আন্তর্জাতিক
মধ্যপ্রাচ্যে আরো ১০ হাজার সেনা পাঠাতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন
মধ্যপ্রাচ্যে আরো ১০ হাজার স্থলসেনা পাঠানোর কথা ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। যদিও তিনি ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার কথা বলছেন।
মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আরো সামরিক সহায়তা দেওয়ার জন্য পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে ১০ হাজার পর্যন্ত অতিরিক্ত স্থলসেনা মোতায়েনের কথা বিবেচনা করছে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতে, এই পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, এই বাহিনীতে সম্ভবত পদাতিক ও সাঁজোয়া যান অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এ বাহিনীকে ওই অঞ্চলে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া প্রায় পাঁচ হাজার মেরিন এবং ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় দুই হাজার প্যারাট্রুপারের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
সূত্র : আলজাজিরা
আন্তর্জাতিক
বিশ্ববাজারে কমল সোনার দাম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা অগ্রগতি না হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। খবর রয়টার্স।
সোমবার (১১ মে) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৫৭ দশমিক ৮৯ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে জুন ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৬৬৫ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়ায়।
রোববার (১০ মে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া শান্তি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এতে প্রায় ১০ সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার আশা কমে যায়। এই সংঘাতে ইরান ও লেবাননে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, তাৎক্ষণিক শান্তি চুক্তির আশা ভেঙে পড়েছে। একই সঙ্গে অপরিশোধিত তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করায় স্বর্ণের বাজার চাপের মুখে পড়েছে।
হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ সংকুচিত হয়ে পড়েছে এবং এর প্রভাবে তেলের দাম বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিতে পারে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় রাখতে হতে পারে। যদিও স্বর্ণকে সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়, তবে উচ্চ সুদের হার স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের শুক্রবার প্রকাশিত অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধ এবং এর কারণে তেল সরবরাহ ও দামের ওপর ধাক্কা এখন বৈশ্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতার সবচেয়ে বড় উদ্বেগগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।
এদিকে বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস তাদের সুদের হার কমানোর পূর্বাভাসও পিছিয়ে দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা এখন ধারণা করছে মার্কিন ফেড ডিসেম্বর ২০২৬ এবং মার্চ ২০২৭-এ সুদের হার কমাতে পারে। এর আগে তারা চলতি বছরের সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বরেই হার কমানোর পূর্বাভাস দিয়েছিল। উচ্চ জ্বালানি মূল্য মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে রাখবে বলেই এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের এপ্রিল মাসের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রতিবেদনের দিকে নজর রাখছেন, যা চলতি সপ্তাহে প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। এটি ফেডের ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতির বিষয়ে নতুন ইঙ্গিত দিতে পারে।
অন্যদিকে, চায়না গোল্ড অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে চীনের স্বর্ণ উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। নিরাপত্তা পরিদর্শনের কারণে কয়েকটি গলন কারখানায় উৎপাদন সাময়িক বন্ধ রাখায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
টিম ওয়াটারার বলেন, ‘স্বল্প ও মধ্যমেয়াদে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৮০০ ডলারের মধ্যেই ওঠানামা করতে পারে, কারণ যুদ্ধবিরতি থাকলেও এখনো কোনো শান্তি চুক্তি হয়নি।’
এদিকে স্বর্ণের সঙ্গে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে। স্পট রুপার দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৮০ দশমিক ১৩ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ২ হাজার ২৯ দশমিক ৯৫ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪৮১ দশমিক ৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব শান্তির সবচেয়ে বড় হুমকি: ইরান
ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্ব শান্তির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি বলে অভিহিত করেছে। দেশটি বলেছে, যুদ্ধ বন্ধ করতে মার্কিনিদের করা দাবিগুলো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
