জাতীয়
বন্ধ থাকা সরকারি পাটকলগুলো দ্রুত চালু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী
বর্তমান সরকার বন্ধ থাকা সরকারি পাটকলগুলো দ্রুত পুনরায় চালুর লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সচিবালয়ে ‘জাতীয় পাট দিবস-২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিপুল পরিমাণ কাঁচা পাট ভারতসহ অন্যান্য দেশে রফতানি হলেও কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাচ্ছে না বাংলাদেশ। এর ফলে দেশীয় শিল্প কাঁচামাল ঘাটতিতে পড়ছে। অন্যদিকে, ভারত বাংলাদেশের পাট দিয়ে উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরি ও রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। তাই কাঁচা পাট রফতানি থেকে সরে এসে ফিনিসড প্রোডাক্ট তৈরিতে নজর দিতে হবে।
আগামী শুক্রবার (৬ মার্চ) রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন অনলাইনে জাতীয় পাট দিবসের উদ্বোধন করবেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিজেএমসির অধীনে ২৫টি পাটকল রয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে ইজারার মাধ্যমে ১৪টি চালু করা হয়েছে। রাজশাহী, নরসিংদীসহ বিভিন্ন এলাকার আরও ৭টি পাটকল দ্রুত চালুর প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
জাতীয়
নির্যাতন বন্ধে রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন: মাহমুদুর রহমান
নির্যাতন বন্ধে রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেছেন, আমরা দেশটাকে পরিবর্তন করতে চাই। শুধুমাত্র আইনের মাধ্যমে সম্ভব নয়, নিজেদেরকেও পরিবর্তন করতে হবে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীতে মানবাধিকার সংস্থা ওএমসিটি ও অধিকার আয়োজিত নির্যাতন প্রতিরোধ বিষয়ক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মাহমুদুর রহমান বলেন, আমি নিজে নির্যাতিত হয়েছি। আমাকে থানায় নির্যাতন করা হয়েছে। র্যাব ও ডিবি নির্যাতন করেছে। নির্যাতনের এমন অপসংস্কৃতি বন্ধ হওয়া জরুরি প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, আমাকে সবসময় প্রো অপজিশন হিসেবেই আখ্যায়িত করা হয়। কারণ, আমরা নির্দলীয় সাংবাদিকতা করে থাকি।
আইন-আদালত
নারী নির্যাতনের ৯০ শতাংশ মামলাই মিথ্যা: আইনমন্ত্রী
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে হওয়া মামলাগুলোর ৯০ শতাংশই মিথ্যা হয়ে থাকে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, অনেকক্ষেত্রে স্বামী বা শ্বশুরবাড়ি নিয়ে কোনো নারী অসুখী হলেও মামলা করে দেন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীতে মানবাধিকার সংগঠন ওএমসিটি ও অধিকার আয়োজিত নির্যাতন প্রতিরোধ বিষয়ক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
এ সময় আইনমন্ত্রী তার আইনজীবী জীবনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, আদালতে আসা বেশির ভাগ নারী নির্যাতনের মামলাগুলোর ঘটনা মিথ্যা থাকে। আইনের অপব্যবহার করে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ীর লোকজনসহ যে কারও বিরুদ্ধে মামলা করে দেন অনেকেই।
শুধুমাত্র আইন প্রণয়ন করে নির্যাতন বন্ধ হবে না, এজন্য প্রয়োজন মানুষের সম্পৃক্ততা- এমন মন্তব্য করে সভায় আইনমন্ত্রী বলেন, একসময় আমাদের দেশে এসিড নিক্ষেপের প্রকোপ ছিলো। কিন্তু পরে কঠোর আইন তৈরি ও মানুষকে সচেতন করার মাধ্যমে তা দূর হয়েছে।
সরকার যেকোনো ধরনের পরামর্শকে স্বাগত জানায় বলে আইনমন্ত্রী বলেন, মানবাধিকারের আইনগুলোর অবমাননা চাই না। আমরাও বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চাই না।
সভায় গত দুই মাসে নেয়া সরকারের নানান পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
জাতীয়
জনমুখী প্রশাসনই উন্নত রাষ্ট্রের ভিত্তি: প্রধানমন্ত্রী
প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেধাভিত্তিক, দক্ষ এবং জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশনের তৃতীয় ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার মেধানির্ভর, আত্মবিশ্বাসী, সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল মানবসম্পদ গঠনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। একটি উন্নত রাষ্ট্র বিনির্মাণে দক্ষ ও জনমুখী প্রশাসনের বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিয়াম ফাউন্ডেশনের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংস্থাটি একটি দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই আন্দোলন প্রমাণ করেছে—রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি জনগণ। দীর্ঘদিন ধরে জনগণ জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী শাসনব্যবস্থা প্রত্যাশা করে এসেছে, আর বর্তমান সরকার সেই প্রত্যাশা পূরণে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে প্রশাসনকে আরও জনমুখী হতে হবে এবং জনগণের সেবক হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করতে প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী বিয়াম ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মন্ত্রিসভার সদস্য ও বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয়
