শিল্প-বাণিজ্য
রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিতে সমন্বিত নীতিমালার দাবি বারভিডার
বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) বার্ষিক সাধারণ সভায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দেশের সার্বিক গাড়ি আমদানি বাণিজ্য এবং সরকারের অটোমোবাইল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালার আলোকে একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। বারভিডা নেতৃবৃন্দ রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি বাণিজ্যে স্থানীয় বিনিয়োগ, ব্যাপক কর্মসংস্থান, ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পসমূহে বিনিয়োগ এবং সরকারকে প্রদত্ত রাজস্ব কাঠামোর প্রেক্ষিতে দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি খাতের অবদান তুলে ধরেন।
মঙ্গলবার (০৯ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর একটি ক্লাবে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় সংগঠনের প্রায় সাড়ে ৫০০ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। বুধবার সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল রিয়াজ রহমানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বারভিডা প্রেসিডেন্ট আবদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল রিয়াজ রহমান, ভাইস প্রেসিডেন্টবৃন্দ, প্রাক্তন প্রেসিডেন্টবৃন্দ এবং কার্যনির্বাহী সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বারভিডা প্রেসিডেন্ট আবদুল হক বলেন, বারভিডা একটি সমাজ তথা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন খাতে গত ৪ দশক ধরে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মানসম্পন্ন যানবাহন সরবরাহ করে দেশের পরিবহন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বারভিডা আমদানিকৃত গাড়িগুলো জাপানের অভ্যন্তরীণ (Japanese Domestic Model)মডেলের, যা দেশের সিংহভাগ জনগোষ্ঠী ও প্রতিষ্ঠানের চাহিদা ও প্রয়োজন মিটিয়ে মানসম্পন্ন সেবা প্রদান করতে সক্ষম হচ্ছে। বারভিডা প্রেসিডেন্ট বলেন যে, রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি ব্যবসা একটি ‘সোশ্যাল বিজনেস’, শুধুমাত্র মুনাফাকারী ব্যবসা নয়।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন কর্তৃক বিভিন্ন দেশের পণ্য রপ্তানিতে পাল্টা শুল্ক আরোপের ফলে বিশ্ব বাণিজ্যের হিসাব-নিকাশ বদলে গেছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশকে নতুন করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজন হচ্ছে। বিনিয়োগ-শিল্প স্থানান্তরিত হচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্যে চীনের প্রভাব বলয় এবং দেশটির বিভিন্নমূখী উৎপাদন ক্ষমতা লক্ষণীয়ভাবে বিস্তৃত হওয়ায় ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশকে জাতীয় স্বার্থ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সতর্কতার সাথে ভূকৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
আবদুল হক বলেন, বিভিন্নধর্মী গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার মধ্য দিয়ে বিশ্বের মোটরগাড়ি নির্মাণ এবং বিপণন শিল্পে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটছে। বিশ্বে মার্সিডিজ, বিএমডব্লিউ ইত্যাদি নামকরা গাড়ির বিক্রি কমে যাচ্ছে। ক্রেতাদের সামর্থ্য, পছন্দ ও চাহিদা পরিবর্তিত হচ্ছে। আবার বিশ্বজুড়ে পরিবেশ সচেতনতার প্রেক্ষাপটে জ¦ালানি সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ফসিল ফুয়েল ও হাইব্রিড গাড়ি থেকে ক্রমান্বয়ে বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের পথে অগ্রসর হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারও দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্প প্রসারে ‘ইলেকট্রিক ভেহিকেল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা ২০২৫’ প্রণয়ন করেছে।
