রাজনীতি
ডেপুটি স্পিকার পদ নিয়ে যা বলছে জামায়াত
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হওয়ার পর বিরোধী দল ডেপুটি স্পিকার নেবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
বুধবার (১১ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধী দলীয় সংসদীয় কমিটির সভা শেষ হওয়ার পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
হামিদুর রহমান বলেন, ‘কোনো দয়ায় নয়, অধিকার চায় জামায়াত।’
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আগে জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনা হবে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে আলোচনা হবে- এরপর আমাদের বিরোধী দলীয় নেতা ডেপুটি স্পিকারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’
তিনি বলেন, ‘ডেপুটি স্পিকারের বিষয়ে আমরা নাকচ করেছি, এভাবে তো সংসদে ডেপুটি স্পিকার নিতে চাইনি। সংসদে আলোচনা হবে, জুলাই সনদের বিষয়টি আগে নিষ্পত্তি হতে হবে।’
ডেপুটি স্পিকার প্রসঙ্গে বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘এটুকু বলব, আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিন্তু সিদ্ধান্তটা কী, সেটা খোলাসা হবে তখন, যখন আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে আলোচনা হবে।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা অনেক চৌকস সাংবাদিক। আমার কথাবার্তায় যদি না বোঝেন, তাহলে কিছু করার নেই।’
জামায়াতে ইসলামী সংসদে সব সময় একটা ইতিবাচক এবং সিরিয়াস ভূমিকা নেবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এমএন
রাজনীতি
প্রধানমন্ত্রীর সাথে এবি পার্টির চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেছে এবি পার্টির প্রতিনিধি দল। বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর সংসদ ভবন কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করতে যান তারা।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বঞ্চনা, স্বৈরশাসন ও আগস্ট বিপ্লব পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
সাক্ষাতে দল ও ফেনীতে নিজের নির্বাচনী এলাকার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে দুটি আলাদা চিঠি হস্তান্তর করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান। প্রধানমন্ত্রী ধৈর্য সহকারে তাদের কথা শোনেন এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী এবি পার্টিকে ধন্যবাদ জানিয়ে দেশ ও জনগণের পক্ষে ইতিবাচক রাজনীতির ওপর গুরুত্ব দেন। নেতারা জুলাই আগস্টের উত্তাল সময়ের স্মৃতিচারণ করেন।
এবি পার্টির প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব) আব্দুল ওহাব মিনার, সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এবং দফতর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা।
এবি পার্টির পক্ষ থেকে জাতীয়ভাবে প্রদত্ত সুপারিশে রয়েছে- ১) জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ নিয়ে শুরুতেই যে বিতর্ক ও জটিলতা তৈরি হয়েছে, আইনি এবং সাংবিধানিক বিতর্ক এড়িয়ে এর একটি সমঝোতামূলক গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া। ২) যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেশের সামনে যে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা আছে, তা মোকাবিলার জন্য সব রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সার্বজনীন পরামর্শ সভার আয়োজন করা।
৩) দেশের আইনশৃঙ্খলাজনিত একটি আস্থাশীল পরিবেশ তৈরি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে সুবিধাজনক সময়ে যথাশীঘ্র সম্ভব একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করার মাধ্যমে নতুন সরকারের পক্ষ থেকে একটি সুস্পষ্ট কঠোর অবস্থানের বার্তা জানিয়ে দেওয়া।
৪) মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলা, ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলের ভয়াবহ জুলুম নির্যাতনসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালীন গণহত্যার বিচার এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য বিএনপি যে নির্বাচনী অঙ্গীকার করেছিল তা বাস্তবায়ন।
জাতীয় ইস্যু ছাড়াও নিজের নির্বাচনী এলাকা ও প্রধানমন্ত্রীর নানার জেলা এবং তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জেলা ফেনীর জন্য কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন মঞ্জু।
সেগুলো হলো-
১) ফেনীতে একটি বিশেষায়িত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন।
২) ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রূপান্তর করা।
৩) ভূ-রাজনৈতিক ও যোগাযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় ফেনীতে একটি এয়ারপোর্ট এবং সেনা ব্রিগেড স্থাপন করা।
