রাজনীতি
স্বাধীনতার ৫০ বছরে বহু প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি : জামায়াত আমির
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালনের আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামি জনতা দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায় বিচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তৎকালীন শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল প্রত্যাশা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার। ক্ষুধা-দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও দুঃশাসন মুক্ত একটি দেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সর্বস্তরের জনতা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এবং লাখো মানুষের রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীনতা লাভ করে। তবে স্বাধীনতার ৫৫ বছরে দেশের মানুষের বহু প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি।
বুধবার (২৫ মার্চ) বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর ভেরিফায়েড ফেসবুকে পেইজে এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি।
ড. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার জুলাই গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মানুষ মুক্তি লাভ করেছে। দেশে ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। দেশবাসীর প্রত্যাশা, এমন পরিস্থিতিতে কেউ আর নতুন করে ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার দুঃসাহস দেখাবে না।
দেশের মানুষ ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশে চলাফেরা করতে পারবে, কথা বলতে পারবে। মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ ও বৈষম্য থাকবে না। নাগরিকরা জানমাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা ভোগ করবে। দেশে ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিমুক্ত হবে।
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।
তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়নে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো স্বাক্ষর করেছে এবং গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ নাগরিক ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে ম্যান্ডেট দিয়েছে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের অনীহা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো টালবাহানা জনগণ মেনে নেবে না। অবিলম্বে সরকারকে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ দ্রুত বাস্তবায়নে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা মহান স্বাধীনতা দিবসে গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে স্মরণ করছি বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ঐ সমস্ত জনতাকে যাদের ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের মর্যাদা লাভ করেছে। আমরা আরও স্মরণ করছি ২০২৪ এর জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনের সকল শহীদদের এবং আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের। আমরা সকল শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।
ড. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধ চলমান। সারা দুনিয়া এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। মানবতা আজ হুমকির সম্মুখীন। এমন সংকটময় মুহূর্তে আমি মহান স্বাধীনতা দিবসে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করছি এবং মহান আল্লাহর কাছে দেশবাসীর সুখ-সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করছি।
রাজনীতি
দেশের ক্ষতি হলে আমরা নীরবে বসে থাকব না: বিরোধীদলীয় নেতা
সরকার যদি ভালো কাজের উদ্যোগ নেয়, তাহলে আমরা সহযোগিতা করব। কিন্তু দেশের কোনো ক্ষতি হলে আমরা নীরবে বসে থাকব না বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (৯ মে) দুপুরে জাপান থেকে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, সরকারের কোনো ভুল হলে তাদের তা ধরিয়ে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। সরকার যদি ভালো কাজের উদ্যোগ নেয় তাহলে আমরা সহযোগিতা করব। কিন্তু যদি দেশের ক্ষতি হয়, আমরা নীরবে বসে থাকব না। আমরা আওয়াজ তুলব, প্রতিবাদ করব, প্রয়োজনে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলব। এটাই হবে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে আমাদের কাজ।
জাপান বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক চিন্তা করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সংসদ বিগত সংসদের থেকে ব্যতিক্রম বলে তাদের কাছে মনে হচ্ছে। বিরোধী দল যেমন সরকারের সমালোচনা করছে তেমনই তাদের সহযোগিতাও করছে। এভাবে যদি সবাই দেশকে ভালোবাসে তাহলে জাপানও বাংলাদেশের প্রতি সোহার্দ্য আরও বাড়িয়ে দেবে।
জামায়াত আমির বলেন, আমাদের দেশে বিপুল সংখ্যক ক্যান্সারের রোগী আছে, বাংলাদেশে তাদের ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা আমরা করতে পারিনি।
