আইন-আদালত
আইসিটি মামলায় অভিযুক্তরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) দায়ের করা মামলায় যাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে, তারা নির্বাচনে অংশ নিতে বা সরকারি কোনো পদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না বলে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
সরকারের জারি করা গেজেট বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর সংশোধনের মাধ্যমে এই বিধান কার্যকর করা হয়েছে। সোমবার রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন অধ্যাদেশ জারি করে আইনে নতুন ২০(গ) ধারা সংযোজন করেন। অধ্যাদেশটি জারি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কার্যকর হয়েছে।
নতুন ধারা অনুযায়ী, আইনের ৯(১) ধারার অধীনে আইসিটিতে যাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হয়েছে, তারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়া বা সরকারি দায়িত্ব পালনে অযোগ্য বলে গণ্য হবেন। একইসঙ্গে, স্থানীয় সরকার সংস্থার সদস্য, কমিশনার, চেয়ারম্যান, মেয়র বা প্রশাসক হিসেবে নির্বাচন বা নিয়োগেও তারা অযোগ্য হবেন। এ ছাড়া, এ ধরনের ব্যক্তিরা প্রজাতন্ত্রের কোনো সরকারি চাকরিতেও নিয়োগ বা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। তবে, পরবর্তীতে যদি কেউ ট্রাইব্যুনাল থেকে অব্যাহতি পান বা খালাসপ্রাপ্ত হন, তাহলে তার ওপর থেকে এই অযোগ্যতা তুলে নেওয়া হবে।
এ আইনের সংশোধনের কারণ ব্যাখ্যা করে আইসিটির প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সময়ের প্রয়োজনেই এই সংশোধন করা হয়েছে, কারণ দেশ এখন এক বিপ্লবোত্তর পরিস্থিতিতে পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
তবে এই সংশোধনের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, এটি ন্যায়বিচারের সবচেয়ে মৌলিক নীতিকে লঙ্ঘন করে। কারণ অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত একজন ব্যক্তি নির্দোষ।
কেউ কেবল অভিযুক্ত হলেই যদি নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন বা সরকারি চাকরিতে যেতে না পারেন, তা বিচার ছাড়া শাস্তি দেওয়ার শামিল।
তিনি আরও বলেন, ধরা যাক, আমি আর আপনি দুজনেই নির্বাচনে প্রার্থী। আমি চাইলে আপনার বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা করতে পারি। মামলার বিচার শুরু হওয়ার আগেই আপনাকে আপনার নির্দোষ প্রমাণ করতে হবে। কিন্তু ততদিনে নির্বাচন শেষ হয়ে যাবে—এটা কি ন্যায়বিচার?
শাহদীন মালিক এই সংশোধনকে ‘পশ্চাৎমুখী পদক্ষেপ’ বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি বিচার প্রক্রিয়ার মৌলিক ধারণার পরিপন্থী।
১৮শ সালের আগের যুগে ফিরে যখন মানবাধিকারের কোনো ধারণাই ছিল না, সে সময়ে ফিরে না গেলে এমন আইন দেখা যায় না। সংশোধিত এই খসড়াটির অনুমোদন গত ৪ সেপ্টেম্বর উপদেষ্টা পরিষদে চূড়ান্ত হয়। তখন নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার বলেছিলেন, আইসিটি আইনে অভিযুক্তদের সাধারণ অপরাধীর মতো দেখা যায় না; তারা বিপজ্জনক অপরাধী। সংবিধানের ৪৭(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাদের কিছু অধিকার আগেই সীমিত করা হয়েছে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এই পদক্ষেপ বিবেচনার যোগ্য।
এ পর্যন্ত জুলাই বিদ্রোহ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি মামলায় ৬৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হয়েছে।
আইন-আদালত
নারী নির্যাতনের ৯০ শতাংশ মামলাই মিথ্যা: আইনমন্ত্রী
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে হওয়া মামলাগুলোর ৯০ শতাংশই মিথ্যা হয়ে থাকে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, অনেকক্ষেত্রে স্বামী বা শ্বশুরবাড়ি নিয়ে কোনো নারী অসুখী হলেও মামলা করে দেন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীতে মানবাধিকার সংগঠন ওএমসিটি ও অধিকার আয়োজিত নির্যাতন প্রতিরোধ বিষয়ক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
এ সময় আইনমন্ত্রী তার আইনজীবী জীবনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, আদালতে আসা বেশির ভাগ নারী নির্যাতনের মামলাগুলোর ঘটনা মিথ্যা থাকে। আইনের অপব্যবহার করে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ীর লোকজনসহ যে কারও বিরুদ্ধে মামলা করে দেন অনেকেই।
শুধুমাত্র আইন প্রণয়ন করে নির্যাতন বন্ধ হবে না, এজন্য প্রয়োজন মানুষের সম্পৃক্ততা- এমন মন্তব্য করে সভায় আইনমন্ত্রী বলেন, একসময় আমাদের দেশে এসিড নিক্ষেপের প্রকোপ ছিলো। কিন্তু পরে কঠোর আইন তৈরি ও মানুষকে সচেতন করার মাধ্যমে তা দূর হয়েছে।
সরকার যেকোনো ধরনের পরামর্শকে স্বাগত জানায় বলে আইনমন্ত্রী বলেন, মানবাধিকারের আইনগুলোর অবমাননা চাই না। আমরাও বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চাই না।
সভায় গত দুই মাসে নেয়া সরকারের নানান পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
আইন-আদালত
বিগত সরকারে সুপ্রিম কোর্ট স্বকীয়তা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে: আইনমন্ত্রী
