আন্তর্জাতিক
সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পঞ্চম গ্লোবাল হজ সম্মেলন
আগামী ৯ থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত “মক্কা থেকে বিশ্বে” শীর্ষক থিমে পঞ্চম গ্লোবাল হজ কনফারেন্স অ্যান্ড এক্সিবিশন আয়োজন করতে যাচ্ছে সৌদি আরব।
এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করছে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়, যা অনুষ্ঠিত হবে জেদ্দা সুপারডোমে। এ সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বব্যাপী হজযাত্রীদের জন্য হজ ব্যবস্থাপনা ও সেবার মানোন্নয়নে সৌদি আরবের অব্যাহত প্রচেষ্টা তুলে ধরা।
হজ সম্মেলনটি হজযাত্রা উন্নয়নে জাতীয় উদ্যোগসমূহ উপস্থাপন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের অন্যতম প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। এতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে—যেখানে ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তি খাতে নতুন উদ্ভাবনী সমাধান নিয়ে আলোচনা হবে, যার মাধ্যমে হজ ব্যবস্থার গুণগত মান আরও উন্নত করা সম্ভব হবে।
এই আয়োজন সৌদি সরকারের বৃহত্তর কৌশলের অংশ, যার মাধ্যমে হজ ব্যবস্থাপনায় অপারেশনাল, সংগঠনগত ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে হজযাত্রীদের জন্য আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও প্রযুক্তিনির্ভর হজ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করা হবে।
৫২ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই প্রদর্শনীতে ১৩টি খাতের ২৬০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করবে, যার মধ্যে রয়েছে পর্যটন, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচালনা খাত। সম্মেলনে থাকবে ৯৫ জন আন্তর্জাতিক বক্তা, ৮০টি প্যানেল আলোচনা, ৬০টি কর্মশালা, এবং ১০০টিরও বেশি উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন। আশা করা হচ্ছে, ইভেন্টটিতে ১ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি দর্শনার্থী অংশ নেবেন, যারা সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসবেন।
হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় এ সময় বেশ কয়েকটি নতুন উদ্যোগও উন্মোচন করবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:“এ’আশা-থন” – হজযাত্রীদের জন্য নমনীয় ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক খাবার সরবরাহের নতুন মডেল। “পবিত্র স্থানগুলিকে মানবিকীকরণ করা” – পবিত্র স্থানগুলোকে আরও আরামদায়ক ও মানবিক অভিজ্ঞতায় পরিণত করার উদ্যোগ। “টেকসই সমাধান” – পরিবেশবান্ধব শক্তি, স্মার্ট কুলিং প্রযুক্তি ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে টেকসই হজ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা। এছাড়া “উদ্ভাবন অঞ্চল”-এ ১৫টি প্রযুক্তি স্টার্টআপ অংশ নেবে, যারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করে ভিড় ব্যবস্থাপনা ও অপারেশন উন্নয়নে প্রতিযোগিতা করবে।
সম্মেলনের সময় হজ খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কৌশলগত চুক্তি ও অংশীদারিত্ব স্বাক্ষরিত হবে, যা ডিজিটাল রূপান্তর, সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন এবং সেবার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
সম্মেলনে আলোচিত হবে তিনটি মূল বিষয়—ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন, স্মার্ট ম্যানেজমেন্ট ও অপারেশনাল সাসটেইনেবিলিটি। এই বিষয়গুলো সৌদি ভিশন ২০৩০ ও “পিলগ্রিম এক্সপেরিয়েন্স প্রোগ্রাম”-এর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত, যার লক্ষ্য প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে হজযাত্রাকে আরও সহজ, নিরাপদ ও টেকসই করে তোলা।
সর্বোপরি, এই গ্লোবাল হজ কনফারেন্স ও এক্সিবিশন সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নের অন্যতম পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্বব্যাপী বিশেষজ্ঞদের একত্রিত করে নবপ্রযুক্তি, স্মার্ট ব্যবস্থাপনা ও উদ্ভাবনী সমাধানের মাধ্যমে হজ অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ ও আধ্যাত্মিকভাবে অর্থবহ করে তুলবে।
কাফি
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে শুভেচ্ছা জানালেন ব্রিটেনের রাজা চার্লস
বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এক বার্তায় রাজা চার্লস আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশের নেতৃত্ব ও জনগণের প্রতি শুভ কামনা জানান।