রোববার (১০ মে) যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর সোমবার (১১ মে) ইরানের পক্ষ থেকে এই কঠোর বার্তা দেওয়া হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পাল্টা প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে সরাসরি নাকচ করে দেন। এরপরই তেহরান জোরালো প্রতিক্রিয়া জানায়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘেই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও ঘাঁটিগুলোই সংঘাত ও অস্থিরতার মূল কারণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যেসব দাবি করেছে তা একেবারেই অযৌক্তিক। অন্যদিকে ইরান যেসব শর্ত দিয়েছে, সেগুলো পুরোপুরি যৌক্তিক।’
ইসমাঈল বাঘেই জানান, ইরান যুদ্ধ বন্ধ, মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, জলদস্যুতা বন্ধ এবং ইরানের জব্দকৃত অর্থ ও সম্পদ মুক্তির দাবি জানিয়েছে। এসব দাবি ইরানের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ ন্যায্য।
প্রসঙ্গত, গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। কিন্তু পরের দিনই ট্রাম্প ইরানি বন্দরে নৌ-অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেন। ইরান বলছে, কোনো চুক্তিতে আসতে হলে প্রথমে অবরোধ তুলে নিতে হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ খুলে দিক।
দুই পক্ষের মধ্যে এই কঠিন অবস্থানের কারণে বর্তমানে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
আন্তর্জাতিক
মন্ত্রী ছাড়া কোনো দেশের প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন না বালেন্দ্র শাহ
ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রির নির্ধারিত কাঠমান্ডু সফর হঠাৎ স্থগিত করা হয়েছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার (১১ মে) দুই দিনের সফরে বিক্রম মিশ্রির কাঠমান্ডু পৌঁছানোর কথা ছিল। নতুন সরকার গঠনের পর নেপালের অগ্রাধিকার ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে সফরটিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে সফর স্থগিত হওয়ায় দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
লিপুলেখ সীমান্ত ইস্যুতে সাম্প্রতিক ভারত-নেপাল উত্তেজনাকে এই সিদ্ধান্তের পেছনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর বালেন্দ্র শাহ মন্ত্রী ছাড়া কোনো দেশের প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন না বলেও জানিয়েছে নেপালের কূটনৈতিক সূত্র।
নেপালের সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে অন্যান্য ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করে সফর স্থগিতের কথা জানালেও প্রকৃত কারণ ভিন্ন। একদিকে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে রাজি হননি, অন্যদিকে ভারত ও চীনের মধ্যে বিতর্কিত লিপুলেখ হয়ে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ কাঠমান্ডু।
সম্প্রতি ভারত ও চীন লিপুলেখ হয়ে তিব্বতের মানস সরোবর যাত্রা পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়। নেপাল দাবি করছে, লিপুলেখ তাদের ভূখণ্ডের অংশ। ফলে বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক বিরোধ তৈরি হয়েছে।
এর আগে মরিশাসে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর-এর বৈঠকে মিসরির সফর নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী সফরের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছিল দুই দেশে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শাহের জন্য ভারত সফরের আমন্ত্রণপত্রও নিয়ে আসার কথা ছিল মিশ্রির।
নেপালের কূটনৈতিক মহল বলছে, প্রধানমন্ত্রী শাহ সাম্প্রতিক সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নিচের পর্যায়ের কোনও বিদেশি কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন না। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূতের সঙ্গেও তিনি সাক্ষাৎ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। একই নীতি ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিবের ক্ষেত্রেও বজায় রাখা হয়।
এদিকে লিপুলেখ ইস্যুতে নেপাল ভারত ও চীনের কাছে কূটনৈতিক নোট পাঠিয়েছে। জবাবে ভারত বলেছে, সীমান্ত বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে তারা প্রস্তুত। তবে দিল্লি স্পষ্ট করেছে, নেপালের একতরফা ভূখণ্ড দাবি তারা মেনে নেবে না।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জস্বওয়াল বলেন, ভারত ও নেপালের মধ্যে যে কোনো অমীমাংসিত বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব। তবে একতরফাভাবে ভূখণ্ড দাবি করা গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্যদিকে নেপালের শিক্ষামন্ত্রী সসমিত পোখারেল জানিয়েছেন, সীমান্ত ইস্যুতে ইতোমধ্যে ভারতের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
