অর্থনীতি
৯২৫ কোটি টাকায় সার কিনবে সরকার
শিল্প ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, মরক্কো ও কাফকো থেকে এক লাখ ৭০ হাজার টন সার কিনবে সরকার। এতে মোট ব্যয় হবে ৯২৫ কোটি ০৯ লাখ ১৯ হাজার ৮২০ টাকা। এরমধ্যে এক লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার এবং ৬০ হাজার টন টিএসপি সার রয়েছে।
রোববার (০৯ নভেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি এবং অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের কাছ থেকে দ্বিতীয় লটের ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্রানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এই সার আনতে ব্যয় হবে ১৯৫ কোটি ৪৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩২০ টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম পড়বে ৩৯৯.১৭ মার্কিন ডলার।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অপর এক প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য সৌদি আরবের সাবিক কৃষি-পুষ্টি কোম্পানির কাছ থেকে ৭ম লটের ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
সৌদি আরব থেকে এই সার আনতে ব্যয় হবে ১৯০ কোটি ৯৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম পড়বে ৩৯০.০০ মার্কিন ডলার।
আরেক প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশ-এর কাছ থেকে ৮ম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
কাফকো থেকে ১৩৯ কোটি ৬৯ লাখ ৩৯ হাজার ৫০০ টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম পড়বে ৩৭৯.৫০ মার্কিন ডলার।
এদিকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ১১তম লটের ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
মরক্কো থেকে এই সার আনতে ব্যয় হবে ১৯৯ কোটু ৫১ লাখ ০২ হাজার টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম পড়বে ৫৪২.০০ মার্কিন ডলার।
এ ছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ১২তম লটের ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
মরক্কো থেকে এই সার আমদানিতে ১৯৯ কোটি ৫১ লাখ ০২ হাজার টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম পড়বে ৫৪২.০০ মার্কিন ডলার।
অর্থনীতি
আবারও দাম বেড়ে স্বর্ণ-রুপা বিক্রি হচ্ছে নতুন দরে, কোনটির ভরি কত?
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরও এক দফা বাড়ানো হয়েছে। সব রেকর্ড ভেঙে এবার ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭৪ হাজার ১০৪ টাকা। এবার ভরিতে মূল্যবান ধাতুটির দাম বাড়ানো হয়েছে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা। একই সঙ্গে রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
সোমবার (২ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্বর্ণ ও রুপার নতুন দর ঘোষণা করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ ও রুপার (পিওর গোল্ড ও সিলভার) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণ ও রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ৭৪ হাজার ১০৪ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৬১ হাজার ৬৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ২৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৩৩ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
এদিকে, বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানায়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।
এর আগে, সবশেষ ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬৮ হাজার ৬৮০ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৬ হাজার ৪৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮৫৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল ১ মার্চ থেকে।
এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৩৫ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ২৩ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ১২ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।
স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সঙ্গে এবার বাড়ানো রয়েছে রুপার দামও। ভরিতে ১৭৫ টাকা বেড়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৭ হাজার ১৭৩ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৮৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৮৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৪৩২ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ২১ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। যেখানে দাম ১৪ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে বাকি ৭ দফা। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার, আর কমেছিল মাত্র ৩ বার।
