রাজনীতি
সংসদে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের তাগিদ, না হলে বাড়বে হতাশা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেছেন, বর্তমান সংসদে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন করা না গেলে তা জাতির জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক হবে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেক্টরাল সিস্টেমস (আইএফইএস) বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা একটা ইউকে বেসড অর্গানাইজেশনের সাথে বসে ছিলাম, যাদের মূল উদ্দেশ্য হলো যে জাতীয় সংসদকে কিভাবে শক্তিশালী করা যায়। সেই বিষয় নিয়ে তারা আমাদের সাথে আলাপ করেছেন। আমরা তাদের কথা শুনেছি। আমাদের পক্ষ থেকে আমরা বলেছি, আমাদের এই যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ… এই সংসদটা পূর্বের সংসদ থেকে ভিন্ন। কারণ, এই সংসদটা জুলাই আন্দোলনের পরে গঠিত একটি সংসদ। এই সংসদের ব্যাপারে দেশের মানুষের আশা সম্পূর্ণ আলাদা। জুলাই আন্দোলন এসেসটা হলো, সংসদই হোক আমাদের জাতীয় জীবনের সকল আলোচনা এবং সমস্যা সমাধানের কেন্দ্র। সেক্ষেত্রে সরকারি দলের সাথে বিরোধী দল সমানভাবেই ইম্পর্টেন্ট।
তিনি আরও বলেন, সংসদে সরকারি দল এবং বিরোধী দল তারা ইম্পরটেন্ট রোল প্লে করতে পারে, সেই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অনেকগুলা ডিফিকাল্টিজ আছে। সরকারি দল এখন একটা বড় মেজরিটি নিয়ে আছে। সেক্ষেত্রে কোনো একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে গেলে সকল কিছুই সরকারি দলের উপরে নির্ভর করছে। কাজেই সেক্ষেত্রে আমরা রুলস অফ প্রসিডিউরের ব্যাপারেও অনেক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা সেখানে আলোচনা হয়েছে। সেগুলোর ব্যাপারে আমরা আমাদের সাজেশন দিয়েছি। তারা একটা রিপোর্ট তৈরি করবেন এবং তারাও আমাদের কিছু সাজেশন দিয়েছেন কী করে পার্লামেন্টকে আরও শক্তিশালী করা যায়।
তিনি আরও বলেন, আমাদের এই সংসদে সবচাইতে বড় বিষয় যেটা আমাদের সামনে এসেছে সেটা হলো জুলাই সনদকে বাস্তবায়ন করা। আমরা দেখেছি, প্রথম দিন থেকেই একটা ভিন্ন দিকে সরকারি দল হাঁটা শুরু করেছে। তারা জুলাই সনদের জন্য সংস্কার পরিষদে শপথ নেননি। এখনো বিভিন্ন আলোচনা এবং অলরেডি একটা প্রস্তাব তারা নিয়ে আসতে চাচ্ছেন।
রাজনীতি
২২৭৬ নেতাকর্মীকে গুম-খুনের তদন্তের দাবিতে ট্রাইব্যুনালে বিএনপি
বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ২ হাজার ২৭৬ নেতাকর্মীকে অপহরণের পর গুম এবং ‘ক্রসফায়ার’ এর নামে বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ তদন্তের দাবিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পুনরায় আবেদন করেছে দলটি।
সোমবার (১১ মে) ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটরের কাছে এ অভিযোগ জমা দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও গুম, খুন এবং মামলা বিষয়ক সমন্বয়ক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন খান।
অভিযোগে বলা হয়, ২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীসহ অসংখ্য নেতাকর্মী গুম ও হত্যার শিকার হন। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছে বিএনপি।
এর আগে, ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি একই বিষয়ে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করেছিল দলটি। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্ত কার্যক্রমে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় পুনরায় অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানায় বিএনপি।
দাখিল করা অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সদস্যদের পরিকল্পিত গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে।
বিএনপির দাবি, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিতেই তারা আবারও ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হয়েছে।
রাজনীতি
এনসিপিতে কারা যোগ দিচ্ছেন যাচাই করতে ‘সার্চ কমিটি’ গঠন
দলের সাংগঠনিক বিস্তার ও নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির কার্যক্রম আরও কাঠামোবদ্ধ করতে ‘ন্যাশনাল সার্চ কমিটি’ গঠন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ছয় সদস্যের এ কমিটি রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের দলে অন্তর্ভুক্তির আগে যাচাই-বাছাই ও মূল্যায়নের দায়িত্ব পালন করবে।
রোববার (১০ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি গঠনের বিষয়টি জানায় এনসিপি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশনায় এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। দলের সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও সুসংগঠিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কমিটির সদস্যরা হলেন- এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ও আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল আমিন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই দল সম্প্রসারণে সক্রিয় হয়েছে এনসিপি। গত ১৯ এপ্রিল এবি পার্টি, আপ বাংলাদেশ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রায় অর্ধশত নেতা-কর্মী দলটিতে যোগ দেন। এরপর ২৪ এপ্রিল বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল ফ্লোরা, কনটেন্ট নির্মাতা নুরুজ্জামান কাফি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনিসহ আরও কয়েকজন এনসিপিতে যোগ দেন।
