রাজনীতি
সংসদে গিয়ে নো সার্ভিস, নো বিল প্রস্তাব তুলবো: তাসনিম জারা
আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদে গেলে ‘নো সার্ভিস, নো বিল’ নীতির পক্ষে আইন প্রস্তাব তুলবেন বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির সাবেক নেত্রী ও ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনই মন্তব্য করেন তিনি।
তাসনিম জারা বলেন, আমার নির্বাচনী আসন যদিও শহরের প্রাণ কেন্দ্র তারপরও মানুষ যখন চুলা জ্বালায় রান্না করার জন্য গ্যাস বের হয় না। তবে, মাসে মাসে বিলটা ঠিকই দিতে হয়। সংসদে গিয়ে ‘নো সার্ভিস, নো বিল’ নীতির পক্ষে আইন প্রস্তাব তুলবো।
এছাড়াও সরকার যদি পাইপলাইনে গ্যাস দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে এলাকায় যাতে ভর্তুকি বা ন্যায্য দামে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়, সেই প্রস্তাবনাও রাখবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
ঢাকা-৯ আসনের এই প্রার্থী বলেন, আমার আসনে প্রায় ছয়-সাত লাখেরও বেশি মানুষ থাকে। তবে, এই বিপুল জনসংখ্যার জন্য মাত্র একটি সরকারি হাসপাতাল রয়েছে। আর এই মুগদা হাসপাতালে জনবলের সংকট আছে, যন্ত্রপাতি সংকট আছে, রোগীরা ভোগান্তির শিকার হয়, অব্যবস্থাপনা আছে। এই মেডিকেলে যাতে আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকে, পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ হয় সেজন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমি যোগাযোগ রাখবো। আমাদের যে পাড়ার ক্লিনিকগুলো আছে, সেগুলো যাতে আধুনিকায়ন করতে পারি সেটার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেব, যাতে এই ক্লিনিকগুলো মিনি হাসপাতালের মত হয়ে যায়। এছাড়াও ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সারা বছর কাজ করবে এমন স্থায়ী মশা নিধন স্কোয়াড গঠন করব। নারী স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে হাসপাতাল ও সরকারি স্থাপনায় গর্ভবতী মায়েদের জন্য নিয়মিত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা, ব্রেস্টফিডিং স্পেস এবং নারীবান্ধব টয়লেট নিশ্চিত করা হবে।
স্কুলে ভর্তিতে এমপির (সংসদ সদস্য) কোনো কোটা বা সুপারিশ থাকবে না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, মেধা ও স্বচ্ছতাই হবে একমাত্র মানদণ্ড। এছাড়া, স্কুলে আধুনিক বিজ্ঞান ল্যাব, কোডিং ক্লাব ও লাইব্রেরি গড়ে তোলা হবে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তাসনিম জারা বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন কেবল প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যম নয়, বরং এর মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা হবে, যেখানে দেশের প্রতিটি নাগরিক তাদের ন্যায্য অধিকার ভোগ করতে পারবেন। নাগরিকরা সেবা গ্রহণের জন্য প্রতিষ্ঠানের দ্বারে দ্বারে ঘুরবে না, বরং এগুলোই তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।
এমএন
রাজনীতি
রবিবারের সমাবেশ বাতিল করল বিএনপি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আগামী রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) নয়াপল্টনে অনুষ্ঠিতব্য বিএনপির নির্বাচনী সমাবেশ বাতিল করা হয়েছে। আজ শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রিজভী বলেন, ‘গতকাল আমরা একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলাম। পরবর্তী সময় নেতাদের সভায় আলাপ-আলোচনা করে ৮ তারিখের সমাবেশ বাতিল করেছি।
এসময় দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় জনসভা করবেন। ঢাকা মহানগরীতে কেন্দ্রীয় যে জনসভা করার কথা ছিল, আপাতত তা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন প্রান্তে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনী বক্তব্য দিতে পারেন।’
এর আগে গতকাল কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেছিলেন, আগামী রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনের আগে বিএনপির শেষ জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।
এমএন
রাজনীতি
বিএনপিতে যোগ দিলেন জাকসু ভিপি জিতু
ঢাকা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) ভিপি আবদুর রশিদ জিতু আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দিয়েছেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ছাত্রদলের সভাপতি-সেক্রেটারি ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর উপস্থিতিতে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন।