তিনি মনে করেন, বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্পে তুলনামূলক অনেক কম শুল্ক-কর ধার্য্য করায় বারভিডা আমদানিকৃত হাইব্রিড গাড়ির সাথে প্রতিযোগিতায় পড়তে হবে। এ অবস্থায়, রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি বাণিজ্যে স্থানীয় বিনিয়োগ, ব্যাপক কর্মসংস্থান, ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পসমূহে বিনিয়োগ এবং সরকারের রাজস্ব কাঠামোয় রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি খাতের সার্বিক অবদানের প্রেক্ষিতে তিনি ভারসাম্য রক্ষা করে দেশের অটোমোবাইল শিল্পের জন্য সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান। বারভিডা প্রেসিডেন্ট আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সংগঠনে আধুনিক ও যুগোপযোগী জ্ঞানসম্পন্ন এবং অভিজ্ঞ নেতৃত্ব গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
বার্ষিক সাধারণ সভায় অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল রিয়াজ রহমান তার উপস্থাপিত ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে সংগঠনের গত ১ বছরের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমসমূহ তুলে ধরেন। সংগঠনের ট্রেজারার বারভিডার গত ১ বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব উপস্থাপন করেন। এছাড়াও সভায় বারভিডার আগামী অর্থবছরের বার্ষিক বাজেট অনুমোদন করা হয় এবং আগামী অর্থবছরের জন্য অডিটর নিয়োগ করা হয়।
সাধারণ সভার উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সদস্যবৃন্দ দেশের রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি খাত এবং সংগঠনের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতামত দেন। বারভিডাকে আরও গতিশীল, কার্যকর এবং যুগোপযোগী একটি বাণিজ্য সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে তারা সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সমর্থন দেন।
উল্লেখ্য, বারভিডা দেশের রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি ও বিপণন খাতের জাতীয়ভিত্তিক বাণিজ্য সংগঠন। সংগঠনটি গত তিন দশকেরও বেশী সময় ধরে দেশের পরিবহন খাতে গাড়ি সরবরাহে প্রায় ৮৫ শতাংশ অবদান রেখে আসছে।
এমকে
শিল্প-বাণিজ্য
ছয় প্রতিষ্ঠানকে একীভূত করার সিদ্ধান্ত সরকারের
দেশের ছয় প্রতিষ্ঠানকে একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এসব প্রতিষ্ঠান ব্যবসা ও বিনিয়োগের সাথে জড়িত। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক বিন হারুন এ তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রেস সচিব শফিকুল আলমও। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের চতুর্থ গভর্নিং বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে প্রধান উপদেষ্টা ও গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূস সভাপতিত্ব করেন।
একীভূত হতে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা), বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের অনেকগুলো ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন এজেন্সি আছে। ছয়টি ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন এজেন্সি ইনফ্যাক্ট আছে। এগুলো একীভূতকরণের একটা প্রপোজাল আগের গভর্নিং বোর্ডে গিয়েছিল। তারপর একটা উপদেষ্টা কমিটি করে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে বেশ কজন উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অ্যাটর্নি জেনারেল অনেকেই ছিলেন। উনারা সবাই মিলে একটা রেকমেন্ডেশন করেছেন যে, নীতিগতভাবে আমরা একীভূতকরণকে অনুমোদন করেছি।’
আশিক চৌধুরী বলেন, ‘একীভূতকরণ আমাদের এখন আপাতত ডিসিশন। আগামী সরকার এসে এটাকে ইমপ্লিমেন্ট করবে। একীভূতকরণটা কীভাবে হবে সেটার ব্যাপারেও একটা ইনিশিয়াল সিদ্ধান্ত হয়েছে যে একটা ইন্ডিপেন্ডেন্ট থার্ড পার্টি কনসালট্যান্টকে দিয়ে আমরা নতুন অর্গানাইজেশনের ডিজাইনটা করব, যাতে এই ছয়টি এজেন্সির কেউই কোনো এডিশনাল সুবিধা বা কোনো ধরনের আলাদা করে কোনো ধরনের ট্রিটমেন্ট না পান। তাই বাইরের একজন ইন্ডিপেন্ডেন্ট কনসালট্যান্ট এটা করে দেবেন।’
ছয় প্রতিষ্ঠান একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে জানিয়ে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ‘একীভূতকরণটা প্রাইমারিলি গভর্নমেন্ট ইজ এগ্রিড যে ভবিষ্যতে আসলে এসব এজেন্সি একটা এজেন্সিতে পরিণত হবে। এজেন্সিগুলো হলো বিডা, বেজা, বেপজা, হাই-টেক পার্ক অথরিটি, পিপিপি অথরিটি ও বিসিক। ছয়টি সংস্থাকে আমরা একীভূতকরণের কথা বলছি।’
কাফি
শিল্প-বাণিজ্য
