অর্থনীতি
মার্কিন শুল্ক সুবিধা পেতে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান বিজিএমইএর
যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে নতুনভাবে আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক থেকে আনুপাতিক ছাড় পাওয়ার বিষয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় স্পষ্টীকরণ আনতে এবং তা বিজিএমইএকে সরবরাহ করার দাবি জানিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হলে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা বিলম্ব ছাড়াই শুল্ক সুবিধা গ্রহণের প্রস্তুতি নিতে পারবেন।
পাশাপাশি বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক কারখানাগুলোর দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া ও অপচয় হ্রাসে গবেষণা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতায় মার্কিন তুলা রপ্তানিকারকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বিজিএমইএ।
বাংলাদেশ-মার্কিন বস্ত্র ও পোশাক শিল্পে সহযোগিতা বাড়াতে মার্কিন তুলা রপ্তানিকারকদের প্রতিনিধিদল ও বিজিএমইএর বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রসারে গুরুত্বারোপ করে এ দাবি জানানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের তুলা রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান কটন ইউএসএ এর উদ্যোগে মার্কিন তুলা রপ্তানিকারকদের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) উত্তরা বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন।
বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, মার্কিন তুলার ব্যবহার সম্প্রসারণ, এবং বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে নবঘোষিত শুল্ক সুবিধা কাজে লাগানো।
বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন ইকম-এর লি ইন, কারগিল-এর ক্রিস্টা রিকম্যান, এলডিসি-এর ডিয়েগো লোজাদা, ওলাম এগ্রি-এর ওয়েসলি রেন্টজ, ক্যারোলিনা কটন গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর ওয়েন বোসম্যান, স্ট্যাপলকটন কো-অপারেটিভ-এর ক্রিস জোন্স এবং কটন কাউন্সিল ইন্টারন্যাশনাল-এর উইল বেটেনডর্ফ ও আলী আরসালান।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশ নেন সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান ও পরিচালক নাফিস-উদ-দৌলা।
আলোচনায় বাংলাদেশের পোশাক খাতে মার্কিন তুলা সরবরাহের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। মূল ফোকাস ছিল সম্প্রতি ঘোষিত মার্কিন নির্বাহী আদেশ, যেখানে পোশাক উৎপাদনে ন্যূনতম ২০% মার্কিন কাঁচামাল ব্যবহার করা হলে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে নতুন আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক থেকে আনুপাতিক ছাড় পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, এই নতুন শুল্ক ছাড়ের সুযোগ আমাদের শিল্পখাতের জন্য এক বিশাল সম্ভাবনা এনে দিয়েছে, যা আমাদের পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।
তবে তিনি উল্লেখ করেন, এই সুবিধা বাংলাদেশের স্পিনার ও পোশাক কারখানাগুলো কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লাভ করবে, সে বিষয়ে এখনো বিজিএমইএ’র কাছে সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই।
বিজিএমইএ সভাপতি মার্কিন প্রতিনিধিদলকে অনুরোধ জানান, যেন তারা মার্কিন প্রশাসনের কাছ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় স্পষ্টীকরণ এনে বিজিএমইএকে সরবরাহ করেন। এতে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা বিলম্ব না করে শুল্ক সুবিধা গ্রহণের লক্ষ্যে অবিলম্বে প্রস্তুতি নিতে পারবেন।
মাহমুদ হাসান খান আরও বলেন, বর্তমানে আমদানিকৃত তুলার প্রায় ১০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসে, যা দ্বিগুণ বা তিনগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা সম্ভব। তবে এজন্য প্রয়োজন দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ও সুচিন্তিত কৌশলগত পদক্ষেপ।
তিনি মত প্রকাশ করেন যে, মার্কিন তুলার উচ্চগুণগত মান ও তুলনামূলক সুবিধা নিয়ে বিশদ গবেষণা করে স্পিনার ও কারখানাগুলোকে তথ্য সরবরাহ করা হলে তারা আমদানি বাড়াতে উৎসাহিত হবেন।
মার্কিন প্রতিনিধিদল বিজিএমইএ সভাপতির এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে এ বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
প্রতিনিধিদল বৈঠকে উল্লেখ করে যে, বাংলাদেশে তুলা রপ্তানির ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ডকুমেন্টেশন প্রস্তুতের কিছু ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা ও জটিলতা দেখা দিচ্ছে। তারা এই সমস্যা সমাধানে বিজিএমইএর সহযোগিতা কামনা করেন।
