পুঁজিবাজার
লেনদেনের শীর্ষে মুন্নু সিরামিক
সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন শেষে তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র মতে, সোমবার (১১ মে) ডিএসইতে সবোর্চ্চ মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ৩৬ কোটি ৪২ লাখ ২২ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর ফলে কোম্পানিটি লেনদেনের তালিকায় প্রথম স্থান দখল করে।
এদিন লেনদেনের এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস লিমিটেড। কোম্পানিটির ৩২ কোটি ৫০ লাখ ৭০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর ১৩ কোটি ৯৫ লাখ ৩ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন করে তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে বিডি থাই ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড।
এছাড়াও, ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো- তৌফিকা ফুডস অ্যান্ড লাভেলো আইসক্রিম, এপেক্স ফুটওয়ার, স্যালভো অর্গানিক ইন্ডাস্ট্রিজ, আমান ফীড, রংপুর ডেইরী অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড ও মুন্নু ফেব্রিক্স লিমিটেড।
এমএন
পুঁজিবাজার
দর বৃদ্ধি শীর্ষে এপেক্স ট্যানারি
সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯২টি কোম্পানির মধ্যে ১৪৬টির শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে। এরমধ্যে সর্বোচ্চ দর বৃদ্ধি পেয়েছে এপেক্স ট্যানারি লিমিটেড।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র মতে, সোমবার (১১ মে) ডিএসইতে সর্বোচ্চ এপেক্স ট্যানারি লিমিটেডের শেয়ার দর আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১০ টাকা ৬ পয়সা বা ৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে কোম্পানিটি দর বৃদ্ধি তালিকায় প্রথম স্থান দখল করে নেয়।
দর বৃদ্ধির এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রংপুর ডেইরী অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ার দর ৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আর তৃতীয় স্থানে থাকা সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস লিমিটেডের দর বেড়েছে ৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
এছাড়াও, ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো- বিডি অটোকারের ৮.৭২ শতাংশ, আমান ফিডের ৭.৫ শতাংশ, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সের ৬.৮০ শতাংশ, পপুলার লাইফ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ৬.৪৫ শতাংশ, বিডি ল্যাম্পসের ৬.০৮ শতাংশ, এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ৬.০৬ শতাংশ ও দেশ গার্মেন্টেসের ৫.৯১ শতাংশ শেয়ার দর বেড়েছে।
এমএন
পুঁজিবাজার
সূচকের পতনে লেনদেন ছাড়ালো ৭১৪ কোটি টাকা
সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্য সূচকের পতনে লেনদেন শেষে হয়েছে। একই সঙ্গে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৮৯ কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে। অন্যদিকে টাকার অংকে লেনদেনের পরিমান ৭১৪ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র মতে, সোমবার (১১ মে) ডিএসইর প্রধান সূচক ‘ডিএসইএক্স’ ১৫ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট কমেছে। বর্তমানে সূচকটি অবস্থান করছে ৫ হাজার ২০৫ পয়েন্টে।
এছাড়া, ডিএসইর অপর সূচক ‘ডিএসইএস’ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট কমে ১০৫৫ পয়েন্ট এবং ‘ডিএস-৩০’ সূচক ৫ দশমিক ২২ পয়েন্ট কমে ১৯৮৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
আজ ডিএসইতে ৭১৪ কোটি ৯৭ লাখ ৫৭ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিলো ৭২৭ কোটি ৪৫ লাখ ৬ হাজার টাকা।
এদিন ডিএসইতে মোট ৩৯২টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৬টি কোম্পানির, বিপরীতে ১৮৯ কোম্পানির দর কমেছে। আর ৫৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
এমএন
পুঁজিবাজার
এসকে ট্রিমসের কোম্পানি সচিব নিয়োগ
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এসকে ট্রিমস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কোম্পানি সচিব (ভারপ্রাপ্ত) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র মতে, কোম্পানিটির সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. আমজাদ হুসাইন।
এমএন
পুঁজিবাজার
ডিবিএইচ ফাইন্যান্সের লভ্যাংশ ঘোষণা
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসি লিমিটেড গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। কোম্পানিটি আলোচিত বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দেবে।
রোববার (১০ মে) অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সর্বশেষ হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর লভ্যাংশ সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র মতে, ২০২৫ সালে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪ টাকা ৬৯ পয়সা। আগের বছর শেয়ার প্রতি ৪ টাকা ৯৭ পয়সা আয় হয়েছিল।
গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ৪৯ টাকা ৫৫ পয়সা।
আগামী ২৯ জুন, ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ০৪ জুন।
এমএন
পুঁজিবাজার
ব্যক্তিগত লেনদেনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে ব্রোকারেজ হাউজকে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা!