১ ফেব্রুয়ারি থেকে সব টেক্সটাইল মিল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা
আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব টেক্সটাইল মিল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। দেশের সুতা উৎপাদনকারী মিলগুলোকে রক্ষায় সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় এ দিন্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিটিএমএ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এই ঘোষণা দেন। এ সময় সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিটিএমএ সভাপতি বলেন, ‘আগামী ১ তারিখ থেকেই ফ্যাক্টরি বন্ধ। আমরা বন্ধ তো করবই, ব্যাংকের টাকা ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা নেই।’
মালিকদের বর্তমান আর্থিক দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পুঁজি অর্ধেক হয়ে গেছে। ব্যাংকের টাকা পরিশোধের কোনো ব্যবস্থা নেই। সব সম্পত্তি বিক্রি করে দিলেও শোধ করা যাবে না।’
সমস্যা সমাধানে সরকারি দপ্তরে ঘুরেও কোনো সুরাহা পাননি বলে অভিযোগ করেন বিটিএমএ সভাপতি। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘সব মন্ত্রণালয়ের সব ডিপার্টমেন্টের কাছে গিয়েছি। তারা কেবল পিলো পাসিংয়ের মতো দায়িত্ব অন্যদের কাছে দিয়ে দিচ্ছে।’
কাফি
অর্থনীতি
৪৩ পণ্য ও সেবা রপ্তানিতে প্রণোদনার মেয়াদ বাড়লো
সরকার ৪৩টি পণ্য ও সেবা খাতে রপ্তানির বিপরীতে দেওয়া নগদ সহায়তা বা প্রণোদনার মেয়াদ আরও ছয় মাস, অর্থাৎ চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বাড়িয়েছে। ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পুরো সময়েই রপ্তানিকারকরা এই সুবিধা পাবেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এর আগে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসের জন্য প্রণোদনা কার্যকর ছিল। তবে রপ্তানি পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এবার এর মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হলো।
গত অর্থবছরের মতোই এবারও প্রণোদনার হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, খাতভেদে রপ্তানিকারকরা সর্বনিম্ন ০ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ সহায়তা পাবেন। মোট ৪৩টি পণ্য ও সেবা খাত এই প্রণোদনার আওতায় রয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নগদ সহায়তা গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে নিযুক্ত বহিঃনিরীক্ষক বা অডিট ফার্মের মাধ্যমে রপ্তানি সংক্রান্ত হিসাব নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে।
এছাড়া প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাক সুবিধার বিকল্প হিসেবে ১ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ইউরো অঞ্চলে রপ্তানিকারকদের জন্য বিদ্যমান সহায়তার সঙ্গে অতিরিক্ত ০ দশমিক ৫০ শতাংশ বিশেষ প্রণোদনাও বহাল থাকবে।
প্রজ্ঞাপন দেখতে ক্লিক করুন।
শিল্প-বাণিজ্য
যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি
গত বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ৭ দশমিক শূন্য ৮ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। স্থানীয় পোশাক প্রস্তুতকারকদের ভাষ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত পারস্পরিক শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগেই মার্কিন ক্রেতারা আগেভাগে বড় অঙ্কের পণ্য আমদানি করেন। ফলে বছরের শুরুতেই রপ্তানি স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। গত বছরের এপ্রিলের একটি অংশ থেকে পুরো জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ১০ শতাংশের একটি সাময়িক ন্যূনতম শুল্ক আরোপ করেছিল।
এটি আগে থেকেই কার্যকর প্রায় ১৬ শতাংশ শুল্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মোট শুল্কহারকে প্রায় ২৬ শতাংশে নিয়ে যায়। এরপর গত বছর ৭ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্র দেশগুলোর ওপর আরও বেশি হারে শুল্ক কার্যকর করে। তার আগের সময়টিতে মার্কিন ক্রেতারা সম্ভাব্য উচ্চ শুল্কের ঝুঁকি এড়াতে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি পণ্য আমদানি করেন।
