আইন-আদালত
বিচারকদের বদলি-পদায়নে সরকারের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই: আইনমন্ত্রী
সরকার একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে বলে জানিয়েছেন, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বিচারকদের আইন প্রণয়ন, বদলি কিংবা পদায়নে সরকারের হস্তক্ষেপ করার কোনো সুযোগ নেই।
শুক্রবার (৮ মে) খুলনায় আইনজীবীদের সংবর্ধনা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ। তবে দেশের স্বার্থে বিএনপি কিছু বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে যে অবস্থায় রেখে গিয়েছিল, সেখান থেকে উত্তরণে বহু মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে, আহত হতে হয়েছে এবং কারাভোগ করতে হয়েছে। আমরা এ অবস্থার পরিবর্তন চাই। বিচার ব্যবস্থা হবে স্বাধীন ও প্রভাবমুক্ত।’
এছাড়া বারের উন্নয়ন, বিচারক ও আইনজীবীদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান আইনমন্ত্রীর। আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে ব্রিটিশ একটি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় অতি শীঘ্রই দেশের সব জেলা বারে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।
নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রভাবমুক্ত বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা গেলে দেশে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। বাংলাদেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকারকে আরও সুসংহত করতে বিচারালয়কে তীর্থস্থানের মতো মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। এ জন্য আইনজীবীদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাগত যোগ্যতার মান আরও উন্নত করতে হবে এবং সব ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের দূরে রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত বলেন, জনসাধারণ যেন আইনের সুবিধা পায় সেই লক্ষে ইতিমধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিচার ব্যবস্থা যেন আধুনিকায়ন হয় সেই লক্ষে সরকার কাজ করছেন যা আমাদের দেশের সকলের জন্য মঙ্গলজনক। খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন আপনাদের পাশে রয়েছে। আর জেলা প্রশাসন আপনাদের কাছ থেকে আইনগতসহ নাগরিক হিসেবেও সহযোগিতা আশা করে।
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, আমার জীবনের ১৬ বছর এই বিচারালয়ের বারান্দায় আমাদের কেটেছে এবং এই সময় একটা দুর্বিষহ জীবন যাপন করেছি। এমপি হয়েও ১২০ মামলার আসামি ছিলাম আমি।
আইনমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমার এই অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে চাই বিচারালয়ে কি প্রয়োজন আপনি ভালো জানেন, আপনি কাজ করছেন। বিচারালয়ের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, আধুনিকায়ন এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য আপনি কাজ করছেন।
তিনি আরও বলেন, আমি শুধুমাত্র বলব যে, আমরা বিচার প্রার্থীরা যেন ন্যায়বিচার পায় সেই জায়গাটিকে আপনি ঠিক করবেন এবং আমাদের এই বার, বেঞ্চ এর যে সম্পর্ক এটি যেন আদর্শিক সম্পর্ক হয় এবং আমরা এমন একটি সমাজ চাই যে সমাজে আমরা বিচারকে নিশ্চিত করতে পারবো, প্রভাব মুক্ত করতে পারো।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ চাঁদ মোহাম্মদ আব্দুল আলীম আল রাজী। খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা মোহাম্মদ মাসুম রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মোল্লা মশিয়ুর রহমান নান্নু।
এর আগে আইনমন্ত্রী খুলনা জেলা জজ আদালতের কনফারেন্স রুমে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সাথে পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন।
আইন-আদালত
ড. ইউনূসসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ
ঢাকার উত্তরা এলাকায় অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনার ঘটনায় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে দায়েরের আবেদন করা মামলা গ্রহণ করেননি আদালত।
বৃহস্পতিবার (৬ মে) বিকেলে ঢাকার মহানগর হাকিম আরিফুল ইসলাম মামলাটি খারিজ করে দেন। আদালতের প্রসেস সার্ভার শাহাদাত হোসেন জানান, মামলা গ্রহণের মতো পর্যাপ্ত উপাদান না পাওয়ায় এ আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে সকালে নিহত শিক্ষার্থী উক্য ছাইং মারমার বাবা উসাইমং মারমা আদালতে মামলার আবেদন করেন। শুনানিতে আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। পরে বিকেলে মামলাটি খারিজের আদেশ দেওয়া হয়।
মামলার আবেদনে অভিযুক্ত হিসেবে আরও যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল, তারা হলেন-সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, সাবেক পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার, প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম, সাবেক শিক্ষা সচিব সিদ্দিক জুবায়ের, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, এয়ার ভাইস মার্শাল মোরশেদ মোহাম্মদ খায়ের উল আফসার, গ্রুপ ক্যাপ্টেন রিফাত আক্তার জিকু, গভর্নিং বডির উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল নুরনবী, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলম, প্রশাসনিক প্রধান মাসুদ আলম, স্কুল শাখার প্রধান রিফাত নবী, রাজউক চেয়ারম্যান এবং রাজউকের উত্তরা অঞ্চলের ফিল্ড সুপারভাইজার।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ২১ জুলাই শিক্ষার্থীরা প্রতিদিনের মতো শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত ছিল। দুপুর ১টা ১৮ মিনিটের দিকে অভিযুক্তদের দায়িত্ব ও তত্ত্বাবধানে থাকা এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ বিমান উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়া হয়। পরে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বিমানটি মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিধ্বস্ত হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।
মামলার আবেদনে আরও বলা হয়, দুর্ঘটনায় ২৮ জন শিক্ষার্থী, তিনজন শিক্ষিকা, তিনজন অভিভাবক এবং একজন পরিচালকসহ মোট ৩৫ জন নিহত হন। এছাড়া দগ্ধ হয়ে আহত হন আরও ১৭২ জন, যাদের অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা না থাকা এবং ভবন নির্মাণে বিধিমালা অনুসরণ না করায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়েছিল বলেও আবেদনে দাবি করা হয়। এতে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি এবং অনেক শিক্ষার্থী চিকিৎসার আগেই মারা যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
