জাতীয়
আগামীকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও টেকসই রূপান্তর নিয়ে ইউজিসির জাতীয় কর্মশালা আগামীকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। এই কর্মশালা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে দিনব্যাপী এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ।
ইউজিসির জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগ পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমান জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ।
তিনি আরো জানান, উদ্বোধনী পর্বের পর পাঁচটি টেকনিক্যাল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। সেসব অধিবেশনে “গ্রাজুয়েটদের কর্মসংযোগযোগ্যতা, সফট স্কিল উন্নয়ন ও চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা; শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা; ডিজিটাল রূপান্তর, ডিজিটাল সাক্ষরতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংযোজন; শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণায় উৎকর্ষ এবং আন্তর্জাতিকীকরণ; গভর্ন্যন্স, মান নিশ্চিতকরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিয়ে আলোচনা করা হবে।
কর্মশালার অংশগ্রহণকারীদের মতামতের ভিত্তিতে উচ্চশিক্ষা উন্নয়নে বাস্তবায়নযোগ্য নীতিগত পথনকশা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান এই ইউজিসি কর্মকর্তা।
জাতীয়
বাংলাদেশের মানুষ কাঁটাতারে ভয় পায় না: হুমায়ুন কবির
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করার ইস্যু। রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই সীমান্তে বিএসএফকে জমি দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছেন। যা আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে জমি বুঝিয়ে দেয়া হবে।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছে ঢাকা। বাংলাদেশের মানুষ কাঁটাতারে ভয় পায় না।
সোমবার (১১ মে) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এসময় উঠে আসে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চীন সফর প্রসঙ্গ। এক প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা জানান, এই সফরে তিস্তা ইসুতে ভালো অগ্রগতি হয়েছে। চায়নার এক্সিম ব্যাংক অর্থায়ন করবে বলেও জানান হুমায়ুন কবির।
এখনও সময় নির্ধারণ না হলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।
অর্থনীতি
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিজিএমইএ-বিকেএমইএ নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)-এর কেন্দ্রীয় নেতারা।
সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জাতীয়
যোগ্যতার ভিত্তিতে নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দেওয়া দরকার : জুবাইদা রহমান
প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পে যোগ্যতার ভিত্তিতে নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দেওয়া দরকার।
তিনি বলেন, নারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, উন্নয়ন ও বাজারজাত সহায়তা দিতে হবে। তাহলে পারিবারিক সচ্ছলতা বৃদ্ধি ও সন্তানদের শিক্ষা এবং দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথ সুগম করা সম্ভব হবে।
সোমবার (১১ মে) সকালে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পুলিশ অডিটরিয়ামে ‘বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি’ (পুনাক)-এর বার্ষিক সমাবেশ ও আনন্দ মেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জুবাইদা রহমান।
পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) সদস্যরা তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে অবদান রাখছেন উল্লেখ করে সমিতির সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা কর্মের মাধ্যমে আগামীর প্রজন্মকে সমাজে অবদান রাখার পথ দেখিয়ে দিতে সহায়তা করছেন।’
সবাই যদি নিজ নিজ ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সমাজ গঠনে অবদান রাখে তাহলে নিশ্চয়ই সেই কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত সমাজসেবামূলক পরিকল্পনাগুলো সমন্বিতভাবে একটি সুন্দর সুস্থ ও মানবিক সমাজ গঠনের ভিত্তি।
তিনি আরো বলেন, পরিবার ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্রে থেকে নারীরা স্বাস্থ্য ও গ্রামীণ উন্নয়নে অংশ নিতে পারে। তাহলে কন্যা শিশুদের নিরাপত্তা ও সুন্দর মানবিক বিকাশ নিশ্চিত করতে প্রতিটি মেয়ে যে ভবিষ্যত নিজের জন্য গড়তে চায়, সেই পথে রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির পরির্বতে তা এগিয়ে নেবে।
