আন্তর্জাতিক
একাধিক যুদ্ধে লড়াই করে ক্লান্ত ইসরায়েলি সেনাবাহিনী
ইসরায়েলের প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ সরকারকে দেশকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করেছেন। তিনি বলেন, যুদ্ধে সেনার ঘাটতি থাকায় সেনাবাহিনী সমস্যায় পড়েছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমে লাপিদ বলেন, আইডিএফ (ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী) তার শেষ সীমা পার করেছে এবং আরো বেশি চাপের মধ্যে রয়েছে। সরকার আহত সেনাদের যুদ্ধক্ষেত্রে ফেলে রেখেছে। একদিন আগে সামরিক প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামিরের সতর্কবার্তার পুনরাবৃত্তি।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জামিরের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, তিনি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভাকে বলেছেন, ‘আইডিএফ পতনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে’।
লাপিদ আরো বলেছেন, সরকার সেনাবাহিনীকে পর্যাপ্ত কৌশল, সরঞ্জাম এবং যথেষ্ট সেনা ছাড়া বহুমুখী যুদ্ধে পাঠাচ্ছে। সেনা মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি দেফ্রিন বলেছেন, ‘বিশেষ করে লেবাননসহ বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে আরো সেনা প্রয়োজন।
লেবাননে প্রতিরক্ষা অঞ্চল গড়ার জন্য অতিরিক্ত আইডিএফ বাহিনী দরকার।’ তিনি পশ্চিম তীর, গাজা এবং সিরিয়ায়ও বাড়তি চাহিদা উল্লেখ করেন।
লাপিদ বলেন, জামির মন্ত্রিসভাকে জানিয়েছেন, রিজার্ভ সেনারা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছে এবং তারা ক্লান্ত। সেনাবাহিনী পর্যাপ্ত শক্তি ছাড়া তাদের অভিযান চালাতে পারছে না।
জামির সতর্ক করেছেন, লেবাননে হিজবুল্লাহর প্রতিরোধের কারণে সেনাবাহিনী ভেঙে পড়তে পারে।
লেবাননে ইসরায়েল ইতিমধ্যে শত শত মানুষ হত্যা করেছে, লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং দক্ষিণাঞ্চল দখলের জন্য সেনা পাঠিয়েছে। তিনি মন্ত্রিসভাকে বলেন, আইডিএফের জন্য নতুন বাধ্যতামূলক সেনা সেবা আইন, রিজার্ভ ডিউটি আইন এবং বাধ্যতামূলক সেবা বৃদ্ধির আইন প্রয়োজন।
ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই করছে, ইরান, লেবানন, গাজা এবং মাঝে মাঝে সিরিয়ায়। সোমবার ইসরায়েলি সেনারা জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে অভিযানে দুইজন সেনা নিহত হয়েছে।
এর আগে ৮ মার্চ আরো দুইজন নিহত হয়েছিল।
সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড
আন্তর্জাতিক
নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বালেন্দ্র শাহ
নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বালেন্দ্র শাহ। শুক্রবার (২৭ মার্চ) প্রেসিডেন্টের কার্যালয় শীতল নিবাসে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান দেশটির প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাওডেল।
দেশটির সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালে প্রথমবারের মতো মাধেসি সম্প্রদায়ের কোনো নেতা প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। সদ্য সমাপ্ত ৫ মার্চের সংসদীয় নির্বাচনে ঝাপা-৫ আসন থেকে প্রথম-পাস্ট-দ্য-পোস্ট পদ্ধতিতে জয়ী হন শাহ। তিনি সিপিএন-ইউএমএল-এর চেয়ারম্যান কে.পি. শর্মা অলিকে পরাজিত করেন। এ ঘটনাকে রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজনীতিতে আসার আগে বালেন্দ্র শাহ একজন র্যাপার ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০২২ সালের স্থানীয় নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হয়ে তিনি ব্যাপক আলোচনায় আসেন। তিনি ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ওই দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে জাতীয় রাজনীতিতে যোগ দিয়ে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টিতে (আরএসপি) যুক্ত হন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পাশাপাশি আরও ১৪ জন মন্ত্রী শপথ গ্রহণ করেছেন। আরএসপির সহ-সভাপতি স্বর্ণিম ওয়াগলে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। গৃহমন্ত্রী হয়েছেন সুদান গুরুং, আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শিশির খানাল।
এছাড়া সংস্কৃতি, পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন খড়কা রাজ (গণেশ) পাওডেল। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী হয়েছেন দীপক সাহ। শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাসমিত পোখরেল।
যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী হয়েছেন বিক্রম তিমিলসিনা। প্রাতিভা রাওয়াল পেয়েছেন ফেডারেল বিষয়ক ও সাধারণ প্রশাসন এবং ভূমি ব্যবস্থাপনা, সমবায় ও দারিদ্র্য বিমোচন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