বার্তায় তিনি বলেন, আমাদের কমনওয়েলথের অভিন্ন মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বের কথা আমি গভীরভাবে স্মরণ করছি। রাজা চার্লস যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথাও উল্লেখ করেন, যা ব্রিটিশ সমাজকে সমৃদ্ধ করছে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে জোরদার করছে। বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তার এ সময়ে, ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে কমনওয়েলথ কাঠামোর মধ্যে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়নে যৌথ প্রচেষ্টার গুরুত্ব তুলে ধরে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন রাজা তৃতীয় চার্লস। তিনি আরও বলেন, জলবায়ু কার্যক্রমে সহযোগিতা আমাদের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের দৃঢ় নেতৃত্বকে আমি অত্যন্ত মূল্যায়ন করি। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অব্যাহত অগ্রগতি কামনা করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ৫৫ বছর আগে ১৯৭১ সালের এই দিনে দেশকে পাকিস্তানি হানাদারের কবল থেকে মুক্ত করার ডাক এসেছিল। এদিন আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটেছিল বাঙালির সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের। ২৬শে মার্চ বাঙালি জাতির ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রচনার সূচনার দিন। যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনে জাতীয় পর্যায়ে নেয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি।
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশসহ ৬ দেশের জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পাবে : ইরান
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেও হরমুজ প্রণালি নিয়ে স্বস্তির খবর এসেছে বাংলাদেশের জন্য। ইরান জানিয়েছে, বাংলাদেশসহ কয়েকটি বন্ধুপ্রতিম দেশের জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ দেয়া হবে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে। খবর এনডিটিভির।
মূলত হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। তবে পুরো প্রণালি বন্ধ না করে বাছাই করা কিছু দেশকে চলাচলের সুযোগ দিচ্ছে ইরান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, পশ্চিমা গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। অনেক জাহাজ মালিক বা দেশ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে যাতে তারা নিরাপদে প্রণালি পার হতে পারে। যেসব দেশকে আমরা বন্ধু মনে করি বা বিশেষ কারণে অনুমতি দিই, তাদের জন্য আমাদের সশস্ত্র বাহিনী নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করছে।
তিনি আরও বলেন, সংবাদে দেখেছেন চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক ও ভারত। কয়েক দিন আগে ভারতের দুটি জাহাজ পার হয়েছে। আরও কিছু দেশ, এমনকি বাংলাদেশও যারা আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করেছে। ভবিষ্যতেও, যুদ্ধের পরেও এটি অব্যাহত থাকবে।
তবে আরাগচি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যেসব দেশকে ইরান প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখে বা চলমান সংঘাতে জড়িত বলে মনে করে তাদের জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে যেতে পারবে না। তিনি বলেন, আমরা এখন যুদ্ধের মধ্যে আছি। পুরো অঞ্চলই যুদ্ধক্ষেত্র। আমাদের শত্রু ও তাদের মিত্রদের জাহাজ চলাচলের কোনও কারণ নেই। তবে অন্যদের জন্য এটি খোলা থাকবে।
উল্লেখ্য, ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। ফলে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ কার্যত আটকে গেছে। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিচ্ছে এবং বিমান সংস্থা থেকে সুপারমার্কেট সব খাতেই ব্যয় বেড়ে যাওয়া, চাহিদা কমে যাওয়া এবং সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ার মতো সমস্যার মুখে পড়ছে।
আন্তর্জাতিক
ইসরায়েলের পরমাণু স্থাপনায় হামলার দাবি ইরানের
ইসরায়েলের পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযানের ৮২তম ধাপ শুরু করা করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোরে শুরু হওয়া এই হামলায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েলের সামরিক কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। পাশাপাশি ডেড সির দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত ইসরায়েলের পারমাণবিক সংশ্লিষ্ট শিল্প স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে চলমান সংঘাত নিয়ে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান চুক্তি করতে মরিয়া। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, তারা শুধুমাত্র মার্কিন প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে, কিন্তু কোনো সরাসরি আলোচনায় বসার পরিকল্পনা নেই।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরান জানিয়েছে, সরাসরি আলোচনা না হলেও বিভিন্ন ‘মধ্যস্থতাকারী দেশের’ মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান চলছে। আরাগচি বলেন, বন্ধু দেশগুলোর মাধ্যমে বার্তা দেওয়া ও অবস্থান জানানোকে আলোচনা বলা যায় না।
