আন্তর্জাতিক
ট্রাম্পের শান্তি চুক্তির ইঙ্গিতে কমলো তেলের দাম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ইঙ্গিত দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কমেছে জ্বালানি তেলের দাম।
বুধবার (৬ মে) রয়টার্সের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১.৬৯ ডলার বা ১.৫ শতাংশ কমে ১০৮.১৮ ডলারে নেমে এসেছে। এর আগের দিনও এটির দাম ৪ শতাংশ কমেছিল। একইভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১.৬৭ ডলার বা ১.৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১০০.৬০ ডলারে।
মঙ্গলবার ট্রাম্প হঠাৎ করে জানান, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে যুক্তরাষ্ট্র যে অভিযান চালাচ্ছিল, তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হবে। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য সমঝোতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। এ নিয়ে ইরানের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে থাকা তেলবাহী জাহাজগুলো ধীরে ধীরে চলাচল শুরু করতে পারবে। ফলে বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়তে পারে।
তবে অনিশ্চয়তা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। সম্ভাব্য চুক্তি হলেও সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে, ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকবে। এই অবরোধের কারণে বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় গত সপ্তাহে ব্রেন্ট তেলের দাম ২০২২ সালের মার্চের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক মজুতও কমে এসেছে। উৎপাদন ঘাটতি পুষিয়ে নিতে শোধনাগারগুলো চাপের মুখে রয়েছে।
বাজার সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে টানা তৃতীয় সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের মজুত কমেছে। ১ মে মজুত কমেছে প্রায় ৮.১ মিলিয়ন ব্যারেল। একই সময়ে পেট্রোলের মজুত কমেছে ৬.১ মিলিয়ন ব্যারেল এবং অন্যান্য জ্বালানি তেলের মজুত কমেছে ৪.৬ মিলিয়ন ব্যারেল।
আন্তর্জাতিক
চূড়ান্ত সমঝোতা স্মারকে অগ্রগতি, শেষ হচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে একটি প্রাথমিক সমঝোতা কাঠামো চূড়ান্ত করার পথে অগ্রগতি হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী পক্ষগুলোর সূত্রের বরাতে বলা হচ্ছে, দুই দেশের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত নথির মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে, সাম্প্রতিক আলোচনায় একটি এক পাতার সমঝোতা খসড়া নিয়ে কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মধ্যস্থতাকারীদের ভাষ্যমতে, উভয় পক্ষই দ্রুত একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর বিষয়ে আশাবাদী এবং আলোচনা এখন শেষ ধাপে রয়েছে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার অংশ হিসেবে সামরিক তৎপরতা কিছুটা সীমিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকটি চলমান সামরিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।
আলোচনার সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্রের মতে, অল্প সময়ের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত অবস্থান পাওয়া যেতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই ধরনের সমঝোতা হলে দীর্ঘদিন ধরে চলা উত্তেজনা কিছুটা হলেও কমার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো অনিশ্চিত।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক
ইরানের সঙ্গে সমঝোতার লক্ষ্যে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত ঘোষণা ট্রাম্পের
ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিতে চলমান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর সিবিসি নিউজ।
বাংলাদেশ সময় বুধবার (৬ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।
ট্রাম্প জানান, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধ এবং ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতির কারণে প্রজেক্ট ফ্রিডম স্থগিত করা হলো। তবে ইরানের বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর থাকবে।
চুক্তি চূড়ান্ত করা ও স্বাক্ষর করা সম্ভব কি না, তা দেখার জন্য প্রজেক্ট ফ্রিডম স্থগিত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
উল্লেখ্য, হরমুজে আটকে পড়া বিভিন্ন দেশের জাহাজকে প্রণালি থেকে বের হতে সহায়তা করতে গত সোমবার সকাল থেকে প্রজেক্ট ফ্রিডম নামের একটি অভিযান শুরু করে মার্কিন সেনাবাহিনী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের প্রচেষ্টাকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের শামিল আখ্যা দিয়ে তা প্রতিরোধের ঘোষণা দেয় ইরান।
আন্তর্জাতিক
ফিলিপাইনে মায়োন আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ক্ষতিগ্রস্ত লাখো মানুষ
