রাজনীতি
ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও স্বাস্থ্যসেবার প্রতিশ্রুতি জামায়াত প্রার্থী কামাল হোসেনের
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৫ (যাত্রাবাড়ী-ডেমরা) আসনে বিজয়ী হলে একটি দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন এবং বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন ১১ দলীয় জোট ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন। নির্বাচনী এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সামনে রেখেই নির্বাচনী পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ১১ দলীয় জোট জামায়াত প্রার্থী কামাল হোসেন তাঁর নির্বাচনী পরিকল্পনা ও এলাকার উন্নয়নের ভাবনা তুলে ধরেন।
কামাল হোসেন বলেন,ঢাকা-৫ এলাকার মানুষের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তিনি কাজ করতে চান। তাঁর পরিকল্পনার মূলে রয়েছে তিনটি খাত, তা হলো- শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান। এই তিন খাতকেই তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
শিক্ষা খাতের প্রসঙ্গে কামাল হোসেন বলেন, ঢাকা-৫ আসনে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তীব্র সংকট রয়েছে। এই আসনে একটি আধুনিক সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠা করা এবং বিদ্যমান স্কুল-মাদ্রাসার অবকাঠামো উন্নয়ন করা এবং শিক্ষার মান বাড়ানোর তার প্রধান লক্ষ্য।
স্বাস্থ্যসেবার প্রসঙ্গে কামাল হোসেন বলেন, এই এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই মানসম্মত চিকিৎসা সেবার বাইরে রয়েছে। তার পরিকল্পনায় যাত্রাবাড়ী এবং ডেমরাবাসীর জন্য ২৫০ থেকে ৫০০ শয্যার একটি আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা নিশ্চিত করা হবে।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে কামাল হোসেন বলেন, ঢাকা-৫ অঞ্চলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠান- লতিফ বাওয়ানী জুট মিল ও করিম জুট মিল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে আছে। এই মিল দুটি পুনরায় চালু করে স্থানীয় যুবকদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। একই সঙ্গে যুবকদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলে দেশে ও বিদেশে কাজের সুযোগ তৈরির কথাও বলেন।
নগর ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে জলাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেন। জলাবদ্ধতা নিরসনে আধুনিক ড্রেনেজ সিস্টেম এবং যাত্রাবাড়ীর ডাম্পিং স্টেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে দুর্গন্ধ ও জীবাণুর বিস্তার রোধ করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসনের বিষয়ে কামাল হোসেন বলেন, “আমি নিজে দুর্নীতি করব না এবং দুর্নীতির ছায়াকেও আশপাশে ঘেঁষতে দেব না।” চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সন্ত্রাস ও ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট নির্মূল করার বিষয়েও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এলাকার দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট নিরসনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
নির্বাচনী আচরণবিধি প্রসঙ্গে কামাল হোসেন বলেন, তিনি শুধু ব্যক্তি হিসেবে নন, তার দল জামায়াতে ইসলামীও সবসময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তার মতে, একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর মূল দায়িত্বই হলো আইন প্রণয়ন, আইনের প্রয়োগ তদারকি এবং বাজেট প্রণয়ন, আর সেই জায়গা থেকেই আইন মানা অত্যন্ত জরুরি। তবে তিনি অভিযোগ করেন, ‘বাস্তবে সমান মাঠ পাওয়া যাচ্ছে না।’ তবে দলীয় কর্মীদের আইন মেনেই প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
গণভোট প্রসঙ্গেও তিনি বলেন,আসন্ন নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ও সংস্কারের প্রশ্নে যে গণভোট হওয়ার কথা রয়েছে। সে বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন,দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও জুলাই বিপ্লবের পক্ষে অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবে।
নিজের রাজনৈতিক দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কামাল হোসেন বলেন, তাঁর রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। জুলাই শহিদদের যে আকাঙ্ক্ষার একটি ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ- সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করাই তাঁর অঙ্গীকার।
নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে কামাল হোসেন বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ে তিনি ভালো সাড়া পাচ্ছেন।’
নিজের রাজনৈতিক জীবনের আন্দোলন সংগ্রামের কথা স্মরণ করে কামাল হোসেন বলেন, তিনি ৯ বার কারাবরণ করেছেন এবং মোট ৮৫৩ দিন কারাগারে ছিলেন। তাঁর ভাষায়, তিনি ও তাঁর কর্মীরা সবাই নির্যাতনের শিকার। এখন তাঁরা ন্যায়ের পক্ষে এক কাতারে দাঁড়িয়ে লড়ছেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশের মানুষ এখন রাজনৈতিকভাবে অনেক বেশি সচেতন। ন্যায়সঙ্গত প্রতিযোগিতা হলে তিনি বিজয়ী হবেন বলেও প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্র জানায়, ঢাকা-৫ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৪ হাজার ৫৯৪ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৩৯৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৫ জন। পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছেন ৪ হাজার ৫৪১ জন ভোটার। এই আসনে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৫০টি।