৪) ফেনীকে বন্যার করাল গ্রাস থেকে মুক্তকরণ, ফেনী শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন, শহরের গ্যাস সংকট দূরীকরণ, ফেনীর বিসিক শিল্পনগরীকে আধুনিকায়নসহ কিশোর গ্যাং, মাদকের দৌরাত্ম্য, অবৈধ মাটির ব্যবসা বন্ধ, মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ টেকসইভাবে নির্মাণে ব্যবস্থা গ্রহণ, ফেনীতে আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণ, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দোস্ত টেক্সটাইল মিল চালুসহ শহরের ময়লার ডিপো স্থানান্তরে পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ।
৫) দুর্ঘটনাপ্রবণ ফেনীর লালপোল এবং অসহনীয় যানজট নিরসনে ফেনী শহরের রেলগেট এলাকায় ফ্লাইওভার বা আন্ডারপাস নির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণ।
এমএন
রাজনীতি
রাষ্ট্রপতির সংসদে বক্তব্য দেওয়ার অধিকার নেই : তাহের
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিস্টের দোসর, সংসদে তার বক্তব্য দেওয়ার অধিকার নেই।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে সংসদের বিরোধী দলের এমপিদের নিয়ে বৈঠক শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, আগামীকাল যে সংসদ বসবে, সেখানে আমাদের ভূমিকা কী হওয়া উচিত, বৈঠকে সেই বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেহেতু অধিকাংশ সংসদ সদস্য নতুন, সংসদের ক্রাইটেরিয়া, ক্যারেক্টার বিষয়ে আমরা কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছি।
ডেপুটি স্পিকারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যখন প্রস্তাব আসবে তখন আমরা জানাবো। কালকে খোলাসা হবে।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার অধিকার নেই। স্বৈরাচারের দোসর। বিএনপি কেন যে তাকে দিয়ে ভাষণ দেওয়াচ্ছে আমরা পরিষ্কার নই। এই বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেগুলো কাল দেখবেন।
এমএন
রাজনীতি
পেশীশক্তি প্রদর্শন ও আধিপত্য বিস্তারের, ছাত্ররাজনীতির গুণগত পরিবর্তনে বড় চ্যালেঞ্জ
“পেশীশক্তি প্রদর্শন ও আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা: ছাত্ররাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের পথে চ্যালেঞ্জ ও আমাদের করণীয়” শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে এ সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ ছাত্রশিবির মেডিক্যাল জোন।
এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রশিবির মেডিকেল জোনের সভাপতি ডা. যায়েদ আহমাদ এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল ডা. জুলফিকার আলী।
সেমিনারের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন ১১ মার্চের শহীদ আইয়ুব আলী-এর ভাই গোলাম হোসেন। তিনি বলেন, “শহীদ আইয়ুব ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দীপ্ত কণ্ঠস্বর। তিনি কখনো কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেননি।” একই সঙ্গে তিনি শহীদদের হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, গবেষক ও কবি ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ। তিনি বলেন,“ছাত্র রাজনীতি মানে হচ্ছে শিক্ষার্থীরা নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলা। ছাত্ররা শিক্ষা গ্রহণ করবে, মেধা চর্চা করবে, গবেষণায় মনোনিবেশ করবে এবং শিক্ষাসংক্রান্ত ন্যায্য দাবি উত্থাপন করবে। পাশাপাশি সামাজিক ন্যায়বিচার, সুশাসন ও সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রাখবে এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে এবং নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাবে।”
তিনি আরও বলেন, ছাত্ররাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি আদাযয়ের জন্য আলোচনার মাধ্যমে জনমত গঠন করে কর্তৃপক্ষের উপর চাপ প্রয়োগ করা; পেশীশক্তি প্রদর্শন নয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ছাত্রসংগঠনগুলো যদি স্বতন্ত্রভাবে কাজ করতে চায়, তবে লেজুড়বৃত্তি থেকে বাইরে এসে নিজেদের সাংগঠনিক ও আর্থিক কাঠামোকে সুসংগঠিত করতে হবে। অনাকাঙ্ক্ষিত দ্বন্দ্ব নিরসনে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করতে হবে। তিনি আরও বলেন,১৯৮২ সালের ১১ মার্চ ছাত্র হত্যার মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারের যে কালো ছায়া নেমে এসেছিল, তা আজও ছাত্ররাজনীতিকে কলুষিত করছে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের নবাগত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের হামলায় কয়েকজন কর্মী নিহত হন। সেই থেকে সংগঠনটি প্রতিবছর ১১ মার্চকে শহীদ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে শত জুলুম নির্যাতনের পরও ছাত্রশিবির তার ছাত্রবান্ধব কর্মসূচি থেকে একদিনের জন্যও বিরত থাকেনি।
বিশেষ আলোচক বক্তব্যে লেখক ও সাংবাদিক আলী আহমাদ মাবরুর বলেন, বাংলাদেশে ক্যাম্পাস ভায়োলেন্সের সূচনা ছাত্রশিবিরের ওপর সহিংসতার মধ্য দিয়ে হলেও তা আজও থামেনি। তিনি এই ছাত্র রাজনীতির সংকট নিরসনে সকল রাজনৈতিক দলের সদিচ্ছার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এমএন