এ সময় জিতু বলেন, একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমি আজ থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের হয়ে কাজ করব ইনশাআল্লাহ।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, জাকসু ভিপি জিতুসহ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সংসদের নির্বাচিত অনেক প্রতিনিধি আজ বিএনপি ও ছাত্রদলে যোগ দিয়েছে। আমরা তাদেরকে স্বাগত জানাই।
এদিন আবদুর রশিদ জিতুর বিএনপিতে যোগদান ছাড়াও জাকসুর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা দলটির অঙ্গ-সংগঠন ছাত্রদলে যোগ দিয়েছেন। তারা হলেন- শহিদ সালাম বরকত হলের ভিপি মারুফ হাসান ও জিএস মাসুদ রানা মিন্টু এবং আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের এজিএস রিপন মন্ডল। তারা এদিন যোগদান অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও ছাত্রদলে যোগদান করেছেন নবাব সলিমুল্লাহ হলের ভিপি ইবনে শিহাব, আল বেরুনী হলের ভিপি রিফাত আহমেদ শাকিল, আফম কামালউদ্দিন হলের ভিপি জিএম এম রায়হান কবীর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ভিপি অমিত বনিক, নওয়াব ফয়জুননেসা হলের ভিপি বুবলি আহমেদ, বেগম খালেদা জিয়া হলের ভিপি ফারহানা বিথি, মীর মোশাররফ হোসেন হলের জিএস শাহরিয়ার নাজিম রিয়াদ, শহীদ রফিক জব্বার হলের জিএস শরীফুল ইসলাম।
আব্দুর রশিদ জিতু বিশ্ববিদ্যালয়ের গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক এবং তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।
জিতু জুলাই আন্দোলনে প্রথম থেকে সোচ্চার ছিলেন। এমনকি গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী শিক্ষার্থীদের স্বার্থে যৌক্তিক সব আন্দোলনের প্রথম সারিতে ছিলেন তিনি। মূলত জুলাই আন্দোলন থেকে তার জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে জাবি ক্যাম্পাসে।
এমএন
রাজনীতি
বিএনপির ইশতেহার ঘোষণা বিকেলে, গুরুত্ব পাবে যেসব বিষয়
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ইশতেহার ঘোষণা করবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবীর খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সভাপতিত্ব করবেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দেশের বরেণ্য নাগরিকদের পাশাপাশি ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।
দলীয় সূত্র জানায়, ইশতেহারে বিএনপির ৩১ দফা এবং জুলাই সনদকে মূল ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের চাওয়া-পাওয়াকে ইশতেহারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জনকল্যাণমূলক কাজের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড এবং কৃষক কার্ডের মতো আধুনিক সেবাগুলো চালুর প্রতিশ্রুতি থাকছে এই দলিলে।
এ ছাড়া ইশতেহারে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা এবং প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণের পাশাপাশি দুর্নীতি দমনে শক্তিশালী কাঠামোর রূপরেখা থাকবে। মানবাধিকার রক্ষা, অর্থনীতি এবং পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরা হবে। আলেম-ওলামা, কৃষক এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কল্যাণে বিশেষ অগ্রাধিকারমূলক প্রতিশ্রুতিও যুক্ত করা হয়েছে এই নির্বাচনী ইশতেহারে।
এমএন
রাজনীতি
টেকনাফে বিএনপির প্রচারণায় হামলা, গুলিবিদ্ধ ৩ শিশুসহ ৫
কক্সবাজারের টেকনাফে বিএনপির নির্বাচনি প্রচারণা চলাকালে দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলায় ৩ শিশুসহ ৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের আলীখালীর রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন সড়কে সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার সময় এ গুলির ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে দুই শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাত ২টার দিকে তাদেরকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীর জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে কক্সবাজার-৪ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের ২০-২৫ জন সমর্থক একটি মিনিট্রাক (ডাম্পার) থেকে আলীখালীতে সড়কে অবস্থানকালীন নাচগান-স্লোগান দিতে থাকলে উৎসুক জনতা সেখানে ভীড় করেন।
এসময় হঠাৎ অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের ছোঁড়া গুলিতে আশেপাশে থাকা ৫ জন গুলিবিদ্ধ হয় এবং অতর্কিত গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে প্রচারণার গাড়িটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ও উপস্থিত লোকজনের ছোটাছুটি শুরু হয়।
