আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে পাকিস্তান
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে দাবি করে আসছেন। তবে ইরান বলছে, এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়নি। এরই মধ্যে জানা গেল, পাকিস্তানের মাধ্যমে একটি প্রস্তাব তেহরানে পৌঁছানো হয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং হরমুজ প্রণালির সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
সূত্র জানায়, পাকিস্তান সেনাপ্রধান আসিম মুনির এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখছেন। উভয় পক্ষ সম্মত হলে ইসলামাবাদ সরাসরি আলোচনার আয়োজন করতেও প্রস্তুত।
আল-জাজিরার প্রতিবেদক ওসামা বিন জাভাইদ বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাকিস্তানকে দেওয়া একটি নথি তারা ইরানিদের কাছে উপস্থাপন করেছেন বলে পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ সূত্রগুলো আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন। আমরা এখন এটি নিশ্চিত করতে পারি এবং এখন তারা (পাকিস্তানি সূত্র) এর জবাবের অপেক্ষায় আছেন।
এদিকে ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ করতে ইরান পাঁচটি কঠোর শর্ত দিয়েছে বলে জানিয়েছে হিব্রু গণমাধ্যম।
চ্যানেল ১২-এর বরাত দিয়ে সোমবার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ বন্ধের জন্য ইরান কঠোর কিছু আনুষ্ঠানিক দাবি তুলে ধরেছে। এসব দাবি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত পরোক্ষ আলোচনার অংশ হিসেবে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানি কর্মকর্তারা এমন নিশ্চয়তা চান যাতে ভবিষ্যতে আবার যুদ্ধ শুরু না হয়। তারা হরমুজ প্রণালির জন্য একটি নতুন ব্যবস্থাও চায়, যা কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
এছাড়াও, ইরান অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি বন্ধের দাবি জানিয়েছে এবং যুদ্ধের সময় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণও চেয়েছে।
আন্তর্জাতিক
ইরানিদের টুরিস্ট ভিসায় প্রবেশে অস্ট্রেলিয়ার সাময়িক নিষেধাজ্ঞা
ইরানের নাগরিকদের জন্য পর্যটক ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশে সাময়িকভাবে নিষেধাঙ্গা দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এ তথ্য জানান বলে সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
তিনি বলেন, অস্থায়ী ভিসায় আসা ইরানিদের একটি অংশ নির্ধারিত সময় শেষে দেশে ফিরে না যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন এই নিষেধাজ্ঞা বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হবে। এর মেয়াদ থাকবে ছয় মাস।
তবে সব ইরানি নাগরিকের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। যাদের দীর্ঘমেয়াদি ভিসা রয়েছে, কিংবা যাদের স্বামী-স্ত্রী বা সন্তান অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন, তারা ভ্রমণের সুযোগ পাবেন বলে জানান টনি বার্ক।
তিনি বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় সরকার এই পদক্ষেপ নিচ্ছে।
অস্ট্রেলিয় সরকারের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার ইরানি নাগরিক দেশটিতে প্রবেশের জন্য ভিজিটর ভিসা নিয়ে আছেন।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ইরানের নারী ফুটবল দলের সাত সদস্যকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয় অস্ট্রেলিয়া। তবে পরে তাদের মধ্যে পাঁচজন আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাহার করেন।
এমএন
আন্তর্জাতিক
আলোচনার আড়ালে মধ্যপ্রাচ্যে প্যারাট্রুপার পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র!