পরবর্তীতে ৫ মে জামায়াতের প্রয়াত সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান, হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর আবদুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন ও অধ্যাপক এম এ এইচ আরিফ দলটিতে যোগ দেন।
সবশেষ গত ৮ মে গণঅধিকার পরিষদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জুলাই রেভোল্যুশনারি অ্যালায়েন্স ও আপ বাংলাদেশের কয়েকজন নেতা-কর্মী এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখায় যোগ দিয়েছেন।
রাজনীতি
উপজেলা ও পৌর নির্বাচনে ১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল এনসিপি
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রথম ধাপে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র পদে ১০০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
রোববার (১০ মে) রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত তালিকায় ৫০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ৫০ জন পৌর মেয়র প্রার্থী রয়েছেন।
ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে হাবিবুর রহমান হাবিব, বোদায় শিশির আসাদ এবং দেবীগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে মাসুদ পারভেজ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে গোলাম মর্তুজা সেলিম প্রার্থী হয়েছেন। দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়িতে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ইমরান চৌধুরী নিশাত, বোচাগঞ্জে মাওলানা এম এ তাফসির হাসান, ফুলবাড়ি পৌরসভায় মেয়র পদে শিহাব হোসেন, ঘোড়াঘাট পৌরসভায় মেয়র পদে আব্দুল মান্নান এবং হাকিমপুর পৌরসভায় মেয়র পদে রায়হান কবির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আবু সাইদ লিয়ন এবং নীলফামারী সদর উপজেলায় ড. কামরুল ইসলাম প্রার্থী হয়েছেন। কুড়িগ্রাম সদর পৌরসভায় মেয়র পদে মাসুম মিয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে শাহ সুলতান নাসির উদ্দিন আহমেদ, রংপুর সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মণ এবং গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে খাদিমুল ইসলাম প্রার্থী হয়েছেন।
চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলায় সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে শফিকুল ইসলাম শফিক, উখিয়া উপজেলায় মোহাম্মদ হুসাইন, চাঁদপুর সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে রশিদ এবং মতলব উত্তর উপজেলায় ইদ্রিস প্রার্থী হয়েছেন।
এছাড়া হোমনা পৌরসভায় মেয়র পদে রাজু সরকার এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আমিনুল হক এনসিপির হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে দলটি জানায়, প্রথম ধাপে এসব প্রার্থীর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ শুরু করা হলো।
রাজনীতি
দেশের ক্ষতি হলে আমরা নীরবে বসে থাকব না: বিরোধীদলীয় নেতা
সরকার যদি ভালো কাজের উদ্যোগ নেয়, তাহলে আমরা সহযোগিতা করব। কিন্তু দেশের কোনো ক্ষতি হলে আমরা নীরবে বসে থাকব না বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (৯ মে) দুপুরে জাপান থেকে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, সরকারের কোনো ভুল হলে তাদের তা ধরিয়ে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। সরকার যদি ভালো কাজের উদ্যোগ নেয় তাহলে আমরা সহযোগিতা করব। কিন্তু যদি দেশের ক্ষতি হয়, আমরা নীরবে বসে থাকব না। আমরা আওয়াজ তুলব, প্রতিবাদ করব, প্রয়োজনে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলব। এটাই হবে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে আমাদের কাজ।
জাপান বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক চিন্তা করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সংসদ বিগত সংসদের থেকে ব্যতিক্রম বলে তাদের কাছে মনে হচ্ছে। বিরোধী দল যেমন সরকারের সমালোচনা করছে তেমনই তাদের সহযোগিতাও করছে। এভাবে যদি সবাই দেশকে ভালোবাসে তাহলে জাপানও বাংলাদেশের প্রতি সোহার্দ্য আরও বাড়িয়ে দেবে।
জামায়াত আমির বলেন, আমাদের দেশে বিপুল সংখ্যক ক্যান্সারের রোগী আছে, বাংলাদেশে তাদের ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা আমরা করতে পারিনি।
আমাদের যে দুই একটি ডেডিকেটেড ক্যান্সার হাসপাতাল রয়েছে, সেগুলো যথেষ্ঠ স্কিল্ড না হওয়ায় সঠিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। যার ফলে অধিকাংশ রোগীকে অনেক কষ্ট শিকার করে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হয়। আর যাদের বিদেশ যাওয়ার সামর্থ নেই, ধীরে ধীরে তারা মৃত্যুর দিকে ঢলে পড়ে। ফলে জাপানকে আমরা আহ্বান জানিয়েছি তারা যেন আমাদের দেশে একটি ক্যান্সার ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল গড়ে তোলে।
