সারাদেশ
কৃষকদের ১২ হাজার কোটি টাকার ঋণ মওকুফের ঘোষণা: অর্থমন্ত্রী
কৃষকদের ১২ হাজার কোটি টাকার কৃষিঋণ মওকুফ করার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, কৃষকদের দুর্দশা লাঘব এবং নতুন করে কৃষিকাজে উৎসাহ দিতে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে চট্টগ্রাম নগরের এয়ারপোর্ট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পেয়েছে এবং সেই দায়িত্ব থেকেই মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের নৈতিক কর্তব্য।
কৃষকদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষকদের কথা চিন্তা করে আমরা প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার কৃষিঋণ মাফ করেছি। কারণ আমরা জানি, অনেক কৃষকের কাছে সেই ঋণ পরিশোধ করার মতো সামর্থ্য ছিল না। তাদের হতাশা দূর করতে এবং নতুন করে কৃষিকাজে উৎসাহ দিতে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক। একটি পরিবারকে শক্তিশালী করা গেলে সমাজ শক্তিশালী হয়, আর সমাজ শক্তিশালী হলে দেশ এগিয়ে যায়। সে চিন্তা থেকেই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের কোটি কোটি পরিবারকে সরাসরি সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে তাদের আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার করাই এই কর্মসূচির লক্ষ্য।
নারীদের অবদান প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা চাই নারীরা নিজেদের মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে সামনে এগিয়ে আসুক। একজন নারী প্রতিদিন পরিবারের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেন, পরিবারের সব কাজ শেষ করে পরিবারে সেবা দেন— সে অবদানকে কখনো অবহেলা করা যায় না। তারেক রহমান সবসময় বলেছেন, মানুষের মর্যাদা বাড়াতে হবে, নারীর সম্মান বাড়াতে হবে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সেই চিন্তার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এখানে কোনো দলীয় বিভাজন নেই। ধর্ম-বর্ণ বা রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সবাই এই সুবিধা পাবে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের জন্য ধাপে ধাপে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে এবং প্রতিটি পরিবারকে মাসিক ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। একটি পরিবারে ২৫০০ টাকা হয়তো কারও কাছে ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু অনেক পরিবারের জন্য এটি বড় সহায়তা। এই অর্থ দিয়ে তারা প্রয়োজনীয় খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারবে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহু অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন তার কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, কারণ এটি সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িত।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সাধারণ মানুষের জন্য একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। আমরা ইতোমধ্যে টিসিবির কিছু কার্ড বিতরণ করেছি এবং সেখানে প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্টে পণ্য দেওয়া হয়েছে। একটি ফ্যামিলি কার্ডে যে ২৫০০ টাকা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে— অনেক পরিবারের জন্য এটি বড় সম্পদ। এটি তাদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, বিএনপি কখনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয় না। আমরা যা বলি, তা করার চেষ্টা করি। এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি তারই একটি উদাহরণ। অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মাত্র এক মাসেরও কম সময়ে খাল খনন, বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। এগুলো মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, দেশের রাজনীতিতে অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সব সময় তা বাস্তবায়ন হয় না। তবে তারেক রহমান যেসব প্রতিশ্রুতি দেন, সেগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেন। এটাই নতুন বাংলাদেশের রাজনীতি, যেখানে কথা দেওয়া হলে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়।
চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, বিএনপি কখনো মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস দেয় না। আমরা যা বলি, তা করার চেষ্টা করি। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি তারই প্রমাণ।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ এবং চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। তারা বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সরাসরি উপকৃত হবে এবং মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ বিপিএম, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ।
সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় এ অনুষ্ঠানে। জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রামের আয়োজনে এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এসময় প্রধান অতিথি প্রতীকীভাবে কয়েকজন উপকারভোগীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। এই কার্ডের মাধ্যমে উপকারভোগী পরিবারগুলো নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক সহায়তা ও বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পাবে।