এমএন
অর্থনীতি
আইডিআরএর চেয়ারম্যান আসলাম আলমের পদত্যাগ
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলম পদত্যাগ করেছেন। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।
সোমবার (২ মার্চ) আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ব্যক্তিগত কারণে তিনি চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
এমএন
অর্থনীতি
কেয়া কসমেটিকসের ৮৫৫২ কোটি টাকা উধাও, এফআরসির কাঠগড়ায় চার ব্যাংক
কেয়া কসমেটিকস লিমিটেডের ৬৬ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ৮,৫৫২ কোটি টাকা) রপ্তানি আয় কোম্পানির বৈদেশিক মুদ্রার অ্যাকাউন্টে (এফসি) জমা না হওয়ার ঘটনা দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে নিরীক্ষা ফার্ম নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, তার রিপোর্টের ভিত্তিতে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তে কেয়া কসমেটিকসকে পরবর্তী নির্দেশনা দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি অবহিত করে চিঠি দেওয়া হয় অভিযুক্ত চার ব্যাংক-সাউথইস্ট ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ন্যাশনাল ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসারকে (সিএফও)।
সম্প্রতি ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) এই ঘটনা দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১২ আগস্ট দৈনিক যুগান্তরে ‘২০ বছরেও রপ্তানি আয়ের অর্থ মেলেনি এফসি অ্যাকাউন্টে, কেয়া গ্রুপের ৮ হাজার কোটি টাকা উধাও’ শীর্ষক শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ওই রিপোর্ট আমলে নিয়েই এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয় এফআরসি।
এফআরসি মূলত সরকারি, আধাসরকারি এবং তালিকাভুক্ত বেসরকারি কোম্পানির আর্থিক দুর্নীতি, নিরীক্ষা ও আর্থিক প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা ও মানদণ্ড নিশ্চিত করতে কাজ করে।
জানা যায়, যুগান্তরের রিপোর্টের সূত্র ধরে অভিযুক্ত চার ব্যাংক, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিএসইসি ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান কেয়া কসমেটিকসকে তলব করে এফআরসি। সেখানে প্রকৃত ঘটনার অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্টদের জবাব গ্রহণ করা হয়। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিএসইসিকে উল্লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এদিকে এফআরসি নির্দেশনা দিলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে ধীরগতিতে পথ চলছে। বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি এগোচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠছে।
কেয়া কসমেটিকসের বিষয়ে এফআরসির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি বাংলাদেশ ব্যাংক অবহিত করেছে কি না জানতে চাইলে এফআরসির চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেন ভুইয়া যুগান্তরকে জানান, এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি আমাকে জানানো হয়নি। তবে অগ্রগতি এফআরসিকে নয়, কেয়া কসমেটিকসকে অবহিত করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তিনি বলেন, কেয়ার বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আমরা বলে দিয়েছি। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নিতে হবে।
এফআরসির নির্বাহী পরিচালক (আর্থিক প্রতিবেদন পরিবীক্ষণ বিভাগ) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কেয়া কসমেটিকসের উত্থাপিত বিষয়টি সম্পর্কে অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য যেসব তথ্য-উপাত্ত প্রয়োজন, সেগুলো কেবল বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছেই রয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকই যথোপযুক্ত একটি সমাধান বা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে।
জানতে চাইলে কেয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক পাঠান বলেন, আমার ৬৬ কোটি ডলার এফসি অ্যাকাউন্টে জমা না হওয়ার বিষয়ে এফআরসি যে নির্দেশনা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দিয়েছে, তা জানতে পেরেছি। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক কতটুকু তদন্ত করছে, আদৌ তদন্ত হচ্ছে কি না-এ সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। আমাকেও ডাকা হয়নি। তিনি বলেন, ব্যাংক যদি কোনো অর্থ পাওনা থাকে, তা সমন্বয় করতে পারে। কিন্তু এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইন অনুযায়ী আমার বৈদেশিক মুদ্রার আয় এফসি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করতে হবে। সেটি না করায় বিপুল অঙ্কের অর্থের কোনো অস্তিত্ব আমার হিসাবে নেই।