দেশে স্বাধীন বিচারব্যবস্থা থাকলেও সুপ্রিম কোর্ট তার স্বকীয়তা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে সুপ্রিম কোর্ট রাজনৈতিক কর্মীতে পরিণত হয়েছিল।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু।
সভায় আইনমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথক বিচার বিভাগ সচিবালয় আইন, মানবাধিকার কমিশন আইন, গুম কমিশন আইন ও জুলাই সনদ আইন যাচাই-বাছাই করেই সংসদে উত্থাপন করা হবে। পর্যালোচনা এ জন্যই দরকার যে, দেশে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা থাকলেও সুপ্রিম কোর্ট তার স্বকীয়তা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।’
বর্তমান সরকার জনগণের সরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জনগণ অনৈতিকতায় ভরপুর বিচার ব্যবস্থা চায় না। আমরা ইন্টেলেকচুয়াল দুর্নীতির পথ বন্ধ করতে চাই।’
মানবাধিকার কমিশন ও গুম কমিশন নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই সনদের কিছু অংশে প্রতারণার আশ্রয় নেয়া হয়েছে। ওইসব অংশ বিএনপি তার অঙ্গীকার অনুযায়ী বাস্তবায়ন করবে।’
দেশে আবারও বিভক্তির রাজনীতি চর্চার চেষ্টা চলছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ৭১ বা ২৪ নিয়ে কোনো বিভক্তি চাই না। বিভক্তির রাজনীতি থেকে ফিরে আসতে হবে এবং বাংলাদেশি চেতনায় বিশ্বাসী হতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশে ক্রসফায়ার, গুম ও মিথ্যা মামলা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। সরকার দায়িত্ব নিয়ে জনকল্যাণে কাজ করছে। এ কথাগুলো জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে এবং সরকারের পাশে দাঁড়াতে হবে।’
আইনজীবী সমিতির এই সভায় আইনমন্ত্রী ঐতিহ্যবাহী যশোর কোর্টকে তার স্বরূপে ফিরিয়ে আনতে এবং বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় তিনি বার কাউন্সিল থেকে আইনজীবীরা মৃত্যুর পর যেন এক কোটি টাকা পেতে পারেন, সে বিষয়েও পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, জেলা জজ মাহমুদা খানম এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন।
এমএন
আইন-আদালত
আমির হামজাকে আবারও লিগ্যাল নোটিশ
কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ফজলুর রহমানকে নিয়ে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে কুষ্টিয়া সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মো. আমির হামজাকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) কুষ্টিয়া জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. নুরুল ইসলাম (নুরুল) বাংলাদেশ ছাত্রশক্তি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্য সচিব মো. আই-ইয়াশ ইমনের পক্ষে এ নোটিশ প্রেরণ করেন।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, আমার মক্কেল মো. আই-ইয়াশ ইমন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের ভক্ত এবং পছন্দের ব্যক্তি। সম্প্রতি এক জনসম্মুখে তাকে নিয়ে দেওয়া মুফতি আমির হামজার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এতে দেখা যায় আমির হামজা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলুর রহমানকে ‘ফজু পাগল’ বলে সম্বোধন করেন। পাশাপাশি তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর কথা বলেন এবং কুকুর মারার ইনজেকশন দেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, এ ধরনের কুরুচিপূর্ণ ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ফজলুর রহমানের সামাজিক, মানসিক ও আর্থিক সম্মানের অপূরণীয় ক্ষতি করেছে। একই সঙ্গে তাকে দেশ ও জাতির সামনে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা করা হয়েছে।
লিগ্যাল নোটিশে মুফতি আমির হামজাকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে তার বক্তব্যের বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. নুরুল ইসলাম (নুরুল) জানান, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ আমির হামজাকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে উপযুক্ত জবাব না দিলে আমার মক্কেল তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে মুফতি আমির হামজার সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। উকিলের নোটিশ তো রয়েছে ১ থেকে ২শত। আসুক আসলে আর কী করবো। এসময় তিনি নিজের আইনজীবীদের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান।’
আইন-আদালত
সন্তানসহ কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন যুব মহিলা লীগ নেত্রী
তেজগাঁও থানায় করা বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগম ও তার শিশু সন্তান জামিন পেয়েছেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।
তার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার শিরিন আক্তার।
এর আগে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের বিচারক মোস্তাফিজুর রহমান তার জামিন মঞ্জুর করেন।
এদিকে ওই নেত্রীকে কাশিমপুর কারাগার থেকে নিতে তার সহকর্মীরা সকাল থেকেই কারাগার ফটকে অপেক্ষা করেন৷