এর প্রেক্ষিতে বিজিএমইএ সভাপতি প্রতিনিধিদলকে অনুরোধ জানান নির্দিষ্ট বিষয়গুলো লিখিত আকারে বিজিএমইএ’কে অবহিত করতে। তিনি আশ্বাস দেন, বিজিএমইএ বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যথাযথভাবে উপস্থাপন করবে, যাতে দ্রুত এই জটিলতাগুলোর নিরসন করা যায়।
বৈঠকে কটন কাউন্সিল ইন্টারন্যাশনারের প্রতিনিধিরা বলেন, বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্প বিশ্ববাজারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন তুলা তার টেকসই গুণাবলী, নির্ভরযোগ্যতা ও উচ্চমানের জন্য সুপরিচিত।
তারা বলেন, আমরা বিশ্বাস করি মার্কিন তুলা ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকরা তাদের পণ্যের মান আরও উন্নত করতে পারবে এবং মার্কিন বাজারে শুল্ক সুবিধা কাজে লাগিয়ে নিজেদের ব্যবসা সম্প্রসারিত করতে পারবে।
বৈঠকে বাংলাদেশের বাজারে মার্কিন তুলা সরবরাহ আরও সহজ ও দ্রুত করতে লজিস্টিক ও অবকাঠামো উন্নয়নের উপায় নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি তরান্বিত করার লক্ষ্যে একটি ওয়্যারহাউজ স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করা হয়, যা বাস্তবায়িত হলে শিল্পের লিড টাইম কমবে।
উভয় পক্ষ নতুন শুল্কনীতি ও মার্কিন কাঁচামাল ব্যবহারের পরিমাপ পদ্ধতি সম্পর্কে স্বচ্ছতা ও ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত করতে যৌথভাবে কাজ করতে সম্মত হয়।
বিজিএমইএর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক কারখানাগুলোর দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার জন্য মার্কিন তুলা রপ্তানিকারকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।
একই সঙ্গে বিজিএমইএ ইনোভেশন সেন্টারে মিলগুলোর উৎপাদন বৃদ্ধি ও অপচয় হ্রাসে গবেষণা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা ও জ্ঞান প্রদানের আহ্বান জানানো হয়।
উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অর্থনীতি
বিশ্ববাজারে ৪ মাসের মধ্যে সোনার দামে সবচেয়ে বড় পতন
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাব ইতিমধ্যে বিশ্ববাজারে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে বড় পতন দেখা গেছে। এক দিনেই ২ শতাংশের বেশি কমে এটি প্রায় চার মাসের সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছেছে। সংঘাতের বিস্তার, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং বৈশ্বিক সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনাই এই ধসের প্রধান কারণ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার (২৩ মার্চ) স্পট গোল্ডের দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৩৭২ দশমিক ৮৬ ডলারে নেমে এসেছে। টানা নবম দিনের মতো এ ধাতুর দরপতন অব্যাহত রয়েছে। গত সপ্তাহেই স্বর্ণের দাম ১০ শতাংশের বেশি কমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বেড়েছে।
এর প্রেক্ষাপটে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও জোরালো হয়েছে। এ পদক্ষেপ সাধারণত সোনার মতো বিনিয়োগকে কম আকর্ষণীয় করে তোলে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান জানিয়েছে, এমন কোনো হামলা হলে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করবে।
একই প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে, যা মূল্যস্ফীতির চাপ আরো বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে সোনারবাজারে অস্থিরতা আরো বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, এই প্রভাব পড়েছে অন্যান্য ধাতুতেও। স্পট রুপার দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৫ দশমিক ৬১ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৬৬ দশমিক ৬৫ ডলার, আর প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৯৭ দশমিক ২৫ ডলারে নেমেছে।
অর্থনীতি
যুদ্ধ দীর্ঘ হলে দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়বে : অর্থমন্ত্রী
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়বে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ রবিবার সকালে চট্টগ্রামে নিজ বাসভবনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘সামনে নতুন বাজেট আসছে। সরকার নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের মতো জনবান্ধব কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।’
অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যুদ্ধ পরিস্থিতি বাংলাদেশের হাতে নেই। অর্থনৈতিক সংকট চললেও সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। তবে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সবাইকে সংযমী হতে হবে।’
এ সময় মন্ত্রীর বাড়িতে ভিড় করে হাজার হাজার নেতাকর্মী, প্রশাসনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অর্থনীতি
অনলাইন রিটার্ন জমা দিতে না পারলে সময় বাড়াবেন যেভাবে