তিনি আরও বলেন, শুধু যদি হাসপাতাল হয় তাহলে আমদের দেশের মানুষেরা জানার সুযোগ পাবেনা। তবে যদি ইন্সটিটিউট হয় তাহলে উচ্চ শিক্ষার দরজা খুলে যাবে এবং স্কিল্ড হয়ে গড়ে উঠবে। জাপান এই বিষয়টিকে সক্রিয় বিবেচনায় নিয়েছে। আমরা আশা করছি এই বিষয়ে তারা (জাপান) ইতিবাচক ভাবেই আগাবেন।
জুলাই যোদ্ধাদের প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, থাইল্যান্ডে এখন জুলাই যোদ্ধাদের ৬৪ জন অবস্থান করছেন, আগে অনেক বেশি ছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ এক বছর, কেউ দশ মাস, কেউ এগারো মাস সময়ব্যাপী তারা সেখানে অবস্থান করছেন। আমাদের নৈতিক দ্বায়বদ্ধতা, নাগরিক দায়িত্ব ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও মানবিকতার জায়গা থেকে তাদের দেখতে গিয়েছিলাম।
বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আমির মো. সেলিম উদ্দিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের নেতা আতাউর রহমান সরকার।
রাজনীতি
সরকারের ভালো কাজে আমাদের পূর্ণ সমর্থন থাকবে : গোলাম পরওয়ার
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে জামায়াতে ইসলামী সংসদে ৭৭ জন সংসদ সদস্য নিয়ে একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের নেতৃত্ব দিচ্ছে। আমাদের নেতা ডা. শফিকুর রহমান পার্লামেন্টের প্রথম দিন থেকেই দুটি শব্দের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন, ‘রেসপন্সিবল’ (দায়িত্বশীল) ও ‘কনস্ট্রাক্টিভ’ (গঠনমূলক)। আমরা কেবল বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করব না। সরকারের ভালো কাজে আমাদের পূর্ণ সমর্থন থাকবে, আর জনস্বার্থবিরোধী কাজে থাকবে তীব্র প্রতিবাদ।
শনিবার (৯ মে) সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ‘মানবকল্যাণ পরিষদ ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড রিসোর্টে’ জেলা জামায়াত আয়োজিত ‘সদস্য (রোকন) শিক্ষা শিবির-২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকারি দল ও বিরোধী দল একটি সাইকেলের দুটি চাকার মতো। একটি চাকা ছাড়া যেমন সাইকেল চলে না, তেমনি বিরোধী দল ছাড়া দেশ পরিচালনা সম্ভব নয়। দেশ গঠন ও জাতীয় সংকট নিরসনে জামায়াতে ইসলামী সরকারকে সব ধরনের গঠনমূলক সহযোগিতা দিতে সর্বদা প্রস্তুত।
দেশের সাম্প্রতিক জ্বালানিসংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জ্বালানিসংকটে যখন পেট্রল পাম্পগুলোতে মাইলের পর মাইল গাড়ির লাইন ছিল, তখন বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকেই সংকট নিরসনে সম্মিলিত কমিটির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন এবং কমিটি গঠিত হয়েছে। এটি একটি নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। অনেকে বলছেন, এই কমিটির পর থেকেই পাম্পের লাইন অদৃশ্য হয়েছে।
এর অর্থ হলো, জামায়াত কোনো জাতীয়সংকটকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে ফায়দা লুটতে চায় না, বরং সমাধান করতে চায়।’
৭ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বাজেট অধিবেশন নিয়ে জামায়াতের বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে ‘প্রি-বাজেট ডিসকাশন’ সম্পন্ন করেছি। আমাদের লক্ষ্য একটি ঋণমুক্ত ও স্বনির্ভর বাজেট। এ ছাড়া সরকারকে গঠনমূলকভাবে সহায়তা করতে এবং প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আমরা সাংগঠনিকভাবে ‘শ্যাডো ক্যাবিনেট’ (ছায়া মন্ত্রিসভা) গঠনের কাজ প্রায় চূড়ান্ত করেছি। খুব শীঘ্রই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।’
নির্বাচন নিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সরিয়ে দলীয় প্রশাসক নিয়োগ করা চরমভাবে সংবিধান ও গণতন্ত্রবিরোধী। আমরা এই ‘ব্যাড কালচার’ বন্ধের আহ্বান জানাই। অবিলম্বে নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হলে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের তরুণ ও মেধাবী নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা সব কটি স্তরে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।’
জুলাই গণভোট ও সংস্কার প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, ৭০ শতাংশ মানুষের রায়ে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে রায় আসলেও সরকার গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিষয়ে ‘নোট অফ ডিসেন্ট’ বা আপত্তি দিয়ে কর্তৃত্ববাদী শাসন টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। আমরা এই সংকট নিরসনে পার্লামেন্ট ও রাজপথ উভয় জায়গাতেই সক্রিয় থাকব। আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখা সময় বলে দেবে।
আওয়ামী লীগের বর্তমান অবস্থা ও তাদের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোনো দল সন্ত্রাস বা সহিংসতায় লিপ্ত হলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সরকার ও আদালতের বিষয়। তবে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের বৈধ ও শান্তিপূর্ণ রাজনীতি করার অধিকার নিশ্চিত করা।’
উল্লেখ্য, সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই শিক্ষা শিবিরে জেলার প্রায় ৫৫০ জন রোকন সদস্য অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী এই অধিবেশনে রোকনদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নৈতিক ও আদর্শিক মান উন্নয়নের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।