এমএন
সারাদেশ
টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না দেশের যেসব এলাকায়
বিদ্যুৎ লাইনের জরুরি মেরামত ও উন্নয়ন কাজের কারণে আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) দেশের কয়েকটি এলাকায় টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলী কার্যালয় থেকে জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দিরাই উপজেলায় সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে।
৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের জরুরি মেরামত ও সংরক্ষণ কাজের জন্য এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মেরামত কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হবে; কাজ সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।
সাময়িক এ অসুবিধার জন্য দিরাই উপজেলার বিদ্যুৎ গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) সিলেটের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জরুরি মেরামত, সংরক্ষণ ও লাইনের উন্নয়ন কাজের জন্য সিলেট নগরের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় শনিবার চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। শনিবার সকাল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত পাঠানটুলা ১১ ফিডারের আওতাধীন পাঠানটুলা, শ্রাবনী, নিকুঞ্জ, লতিফ মঞ্জিল, পল্লবী আবাসিক এলাকা, মদিনা মার্কেটসহ আশেপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না। একই সময়ে বিমানবন্দর ১১ ফিডারের আওতাধীন লাভলী রোড, তপোবন আবাসিক এলাকা, বর্ণমালা স্কুল এলাকা, আলমদিনা টাওয়ার, মদিনা মার্কেট বাজার, আখরাগলি, বাগবাড়ী, সুরমা আবাসিক এলাকা, লেকসিটি ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতেও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হলে দ্রুতই সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, উন্নয়নকাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
সারাদেশ
গ্যাস সংকটে বেড়েছে লোডশেডিং: বাণিজ্যমন্ত্রী
গ্যাস সংকটের কারণেই দেশে লোডশেডিং বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে এখনো দেশের বড় নির্ভরতা গ্যাসের ওপর, যা বর্তমানে বড় একটি চ্যালেঞ্জ।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ বাজারে বাসিয়া খাল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ১৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হয়, কিন্তু চাহিদা পূরণে অতিরিক্ত প্রায় ৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমদানি করতে হয়। তবে অর্থের সংস্থান থাকলেও নানা সমস্যার কারণে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস আমদানি সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলেই লোডশেডিং বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় বিদ্যুৎ খাতে নানা অব্যবস্থাপনা ও অরাজকতা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। সরকার মাত্র দুই মাসের হলেও এসব সমস্যার সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে। এলএনজি আমদানি সক্ষমতা বাড়াতে নতুন টার্মিনাল নির্মাণের জন্য জ্বালানি মন্ত্রণালয় শিগগিরই টেন্ডার আহ্বান করবে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ডিজেলের দাম ১৫ শতাংশ বাড়ানো হলেও এর প্রভাব মূল্যস্ফীতিতে উল্লেখযোগ্য হবে না। তিনি দাবি করেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম এখনো কম এবং সতর্কতার সঙ্গে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কম পড়ে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ২০০ কিলোমিটার পণ্য পরিবহনে একটি ট্রাকের ক্ষেত্রে কেজিপ্রতি পণ্যমূল্য মাত্র ৩০ পয়সা বাড়তে পারে, যা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে তেমন প্রভাব ফেলবে না। এমনকি উচ্চমূল্যে জ্বালানি আমদানি করলেও সরকার তা দক্ষতার সঙ্গে ব্যবস্থাপনা করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাত ঝুঁকিতে পড়ে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সংরক্ষণাগার নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
এ সময় তিনি জানান, আগামী ২ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিলেটের বাসিয়া খাল খনন কাজের উদ্বোধন করবেন। এর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই পরিদর্শন করা হয়।
বাসিয়া খাল খনন প্রকল্প সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ খালের মধ্যে ২৩ কিলোমিটার খনন করা হবে। সিলেট সদরের মাসুকগঞ্জ বাজার থেকে শুরু হয়ে ওসমানীনগর হয়ে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পর্যন্ত এই খনন কাজ চলবে। এর ফলে অন্তত ৯০ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে।
পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য এমএ মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এবং সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
সারাদেশ
দেশে জ্বালানি তেলের সংকট নেই, ২-৩ দিনের মধ্যে সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে
দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই, সাময়িক সমস্যা দুই-তিন দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, সরকার এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গাজীপুর এবং ঢাকা জেলা শিল্পাঞ্চলের সার্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং শ্রমিকদের বেতন বোনাস সংক্রান্ত বিষয়সমূহ সুশৃঙ্খল ও সন্তোষজনকভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে মতবিনিময়সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া।
শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ঈদকে সামনে রেখে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে মালিকপক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। সভায় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ ঈদকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
শ্রমমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশেও জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
সভায় কারখানা মালিকরা নিরবিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ এবং জেনারেটরের জন্য ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুল হক মিলন, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক ওমর মো. ইমরুল মহসিন এবং শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুছ সামাদ আল আজাদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার চৌধুরী ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মতবিনিময় সভায় যোগ দেন।
সারাদেশ
ফারুক সরকারের কুলখানিতে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল
শরীয়তপুরের উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ ইউনুস সরকারের ছোট ভাই মরহুম ফারুক সরকারের কুলখানি উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কুলখানি উপলক্ষে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়। খাবার পরিবেশনের আগে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও কবর জিয়ারত অনুষ্ঠিত হয়।
দোয়া পরিচালনা করেন তারাবুনিয়া দরবার শরীফের পীর সাহেব মাওলানা আবু সালেহ। কবর জিয়ারত করেন গোরীপুর আমিরাবাদ শাজলিয়া দরবার শরীফের পীরজাদা মাওলানা মিজানুর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রায় ২০০ জন হাফেজ, আলেম-ওলামা অংশ নেন এবং মরহুমের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাতে শরিক হন।
এ ছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণও লক্ষ্য করা যায়, যা এলাকায় সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
সারাদেশ
পদ্মায় ধরা দুই কাতলের দাম ৮৮ হাজার টাকা
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পদ্মা নদীতে ধরা পড়া দুটি বিশাল আকারের কাতল মাছ ৮৮ হাজার ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাছ দুটি দেখতে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় উৎসুক জনতার ভীড়।
মাছ ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাতে পদ্মা-যমুনার মোহনায় মাছ ধরতে যান জেলে জীবন হালদার ও গফুর প্রামাণিক। তারা পৃথকভাবে জাল ফেলেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর ভোরের দিকে তাদের জালে ধরা পড়ে দুটি বড় কাতল মাছ। এর মধ্যে জীবন হালদারের জালে ওঠে ১৯ কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের একটি কাতল এবং গফুর প্রামাণিকের জালে ধরা পড়ে ২৫ কেজি ওজনের আরেকটি কাতল।
রোববার সকালে জীবন হালদার মাছটি বিক্রির জন্য দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের রেজাউল মন্ডলের আড়তে নিয়ে আসেন। সেখানে মাছটি দেখতে ভিড় করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের বড় মাছ এখন খুব কম দেখা যায়।
সপ্তাহ ধরে পদ্মায় বড় আকারের কাতল মাছ ধরা পড়ার প্রবণতা কিছুটা বেড়েছে বলেও তারা জানান।
পরে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে ১৯ কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের মাছটি বিক্রি করা হয়। দৌলতদিয়া ৫ নম্বর ফেরিঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ী সম্রাট শাহজাহান শেখ সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে প্রতি কেজি ১ হাজার ৬০০ টাকা দরে মাছটি ৩১ হাজার ২০০ টাকায় ক্রয় করেন।
অপরদিকে, ২৫ কেজি ওজনের কাতলটি তিনি সরাসরি জেলের কাছ থেকে প্রতি কেজি ২ হাজার ১০০ টাকা দরে ৫২ হাজার ৫০০ টাকায় কিনে নেন।
পরে দুপুরের দিকে সিলেটের এক অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী তার কাছ থেকে ৮৮ হাজার ১৫০ টাকা দিয়ে মাছ দুটি ক্রয় করেন।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল ইসলাম পাইলট বলেন, ইলিশ আহরণে মৌসুমি নিষেধাজ্ঞা চলায় নদীতে অন্যান্য প্রজাতির মাছ বাড়ার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে কাতল, রুই, বোয়াল ও বাগাড়সহ বড় মাছ বেশি ধরা পড়ছে।