আমাদের যে দুই একটি ডেডিকেটেড ক্যান্সার হাসপাতাল রয়েছে, সেগুলো যথেষ্ঠ স্কিল্ড না হওয়ায় সঠিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। যার ফলে অধিকাংশ রোগীকে অনেক কষ্ট শিকার করে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হয়। আর যাদের বিদেশ যাওয়ার সামর্থ নেই, ধীরে ধীরে তারা মৃত্যুর দিকে ঢলে পড়ে। ফলে জাপানকে আমরা আহ্বান জানিয়েছি তারা যেন আমাদের দেশে একটি ক্যান্সার ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল গড়ে তোলে।
তিনি আরও বলেন, শুধু যদি হাসপাতাল হয় তাহলে আমদের দেশের মানুষেরা জানার সুযোগ পাবেনা। তবে যদি ইন্সটিটিউট হয় তাহলে উচ্চ শিক্ষার দরজা খুলে যাবে এবং স্কিল্ড হয়ে গড়ে উঠবে। জাপান এই বিষয়টিকে সক্রিয় বিবেচনায় নিয়েছে। আমরা আশা করছি এই বিষয়ে তারা (জাপান) ইতিবাচক ভাবেই আগাবেন।
জুলাই যোদ্ধাদের প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, থাইল্যান্ডে এখন জুলাই যোদ্ধাদের ৬৪ জন অবস্থান করছেন, আগে অনেক বেশি ছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ এক বছর, কেউ দশ মাস, কেউ এগারো মাস সময়ব্যাপী তারা সেখানে অবস্থান করছেন। আমাদের নৈতিক দ্বায়বদ্ধতা, নাগরিক দায়িত্ব ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও মানবিকতার জায়গা থেকে তাদের দেখতে গিয়েছিলাম।
বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আমির মো. সেলিম উদ্দিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের নেতা আতাউর রহমান সরকার।
রাজনীতি
সরকারের ভালো কাজে আমাদের পূর্ণ সমর্থন থাকবে : গোলাম পরওয়ার
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে জামায়াতে ইসলামী সংসদে ৭৭ জন সংসদ সদস্য নিয়ে একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের নেতৃত্ব দিচ্ছে। আমাদের নেতা ডা. শফিকুর রহমান পার্লামেন্টের প্রথম দিন থেকেই দুটি শব্দের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন, ‘রেসপন্সিবল’ (দায়িত্বশীল) ও ‘কনস্ট্রাক্টিভ’ (গঠনমূলক)। আমরা কেবল বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করব না। সরকারের ভালো কাজে আমাদের পূর্ণ সমর্থন থাকবে, আর জনস্বার্থবিরোধী কাজে থাকবে তীব্র প্রতিবাদ।
শনিবার (৯ মে) সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ‘মানবকল্যাণ পরিষদ ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড রিসোর্টে’ জেলা জামায়াত আয়োজিত ‘সদস্য (রোকন) শিক্ষা শিবির-২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকারি দল ও বিরোধী দল একটি সাইকেলের দুটি চাকার মতো। একটি চাকা ছাড়া যেমন সাইকেল চলে না, তেমনি বিরোধী দল ছাড়া দেশ পরিচালনা সম্ভব নয়। দেশ গঠন ও জাতীয় সংকট নিরসনে জামায়াতে ইসলামী সরকারকে সব ধরনের গঠনমূলক সহযোগিতা দিতে সর্বদা প্রস্তুত।
দেশের সাম্প্রতিক জ্বালানিসংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জ্বালানিসংকটে যখন পেট্রল পাম্পগুলোতে মাইলের পর মাইল গাড়ির লাইন ছিল, তখন বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকেই সংকট নিরসনে সম্মিলিত কমিটির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন এবং কমিটি গঠিত হয়েছে। এটি একটি নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। অনেকে বলছেন, এই কমিটির পর থেকেই পাম্পের লাইন অদৃশ্য হয়েছে।
এর অর্থ হলো, জামায়াত কোনো জাতীয়সংকটকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে ফায়দা লুটতে চায় না, বরং সমাধান করতে চায়।’
৭ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বাজেট অধিবেশন নিয়ে জামায়াতের বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে ‘প্রি-বাজেট ডিসকাশন’ সম্পন্ন করেছি। আমাদের লক্ষ্য একটি ঋণমুক্ত ও স্বনির্ভর বাজেট। এ ছাড়া সরকারকে গঠনমূলকভাবে সহায়তা করতে এবং প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আমরা সাংগঠনিকভাবে ‘শ্যাডো ক্যাবিনেট’ (ছায়া মন্ত্রিসভা) গঠনের কাজ প্রায় চূড়ান্ত করেছি। খুব শীঘ্রই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।’
নির্বাচন নিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সরিয়ে দলীয় প্রশাসক নিয়োগ করা চরমভাবে সংবিধান ও গণতন্ত্রবিরোধী। আমরা এই ‘ব্যাড কালচার’ বন্ধের আহ্বান জানাই। অবিলম্বে নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হলে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের তরুণ ও মেধাবী নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা সব কটি স্তরে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।’
জুলাই গণভোট ও সংস্কার প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, ৭০ শতাংশ মানুষের রায়ে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে রায় আসলেও সরকার গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিষয়ে ‘নোট অফ ডিসেন্ট’ বা আপত্তি দিয়ে কর্তৃত্ববাদী শাসন টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। আমরা এই সংকট নিরসনে পার্লামেন্ট ও রাজপথ উভয় জায়গাতেই সক্রিয় থাকব। আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখা সময় বলে দেবে।