ফিলিপাইনের মায়োন আগ্নেয়গিরি থেকে সাম্প্রতিক অগ্ন্যুৎপাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে অন্তত এক লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
দেশটির সিভিল ডিফেন্স অফিস জানিয়েছে, অগ্ন্যুৎপাতের সময় ছাই, পাথর ও উত্তপ্ত পদার্থ প্রায় এক কিলোমিটার উচ্চতায় উঠে পরে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচে নেমে আসে। এতে আশপাশের ৮৭টি গ্রামের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ১,৪৩৮টি পরিবার বর্তমানে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে। এছাড়া আরও ২৬টি পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে থেকেই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। অগ্ন্যুৎপাতের ফলে একটি শহর ও দুটি ছোট শহর ঘন ছাইয়ে ঢেকে গেছে, যা স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে।
গত জানুয়ারির পর সবচেয়ে তীব্র এই অগ্ন্যুৎপাতটি ঘটে শনিবার, যা প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ ছাই ও পাথর ছড়িয়ে পড়ে এবং বাড়ির ছাদ, সড়ক ও যানবাহন প্রায় তিন ইঞ্চি পুরু ছাইয়ের স্তরে ঢেকে যায়। ইতোমধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা ও সরকারি সংস্থাগুলো সম্মিলিতভাবে পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু করেছে।
ঘটনার দুই দিন পর ধীরে ধীরে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে আগ্নেয়গিরির ছয় কিলোমিটার ব্যাসার্ধের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এখনো মানুষের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে প্রশাসন।
আন্তর্জাতিক
চীনের আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণে নিহত ২১, আহত ৬১
চীনের হুনান প্রদেশে একটি আতশবাজি উৎপাদন কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা গেছে, এ ঘটনায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৬১ জন।
সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যার পর লিউইয়াং শহরে অবস্থিত ওই কারখানায় হঠাৎ করেই শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে।
দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করেন। ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে কারখানার তিন কিলোমিটার এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। আহতদের চিকিৎসায় বিপুল সংখ্যক চিকিৎসক ও উদ্ধারকর্মী কাজ করছেন।
অভ্যন্তরে আটকে পড়া কর্মীদের খুঁজে বের করতে আধুনিক প্রযুক্তি ও রোবট ব্যবহার করে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুরো এলাকা ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
চীনা প্রশাসন জানিয়েছে, বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারখানা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাস্থলে থাকা বারুদের মজুত পরিস্থিতি উদ্ধারকাজকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এদিকে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দ্রুত উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং ঘটনার জন্য দায়ীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, চীনের লিউইয়াং শহর বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আতশবাজি উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। দেশটিতে এ ধরনের কারখানায় দুর্ঘটনার ঘটনা আগেও একাধিকবার ঘটেছে।
আন্তর্জাতিক
হরমুজে মার্কিন হামলায় ৫ বেসামরিক নিহতের দাবি ইরানের
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর হামলায় পাঁচ বেসামরিক নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। সোমবারের ওই অভিযানে লক্ষ্যবস্তু করা নৌযানগুলো সামরিক নয়, বরং পণ্য ও যাত্রীবাহী বেসামরিক জাহাজ ছিল বলে জানানো হয়েছে।
ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে এক সামরিক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দাবির পর ইরানি কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালিয়ে দেখেছে, ওমান উপকূলের খাসাব এলাকা থেকে ইরানের দিকে আসা দুটি ছোট পণ্যবাহী নৌকায় গুলি চালানো হয়।
তার দাবি, এসব নৌযানের সঙ্গে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কোনো সম্পর্ক ছিল না এবং এতে পাঁচজন নিহত হন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টকম জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হুমকি তৈরি করা ইরানি স্পিডবোট ধ্বংস করতে সি হক ও অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়। তাদের দাবি, ছয়টি ইরানি দ্রুতগতির নৌযানকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়।
মার্কিন পক্ষ বলছে, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করতে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।