কোনো কারণে ৩১ মার্চের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে পারলেন না। সময় বাড়ানোর সুযোগ আছে। সময় বাড়ানোর জন্য এবার অনলাইনে আবেদন করতে হবে। অনলাইনে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সময় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ৪১ লাখ করদাতা আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন। আর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ই–রিটার্ন সিস্টেমে প্রায় ৫০ লাখ করদাতা নিবন্ধন নিয়েছেন। বর্তমানে ১ কোটি ২০ লাখের মতো কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) আছেন।
৩১ মার্চ পর্যন্ত ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা তাদের সারা বছরের আয়–ব্যয়ের খরচ জানিয়ে আয়কর রিটার্ন দিতে পারবেন। চলতি বছরে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সব করদাতার অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
রিটার্ন জমার জন্য সময় বৃদ্ধির আবেদন এবং অতিরিক্ত সময়ের অনুমোদনের কাজটি সহজ করতে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য অনলাইন সিস্টেম চালু করা হয়েছে। করদাতারা এখন সহজেই এনবিআরের ওয়েবসাইটে গিয়ে ই-রিটার্ন সিস্টেমে লগইন করে ‘টাইম এক্সটেনশন’ মেনু ব্যবহারের মাধ্যমে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের জন্য সময় বৃদ্ধির আবেদন করতে পারবেন।
অনলাইনে জমা দেওয়া করদাতার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের কর কমিশনার অনলাইনেই আবেদন অনুমোদন অথবা নামঞ্জুর করবেন। করদাতার সময় বৃদ্ধির আবেদন মঞ্জুর হলে বর্ধিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো জরিমানা বা অতিরিক্ত কর প্রদান ছাড়াই অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে করদাতারা ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন থাকতে হবে। ৩১ মার্চের আগে আবেদন করা বাধ্যতামূলক। যেসব করদাতার জন্য অনলাইন রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক নয়, তারা অনলাইনে অথবা সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর সার্কেলে লিখিতভাবে উভয় পদ্ধতিতেই সময় বৃদ্ধির আবেদন করতে পারবেন।
ব্যক্তি করদাতারা ৩১ মার্চের আগে আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট কর কমিশনার রিটার্ন জমার জন্য অতিরিক্ত ৯০ দিন পর্যন্ত সময় বাড়াতে পারেন।
অর্থনীতি
দেশের বাজারে সোনার দামে বড় পতন, আজ ভরি কত?
ঈদের আগে দুইবার স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। দেশের বাজারে ভরিতে সবশেষ ৭ হাজার ৬৯৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৪ হাজার ৯২৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) বিকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম গতকাল বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিট থেকেই কার্যকর হয়েছে। নির্ধারিত ওই দামেই আজ রবিবারও বিক্রি হবে স্বর্ণ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৬২৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এনিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৪৫ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ২৬ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ১৯ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।
অর্থনীতি
গত এক মাসে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল ছিল : বাণিজ্যমন্ত্রী
গত এক মাসে (রমজান) দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ‘সবার চেষ্টায় আমরা দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে পেরেছি।’
আজ শনিবার সকালে সিলেটের ঐতিহাসিক শাহি ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাত আদায় করে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
এই সরকার মানুষের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত একটি সরকার জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, ‘বৈশ্বিক যে চাপই আসুক, তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের প্রধান লক্ষ্য থাকবে এই দেশের মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে যেন দ্রব্যমূল্য থাকে, জীবনযাপন যেন সহনীয় থাকে, এটি হবে প্রধানতম লক্ষ্য।
এ জন্য সরকারি যত যন্ত্র ব্যবহার করা লাগে, সেটা করতে কার্পণ্য করা হবে না।’
একই ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন প্রবাসীকল্যাণ বৈদেশিক ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে আজকে আমাদের অনেক প্রবাসী ভাই-বোনরা নান সমস্যায় রয়েছেন। কেউ মৃত্যুবরণ করেছেন, কেউ আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন, কেউ গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। তাদের জন্য আমরা দোয়া করি।’