এদিকে এফআরসিতে কেয়া গ্রুপের অভিযোগে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে ডলার তছরুপের অভিযোগ করার কারণে কেয়া কসমেটিকসের আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। যদিও ব্যাংকগুলোয় যথেষ্ট পরিমাণ সম্পত্তি বন্ধক আছে। এর ফলে কোম্পানি প্রতিমাসে ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় বঞ্চিত হচ্ছে। ১৫ হাজার শ্রমিক ও কর্মচারী, এক হাজার (বাক ও শ্রবণ) প্রতিবন্ধীর কর্মসংস্থান হুমকির মধ্যে পড়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৫০ হাজার শেয়ারহোল্ডার তাদের বিনিয়োগে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। দেশের অর্থনীতি ও কোম্পানির স্বার্থে অভিযোগটি দ্রুত নিষ্পত্তি করা দরকার।
সূত্রমতে, বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে সম্প্রতি অভিযুক্ত চার ব্যাংক, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিএসইসি এবং কেয়া গ্রুপকে নিয়ে একটি বৈঠক করেছে এফআরসি। সেখানে সভাপতিত্ব করেন এফআরসির চেয়ারম্যান। বৈঠকে কেয়া গ্রুপের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট চারটি ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলার (এফইপিডি-এএমডিএএনআইএনআইটিআই ১১৭/২০১৭/১২) অমান্য করে আমাদের রপ্তানির ৬৬ কোটি মার্কিন ডলার এফসি হিসাবে জমা করেনি। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক, কাস্টমস, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক এবং রপ্তানিকারকের সঙ্গে ডলারের গরমিল থেকেই যাবে, যা আমার কোম্পানি, দেশ ও জাতির জন্য হুমকিস্বরূপ।
সেখানে সাইথইস্ট ব্যাংক প্রসঙ্গে বলা হয়, রপ্তানি বাবদ আদায়কৃত ১০৬৪.০৭ মিলিয়ন ডলার থেকে ৬৫৯.৫৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কেয়া কসমেটিকসের এফসি অ্যাকাউন্টে জমা করলেও ৪০৪.৮১ মিলিয়ন ডলার জমা করেনি। কিন্তু সেটি লোকাল মার্জিনাল অ্যাকাউন্টে জমা করে। অপরদিকে এফসি হিসাবে জমাকৃত ৬৫৯.৫৬ মিলিয়ন ডলার থেকে ৪০৩.০৪ মিলিয়ন ডলার ব্যাংক পুনরায় ডেবিট করেছে।
বৈঠকে উপস্থিত সাউথইস্ট ব্যাংকের সিনিয়র সহসভাপতি কামরুজ্জামান বলেন, কেয়া কসমেটিকসকে যে পরিমাণ টাকা ঋণ দেওয়া হয়, ঠিক সেই পরিমাণ টাকা ডেবিট করা হয়েছে। এখানে ঋণের সুদ ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ ডেবিট করা হয়নি।
এ সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ অপারেশন ডিপার্টমেন্টের যুগ্মপরিচালক মোহন কুমার সাহা জানতে চান, রপ্তানি আয় থেকে কি ঋণের পরিমাণ বেশি ছিল। জবাবে কামরুজ্জামান বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঋণের পরিমাণ বেশি ছিল। তবে দীর্ঘসময় ধরে বিল অনিষ্পন্ন থাকায় এমনটি হতে পারে। সাধারণত এ ধরনের পরিস্থিতি হয় না বললেই চলে।
এফআরসির চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন ভুইয়া সাউথইস্ট ব্যাংকের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, রপ্তানি বাবদ আদায়কৃত ১০৬৪.০৭ মিলিয়ন ডলারের সঙ্গে আপনাদের প্রদত্ত ঋণ যোগ করলে আমরা কেয়া কসমেটিকসের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ জানতে পারি। পরবর্তী সময়ে জমা অর্থ থেকে রপ্তানি আয়ের অর্থ বাদ যাবে বা ব্যাংক ডেবিট করবে। এ বিষয়ে কি কোনো অনিয়ম বা ত্রুটি ব্যাংক করছে কি না। এর জবাবে কামরুজ্জামান বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম বা ত্রুটি হয়নি।
বৈঠকে আরও বলা হয়, ২০০৭-২০১৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, পূবালী ব্যাংকে ২০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় আসে কেয়া কসমেটিকসের। কিন্তু ২০১ মিলিয়ন ডলার এফসি অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়নি।
পূবালী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতানা সারিফুন নাহার জবাবে বলেন, কেয়া কসমেটিকসের সংশ্লিষ্ট দৈনিক লেনদেন বিশেষ নিরীক্ষার জন্য নিরীক্ষা ফার্মকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিরীক্ষা চলাকালীন ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত তথ্যে কোনো প্রকার অসংগতি বা হিসাবনিকাশের অমিল পরিলক্ষিত হয়নি।
বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়, ন্যাশনাল ব্যাংকের মাধ্যমে ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি হয়েছে, সে অর্থ আদায়ও হয়েছে। কিন্তু কেয়া কসমেটিকস পেয়েছে ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, অবশিষ্ট ৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এফসি অ্যাকাউন্টে জমা হয়নি।
এ বিষয়ে ন্যাশনাল ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রহিম বলেন, রপ্তানি করেছে ৩০ মিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে রিয়ালাইজড হয় ২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
জানা যায়, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের মাধ্যমে ২০০৮-২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ৬৫ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করলেও এফসি অ্যাকাউন্টে জমা দেয়নি। জবাবে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, কেয়া কসমেটিকসের আমাদের সব ব্যাংকেরই একই অবস্থা। ইতোমধ্যে অন্য ৩টি ব্যাংক থেকে যা শুনলেন, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ক্ষেত্রেও একই অবস্থান।
বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা পরিচালনা বিভাগের যুগ্মপরিচালক মোহন কুমার সাহা বলেন, কেয়া কসমেটিকসের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে আমার ডিপার্টমেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। অভিযোগটি নিষ্পত্তি করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিস ডিপার্টমেন্টের (এফআইসিএসডি) সংশ্লিষ্টতা একান্ত আবশ্যক।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চিফ অ্যাকাউন্ট অফিসার কামরুল আনাম খান বলেন, এ বিষয়ে বিশেষ নিরীক্ষার জন্য নিরীক্ষা ফার্ম নিয়োগ দিয়েছে বিএসইসি। এর নিরীক্ষা প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মতামত দেওয়া হবে।
সূত্র: যুগান্তর
এমএন
অর্থনীতি
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে বাড়ল তেলের দাম, শেয়ারবাজারে ধস
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে, আর শেয়ারবাজারে ধস নেমেছে। বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ডলার ও স্বর্ণে বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন। রয়টার্সের খবরে বলা হয়, যুদ্ধের কারণে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪.৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৬.০৭ ডলারে পৌঁছায় (একপর্যায়ে ৮২ ডলার ছাড়ায়), আর মার্কিন ক্রুড ৩.৯ শতাংশ বেড়ে ৬৯.৫৯ ডলারে দাঁড়ায়। স্বর্ণের দামও ১ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫,৩২৭ ডলারে ওঠে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলা এবং এর জবাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেইলি মেইলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন, সংঘাত আরও চার সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিশ্ববাজারের নজর এখন হরমুজ প্রণালির দিকে। কারণ, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ২০ শতাংশ যাতায়াত করে। এখনো পথটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ না হলেও, জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির এবং বিমা জটিলতা ও নিরাপত্তা শঙ্কায় ট্যাংকারগুলো দুই প্রান্তে আটকে আছে বলে জানা গেছে।
রাইস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক জর্জ লিওনের মতে, প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে পৌঁছাতে পারছে না। দ্রুত উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত না এলে তেলের দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বমুখী পুনর্মূল্যায়ন হতে পারে।
এদিকে, ওপেক প্লাস এপ্রিলের জন্য প্রতিদিন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সেই তেল নিরাপদে রপ্তানি করা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিশ্লেষকরা ১৯৭০-এর দশকের তেল নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করছেন, যা সে সময় তেলের দাম প্রায় ৩০০ শতাংশ বাড়িয়েছিল।
তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ১.৪ শতাংশ কমেছে, যেখানে এয়ারলাইন্স খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। অন্যদিকে চীনের ব্লু-চিপ সূচক সিএসআই ৩০০ স্থিতিশীল ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম দীর্ঘসময় ঊর্ধ্বমুখী থাকলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি আবারও বাড়তে পারে এবং ব্যবসা ও ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শ্লথ করে দিতে পারে।
এমএন
অর্থনীতি
দুই মাসেই ৩৪ বার সমন্বয়: কত বাড়ল স্বর্ণের দাম, কেন এই অস্থিরতা?
চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশের স্বর্ণের বাজারে চলছে নজিরবিহীন অস্থিরতা। এতে চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) মূল্যবান এই ধাতুর দাম মোট ৩৪ বার সমন্বয় করা হয়েছে। দফায় দফায় উত্থান-পতনের মধ্যে গত দুই মাসে স্বর্ণের দাম বেড়েছে ৪৪ হাজার ৪৯৮ টাকা।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ৩৪ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে স্বর্ণের দাম বেড়েছে ২২ বার এবং কমেছে ১২ বার। যা আগের বছরের একই সময়ে স্বর্ণের দাম ১০ বার সমন্বয় করা হয়েছিল।
চলতি বছর শুরু হয়েছিল স্বর্ণের দাম পতানের মধ্য দিয়ে। ১ জানুয়ারি ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা। এরপর ৪ ও ৫ জানুয়ারি টানা ২ দফা বাড়ানো হয় স্বর্ণের দাম। এরপর ৮ জানুয়ারি দাম কমিয়ে মূল্যবান এই ধাতুর দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৬ টাকা।
তবে এরপরই স্বর্ণের বাজারে দেখা দেয় টানা উত্থান। ১০, ১২, ১৪, ১৯, ২০ ও ২১ জানুয়ারি টানা ৬ দফা বাড়ানো হয় দাম। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম গিয়ে ঠেকে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকা। এর মধ্যে ১২, ১৪, ১৯, ২০ ও ২১ দাম বেড়ে প্রতিবারই দেশে সর্বোচ্চে পৌঁছায়।
গত ২২ জানুয়ারি ভরিতে ৩ হাজার ১৪৯ টাকা কমিয়ে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৪৯ হাজার ৩১৮ টাকা। তারপর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে গত ২৩ জানুয়ারি ৬ হাজার ২৯৯ টাকা বাড়িয়ে স্বর্ণের দাম দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
ফের ২৫, ২৬, ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি টানা বাড়ানো হয় মূল্যবান এই ধাতুর দাম। প্রতিবারই তৈরি হয় নতুন রেকর্ড। গত ২৯ জানুয়ারি রেকর্ড ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকা।
এরপরই ঘটে ছন্দপতন। গত ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি টানা ২ দফায় মূল্যবান এই ধাতুর দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাজুস। টানা দুই দিনে যথাক্রমে ভরিতে ১৪ হাজার ৬৩৮ টাকা ও ১৫ হাজার ৭৪৬ টাকা কমানো হয়। এতে দুই দিনে মোট ৩০ হাজার ৩৮৪ টাকা কমে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকায়।
তবে ৩১ জানুয়ারি সকালে দাম কমানোর ১২ ঘণ্টা পার না হতেই ফের দেশের বাজারে বাড়ানো হয় মূল্যবান এই ধাতুর দাম। ভরিতল ৪ হাজার ৮২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৯ টাকা।
ফেব্রুয়ারি মাসজুড়েও চলেছে স্বর্ণের উত্থান-পতন। এই মাসে মূল্যবান এই ধাতুর দাম সমন্বয় করা হয়েছে মোট ১৫ বার। যেখানে বেড়েছে ৮ বার, আর কমেছে ৭ বার।
গত ১ থেকে ২ ফেব্রুয়ারি টানা ৩ দফায় মূল্যবান এই ধাতুর দাম কমানো হয় ১৩ হাজার ৯৩৯ টাকা। তবে ৩ ফেব্রুয়ারি একদিনেই ২ দফা সমন্বয়ে দাম বাড়ানো হয় মোট ১৬ হাজার ৩৩০ টাকা। দাম গিয়ে ঠেকে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকায়।
এরপর গত ৬ ফেব্রুয়ারি ভরিতে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমানোর পর দিনই ফের ভরিতে বাড়ানো হয় ৭ হাজার ৬৪০ টাকা। ৭ ফেব্রুয়ারিই আবার ভরিতে কমানো হয় ৩ হাজার ২৬৬ টাকা। একদিন বিরতি দিয়ে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা।
গত ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি টানা ২ দফায় কমানো হয় ৫ হাজার ৪৮২ টাকা। তবে এরপর গত ২১, ২৩ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি টানা ৪ দফায় স্বর্ণের দাম মোট বাড়ানো হয়েছে ১৩ হাজার ১২২ টাকা।
সবশেষ নির্ধারিত অর্থাৎ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে সমন্বয় করা দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৬৮০ টাকা।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৬ হাজার ৪৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮৫৯ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
কেন এই অস্থিরতা?
বাজুস জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে দাম ওঠা-নামা করলে এর প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। তাই দেশেও দাম সমন্বয়ের প্রয়োজন পড়ে।
সম্প্রতি বাজুস সভাপতি এনামুল হক খান বলেন, স্বর্ণের বাজারের অস্থিরতার জন্য বাজুস বা বাংলাদেশের কোনো ব্যক্তি দায়ী নয়। মূলত বিদেশে স্টক করা বা কাগজে কলমে লেনদেনের কারণে এই ওঠা-নামা ঘটছে। বাজুস শুধু দেশের বাজারে দাম সমন্বয় করে।
তিনি আরও বলেন, দাম সমন্বয়ের মূল উদ্দেশ হলো পাচার রোধ করা এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষতি না হওয়া। যদি দাম সমন্বয় না করা হয়, দেশে দাম কম থাকলে স্বর্ণ পাচার হয়ে যাবে। তাই বিশ্ববাজারে ওঠানামার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাজারেরও দাম সমন্বয় করা হয়।
বাজুস সভাপতি জানিয়েছেন, বর্তমানে মানুষ স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে গ্রহণ করছে। তবে পৃথিবীর বাজারে বিক্রিত স্বর্ণের অনেকাংশই কাগজে কলমের মাধ্যমে (পেপার ট্রেডিং) মজুত করা হয়। বাস্তবে কতটা ফিজিক্যাল স্বর্ণ রয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
এমএন