রপ্তানিকারকরা জানান, এই আগাম চালানের প্রভাবেই জানুয়ারি-অক্টোবর সময়ে রপ্তানির পরিসংখ্যান স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি দেখাচ্ছে। তবে বছরের শেষ ভাগের প্রকৃত চিত্র এতে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। বাংলাদেশের জন্য শুরুতে গত বছরের এপ্রিলে ৩৫ শতাংশের কঠোর পারস্পরিক শুল্ক ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর তা সংশোধন করে ২০ শতাংশে নামানো হয়।
এই প্রবৃদ্ধি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক বাজার প্রায় স্থবির ছিল। মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের অধীন সংস্থা অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি-অক্টোবর সময়ে বিশ্ব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি বছরওয়ারি ভিত্তিতে শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ কমে ৬৬ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। তবে বাংলাদেশের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বেশ কয়েকটি প্রধান পোশাক রপ্তানিকারক দেশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে।
ভিয়েতনামের রপ্তানি ১১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১৪ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ভারতের রপ্তানি ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৪ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। পাকিস্তানের রপ্তানি ১২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ২ দশমিক শূন্য ২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি ১০ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার এবং কম্বোডিয়ার রপ্তানি ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৪ দশমিক শূন্য ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। চীন ছিল ব্যতিক্রম। যুক্তরাষ্ট্রে চীনের পোশাক রপ্তানি এই সময়ে ৩২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৯ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।
ওটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে বাংলাদেশের পোশাকের একক দাম (ইউনিট প্রাইস) সামান্য কমেছে। তীব্র প্রতিযোগিতা এবং মার্কিন খুচরা বিক্রেতাদের সতর্ক ক্রয়নীতির প্রতিফলন হিসেবেই এটিকে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাকের ইউনিট দাম কমেছে শূন্য দশমিক ৬৩ শতাংশ। ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে এটি শূন্য দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং চীনের ক্ষেত্রে ১০ দশমিক ৪৭ শতাংশ কমেছে। কম্বোডিয়ার দাম কমেছে ৭ দশমিক ২৬ শতাংশ, পাকিস্তানের ৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ার ২ দশমিক ৭২ শতাংশ। ভারতের ক্ষেত্রে চিত্রটা ভিন্ন। জানুয়ারি-অক্টোবর সময়ে দেশটির পোশাকের ইউনিট দাম ১ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেড়েছে।
রপ্তানিকারকরা জানান, বছরের শুরুতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি থাকলেও আগস্টের পর থেকে গতি কমতে শুরু করে। উচ্চ শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে চালান দুর্বল হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, জানুয়ারি-অক্টোবরের পরিসংখ্যান পুরো বছরের প্রকৃত প্রবণতা পুরোপুরি তুলে ধরছে না। তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে বছরের শুরুর দিকের মাসগুলোতে, যখন শুল্ক কার্যকরের আগেই দ্রুত চালান পাঠানো হয়েছিল। আগস্টের পর থেকে রপ্তানির গতি স্পষ্টভাবেই মন্থর।
তবে তিনি আশাবাদী যে, আগামী মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে। রাজনৈতিক উত্তাপ কমলে আন্তর্জাতিক ক্রেতারাও পূর্ণাঙ্গ অর্ডার দিতে আগ্রহী হবেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা বিক্রি নভেম্বরে বছরওয়ারি ভিত্তিতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। ন্যাশনাল রিটেইল ফেডারেশন (এনআরএফ) জানিয়েছে, ছুটির মৌসুমের শুরুতেই ভালো বিক্রির কারণে ২০২৫ সালের ব্যয়সংক্রান্ত পূর্বাভাস পূরণের পথে রয়েছে বাজার। এর ফলে বাজারে থাকা পোশাকপণ্যের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা নতুন অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন ক্রেতাদের উৎসাহিত করতে পারে।