আওয়ামী লীগের বর্তমান অবস্থা ও তাদের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোনো দল সন্ত্রাস বা সহিংসতায় লিপ্ত হলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সরকার ও আদালতের বিষয়। তবে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের বৈধ ও শান্তিপূর্ণ রাজনীতি করার অধিকার নিশ্চিত করা।’
উল্লেখ্য, সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই শিক্ষা শিবিরে জেলার প্রায় ৫৫০ জন রোকন সদস্য অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী এই অধিবেশনে রোকনদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নৈতিক ও আদর্শিক মান উন্নয়নের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
রাজনীতি
বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (৯ মে) দুপুর ১২টায় রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে এ সভা শুরু হয়।
দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সভায় সূচনা বক্তব্য দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভায় উপস্থিত আছেন দলের স্থায়ী কমিটির নেতারা। এ ছাড়া যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মহিলা দলসহ সব অঙ্গ সংগঠনের নেতারা সভায় যোগ দিয়েছেন।
সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক কার্যক্রম, আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশল এবং সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে সভাস্থলে সকাল থেকেই বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এ সময় দলীয় স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।
রাজনীতি
জুলাই সনদ ইস্যুতে সরকারের ছলচাতুরীর অভিযোগ নাহিদের
জুলাই সনদ ও সাংবিধানিক সংস্কার ইস্যুতে সরকার ছলচাতুরী করছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। শনিবার (৯ মে) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সংস্কারে অচলাবস্থা সমাধানে করণীয় কী’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ অভিযোগ তোলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে সরকার টালবাহানা করছে এবং বিষয়টিকে এড়িয়ে যেতে চাইছে। তবে জনগণের অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও সার্বভৌম ক্ষমতার ভিত্তিতেই সাংবিধানিক সংস্কার করতে হবে। এ লক্ষ্যে তিনি অবিলম্বে গণভোটের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল’ গঠনের দাবি জানান।
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালালেও ক্ষমতায় আসার পর তারা এর বিরোধিতা করছেন। এর মাধ্যমে বিএনপি মূলত জনগণের আকাঙ্ক্ষাকেই প্রত্যাখ্যান করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সংসদের ভেতরে ও বাইরে আলোচনার পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তবে সরকার ইতিবাচক সাড়া না দিলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
রাজনীতি
গত ১৫ বছরে অনেক আলেমের ওপর নির্যাতন হয়েছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, গত ১৫ বছরে অনেক আলেম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং বহু মানুষ কষ্টের মধ্যে জীবন কাটিয়েছেন। সবাই মিলে একটি কার্যকর সামাজিক কাঠামো গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশ নতুনভাবে পরিবর্তিত হবে।
শুক্রবার (৮ মে) নারায়ণগঞ্জের মাসদাইর সিটি কবরস্থান জামে মসজিদে জুমার নামাজের খুতবা শুরুর আগে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আরো বলেন, সমাজ পরিবর্তনে মসজিদভিত্তিক সামাজিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে বিজেপির উত্থান এবং ‘গেরুয়া রাজনীতির’ বিস্তার নিয়ে মুসলমানদের সচেতন থাকতে হবে। সমাজে ঈমানি নেতৃত্ব ও সচেতনতা না থাকলে এ ধরনের প্রভাব মোকাবিলা করা কঠিন হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, মসজিদের সঙ্গে স্কুল, হাসপাতাল ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম যুক্ত করা গেলে অসহায় মানুষ সহজে শিক্ষা, চিকিৎসা ও সহযোগিতা পাবে। বিশেষ করে এতিম, অসহায় নারী ও দরিদ্র পরিবারের পাশে মসজিদ কমিটিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জুমার নামাজ আদায় শেষে নেতাকর্মীদের নিয়ে বের হওয়ার সময় হুড়োহুড়িতে মসজিদের পেছনের ফটকের কাচের গ্লাস ভেঙে কমপক্ষে ৫ জন মুসল্লি আহত হয়।
এ সময় মসজিদের ফ্লোরে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ দেখা গেছে। মসজিদের ফটকের কাচের গ্লাসের ভাঙা টুকরো পড়ে থাকে। এ সময় মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। অনেকে সুন্নত নামাজ আদায় করতে পারেননি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ প্রকাশ করেছেন মুসল্লিরা।