তাৎক্ষণিক আহতদের উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী একটি হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে তাদের কক্সবাজারে প্রেরণ করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
আহতরা হলেন হ্নীলার ৯ নং ওয়ার্ডের মোচনী গ্রামের বাসিন্দা ভেক্কা মিয়ার ছেলে বাচামিয়া (৪৫), ৮নং ওয়ার্ডের আলীখালী গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলামের ছেলে শাহাব উদ্দিন (১১), একই এলাকার আব্দুল জলিলের শিশু কন্যা নুসরাত জান্নাত রাফি (১৮ মাস), আলীখালীর পার্শ্ববর্তী ২৫ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/ফাইভ ব্লকের বাসিন্দা নুর হোসেনের ছেলে আব্দুর রহমান (৩৭) ও ডি/ফোর ব্লকের বাসিন্দা নুরুল হকের ছেলে মোহাম্মদ জিসান (১৩)।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেকোরেশন শ্রমিক বাচা মিয়া বলেন, আলীখালীর মোহাম্মদ মিয়ার বাড়ির পাশে বিয়ের ডেকোরেশনের (সাজ-সজ্জা) কাজে ছিলাম, একটু দূরে একটি বিএনপির প্রচারণা গাড়ি থেকে বাজানো হচ্ছিলো। হঠাৎ করে গুলি ছোঁড়া হয় , প্রথমে মনে করেছি বারুদের শব্দ। আমার হাতে গুলি লেগেছে, কারা গুলি করেছে বুঝে উঠতে পারিনি।
বাঁ পায়ে গুলিবিদ্ধ আব্দুর রহমান জানান, নামাজ পড়ে এসে সড়কের পাশে একটি দোকানে দাঁড়িয়ে থেকে ভোটের প্রচারণা দেখছিলাম, হঠাৎ গুলির শব্দ শুনি। আমার বাম পায়ে গুলি লাগলে ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়ি, পরে হাসপাতালে আসি।
গুলিবিদ্ধ দুই শিশু নুসরাত জান্নাত রাফি ও শাহাব উদ্দিনকে চট্টগ্রাম নেওয়া হয়েছে। রাফির মা ছমিরা বেগম জানিয়েছেন কন্যাকে নিয়ে তিনি সড়কের পার্শ্ববর্তী ঘরের দরজায় দাঁড়ালে হঠাৎ রাফির পিঠে দুটি গুলি এসে পড়ে। অন্যদিকে শাহাব উদ্দিনের কোমরে গুলি লেগেছে বলে জানা গেছে।
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, অতর্কিত হামলায় ৫ জন আহত হয়েছে বলে খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে দ্রুতই পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ক্যাম্প এলাকায় আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক মোহাম্মদ কাউছার সিকদার জানান, বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর একটি প্রচারণা ট্রাক ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় জনসমাগম ঘটে। এসময় দুর্বৃত্তরা হঠাৎ উপস্থিত জনতার ওপর গুলি চালায়।
হামলাকারীদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি উল্লেখ করে তিনি জানান, এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।
এমএন
রাজনীতি
ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও স্বাস্থ্যসেবার প্রতিশ্রুতি জামায়াত প্রার্থী কামাল হোসেনের
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৫ (যাত্রাবাড়ী-ডেমরা) আসনে বিজয়ী হলে একটি দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন এবং বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন ১১ দলীয় জোট ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন। নির্বাচনী এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সামনে রেখেই নির্বাচনী পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ১১ দলীয় জোট জামায়াত প্রার্থী কামাল হোসেন তাঁর নির্বাচনী পরিকল্পনা ও এলাকার উন্নয়নের ভাবনা তুলে ধরেন।
কামাল হোসেন বলেন,ঢাকা-৫ এলাকার মানুষের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তিনি কাজ করতে চান। তাঁর পরিকল্পনার মূলে রয়েছে তিনটি খাত, তা হলো- শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান। এই তিন খাতকেই তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
শিক্ষা খাতের প্রসঙ্গে কামাল হোসেন বলেন, ঢাকা-৫ আসনে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তীব্র সংকট রয়েছে। এই আসনে একটি আধুনিক সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠা করা এবং বিদ্যমান স্কুল-মাদ্রাসার অবকাঠামো উন্নয়ন করা এবং শিক্ষার মান বাড়ানোর তার প্রধান লক্ষ্য।
স্বাস্থ্যসেবার প্রসঙ্গে কামাল হোসেন বলেন, এই এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই মানসম্মত চিকিৎসা সেবার বাইরে রয়েছে। তার পরিকল্পনায় যাত্রাবাড়ী এবং ডেমরাবাসীর জন্য ২৫০ থেকে ৫০০ শয্যার একটি আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা নিশ্চিত করা হবে।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে কামাল হোসেন বলেন, ঢাকা-৫ অঞ্চলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠান- লতিফ বাওয়ানী জুট মিল ও করিম জুট মিল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে আছে। এই মিল দুটি পুনরায় চালু করে স্থানীয় যুবকদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। একই সঙ্গে যুবকদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলে দেশে ও বিদেশে কাজের সুযোগ তৈরির কথাও বলেন।