অন্যদিকে ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ইরানের নেতারা গোপনে আলোচনা করছে এবং তারা চুক্তি করতে চায়। কিন্তু নিজেদের জনগণ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের ভয়ে তা প্রকাশ করছে না।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে হামলা শুরু হয়। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে দেশটিতে হামলা চালায়। এরপর থেকে ইরান ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সংঘাতের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এ ঘটনার পর তার স্থলাভিষিক্ত হন তার ছেলে মোজতবা খামেনি।
এদিকে একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের শীর্ষ নেতাদের ওপর হামলা না চালাতে অনুরোধ করেছে। আলোচনার সুযোগ বজায় রাখতে এ অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া ইসলামাবাদে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়টিও এখনো বিবেচনায় রয়েছে।
আন্তর্জাতিক
হরমুজের দায়িত্বে থাকা ইরানি নৌ-কমান্ডারকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের
হরমুজ প্রণালিতে ইরানি অবরোধ কার্যকর রাখার দায়িত্বে থাকা নৌ-কমান্ডার আলিরেজা তাঙসিরি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। বিভিন্ন ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম তাদের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে এ তথ্য।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার ইরানের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর বন্দর আব্বাসে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন তিনি।
ইরানের সরকার, প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) থেকে এখনও এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি। তবে এই সংবাদ যদি সঠিক হয়, তাহলে এটি হবে ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্তের সর্বশেষ উচ্চপদস্থ কোনো কর্মকর্তার নিহতের ঘটনা।
কমান্ডার তাঙসিরি হলেন ইরানের সেইসব মুষ্টিমেয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন, যাকে এর আগেও একাধিকবার হত্যার চেষ্টা করেছে ইসরায়েল এবং ভাগ্যজোরে প্রতিবারই বেঁচে গিয়েছিলেন তিনি। ২০১৮ সালে নৌবাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কমান্ডারের পদে উন্নীত হন তাঙসিরি এবং তার প্রধান দায়িত্ব ছিল হরমুজ প্রণালির দেখভাল করা।
জ্বালানি পণ্য পরিবহনের জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হিসেবে হরমুজ প্রণালি খুবই গুরুত্বপূর্ন। জ্বালানির বৈশ্বিক বাজারের এক পঞ্চমাংশ পণ্য এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করেছে ইরান। এই প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং এ দুই রাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বাণিজ্য জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা করা হচ্ছে। ব্রিটেনের সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল নিরাপত্তা সংস্থার তথ্য অনুসারে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে এ পর্যন্ত হরমুজে কমপক্ষে ১২টি বিদেশি বাণিজ্য জাহাজ ইরানি হামলার শিকার হয়েছে।
হামলার আশঙ্কার কারণে অনেক জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে চাইছে না; ফলে জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য সরবরাহ ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও তরল গ্যাসের দাম বাড়ছে এবং বিশ্বের বহু দেশ ইতোমধ্যে ভোগান্তিতে পড়েছে।
সূত্র : এনডিটিভি, টাইমস অব ইসরায়েল
আন্তর্জাতিক
ইরানিদের টুরিস্ট ভিসায় প্রবেশে অস্ট্রেলিয়ার সাময়িক নিষেধাজ্ঞা
ইরানের নাগরিকদের জন্য পর্যটক ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশে সাময়িকভাবে নিষেধাঙ্গা দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এ তথ্য জানান বলে সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
তিনি বলেন, অস্থায়ী ভিসায় আসা ইরানিদের একটি অংশ নির্ধারিত সময় শেষে দেশে ফিরে না যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন এই নিষেধাজ্ঞা বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হবে। এর মেয়াদ থাকবে ছয় মাস।
তবে সব ইরানি নাগরিকের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। যাদের দীর্ঘমেয়াদি ভিসা রয়েছে, কিংবা যাদের স্বামী-স্ত্রী বা সন্তান অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন, তারা ভ্রমণের সুযোগ পাবেন বলে জানান টনি বার্ক।
তিনি বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় সরকার এই পদক্ষেপ নিচ্ছে।
অস্ট্রেলিয় সরকারের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার ইরানি নাগরিক দেশটিতে প্রবেশের জন্য ভিজিটর ভিসা নিয়ে আছেন।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ইরানের নারী ফুটবল দলের সাত সদস্যকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয় অস্ট্রেলিয়া। তবে পরে তাদের মধ্যে পাঁচজন আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাহার করেন।
এমএন