জ্বালানি, পানি সম্পদ ও সেচ মন্ত্রী হয়েছেন বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ। কৃষি ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন এবং বন ও পরিবেশ মন্ত্রী হয়েছেন গীতা চৌধুরী।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী হয়েছেন সোবিতা গৌতম। নারী, শিশু ও প্রবীণ নাগরিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন সীতা বাদি।
অবকাঠামো ও পরিবহন এবং নগর উন্নয়ন মন্ত্রী হয়েছেন সুনীল লামসাল। স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা এবং পানি সরবরাহ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন নিশা মেহতা।
এমএন
আন্তর্জাতিক
হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি পেল মালয়েশিয়ার জাহাজ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে তেহরানের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের মধ্যে ইরান মালয়েশিয়ার জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির নেতা।
বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, তেহরান কর্তৃক কার্যকরভাবে বন্ধ করে রাখা এই জলপথ দিয়ে মালয়েশিয়ার জাহাজগুলোকে ‘আগাম ছাড়পত্র’ দেওয়ায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে ধন্যবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার বলেছেন, ‘আমরা মালয়েশিয়ার তেল ট্যাংকারগুলো এবং এর কর্মীদের মুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করছি, যাতে তারা তাদের বাড়ি ফেরার যাত্রা অব্যাহত রাখতে পারে।’ কতগুলো জাহাজ প্রণালিটি পার হয়েছে অথবা কী শর্তে জাহাজগুলোকে নিরাপদ যাত্রার জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।
প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার বলেন, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় মালয়েশিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হলেও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল ও গ্যাস কম্পানি পেট্রোনাসের সক্ষমতার কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটি অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এলএনজি সরবরাহকারী হিসেবে মালয়েশিয়া একটি নিট জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশ, কিন্তু দেশটি তার প্রায় ৭০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানি করে।
আনোয়ার বলেছেন, তার সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য একাধিক পদক্ষেপ নেবে। যার মধ্যে রয়েছে, ভর্তুকিযুক্ত পেট্রলের ব্যক্তিগত মাসিক কোটা কমানো এবং ধীরে ধীরে ও বাছাই করে সরকারি কর্মচারীদের বাড়ি থেকে কাজের ব্যবস্থায় নেওয়া।
আনোয়ার বলেন, ‘খাদ্য সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দাম অবশ্যই বাড়বে। সারের ক্ষেত্রেও একই কথা এবং অবশ্যই তেল ও গ্যাসের ক্ষেত্রেও একই কথা। সুতরাং আমাদের কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে।
এমন অনেক দেশ আছে, যাদের ওপর এর প্রভাব আমাদের চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ, কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমরা পুরোপুরি রক্ষা পেয়েছি।’
সূত্র : আলজাজিরা
আন্তর্জাতিক
৬ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতনের পথে বিশ্ব তেলের বাজার
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। ছয় মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতনের দিকেই যাচ্ছে বাজার। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা এগোচ্ছে এমন খবর এবং দেশটির জ্বালানি স্থাপনায় হামলা ১০ দিনের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা এ পরিস্থিতির প্রধান কারণ।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭.১৭ ডলারে নেমেছে, যা আগের চেয়ে ০.৮ শতাংশ কম।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১.১ শতাংশ কমে ৯৩.৪৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
যদিও আগের দিন যুদ্ধ বাড়ার আশঙ্কায় দাম বেড়েছিল, পুরো সপ্তাহের হিসেবে তেলের দাম কমতির দিকেই রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এখন বাজার নির্ভর করছে যুদ্ধ কতদিন চলবে তার ওপর। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে দাম আবার বাড়তে পারে, আর দ্রুত শেষ হলে দাম আরও কমতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখলেও মধ্যপ্রাচ্যে সেনা মোতায়েন করেছে। অন্যদিকে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে একতরফা বলে মন্তব্য করেছে। এই সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় ১১ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের সরবরাহ কমে গেছে, যা বাজারে চাপ তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে তেলের দাম ২০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত হলে আগামী মাসগুলোতে দাম আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র : রয়টার্স