এনআরএফের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাথিউ শে বলেন, নভেম্বরে খুচরা বিক্রিতে বছরওয়ারি ভিত্তিতে ভালো প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, যদিও মাসওয়ারি হিসেবে বিক্রি প্রায় স্থির ছিল। বড় পোশাক উৎপাদনকারী দেশগুলোর জন্য, বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশের ক্ষেত্রে এটি রপ্তানির জন্য ইতিবাচক খবর। আরও বলেন, অনলাইনে ছাড়ের অপেক্ষায় থাকা ক্রেতারা সাইবার মানডে পর্যন্ত কেনাকাটা কিছুটা পিছিয়ে দিতে পারেন। কারণ, এ বছর থ্যাংকসগিভিং উৎসব দেরিতে হওয়ায় সাইবার মানডে ডিসেম্বর মাসে পড়েছে। তিনি বলেন, ভোক্তারা দামের ব্যাপারে সচেতন এবং ছুটির মৌসুমে হিসাব করে ব্যয় করছেন। খুচরা বিক্রেতারাও সব বাজেটের জন্য প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য দিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের ছুটির মৌসুমের পূর্বাভাস এবং পুরো বছরের খুচরা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী।
এমকে
অর্থনীতি
রপ্তানি ডকুমেন্ট অনলাইনে জমার অনুমতি দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক
রপ্তানি কার্যক্রম আরও সহজ, দ্রুত ও আধুনিক করতে ডকুমেন্টারি কালেকশন ব্যবস্থার আওতায় রপ্তানি ডকুমেন্ট অনলাইনে জমা ও প্রক্রিয়াকরণের অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে ব্যাংকের মাধ্যমে রপ্তানি সংক্রান্ত কাজগুলো এখন ডিজিটালভাবে সম্পন্ন করা যাবে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ও নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, ট্রেড ফাইন্যান্স ব্যবস্থাকে আধুনিক করা এবং রফতানি কার্যক্রমে গতি আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের চলমান ডিজিটাল কার্যক্রমের সঙ্গে রফতানি প্রক্রিয়াকে সমন্বয় করাও এর লক্ষ্য।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো ইউনিফর্ম রুলস ফর কালেকশন (ইউআরসি) এবং এর ইলেকট্রনিক প্রেজেন্টেশন সংক্রান্ত সম্পূরক ই-ইউআরসি অনুসরণ করে ডকুমেন্ট এগেইনস্ট পেমেন্ট (ডিপি) ও ডকুমেন্ট এগেইনস্ট অ্যাকসেপ্টেন্স (ডিএ)—উভয় ক্ষেত্রেই নিরাপদ ব্যাংক-টু-ব্যাংক ইলেকট্রনিক চ্যানেলের মাধ্যমে রফতানি ডকুমেন্ট প্রক্রিয়াকরণ করতে পারবে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়, ইলেকট্রনিক প্রক্রিয়াকরণ স্থানীয় ও বিদেশি ব্যাংকের পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে করা যাবে। এ ক্ষেত্রে ডকুমেন্টের ফরম্যাট ও উপস্থাপনের স্থান নির্ধারণসহ বিক্রয় চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে যে ডকুমেন্টারি কালেকশন ই-ইউআরসি কাঠামোর আওতায় ইলেকট্রনিকভাবে পরিচালিত হবে।
আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য হলে ইলেকট্রনিক ট্রান্সফারেবল রেকর্ডসের মাধ্যমে সব ডকুমেন্ট ইলেকট্রনিকভাবে উপস্থাপন করা যাবে। তবে যেখানে এ ধরনের রেকর্ডস গ্রহণযোগ্য নয়, সেখানে টাইটেল ও হস্তান্তরযোগ্য ডকুমেন্ট ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পাঠাতে হবে; অন্য নথিগুলো ইলেকট্রনিকভাবে পাঠানো যাবে। প্রয়োজনে ব্যাংকগুলো প্রত্যয়িত ইলেকট্রনিক কপিও সরবরাহ করতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক স্বীকৃত ইলেকট্রনিক প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল স্বাক্ষর, ডিজিটাল সাউন্ড অ্যান্ডোর্সমেন্ট সার্টিফিকেট বা সুইফট বার্তার মাধ্যমে টাইটেল ডকুমেন্টের ডিজিটাল অ্যান্ডোর্সমেন্টেরও অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এডি ব্যাংকগুলোকে নিরাপদ ট্রান্সমিশন, সঠিক রেকর্ড সংরক্ষণ এবং ডিজিটাল স্বাক্ষর যাচাই নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
এব্যবস্থা পর্যায়ক্রমিক ও ঝুঁকিভিত্তিক পদ্ধতিতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালু করা যাবে। পাইলট কার্যক্রম শুরু হলে তা বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে হবে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এ উদ্যোগ রপ্তানি প্রক্রিয়ার দক্ষতা বাড়াবে এবং বাংলাদেশকে আরও ডিজিটাল ও নিরাপদ ট্রেড ফাইন্যান্স ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।