পুনাক সহ-সভানেত্রী সাবিনা আওলাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহধর্মিনী হাসিনা আহমেদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের সহধর্মিনী রওশন আরা শিল্পী ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পুনাক সহ-সভানেত্রী সাবিনা আওলাদ। পুনাকের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদিকা কানিজ ফাতেমা। অনুষ্ঠানে সভাপতির একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনানো হয়।
অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তি এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণে কৃতিত্বের অধিকারীদের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয়।
পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত পুনাক মেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন জেলার পুনাক স্টলের মধ্যে প্রথম হয়েছে সাতক্ষীরা, দ্বিতীয় রাজশাহী এবং তৃতীয় লালমনিরহাট জেলা পুনাক।
প্রধান অতিথি ডা. জুবাইদা রহমান কৃতি শিক্ষার্থী এবং পুনাক স্টল বিজয়ীদের হাতে সনদ ও পুরস্কার তুলে দেন।
পরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জাতীয়
যমুনা সেতু আমরা করেছি, পদ্মা সেতুর উদ্যোগও আমরাই নিয়েছিলাম: সড়কমন্ত্রী
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, যমুনা সেতু নির্মাণ তাদের সরকারের সময় হয়েছে এবং পদ্মা সেতু প্রকল্পের উদ্যোগও তারাই নিয়েছিলেন।
সোমবার (১১ মে) বেলা ১১টার দিকে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের টোল প্লাজা সংলগ্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও পদ্মা সেতু জাদুঘর নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “পদ্মা সেতু জাদুঘর আরও আগেই হওয়া উচিত ছিল। তৎকালীন সরকার কেন এটি করেনি তা আমার জানা নেই। তবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং সাধারণ মানুষকে এই বিশাল স্থাপনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে এ জাদুঘরটি খুবই প্রয়োজন ছিল। এর মাধ্যমে আগামী প্রজন্ম পদ্মা সেতুর ইতিহাস সম্পর্কে বিশদভাবে জানতে পারবে।”
‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্ত্রী দেশজুড়ে বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘শুধু বৃক্ষরোপণ করলেই হবে না, সেগুলোর সঠিক পরিচর্যা করে বাঁচিয়ে তুলতে হবে।’
জাতীয়
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে না পারলে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেব : ধর্মমন্ত্রী
দেশের সংখ্যালঘুদের জানমাল ও নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।
সোমবার (১১ মে) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, এদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর কোনো ধরনের অত্যাচার বা নির্যাতন তিনি বরদাশত করবেন না এবং প্রয়োজনে এই লক্ষ্য পূরণে তিনি নিজের মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিতেও দ্বিধা করবেন না।
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের অজুহাত তুলে বাংলাদেশে কেউ যাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মতবিনিময় সভায় ধর্মমন্ত্রী হজের খরচ নিয়ে সরকারের ইতিবাচক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, চলতি বছর হজের খরচ কিছুটা কমানো সম্ভব হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী আগামী হজ মৌসুমে এই ব্যয় আরও কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের এসব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং সেবামূলক উদ্যোগ একটি মহলের সহ্য হচ্ছে না বলে দাবি করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার অনেক ভালো কাজের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে যা জনগণের কল্যাণে সরাসরি ভূমিকা রাখছে।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট মহল দেশের গণতন্ত্রকে ব্যাহত করতে চায় এবং বিরোধী দল সরকারকে সংকটে ফেলতে নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। যারা দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে রয়েছে, তারাই মূলত এসব অপতৎপরতা চালাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গুজব ছড়িয়ে অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা সম্পর্কে তিনি দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তার মতে, যারা সরকারের সফলতায় ঈর্ষান্বিত, তারাই দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করছে।
এছাড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী বলেন, স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার স্বার্থে এই আইনের প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। অপপ্রচার বন্ধ করা এবং নিরপরাধ ও ভালো মানুষদের ব্যক্তিগত মর্যাদা রক্ষার জন্য এই আইনটি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে বলে তিনি মনে করেন। সামগ্রিকভাবে দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে বলে তিনি সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করেন।