দেশের পুঁজিবাজার যখন নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, ঠিক সেই সময় ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক লেনদেনকে একটি স্বনামধন্য ব্রোকারেজ হাউজের ওপর চাপিয়ে দিয়ে ব্ল্যাকমেইল ও অর্থ আদায়ের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি ফার্স্ট ক্যাপিটাল সিকিউরিটিজ লিমিটেড (এফসিএসএল) এবং মো. দিদারুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির মধ্যকার ১২ লাখ টাকার লেনদেনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ঘটনায় এমন অভিযোগ সামনে এসেছে।
তথ্যানুসন্ধানে দেখা গেছে, পুঁজিবাজারের একটি স্বনামধন্য ব্রোকারেজ হাউজ, ফার্স্ট ক্যাপিটাল সিকিউরিটিজ লিমিটেড (FCSL) কেন্দ্র করে মো: দিদারুল ইসলামের দায়ের করা মামলার নেপথ্যে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। নথিপত্র ও কল রেকর্ড বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক লেনদেনের ১২ লক্ষ টাকাকে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের রূপ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ব্ল্যাকমেইল করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। বাদীপক্ষ মূল সত্য গোপন করে মামলা ও আইনি নোটিশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে হয়রানি করছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও রহস্যময় লেনদেন:
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, গত ১২ মে ২০২৪ তারিখে মো: দিদারুল ইসলাম সাউথ বাংলা এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের মাধ্যমে ১২,০০,০০০ (বারো লক্ষ) টাকা ফার্স্ট ক্যাপিটাল সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করেন। বাদীর দাবি, তিনি তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে বিও অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য এই টাকা জমা দিয়েছিলেন । তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, মো: দিদারুল ইসলাম নামে উক্ত প্রতিষ্ঠানে কোনো বিও অ্যাকাউন্ট নেই এবং তিনি প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকও নন।
বাদী দাবি করেছেন, আব্বাস আলী নামক এক ব্যক্তি FCSL-এর লোহাগাড়া শাখার প্রতিনিধি হিসেবে এই লেনদেন পরিচালনা করেছেন । কিন্তু নথিপত্র বলছে ভিন্ন কথা। আব্বাস আলী মূলত ‘ইস্টার্ন শেয়ারস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড’-এর লোহাগাড়া ডিজিটাল বুথের ইনচার্জ ছিলেন এবং সেখান থেকেই তিনি পদত্যাগ করেন । ফার্স্ট ক্যাপিটাল সিকিউরিটিজের সাথে তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক চাকরির সম্পর্ক নেই। বরং তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট কিছু গ্রাহকের পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি (POA) বা আমমোক্তার হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন ।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ১২ মে ২০২৪ তারিখে ১২ লক্ষ টাকা আরটিজিএস (RTGS)-এর মাধ্যমে জমা হওয়ার পরপরই আব্বাস আলী তার ইমেইল থেকে প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে একটি মেইল পাঠান । উক্ত মেইলে তিনি স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেন যে, এই ১২ লক্ষ টাকা নির্দিষ্ট কিছু ট্রেডিং কোডে জমা করতে হবে । নথিপত্র অনুযায়ী, আব্বাস আলী ওই অ্যাকাউন্টগুলোর অনুমোদিত ‘পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি’ (POA) হোল্ডার ছিলেন । অর্থাৎ, লেনদেনের প্রতিটি ধাপ আব্বাস আলীর সরাসরি নির্দেশনায় সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে দিদারুল ইসলামের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অস্তিত্ব ছিল না।
ব্যক্তিগত ব্যবসার নথিতে ব্ল্যাকমেইলের গন্ধ:
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, মো: দিদারুল ইসলাম এবং আব্বাস আলীর মধ্যে দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। বিবাদীপক্ষের সরবরাহকৃত ২০২২-২৩ সালের এক ‘অঙ্গীকারনামা’ বা চুক্তিনামাহ্ অনুযায়ী, তাদের মধ্যে ৫০ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত লেনদেন বিদ্যমান । দিদারুল ইসলাম মূলত আব্বাস আলীর ব্যক্তিগত ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছিলেন। বিবাদীপক্ষের দাবি, ব্যক্তিগত ব্যবসায় লোকসান বা মনোমালিন্যের জেরে এখন প্রাতিষ্ঠানিক লেনদেনের দোহাই দিয়ে ব্রোকারেজ হাউজকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে ।