তেজগাঁও এলাকার শ্রমিক লীগ নেতা আলমগীর হোসেন বলেন, তিনি আমাদের এলাকার বড় বোন। একসঙ্গে রাজনীতি করেছি। তার সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছিল, তা মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচারের কারণে আদালত মানবিক দিক বিবেচনায় জামিন দেন। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
কারা ফটকে শিল্পী বেগম বলেন, আমাকে পুলিশ ধরতে চায়নি, বিএনপির লোকজন আমাকে ধরিয়ে দিয়েছে। আমি আওয়ামী লীগ করি কিন্তু কোনো পদ-পদবি নেই৷ আমাকে মুক্তি দিয়েছে এজন্য আমি আইনের প্রতি কৃতজ্ঞ৷
উল্লেখ্য, গত সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তেজগাঁও থানার রেলওয়ে কলোনি স্টেশন রোডের নিজ বাসা থেকে শিল্পী বেগমকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। পরে মঙ্গলবার রাতে শিল্পী বেগম তার দেড় মাস বয়সী দুগ্ধপোষ্য কন্যাসন্তান কাইফা ইসলাম সিমরানকে সঙ্গে নিয়ে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে যান।
আইন-আদালত
পদে পদে পরিচয়ের আড়ালে অনিয়ম-প্রতারণার মানুষ ঠকাচ্ছেন অ্যাড. দেলোয়ার
একাধিক সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে এবার ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এর আগে অর্থ তসরুপের দায়ে চাকরিচ্যুত হওয়া এবং বিভিন্ন সংগঠনের নাম ব্যবহার করে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এরই মধ্যে একটি অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সমিতির সেক্রেটারি থেকে ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় নেতা নানা পরিচয়ে পরিচিত অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন। এসব পরিচয়ের আড়ালে তার বিরুদ্ধে জমেছে অর্থ আত্মসাৎসহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগ।
অভিযোগ রয়েছে, রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত থাকাকালে অর্থ তসরুপের ঘটনায় তিনি চাকরিচ্যুত হন। পরে তিনি ঢাকায় এসে আইন পেশায় যুক্ত হন এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করেন।
এ ধারাবাহিকতায় সাবেক সিনিয়র জেলা জজ মাসদার হোসেনের চেম্বারের মাধ্যমে নুর প্লাস্টিকস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের একটি ভ্যাট আপিল মামলার শুনানি ও পরিচালনার দায়িত্ব পান তিনি। মামলা চলাকালে সরকারি কোষাগারে ভ্যাট জমা, আইনজীবীর ফি ও আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেনকে মোট ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে তিনি নিজের নামে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের পল্টন শাখার দুটি হিসাবে অর্থ জমা ও এফডিআর করেন। এর মধ্যে ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি একটি হিসাবে ৩৫ লাখ টাকা জমা এবং ১০ জানুয়ারি আরেকটি হিসাবে ৪০ লাখ টাকার এফডিআর করা হয়।
এ ঘটনায় নুর প্লাস্টিকস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের তৎকালীন ব্যবস্থাপক মো. আশরাফুল ইসলাম ২০২৪ সালের ২৫ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
এ ছাড়া দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে আরও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। মো. মুনকির খান অভিযোগ করেন, তার ভাই মোশারফ হোসেনের কাছে পাওনাদার আলমগীর হোসাইনের কথা বলে দেলোয়ার হোসেন ৯ লাখ টাকা নেন। পরে এ ঘটনায় মামলা হলে অর্থ পরিশোধের পর আপোষের মাধ্যমে তা প্রত্যাহার করা হয়।
অন্যদিকে কেরানীগঞ্জে জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে অর্ধেক টাকা পরিশোধ করে বাকি টাকা এখনো না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন জমির বিক্রেতা ফারুক হোসাইন। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন মানুষকে হয়রানির শিকার করছেন।
সাবেক জেলা জজ ও আইনজীবী মাসদার হোসেন বলেন, আমার এক মক্কেলের মামলা চলাকালে আমি আমার চেম্বার অ্যাসোসিয়েট অ্যাডভোকেট ফাতহুল বারীর পরিচিত অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেনের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে ভ্যাট জমা, আইনজীবী ফি ও আনুষঙ্গিক আরও খরচ বাবদ আশি লাখ টাকা এবং পরবর্তী সময়ে আরও সাত লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকাসহ মোট সাতাশি লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা প্রদান করি। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে তার নিজ নামীয় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, পল্টন শাখায় পঁয়ত্রিশ লাখ টাকা জমা এবং একই ব্যাংকে চল্লিশ লাখ টাকা এফডিআর করেন, যা একটি সুস্পষ্ট তসরুপের শামিল।
এই অনিয়মের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে নুর প্লাস্টিকস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের তৎকালীন ম্যানেজার মো. আশরাফুল ইসলাম বিগত ২০২৪ সালের ২৫ এপ্রিল তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেন। যা তদন্তাধীন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে প্রশাসনিক কর্মকর্তা থেকে চাকুরী ছেড়ে দিয়েছি। আর নুর প্লাস্টিকস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের একটি ভ্যাট আপিল মামলার ফির টাকা নিয়েছি।
এমএন