নগর ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে জলাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেন। জলাবদ্ধতা নিরসনে আধুনিক ড্রেনেজ সিস্টেম এবং যাত্রাবাড়ীর ডাম্পিং স্টেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে দুর্গন্ধ ও জীবাণুর বিস্তার রোধ করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসনের বিষয়ে কামাল হোসেন বলেন, “আমি নিজে দুর্নীতি করব না এবং দুর্নীতির ছায়াকেও আশপাশে ঘেঁষতে দেব না।” চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সন্ত্রাস ও ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট নির্মূল করার বিষয়েও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এলাকার দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট নিরসনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
নির্বাচনী আচরণবিধি প্রসঙ্গে কামাল হোসেন বলেন, তিনি শুধু ব্যক্তি হিসেবে নন, তার দল জামায়াতে ইসলামীও সবসময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তার মতে, একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর মূল দায়িত্বই হলো আইন প্রণয়ন, আইনের প্রয়োগ তদারকি এবং বাজেট প্রণয়ন, আর সেই জায়গা থেকেই আইন মানা অত্যন্ত জরুরি। তবে তিনি অভিযোগ করেন, ‘বাস্তবে সমান মাঠ পাওয়া যাচ্ছে না।’ তবে দলীয় কর্মীদের আইন মেনেই প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
গণভোট প্রসঙ্গেও তিনি বলেন,আসন্ন নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ও সংস্কারের প্রশ্নে যে গণভোট হওয়ার কথা রয়েছে। সে বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন,দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও জুলাই বিপ্লবের পক্ষে অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবে।
নিজের রাজনৈতিক দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কামাল হোসেন বলেন, তাঁর রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। জুলাই শহিদদের যে আকাঙ্ক্ষার একটি ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ- সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করাই তাঁর অঙ্গীকার।
নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে কামাল হোসেন বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ে তিনি ভালো সাড়া পাচ্ছেন।’
নিজের রাজনৈতিক জীবনের আন্দোলন সংগ্রামের কথা স্মরণ করে কামাল হোসেন বলেন, তিনি ৯ বার কারাবরণ করেছেন এবং মোট ৮৫৩ দিন কারাগারে ছিলেন। তাঁর ভাষায়, তিনি ও তাঁর কর্মীরা সবাই নির্যাতনের শিকার। এখন তাঁরা ন্যায়ের পক্ষে এক কাতারে দাঁড়িয়ে লড়ছেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশের মানুষ এখন রাজনৈতিকভাবে অনেক বেশি সচেতন। ন্যায়সঙ্গত প্রতিযোগিতা হলে তিনি বিজয়ী হবেন বলেও প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্র জানায়, ঢাকা-৫ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৪ হাজার ৫৯৪ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৩৯৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৫ জন। পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছেন ৪ হাজার ৫৪১ জন ভোটার। এই আসনে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৫০টি।
ইসি আরও জানায়, এই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ কামাল হোসেন (দাঁড়িপাল্লা) ছাড়াও বিএনপির মো. নবী উল্লা (ধানের শীষ), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি’র তোফাজ্জল হোসেন মোস্তফা (কাস্তে), জাতীয় পার্টির মীর আব্দুস সবুর (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইবরাহীম (হাতপাখা), বাংলাদেশ লেবার পার্টি’র মো. গোলাম আজম (আনারস), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট-এর মো. তাইফুর রহমান রাহী (ছড়ি), বাংলাদেশ কংগ্রেস-এর মো. সাইফুল আলম (ডাব), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)’র মো. হুমায়ুন কবির (ছাতা), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)’র শাহিনুর আক্তার সুমি (কাঁচি) এবং গণঅধিকার পরিষদ-এর সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম (ট্রাক) প্রার্থী রয়েছেন।
এমএন