আজ বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস, উচ্চ ঝুঁকিতে ১৩ জেলা
দেশে আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরিবর্তনের প্রভাবে মশার উপদ্রব বেড়ে যাচ্ছে, আর এর সঙ্গে বাড়ছে ম্যালেরিয়াসহ মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ,এই তিন মাসে অ্যানোফিলিস মশার কামড়ে ৪৬০ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।
গড়ে মাসে ১৫৩ জন এবং প্রতিদিন ৫ জনের বেশি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজারসহ দেশের ১৩টি জেলা ম্যালেরিয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।
এমন বাস্তবতায় আজ (২৫ এপ্রিল) দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস-২০২৬। এবারের প্রতিপাদ্য—“Driven to End Malaria: Now We Can. Now We Must।
” এর মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তি ও জরুরি পদক্ষেপের মাধ্যমে ম্যালেরিয়া নির্মূলে জোর দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একসময় ম্যালেরিয়া ছিল দেশের বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা।
তবে সরকারের উদ্যোগ ও উন্নয়ন সহযোগীদের প্রচেষ্টায় গত দেড় দশকে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার অনেক কমেছে। সরকারের লক্ষ্য ২০২৪ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে স্থানীয়ভাবে ম্যালেরিয়া সংক্রমণ শূন্যে নামিয়ে আনা।
পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন বান্দরবানে ২১৪ জন, রাঙামাটিতে ১৭৯ জন, কক্সবাজারে ৪৯ জন, খাগড়াছড়িতে ১৩ জন এবং চট্টগ্রামে ৫ জন। এর আগে ২০২৫ সালে দেশে মোট ১০ হাজার ১৬২ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হন এবং মারা যান ১৬ জন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘসময় পানি জমে থাকা—এসবই মশার বংশবিস্তার বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলে এ প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যেও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বাড়ছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও জঙ্গলে চলাচলের কারণে তারা বেশি ঝুঁকিতে থাকছেন। অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত হলেও চিকিৎসা নিতে অনীহা থাকায় মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশা নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত কর্মসূচি, উন্নত নগর পরিকল্পনা, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা এবং সচেতনতা বাড়ানো ছাড়া ম্যালেরিয়া নির্মূল করা কঠিন হবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
জাতীয়
গ্যাসচালিত পরিবহনে বেশি ভাড়া নিলে ব্যবস্থা : সড়কমন্ত্রী
গ্যাসচালিত পরিবহনে ভাড়া বেশি নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, ‘শুধু ডিজেলচালিত বাসেই ভাড়া বাড়বে, গ্যাসচালিত পরিবহন বেশি ভাড়া নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তেলের দামের সঙ্গে বাসভাড়া সমন্বয় করা হয়েছে। যদি তেলের দাম আবার কমে যায়, কোনো আলোচনা ছাড়াই ভাড়া কমে যাবে।
তবে শুধু ডিজেলচালিত বাসেই ভাড়া বাড়বে, গ্যাসচালিত পরিবহনে ভাড়া বাড়বে না।’
আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘তেলের দাম বাড়াতে আইএমএফের কোনো চাপ নেই। সরকার উপায় না পেয়ে তেলের দাম সমন্বয় করেছে।’
দাম বাড়ানোর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘পাচার ও ভর্তুকি এড়াতেও সরকার তেলের দাম বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছে।’
অটোরিকশা প্রসঙ্গে সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে অটোরিকশার দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ধাপে ধাপে প্রধান সড়ক থেকে অটোরিকশা বন্ধ করার চেষ্টা করা হবে।’