ইসি আরও জানায়, এই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ কামাল হোসেন (দাঁড়িপাল্লা) ছাড়াও বিএনপির মো. নবী উল্লা (ধানের শীষ), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি’র তোফাজ্জল হোসেন মোস্তফা (কাস্তে), জাতীয় পার্টির মীর আব্দুস সবুর (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইবরাহীম (হাতপাখা), বাংলাদেশ লেবার পার্টি’র মো. গোলাম আজম (আনারস), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট-এর মো. তাইফুর রহমান রাহী (ছড়ি), বাংলাদেশ কংগ্রেস-এর মো. সাইফুল আলম (ডাব), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)’র মো. হুমায়ুন কবির (ছাতা), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)’র শাহিনুর আক্তার সুমি (কাঁচি) এবং গণঅধিকার পরিষদ-এর সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম (ট্রাক) প্রার্থী রয়েছেন।
এমএন
রাজনীতি
বিএনপির নির্বাচনী সমাবেশ রবিবার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে নির্বাচনী সমাবেশ করবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আগামী রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনে এ সমাবেশ করবে দলটি।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, দুপুর ২টায় বিএনপির নির্বাচনী সর্বশেষ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এমএন
রাজনীতি
নির্বাচনী উত্তাপ ছড়াতে ৭ ফেব্রুয়ারি উত্তরাঞ্চল সফরে তারেক রহমান
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ হিসাবে দেশের উত্তরাঞ্চল সফরে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) তিনি ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও নীলফামারী—এই তিন জেলায় নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেবেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দিনাজপুর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দিনাজপুর-৬ আসনের মনোনীত প্রার্থী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, এবার বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনি সফর সড়ক পথে নয়, তিনি হেলিকপ্টার যোগে দিনাজপুরসহ রংপুর বিভাগের ৩টি জেলায় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন। তবে ৭ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারিত হলেও এখনো সময় ঠিক হয়নি। এটা নির্ভর করবে নিরাপত্তা, আবহাওয়া ও তার নির্বাচনি সফরসূচি নির্ধারকদের ওপর।
তিনি বলেন, এদিন তারেক রহমান দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও নীলফামারী জেলায় দলের মনোনীত প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখবেন।
ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দিনাজপুর-৬ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং নীলফামারী-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শাহরিন ইসলাম তুহিনের নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, দিনাজপুরে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনি জনসভা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সফল করতে জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীদের সাথে বৈঠক করেছি। সেই সাথে আমরা প্রস্তুতি কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছি।
তিনি জানান, ওই দিন তারেক রহমানের প্রয়াত নানা ইস্কান্দার মজুমদার, নানি তৈয়বা মজুমদার ও খালা সাবেক মন্ত্রী খুরশীদ জাহান হকের কবর জিয়ারত করার কথা রয়েছে।
এমএন
রাজনীতি
শুক্রবার নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করবে বিএনপি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশের তারিখ ঘোষণা করেছে বিএনপি। আগামী শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দলটি তাদের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও জনকল্যাণমুখী ইশতেহার আনুষ্ঠানিকভাবে জাতির সামনে তুলে ধরবে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে রাজধানী ঢাকাতে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র এবং বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, ইশতেহার তৈরির যাবতীয় তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক কাজ ইতিমধ্যেই সাফল্যের সঙ্গে গুছিয়ে আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিএনপি একটি গণমুখী রাজনৈতিক দল হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অভাব-অভিযোগ এবং প্রত্যাশার কথা শুনেছে। জনগণের এই সরাসরি অংশগ্রহণ ও মতামতের প্রতিফলন ঘটিয়েই এবারের ইশতেহারটি চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা দেশের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে দলটির বিশ্বাস।
মাহদী আমিন আরও বলেন , বিএনপির প্রস্তাবিত রাষ্ট্র সংস্কারের ‘৩১ দফা’ এবং ‘২৭ দফা’র মূল ভিত্তিগুলোর আলোকেই দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। ওইসব কর্মসূচির অভিজ্ঞতা এবং তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইশতেহারটি প্রণীত হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান, কৃষকের অধিকার, সুশাসন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়গুলো এখানে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
এমএন
রাজনীতি
ইশতেহারে সরকারি চাকরি নিয়ে যে ঘোষণা দিল জামায়াতে ইসলামী
২৬ বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে এ ইশতেহার তুলে ধরেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। এই ইশতেহারে সরকারি চাকরিতে বিনা মূল্যে আবেদনের ঘোষণা দিয়েছে দলটি।
২৬ বিষয়ে অগ্রাধিকার মধ্যে অষ্টম নম্বরে বলা হয়, প্রযুক্তি, ম্যানুফ্যাকচারিং, কৃষি ও শিল্পসহ নানা সেক্টরে ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
