রাজনীতি
ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও স্বাস্থ্যসেবার প্রতিশ্রুতি জামায়াত প্রার্থী কামাল হোসেনের
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৫ (যাত্রাবাড়ী-ডেমরা) আসনে বিজয়ী হলে একটি দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন এবং বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন ১১ দলীয় জোট ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন। নির্বাচনী এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সামনে রেখেই নির্বাচনী পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ১১ দলীয় জোট জামায়াত প্রার্থী কামাল হোসেন তাঁর নির্বাচনী পরিকল্পনা ও এলাকার উন্নয়নের ভাবনা তুলে ধরেন।
কামাল হোসেন বলেন,ঢাকা-৫ এলাকার মানুষের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তিনি কাজ করতে চান। তাঁর পরিকল্পনার মূলে রয়েছে তিনটি খাত, তা হলো- শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান। এই তিন খাতকেই তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
শিক্ষা খাতের প্রসঙ্গে কামাল হোসেন বলেন, ঢাকা-৫ আসনে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তীব্র সংকট রয়েছে। এই আসনে একটি আধুনিক সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠা করা এবং বিদ্যমান স্কুল-মাদ্রাসার অবকাঠামো উন্নয়ন করা এবং শিক্ষার মান বাড়ানোর তার প্রধান লক্ষ্য।
স্বাস্থ্যসেবার প্রসঙ্গে কামাল হোসেন বলেন, এই এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই মানসম্মত চিকিৎসা সেবার বাইরে রয়েছে। তার পরিকল্পনায় যাত্রাবাড়ী এবং ডেমরাবাসীর জন্য ২৫০ থেকে ৫০০ শয্যার একটি আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা নিশ্চিত করা হবে।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে কামাল হোসেন বলেন, ঢাকা-৫ অঞ্চলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠান- লতিফ বাওয়ানী জুট মিল ও করিম জুট মিল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে আছে। এই মিল দুটি পুনরায় চালু করে স্থানীয় যুবকদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। একই সঙ্গে যুবকদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলে দেশে ও বিদেশে কাজের সুযোগ তৈরির কথাও বলেন।
নগর ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে জলাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেন। জলাবদ্ধতা নিরসনে আধুনিক ড্রেনেজ সিস্টেম এবং যাত্রাবাড়ীর ডাম্পিং স্টেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে দুর্গন্ধ ও জীবাণুর বিস্তার রোধ করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসনের বিষয়ে কামাল হোসেন বলেন, “আমি নিজে দুর্নীতি করব না এবং দুর্নীতির ছায়াকেও আশপাশে ঘেঁষতে দেব না।” চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সন্ত্রাস ও ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট নির্মূল করার বিষয়েও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এলাকার দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট নিরসনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
নির্বাচনী আচরণবিধি প্রসঙ্গে কামাল হোসেন বলেন, তিনি শুধু ব্যক্তি হিসেবে নন, তার দল জামায়াতে ইসলামীও সবসময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তার মতে, একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর মূল দায়িত্বই হলো আইন প্রণয়ন, আইনের প্রয়োগ তদারকি এবং বাজেট প্রণয়ন, আর সেই জায়গা থেকেই আইন মানা অত্যন্ত জরুরি। তবে তিনি অভিযোগ করেন, ‘বাস্তবে সমান মাঠ পাওয়া যাচ্ছে না।’ তবে দলীয় কর্মীদের আইন মেনেই প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
গণভোট প্রসঙ্গেও তিনি বলেন,আসন্ন নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ও সংস্কারের প্রশ্নে যে গণভোট হওয়ার কথা রয়েছে। সে বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন,দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও জুলাই বিপ্লবের পক্ষে অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবে।
নিজের রাজনৈতিক দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কামাল হোসেন বলেন, তাঁর রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। জুলাই শহিদদের যে আকাঙ্ক্ষার একটি ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ- সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করাই তাঁর অঙ্গীকার।
নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে কামাল হোসেন বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ে তিনি ভালো সাড়া পাচ্ছেন।’
নিজের রাজনৈতিক জীবনের আন্দোলন সংগ্রামের কথা স্মরণ করে কামাল হোসেন বলেন, তিনি ৯ বার কারাবরণ করেছেন এবং মোট ৮৫৩ দিন কারাগারে ছিলেন। তাঁর ভাষায়, তিনি ও তাঁর কর্মীরা সবাই নির্যাতনের শিকার। এখন তাঁরা ন্যায়ের পক্ষে এক কাতারে দাঁড়িয়ে লড়ছেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশের মানুষ এখন রাজনৈতিকভাবে অনেক বেশি সচেতন। ন্যায়সঙ্গত প্রতিযোগিতা হলে তিনি বিজয়ী হবেন বলেও প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্র জানায়, ঢাকা-৫ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৪ হাজার ৫৯৪ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৩৯৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৫ জন। পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছেন ৪ হাজার ৫৪১ জন ভোটার। এই আসনে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৫০টি।