নেপালের দাবি, সুগৌলি চুক্তি অনুযায়ী লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ ও কালাপানি অঞ্চল দেশটির অবিচ্ছেদ্য অংশ। সরকার এ অবস্থান ভারত ও চীন; উভয় দেশকেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে।
তবে কূটনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যেও দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে দিল্লি। ভারত বলেছে, বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী নেপালে জ্বালানি তেল ও রাসায়নিক সার সরবরাহ চালু থাকবে।
সূত্র: দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর ঘোষণা শুভেন্দু অধিকারীর
বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য ৪৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় জমি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে বুঝিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এ তথ্য জানিয়েছেন রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (১১ মে) নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
তিনি বলেন, রাজ্যের জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে। প্রথম দিনই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতর এবং বিএসএফ-কে আমরা জমি হস্তান্তরে অনুমোদন দিলাম। ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-এর হাতে প্রয়োজনীয় জমি তুলে দেওয়া হবে।
এর আগে একাধিকবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সীমান্তে বিএসএফকে জমি না দেয়ায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এবার পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই এ বিষয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
গেল শনিবার শপথগ্রহণের পর পশ্চিমবঙ্গকে নতুন করে নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন শুভেন্দু অধিকারী। আজকের বৈঠক ঘিরে রোববার থেকেই বাড়ানো হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নবান্ন এবং আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করছেন কলকাতা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, মুখ্যমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে সবরকম নিরাপত্তা প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হয়েছে।
এদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত নিশান কোম্পানির গাড়িটি আনা হয়েছিল ঝাড়খন্ড থেকে। ঘাতকদের সন্ধানে এরইমধ্যে উত্তর প্রদেশে পৌঁছেছে পুলিশের একটি দল।
আন্তর্জাতিক
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, একদিনে নিহত ৫১
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি তৃতীয় সপ্তাহে পৌঁছালেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ হয়নি। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে গত ২৪ ঘণ্টায় চালানো হামলায় অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে দুইজন চিকিৎসাকর্মীও রয়েছেন।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করছে এবং চিকিৎসাসেবার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বিনত জবেইল জেলার কালাউইয়া ও তিবনিন এলাকায় হেলথ অথরিটির দুটি স্থাপনায় সরাসরি হামলা চালানো হয়েছে।
গত ২ মার্চ নতুন সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত দুই হাজার ৮৪৬ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, ওই সময়ের পর থেকে লেবাননে ইসরায়েলের ১৩০টির বেশি হামলায় অন্তত ১০৩ জন চিকিৎসাকর্মী নিহত এবং আরও ২৩০ জন আহত হয়েছেন।
দক্ষিণ লেবাননের টাইর অঞ্চলে লেবানিজ সিভিল ডিফেন্সের প্রধান আলি সাফিউদ্দিন আল জাজিরাকে বলেন, প্রতিটি মুহূর্তেই তারা হুমকির মধ্যে রয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা প্রতিদিন ভাবি, বেঁচে ফিরব, নাকি মারা যাব। এখানে কাজ করতে এসে আমরা যেন জীবন আগেই উৎসর্গ করেছি।”
আল জাজিরার প্রতিবেদক ওবাইদা হিট্টো জানান, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধ পরিস্থিতিতে চিকিৎসাকর্মী ও জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন। তার ভাষায়, এখন মূল প্রশ্ন হলো, সহায়তার আহ্বানে সাড়া দেওয়ার মতো কতজন মানুষ টিকে থাকবেন।
গাজা ও লেবাননে দায়িত্ব পালন করা যুদ্ধ সার্জন ও মানবিক সহায়তাকর্মী ডা. তাহির মোহাম্মদ বলেন, দুই অঞ্চলেই ইসরায়েলি হামলার ধরনে মিল রয়েছে। তিনি জানান, গাজায় যেমন চিকিৎসাকর্মী ও মেডিকেল শিক্ষার্থীরা হামলার শিকার হয়েছেন, লেবাননেও একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে।
তার দাবি, সুযোগ পেলে ইসরায়েল পুরো দক্ষিণ লেবানন দখল করে নিত। মানবজীবনের প্রতি তাদের কোনো গুরুত্ব নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২ মার্চের পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ১২ লাখের বেশি লেবানিজ নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। যদিও ১৬ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, তারপরও হামলা অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা




