঁয়তারা করছে কি না, তা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। জামায়াত কখনও সুস্থ চিন্তা করতে পারে না।
তিনি বলেন, একটি পক্ষ দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায়। তারা বিএনপিকে সরিয়ে আবার ফ্যাসিস্ট সরকার আনতে চায়। ছাত্র রাজনীতিতে যারা উশৃঙ্খল আচরণ চালু করেছে, তাদের কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, একটি পক্ষ বিএনপিকে রাজনীতি থেকে দুরে সরাতে চেয়েছে। জামায়াতের আমির বলেছেন আমরা নাকি ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছি। আমি তার বক্তব্যের নিন্দা ও প্রত্যাখ্যান করছি। কারণ এই নির্বাচন যে সুষ্ঠু হয়েছে তা দেশ-বিদেশে স্বীকৃত। বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে তারা আবার একটি ফ্যাসিস্ট সরকার আনতে চায় কি না তা দেখতে হবে।
তিনি জানান আগামী ১ মে শ্রমিক দিবস উপলক্ষে দুপুরে নয়াপল্টনে সমাবেশ করবে বিএনপি। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সমাবেম সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আমরা মনে করি সেদিন হবে আমাদের আগামীর রাজনীতির গতিপথ নির্ণয়ের শপথ নেওয়ার দিন।
ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস প্রমুখ।
রাজনীতি
গণভোটের প্রচারণায় কত টাকা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক, জানালেন রিফাত রশিদ
গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচার চালাতে সাত দিনের জন্য ১ কোটি টাকা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সদ্য জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) সাবেক সভাপতি রিফাত রশিদ এ কথা জানিয়েছেন।
গতকাল শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান। এসময় তার নিজের বিরুদ্ধে আসা বিভিন্ন অভিযোগেরও ব্যাখ্যা দেন।
ফেসবুক পোস্টে রিফাত রশিদ বলেন, ‘আপনারা ইতিমধ্যে অবগত আছেন যে, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদ্য সাবেক মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশা আমাদের বিরুদ্ধে গণভোটের অর্থ তছরুপের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনেছেন। কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ব্যতীত এহেন অভিযোগ সুস্পষ্ট অপরাধ। তবুও, আমরা আপনাদের সামনে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার করছি।’
বৈছাআ-এর সাবেক সভাপতি আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, “গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইনের জন্য আমাদের ফান্ডের প্রয়োজন ছিল।
সেই ফান্ড সংগ্রহের জন্য আমরা বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করি। সবশেষে, বাংলাদেশ ব্যাংক আমাদের ফান্ড দিতে সম্মত হয়। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে, কারণ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সরকারের কোনো রেজিস্টার্ড সংগঠন নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক নন-রেজিস্টার্ড কোনো সংগঠনকে অনুদান বা স্পনসর করতে পারে না।
সে কারণে আমাদের জরুরি ভিত্তিতে একটি ফাউন্ডেশন গঠন করতে হয়।’
সেই ফাউন্ডেশনে সিনথিয়াও যুক্ত ছিলেন বলে জানান রিফাত। তিনি বলেন, ‘সিনথিয়া শুরুতে থাকতে সম্মত হন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানসহ স্বাক্ষরও করেন। কিন্তু পরবর্তী সময় তিনি গণভোটের কোনো কার্যক্রমে যুক্ত থাকবেন না এবং দায়িত্ব নিতে পারবেন না বলে হঠাৎ সরে দাঁড়ান। পাশাপাশি তিনি বলেন, তাকে যদি ফাউন্ডেশনে রাখা হয়, তাহলে তিনি সংবাদ সম্মেলন করে পুরো বিষয়টি ক্ষতিগ্রস্ত করবেন।
পরবর্তী সময় তাকে বাদ দিয়েই ফাউন্ডেশনের রেজিস্ট্রেশন নেওয়া হয়।’
গণভোট প্রচারণার অর্থ সংগ্রহের বিষয়ে রিফাত বলেন, ‘গণভোটের ক্যাম্পেইনকে সামনে রেখে আমাদের ১৫ দিনব্যাপী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ৫ কোটি টাকা প্রদানের বিষয়ে একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়। তবে ভোটের আগে সময়স্বল্পতার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক রেজিস্টারকৃত সেড ফাউন্ডেশনকে ৭ দিনের প্রচারণার জন্য ১ কোটি টাকা দেয়। এরপর আপনারা জানেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে সারা দেশব্যাপী ৭ দিন গণভোটের ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়।’
রিফাত দাবি করেন, গণভোটের প্রচারণার সম্পূর্ণ আর্থিক হিসাব বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভুক্ত একটি অডিট ফার্ম দিয়ে নিরীক্ষা করা হয়। সেই অডিট রিপোর্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে।
সিনথিয়াসহ কয়েকজন বৈছাআর সাবেক নেতাদের বিতর্কিত ও হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনেছেন বলে দাবি করেন রিফাত।
তিনি বলেন, ‘আমরা এসব মিথ্যা অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। একই সঙ্গে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি, দুদকসহ যদি কোনো তদন্ত সংস্থা উক্ত অভিযোগগুলো তদন্ত করতে আগ্রহী হয়, তাহলে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। আমাদের কাছে সংশ্লিষ্ট হিসাবের সব প্রকার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষিত রয়েছে।’
রিফাত আরো বলেন, ‘এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চার মাসের একটি ট্রানজিশনাল সংকট অতিক্রম করেছে। কারণ সে সময়ে সংগঠনের পূর্ববর্তী অর্গানোগ্রাম উমামা, হাসনাত, আরিফ সোহেল সংগঠনের পরবর্তী কোনো কার্যপরিধি ও নেতৃত্ব নির্ধারণ না করায় একধরনের সংকট তৈরি। ফলত, নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় সারা দেশের বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীরা হয়রানির শিকার ও আত্মপরিচয় সংকটে ভোগে। তৎকালীন সময়ের এই সাংগঠনিক সংকট মোকাবেলায় সাবেক নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয় এবং নতুন কমিটি গঠিত হয়। পরবর্তী সময়, উক্ত কমিটির সাধারণ সভায় ট্রানজিশনাল সময়ের নেতৃত্ব নির্ধারণ এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক প্রক্রিয়া সুস্পষ্ট করার লক্ষ্যে মুখপাত্র সিনথিয়া জাহীন আয়েশাকে গঠনতন্ত্র প্রণয়ন কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে তিনি বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন।’
ফলস্বরূপ, চলমান ট্রানজিশনাল সময়ে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন এবং ভবিষ্যৎ কার্যপরিধি নির্ধারণের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতিক্রমে বর্তমান উপদেষ্টা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। উক্ত উপদেষ্টা পর্ষদ অতি দ্রুত সব কার্যক্রম সম্পন্ন করবে বলেও জানান রিফাত।
রাজনীতি
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতের জাতীয় সমাবেশ আজ
রাজধানীতে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশ আজ। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ওই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
গত বুধবার (২২ এপ্রিল) জামায়াতের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, শনিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধা জাতীয় সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা এতে উপস্থিত থাকবেন।
এর আগে, গতকাল শুক্রবার গণভোটের রায় এবং জুলাই সনদের পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১১ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।
সমাবেশে তিনি বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের শহীদদের সঙ্গে যারা বেইমানি করবে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। জনগণের মৌলিক ও রাজনৈতিক অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই অব্যাহত থাকবে। কোনো অপশক্তির কাছেই নতি স্বীকার করব না। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশের মানুষের মুক্তির সনদ। যারা এই আন্দোলনের চেতনাকে নস্যাৎ করতে চায় এবং শহীদদের রক্তের অবমাননা করে পর্দার আড়াল থেকে ষড়যন্ত্র করছে, তাদের চিহ্নিত করা হবে।