ইসি আরও জানায়, এই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ কামাল হোসেন (দাঁড়িপাল্লা) ছাড়াও বিএনপির মো. নবী উল্লা (ধানের শীষ), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি’র তোফাজ্জল হোসেন মোস্তফা (কাস্তে), জাতীয় পার্টির মীর আব্দুস সবুর (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইবরাহীম (হাতপাখা), বাংলাদেশ লেবার পার্টি’র মো. গোলাম আজম (আনারস), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট-এর মো. তাইফুর রহমান রাহী (ছড়ি), বাংলাদেশ কংগ্রেস-এর মো. সাইফুল আলম (ডাব), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)’র মো. হুমায়ুন কবির (ছাতা), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)’র শাহিনুর আক্তার সুমি (কাঁচি) এবং গণঅধিকার পরিষদ-এর সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম (ট্রাক) প্রার্থী রয়েছেন।
এমএন
রাজনীতি
রাষ্ট্রপতিকে বাদ দিতেই হবে, কোনো অপশন নেই: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের (চুপ্পু) অভিশংসন জরুরি বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, নয়ছয় না করে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের মাধ্যমে দ্রুত বিদায় করতে হবে।
শনিবার (২১ মার্চ) সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই দাবি তুলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, রাষ্ট্রপতি (চুপ্পু) এখানে এসেছেন। মুসল্লিরা প্রতিবাদ করেছেন। আমরা সরকারকে দ্রুত জানাব যে, নয়ছয় না করে রাষ্ট্রপতির (চুপ্পু) অভিশংসন জরুরি। তাকে বাদ দিতেই হবে। সরকারের কোনো অপশন নেই। যদি বাদ না দেওয়া হয়, তাহলে আমাদের আন্দোলনে যেতে হবে।
ঢাকা-৮ আসনের ভোটারদের ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ঢাকা-৮ আসনে যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন, তাদের ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি নতুন শপথ নিতে জাতীয় ঈদগাহে এসেছি। কারণ, আমরা অনেক শহীদ ভাইকে নিয়ে আজ নামাজ পড়তে পারতাম। আমরা চাই বাংলাদেশে শহীদ ও আহতদের বিচার বুঝে পাব। একই সঙ্গে বুঝে পাব শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার।
আগামী দিনের কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা কয়েক দিন ধৈর্য ধারণ করছি। সবকিছু সচল হলে আমরা রাজপথে যেতে বাধ্য হবো, ইনশা আল্লাহ।
রাজনীতি
মনিপুরে ঈদের নামাজ পড়লেন বিরোধীদলীয় নেতা
রাজধানীর মিরপুরে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ (মূল বালিকা ক্যাম্পাস) মাঠে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।শনিবার (২১ মার্চ) সকালে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে আয়োজিত ঈদ জামাতে অংশ নেন তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই মিরপুর ও এর আশপাশের এলাকা থেকে সাধারণ মুসল্লিরা মনিপুর স্কুল মাঠে ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য সমবেত হন। বিরোধীদলীয় নেতার আগমনকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
নামাজ শেষে খুতবা পাঠ করা হয়। এরপর দেশ ও জাতির কল্যাণ, সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন ডা. শফিকুর রহমান। মোনাজাত শেষে তিনি উপস্থিত মুসল্লিদের সঙ্গে কোলাকুলি ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এ সময় তার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
রাজনীতি
ঈদযাত্রীদের ওপর চরম জুলুম করা হচ্ছে : জামায়াত আমির
ঈদযাত্রীদের ওপর চরম জুলুম করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশ এবার ইতিহাসের জঘন্যতম অব্যবস্থাপনা প্রত্যক্ষ করল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসে এ কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ঈদে নাড়ির টানে ঘরে ফেরা লোকজনের ওপর চরম জুলুম করা হচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে শহর থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ আপনজনের সঙ্গে মিলেমিশে ঈদ করার জন্য একবুক প্রত্যাশা ও আনন্দ নিয়ে সারা বছর ধরে অপেক্ষা করেন।’
তবে এবার ঈদযাত্রায় জঘন্যতম অব্যবস্থাপনা হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘ইতিহাসের জঘন্যতম অব্যবস্থাপনা বাংলাদেশ এবার প্রত্যক্ষ করল। এর দায় অবশ্যই সরকারকে নিতে হবে।’
কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘সরকার গঠনের পরপরই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, এ অব্যবস্থাপনার মূলভিত্তি এটিই।’
জনগণকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘বাস মালিকরা স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে ঈদ যাত্রায় কম ভাড়া নিচ্ছে, যা চরম মিথ্যাচার। জনগণের এই দুঃখ এবং আফসোস দেখবে কে? তাহলে কি প্রিয় বাংলাদেশ আবারও ফ্যাসিবাদের কবলে পড়তে যাচ্ছে?’