রাজনীতি
নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বর্তমান সরকার নারীর ক্ষমতায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, যদিও একটি রাজনৈতিক মহল নারীদের খাটো করে দেখে ও ঘরে আটকে রাখার চেষ্টা করছে।
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এলজিইডি ভবনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক নির্বাচিত ‘শ্রেষ্ঠ আত্মনির্ভরশীল নারী সম্মাননা ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, একটি পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে জনগণের কল্যাণের জন্য ম্যান্ডেট পেয়েছে বিএনপি। তারেক রহমান অনেকগুলো পরিবর্তনের কথা বলেছেন। প্রথম ঢাকায় নেমে যে পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন সেগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর আশা, বিধ্বস্ত রাষ্ট্র আর ধ্বংস হয়ে যাওয়া অর্থনীতি নিয়ে দেশ পরিচালনা করলেও শিগগিরই ইতিবাচকভাবে সব ঘুরে দাঁড়াবে।
এ সময় অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান বলেন, ন্যায়ভিত্তিক ও সহনশীল সমাজ গঠনে নারীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি উন্নত সমাজ গঠনের জন্য নারী ও পুরুষের মধ্যে কোনো ধরনের বৈষম্য রাখা যাবে না।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তিনটি ক্যাটাগরিতে সারা দেশ থেকে মোট ৯ নারীকে শ্রেষ্ঠ আত্মনির্ভরশীল নারী সম্মাননা-২০২৬ প্রদান করা হয়।
রাজনীতি
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে সরকার: ড. হেলাল উদ্দিন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেছেন, নির্বাচনের আগে গণভোটে “হ্যাঁ” ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকার এখন সেই গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে।
সোমবার (৯ মার্চ) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পল্টন থানার বায়তুল মোকাররম সাংগঠনিক ওয়ার্ডের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে জনসভায় দেশবাসীকে জুলাই সনদের পক্ষে গণভোটে “হ্যাঁ” ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। জনগণ সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিলেও সরকার এখন সেই রায় বাস্তবায়নের পরিবর্তে বিষয়টি আদালতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির সুযোগ থাকবে না বলেই সরকার তা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র করা হলে ছাত্র-জনতা তা প্রতিহত করবে।
সভায় ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ক্ষমতায় গেলে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমন করা হবে। কিন্তু সরকার গঠনের এক মাস পরও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বরং খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির ঘটনা বেড়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সরকারের প্রতি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান।
বায়তুল মোকাররম সাংগঠনিক ওয়ার্ড সভাপতি এনামুল হক শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য শাহীন আহমেদ খান, পল্টন থানা আমীর এডভোকেট মারুফুল ইসলাম, পল্টন থানা সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলাম এবং সাবেক কাউন্সিলর খন্দকার আব্দুর রব। সভায় বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটের সহস্রাধিক ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে ব্যবসায়ীদের সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
পরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মতিঝিল দক্ষিণ থানার আরামবাগ ওয়ার্ড আয়োজিত আরেকটি ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ড. হেলাল উদ্দিন।
তিনি বলেন, রমজান মাস ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রকে পরিশুদ্ধ করার মাস। তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অন্যায়ের পথ থেকে দূরে থাকা সম্ভব। ব্যক্তি ও নেতৃত্বের মধ্যে আল্লাহভীতি থাকলে সমাজ ও রাষ্ট্রে ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠা সহজ হয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দুর্নীতি বন্ধ করা এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক অস্থিরতাও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে খোদাভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।
মতিঝিল দক্ষিণ থানার আরামবাগ ওয়ার্ড সভাপতি মাওলানা তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগরীর মজলিসে শুরা সদস্য ও মতিঝিল দক্ষিণ থানা আমীর মাওলানা মুতাছিম বিল্লাহ। এছাড়া মতিঝিল দক্ষিণ থানা ও আরামবাগ ওয়ার্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