সরকারি চাকরিতে বিনা মূল্যে আবেদন, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ও সব ধরনের বৈষম্য দূরীকরণ।
ইশতেহারে বলা হয়, বিসিএসসহ সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় দীয়সূত্রিতা কমিয়ে একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া বিজ্ঞপ্তি থেকে চূড়ান্ত নিয়োগ পর্যন্ত এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া সরকারি চাকরিতে আবেদেনের ক্ষেত্রে কোনো ফি নেওয়া হবে না। চাকরিতে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন দলীয় আনুগত্যে নয়;বরং মেদা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হবে।
এ ছাড়া ইশতেহারে সংস্কার, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন, সুশাসন নিশ্চিত, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় উন্নতি, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণ প্রভৃতি বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
৯০ পৃষ্ঠার ইশতেহারে জামায়াত মোট ৪১টি খাতে তার পরিকল্পনা তুলে ধরেছে।
রাজনীতি
বাংলাদেশকে ৩৫তম থেকে ২০তম অর্থনীতিতে নিতে চায় জামায়াত
বিশ্বের ৩৫তম বৃহৎ অর্থনীতি থেকে বাংলাদেশকে ২০তম স্থানে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান ইশতেহার পাঠ করেন। ১৩তম জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রকাশিত এই ইশতেহারের শিরোনাম— ‘একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশের ইশতেহার’।
ইশতেহারে বলা হয়েছে, ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার দুই ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করা হবে এবং মাথাপিছু আয় ১০ হাজার ডলারে পৌঁছানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং আর্থিক খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করে ধাপে ধাপে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও পদ্ধতিগত জটিলতা দূর করে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ইনভেস্টমেন্ট বন্ড মার্কেট গঠনের পরিকল্পনার কথাও ইশতেহারে উল্লেখ রয়েছে।
রাজস্ব খাতে সংস্কারের মাধ্যমে করের আওতা সম্প্রসারণ করে রাজস্ব আহরণ জিডিপির ১৪ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর কথা বলা হয়েছে। সরকারি বিনিয়োগসহ মোট ব্যয় জিডিপির ২০ শতাংশে উন্নীত করা হবে এবং বাজেট ঘাটতি কোনোভাবেই জিডিপির ৫ শতাংশ অতিক্রম করবে না—এমন অঙ্গীকারও রয়েছে।
নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা সহজ করতে করমুক্ত আয়ের সীমা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। করপোরেট কর পর্যায়ক্রমে ২০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
ইশতেহারে বর্ধিত রাজস্ব শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, গৃহায়ণ, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং যোগাযোগ অবকাঠামো ও পরিবহন খাতে ব্যয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি, অপচয় ও অদক্ষতা দূর করে সরকারি ব্যয়ের কার্যকারিতা বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।
আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক ও ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে একটি আর্থিক খাত সংস্কার কমিশন গঠনের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
শেয়ারবাজারে অনিয়ম ও কারসাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, আস্থাহীনতা দূর করে বাজারকে গতিশীল করা এবং শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার অঙ্গীকার করেছে জামায়াত।
রপ্তানি বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে অ্যাডভান্সড টেক্সটাইল, চামড়া, পাট, ফ্রিল্যান্সিংসহ আইটি সার্ভিস এবং এগ্রো-প্রসেসিং খাত আধুনিকায়নের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়িয়ে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের কার্যকর অংশীদার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাভজনক ও প্রতিযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের পাশাপাশি অলাভজনক শিল্পের পরিবর্তে নতুন শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও ইশতেহারে উল্লেখ রয়েছে। জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে অভিবাসন ব্যয় কমানো, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন বাজার সৃষ্টি করে রেমিট্যান্স আয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে ইশতেহারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে Employment and Entrepreneur Ecosystem গড়ে তোলার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং কর্মসংস্থান অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক জেলায় জেলা কর্মসংস্থান অফিস এবং মহানগর ও থানায় স্থানীয় কর্মসংস্থান অফিস স্থাপনের কথাও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া হঠাৎ কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিকদের জন্য ভাতা কর্মসূচির পরিসর বাড়ানো ও এমপ্লয়মেন্ট ইন্স্যুরেন্স চালু, এসএমই খাতে বিশেষ প্রণোদনা, সুনীল অর্থনীতির উন্নয়ন, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় যাকাত সংগ্রহ ও বণ্টন, ইসলামী ব্যাংক ও বীমা খাতের বিকাশ, কমার্শিয়াল কোর্ট স্থাপন এবং পরিসংখ্যান ব্যবস্থার সংস্কারের কথাও ইশতেহারে তুলে ধরা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা বলেন, এই ইশতেহার বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ একটি ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও টেকসই অর্থনীতির পথে এগিয়ে যাবে।