এমএন
আন্তর্জাতিক
সংঘাতের মাঝেও ইরানের দৈনিক আয় ১৪ কোটি ডলার
চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যেও থেমে নেই ইরানের বৈদেশিক মুদ্রার উপার্জন। ইরান দৈনিক গড়ে ১৪ কোটি ডলার আয় করছে, যা মূলত জ্বালানি রপ্তানি ও অন্যান্য কৌশলগত খাত থেকে আসছে।
গোয়েন্দা তথ্য ও জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষক বিভিন্ন সংস্থার বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করেছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। আরব সাগর এবং পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ রুট, কারণ প্রতিদিন বিশ্বে যত তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, সেসবের ২০ শতাংশই এই রুট ব্যবহার করে।
হরমুজ প্রণালীকে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’-ও বলা হয়, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই পথ ব্যবহার করেই তাদের তেল রপ্তানি করে। হরমুজ না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল অতি সহজে পশ্চিমা বিশ্বে সরবরাহ করা যেতো না।
হরমুজে অবরোধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানিকারী দেশগুলোকে তাদের পণ্য পাঠানোর জন্য বিকল্প পথ খুঁজতে হচ্ছে, বেশিরভাগ দেশ তেলের দৈনিক উত্তোলন অনেকাংশে হ্রাসও করেছে।
আর এই সংকটের পুরো সদ্ব্যবহার করছে ইরান। হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে বহির্বিশ্বে যাচ্ছে ইরানের ফ্ল্যাগশিপ জ্বালানি তেল ইরানিয়ান লাইট। গোয়েন্দা সূত্র ও আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুসারে, ইরান থেকে প্রতিদিন গড়ে ১০ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল তেল বহির্বিশ্বে যাচ্ছে। ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রথমে এই তেল খার্গ দ্বীপের টার্মিনালে নিয়ে যাওয়া হয়, তারপর সেখান থেকে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য সাগর দিয়ে বহির্বিশ্বে যায় ইরানি তেল।
বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুসারে, যুদ্ধের কারণে ইরানের তেল উত্তোলন বাধাগ্রস্ত হয়নি। বর্তমানে প্রতিদিন দেশটি যে পরিমাণ তেল উত্তোলন করছে, যুদ্ধের আগেও গড়ে প্রায় একই পরিমাণ তেল উত্তোলন করত দেশটি।
বরং যুদ্ধের কারণে তেল থেকে ইরানের আয় বেড়েছে। তেলের যোগান অনিয়মিত হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য থেকে জানা গেছে, এখন যে পরিমাণ তেল বিক্রি করে প্রতিদিন ১৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার উপার্জন করছে ইরান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে একই পরিমাণ তেল বিক্রি করে দেশটি দৈনিক আয় করত ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
নিজেদের তেলখাত থেকে আয়ের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী থেকেও আয় করছে ইরান। গত কিছুদিন ধরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেসব জাহাজ চলাচল করছে, তাদের কাছ থেকে টোল আদায় করা হচ্ছে। এই টোল থেকে প্রতিদিন দেশটির উপার্জন হচ্ছে ২০ লাখ ডলার।
আন্তর্জাতিক থিঙ্কট্যাংক সংস্থা গ্লোবাল এনার্জি পলিসির জ্যেষ্ঠ গবেষক ও কর্মকর্তা রিচার্ড নেফিউ রয়টার্সকে এ প্রসঙ্গে বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল ইরানের তেল খাত দখল করা, কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন কার্যত ইরানের সামনে মুনাফার নতুন সুযোগ নিয়ে হাজির হয়েছে।”
সূত্র : ব্লুমবার্গ, এনডিটিভি
এমএন
আন্তর্জাতিক
মধ্যপ্রাচ্যে আরো ১০ হাজার সেনা পাঠাতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন
মধ্যপ্রাচ্যে আরো ১০ হাজার স্থলসেনা পাঠানোর কথা ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। যদিও তিনি ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার কথা বলছেন।
মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আরো সামরিক সহায়তা দেওয়ার জন্য পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে ১০ হাজার পর্যন্ত অতিরিক্ত স্থলসেনা মোতায়েনের কথা বিবেচনা করছে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতে, এই পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, এই বাহিনীতে সম্ভবত পদাতিক ও সাঁজোয়া যান অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এ বাহিনীকে ওই অঞ্চলে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া প্রায় পাঁচ হাজার মেরিন এবং ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় দুই হাজার প্যারাট্রুপারের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
সূত্র : আলজাজিরা