আইন-আদালত
৭ মার্চের ভাষণ বাজিয়ে গ্রেপ্তার ইমি কারামুক্ত
রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ প্রচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি অবশেষে জামিনে কারামুক্ত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ মে) দীর্ঘ প্রায় দুই মাস কারাভোগের পর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।
তার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুহা. নোমান হোসাইন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “আলহামদুলিল্লাহ, কারামুক্ত ইমি। পাশে থাকা সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।”
জানা গেছে, গত কয়েক মাস আগে রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে আটক করা হয়। পরে এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয় এবং বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়াও দেখা দেয়।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করলে বৃহস্পতিবার তিনি কারামুক্ত হন। কারামুক্তির পর তার পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ইমির মুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেউ এটিকে আইনি লড়াইয়ের ফল হিসেবে উল্লেখ করেছেন, আবার কেউ তার মুক্তিকে স্বস্তিদায়ক বলে মন্তব্য করেছেন।
আইন-আদালত
শাপলা চত্বর ঘটনায় ২ সাংবাদিকের নামে তথ্য গোপনের অভিযোগ
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুর তথ্য আড়াল করতে সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুর ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ওই ঘটনার তথ্য পরিকল্পিতভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং এতে ওই দুই সাংবাদিকের সম্পৃক্ততা ছিল।
তিনি আরও বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনায় ইন্টারনেট বন্ধ করা, দুটি টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধসহ বিভিন্ন পদক্ষেপে যারা জড়িত ছিলেন, তারাও মামলার আসামি হবেন।
আগামী ১৪ মে শাপলা চত্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ নির্দেশ দেন। প্যানেলের নেতৃত্ব দেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অপর সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এদিন ট্রাইব্যুনালে সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্টের আবেদন জানায় প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলাকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন দীপু মনি। তিনি ঘটনাকে আন্তর্জাতিকভাবে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
একই সঙ্গে একাত্তর টেলিভিশনের মাধ্যমে হেফাজতের সমাবেশকে উসকানিমূলক হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আসামিদের হাজির করার নির্দেশ দেন এবং পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৪ মে তারিখ নির্ধারণ করেন। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আগামী ৭ জুন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন ছয়জন আসামি। তারা হলেন— সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা শাহরিয়ার কবির এবং সাবেক উপমহাপরিদর্শক আবদুল জলিল মণ্ডল।
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনার তদন্ত ও বিচার দাবি করে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, যার ভিত্তিতে মোট ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
আইন-আদালত
জাবির সাবেক ভিসি ফারজানার আয়কর নথি জব্দ
নিয়োগ বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের (দুর্নীতি দমন কমিশন) করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাবেক উপাচার্য ফারজানা ইসলামের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারি মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য জানান। এদিন দুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম আয়কর নথি চেয়ে আবেদন করেন।
দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগ রয়েছে যে ফারজানা ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে বিপুল অর্থের নিয়োগ বাণিজ্য হয়েছে এবং সেই আয়ের সঠিক তথ্য গোপন করা হতে পারে। এজন্য তার ও তার স্বামীর আয়কর নথির মূল কপি বা সংশ্লিষ্ট রেকর্ড জব্দ ও সংগ্রহ করা প্রয়োজন বলে আদালতে আবেদন করা হয়।
আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে আয়কর নথি জব্দের অনুমতি দেয়, যাতে চলমান অনুসন্ধান আরও কার্যকরভাবে করা যায়।
আপনি চাইলে আমি এই মামলার পটভূমি বা দুদকের তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পর্কেও সহজভাবে ব্যাখ্যা করতে পারি।
আইন-আদালত
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: ড. ইউনূসসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর ঘটনায় সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের আবেদন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে নিহত শিক্ষার্থী উক্য ছাইং মার্মার বাবা উসাইমং মারমা এ আবেদন করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আদেশের জন্য আবেদনটি অপেক্ষমাণ রেখেছেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী এ কে এম শারিফ উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বাদীর আবেদনে যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, এয়ার কমান্ডিং অফিসার মোরশেদ মোহাম্মদ খায়ের উল আফসার, অফিসার কমান্ডিং ম্যানটেইনেন্স গ্রুপ ক্যাপ্টেন রিফাত আক্তার জিকু, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভার্নিং বডি উপদেষ্টা নুরনবী (অব. কর্নেল), মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ জিয়াউল আলম, প্রিন্সিপাল (প্রশাসন) মো. মাসুদ আলম, স্কুল শাখার প্রিন্সিপাল রিফাত নবী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) চেয়ারম্যান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ফিল্ড সুপার ভাইজার (উত্তরা), শিক্ষা মন্ত্রণালয় সচিব সিদ্দিক জুবায়ের, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. রেজওয়ানা হাসান ও অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২১ জুলাই উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে ৩৬ জন নিহত হন, এরমধ্যে ২৮ জনই শিক্ষার্থী। ওই ঘটনায় বিমানের পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামও নিহত হন।