প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক রেকর্ড এবং আইনি জবাব থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, মো: দিদারুল ইসলাম ফার্স্ট ক্যাপিটাল সিকিউরিটিজের গ্রাহক নন । তার নামে কোনো বিও অ্যাকাউন্ট নেই এবং শেয়ার কেনাবেচার জন্য তিনি কখনও প্রতিষ্ঠানের সাথে সরাসরি যোগাযোগ বা কোনো দলিলাদি জমা দেননি । যেহেতু দিদারুল ইসলাম কোনো গ্রাহক নন, তাই প্রতিষ্ঠানটি নিয়মানুযায়ী এই অর্থ তাদের তালিকাভুক্ত গ্রাহকদের আমানত এবং আব্বাস আলীর নির্দেশিত লেনদেন হিসেবেই গণ্য করেছে । আইনজ্ঞদের মতে, কোনো চুক্তি বা বিও অ্যাকাউন্ট ছাড়া সরাসরি ব্রোকারেজ হাউজের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দিয়ে শেয়ার ব্যবসার দাবি করা আইনত ভিত্তিহীন ।
তদন্তে দেখা যায়, আব্বাস আলীর নির্দেশনায় উক্ত ১২ লক্ষ টাকা FCSL-এর বিভিন্ন অনুমোদিত ট্রেডিং কোডে জমা হয় এবং প্রায় ১০ মাস ধরে শেয়ার কেনাবেচা বা ট্রেড করা হয় । এরপর নিয়ম অনুযায়ী, গত ১৬ জানুয়ারি ২০২৫-এর মধ্যে উক্ত টাকা সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টধারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে EFTN-এর মাধ্যমে ফেরত পাঠানো হয়েছে । ফলে প্রতিষ্ঠানের কাছে এই টাকার কোনো অংশ গচ্ছিত নেই ।
কল রেকর্ডে ফাঁস হলো ‘ব্যক্তিগত লেনদেনের’ গোপন রহস্য:
প্রতিবেদনের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে উঠে এসেছে দিদারুল ইসলাম এবং আব্বাস আলীর মধ্যকার মোবাইল কল রেকর্ড। চট্টগ্রাম আঞ্চলিক ভাষায় কথোপকথনের সেই রেকর্ডে দিদারুল ইসলামকে বলতে শোনা যায়- টাকা কি হাউজের অ্যাকাউন্টে RTG করে দিলে হবে? আপনি ওখান থেকে নিয়ে নিবেন যা খরচ হবে তা আমি দেব।
এই কথোপকথন থেকে এটি দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে:
- দিদারুল ইসলাম ব্রোকারেজ হাউজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টকে (CCBA) কেবল তাদের ব্যক্তিগত টাকা আদান-প্রদানের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
- এখানে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের কোনো উদ্দেশ্য ছিল না, বরং ব্যাংকিং সিস্টেমকে ফাঁকি দিয়ে টাকা স্থানান্তরের একটি কৌশল নেওয়া হয়েছিল ।
- এই ১২ লক্ষ টাকার লেনদেনটি দিদার ও আব্বাসের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত ৪৩.৫০ লক্ষ টাকার ব্যবসায়িক সম্পর্কেরই একটি অংশ ছিল ।
অশুভ উদ্দেশ্যে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা:
তদন্তে আরও দেখা যায়, আব্বাস আলীর সাথে ব্যক্তিগত ব্যবসায় লোকসান করার পর দিদারুল ইসলাম এখন ব্রোকারেজ হাউজকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছেন। গত ১৬ জানুয়ারি ২০২৫-এর মধ্যেই উক্ত টাকা সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টধারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফেরত পাঠানো হলেও, দিদারুল ইসলাম বিষয়টিকে ‘অর্থ আত্মসাৎ’ হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করছেন । মামলার ৫ মাস আগেই প্রতিষ্ঠানটি মতিঝিল থানায় জিডি এবং বিএফআইইউ-তে সন্দেহজনক লেনদেনের রিপোর্ট (STR) দিয়ে তাদের স্বচ্ছতা প্রমাণ করেছে ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ব্যক্তিগত দেনা-পাওনাকে পুঁজি করে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এভাবে হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইল করা কেবল বেআইনিই নয়, বরং দেশের শেয়ার বাজারের স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকিস্বরূপ।
আগে থেকেই সতর্ক ছিল প্রতিষ্ঠান:
দিদারুল ইসলামের মামলা করার ৫ মাস আগেই ফার্স্ট ক্যাপিটাল সিকিউরিটিজ লিমিটেড তার গতিবিধি এবং হুমকির বিষয় জানিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে মতিঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং ৬৫) করে । এছাড়া লেনদেনে অসংগতি পাওয়ায় ১৮ মে ২০২৫ তারিখে তারা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU)-কে একটি সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিবেদন (STR) প্রদান করে, যা প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা প্রমাণ করে ।
আইনি বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ:
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, শেয়ার কেনাবেচার জন্য সরাসরি প্রতিষ্ঠানে না গিয়ে কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে টাকা জমা দেওয়া এবং কোনো বিও অ্যাকাউন্ট ছাড়াই টাকা স্থানান্তর করা বিএসইসি-র (BSEC) নিয়মের পরিপন্থী । বিবাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাদু চৌধুরী জানিয়েছেন, বাদী তার প্রকৃত পরিচয় গোপন করে আব্বাস আলীর সাথে তার ব্যক্তিগত লেনদেনের দায় প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপাতে মিথ্যা মামলার আশ্রয় নিয়েছেন, যা সম্পূর্ণ আইনবর্হিভূত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ।
ব্যক্তিগত রেষারেষিকে কেন্দ্র করে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এভাবে মামলার জালে জড়িয়ে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ফাটল ধরাতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