হুঁশিয়ারি দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘কেউ ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চাইলে তাদের জন্য দুঃসংবাদ— জেগে ওঠা যুবসমাজ ও জনগণ তা বরদাশত করবে না। অতএব সময় থাকতে সাবধান হওয়া দরকার। অন্যথায় বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদেরই এসব দায় বহন করতে হবে।’
রাজনীতি
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে টালবাহানা মেনে নেবে না জনগণ: জামায়াত আমির
দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর সমাগত পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেছেন, গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের কোনো টালবাহানা জনগণ মেনে নেবে না।
বিবৃতিতে জামায়াত আমির বলেন, জাতি এমন একসময়ে ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করতে যাচ্ছে, যখন দেশে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটেছে এবং একটি ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। দেশবাসীর প্রত্যাশা, নতুন করে কেউ আর ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার দুঃসাহস দেখাবে না। মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলবে, চলাফেরা করবে। সমাজে কোনো ভেদাভেদ ও বৈষম্য থাকবে না এবং নাগরিকেরা জানমাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা পাবেন। দেশ হবে ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিমুক্ত। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ বাস্তবায়নে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো স্বাক্ষর করেছে এবং গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ নাগরিক ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। এরপরও এই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের অনীহা লক্ষ করা যাচ্ছে। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো টালবাহানা জনগণ মেনে নেবে না। তাই সরকারি ও বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণের আহ্বান জানান তিনি।
যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে জাতি ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশ পেয়েছে, শুভেচ্ছা বার্তায় তাদের জন্য দোয়া কামনা করেন জামায়াত আমির। একই সঙ্গে আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী ব্যক্তিদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন তিনি। পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে সব ভেদাভেদ ভুলে মানুষে মানুষে দয়া, সৌভ্রাতৃত্ব, সাম্য, ঐক্য ও ভালোবাসার এক মহাসেতুবন্ধ গড়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, আল্লাহভীতি তথা তাকওয়ার গুণাবলি সৃষ্টির মাধ্যমে মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর পবিত্র ঈদুল ফিতর মুসলমানদের জীবনে শান্তি ও আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে; ধনী-গরিব সব শ্রেণির মধ্যে নিবিড় ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। তাই ঐক্যবদ্ধভাবে একটি হিংসা ও বিদ্বেষমুক্ত সমাজ গঠনে তৎপর হওয়ার পাশাপাশি সমাজের অবহেলিত, বঞ্চিত ও নিপীড়িত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার এবং একে অপরের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পরিশেষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে দেশবাসীর সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ জীবন কামনা করে সবাইকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান ডা. শফিকুর রহমান।
রাজনীতি
তিন দিনব্যাপী ঈদ উৎসবে নগরবাসীকে শামিলের আহ্বান নাহিদ ইসলামের
তিন দিনব্যাপী ঈদ উৎসবে নগরবাসীকে শামিলের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাতে ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান।
পোস্টে তিনি বলেন, যান্ত্রিক জীবনযাত্রায় ক্লান্ত, কর্মব্যস্ত নগরবাসীর জন্য সুখবর! গত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও নাগরিক উদ্যোগে রাজধানীতে আয়োজিত হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ঈদ উৎসব।
চাঁদরাতে মেহেদী উৎসব, ঈদের নামাজের পর বর্ণাঢ্য ঈদ মিছিল এবং পরদিন ঘুড়ি উৎসব; এমন অনন্য সব আয়োজনে আবারও ফিরে আসছে আমাদের পাঁচশো বছরের ঐতিহ্য।
তিনি বলেন, সব ভেদাভেদ ভুলে এই আনন্দোৎসবে শামিল হওয়ার জন্য নগরবাসীর প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি।