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের আগুন নেভাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন আলোচনার কথা বলছেন, ঠিক তখনই মধ্যপ্রাচ্যের সমরশক্তি বাড়াচ্ছে পেন্টাগন। ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের সঙ্গে সমঝোতার সুবাতাস দিলেও বাস্তুবে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র।
সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর তথ্য অনুযায়ী, যেকোনো পরিস্থিতির তাৎক্ষণিক মোকাবিলায় মার্কিন সেনাবাহিনীর দুর্ধর্ষ ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় ১ হাজার সৈন্যকে রণক্ষেত্রে পাঠানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
এই সেনাদলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডিভিশন কমান্ডার মেজর জেনারেল ব্র্যান্ডন টেগটমেয়ার নিজেই। সঙ্গে থাকছে তুখোড় ‘ইমিডিয়েট রেসপন্স ফোর্স’, যারা মাত্র কয়েক ঘণ্টার নোটিশে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে ঝাঁপিয়ে পড়তে সক্ষম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই কমান্ডিং স্টাফ ও প্রথম ব্যাটালিয়ন মধ্যপ্রাচ্যের পথে উড়াল দেবে। ২০২০ সালে ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলেইমানি হত্যার উত্তাল দিনগুলোতেও এই একই ডিভিশন মোতায়েন করে ওয়াশিংটন নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিয়েছিল।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার দাবি করেছেন, শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যে ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একমত হয়েছে। ইরানও তাদের কঠোর অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসে ‘টেকসই’ প্রস্তাব শোনার আগ্রহ দেখিয়েছে।
তবে এই আলোচনার পর্দার আড়ালে চলছে বিশাল সামরিক মুভমেন্ট। কেবল প্যারাট্রুপার নয়, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে গতিপথ বদলে ১১তম ও ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের মতো শক্তিশালী নৌ-বহরগুলোকে সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের উপকূলে নিয়ে আসা হচ্ছে।
প্রতিটি অ্যামফিবিয়াস রেডি গ্রুপে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার করে অত্যন্ত প্রশিক্ষিত নৌসেনা ও মেরিন থাকছে। সঙ্গে রয়েছে যুদ্ধবিমান ও বিশাল লজিস্টিক সাপোর্ট। অর্থাৎ একদিকে কূটনৈতিক দরকষাকষি, অন্যদিকে কয়েক হাজার বাড়তি সৈন্য আর ভারী অস্ত্রশস্ত্রের এই সমাবেশ প্রমাণ করছে—ওয়াশিংটন শান্তির বার্তা দিলেও আঙুল কিন্তু ট্রিগারেই রাখছে।
আন্তর্জাতিক
ইরানে হামলা অব্যাহত রাখতে ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন সৌদি যুবরাজ
ইরানে হামলা অব্যাহত রাখতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সৌদি যুবরাজ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে যুক্তি দিচ্ছেন, মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যকে পুনর্গঠনের এক ঐতিহাসিক সুযোগ সুযোগ এনে দিয়েছে।
গত সপ্তাহে বেশ কয়েকবার ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে সৌদি যুবরাজের। এসব আলোচনার বিষয়ে জানেন এমন সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এ কথা জানিয়েছে। সৌদি যুবরাজ যুক্তি দিয়েছেন, ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে দীর্ঘমেয়াদী হুমকির মুখে রেখেছে, যা ইরান সরকারকে নির্মূল করার মাধ্যমে দূর করা যেতে পারে।
তবে সৌদি কর্মকর্তারা যুবরাজের এমন অবস্থানের কথা অস্বীকার করেছেন।
এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ইরানকে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত হুমকি হিসেবে দেখেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের দৃষ্টিতে এমন একটি পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য, যেখানে ইরান অভ্যন্তরীণ সংকটে জড়িয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে সৌদি আরবের দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা ভিন্ন; তাদের আশঙ্কা, ইরান যদি সম্পূর্ণভাবে অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে, তাহলে তা উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা ঘিরে উদ্বেগও বাড়ছে। সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ইরান সৌদি তেল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে আরও বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে।
আন্তর্জাতিক
হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন বার্তা ইরানের
গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, ‘অশত্রুভাবাপন্ন’ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থার সদস্য দেশগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, আগ্রাসী শক্তি যাতে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালাতে না পারে, সে জন্য কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে যেসব জাহাজ ‘অশত্রুভাবাপন্ন’, তারা ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে এই পথ ব্যবহার করতে পারবে।
ইরান আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের সমর্থনকারী দেশগুলোকে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে এসব দেশের জাহাজ এই সুবিধার আওতায় পড়বে না।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই চিঠির অনুলিপি ইতোমধ্যে সব সদস্য দেশের কাছে পৌঁছে গেছে।
উল্লেখ্য, আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্ত করা হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ এই পথ ব্যবহার করে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। একাধিক তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়ছে।
আন্তর্জাতিক
হরমুজ সংকটে তেল উত্তোলন কমাচ্ছে কুয়েত
হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা সংকটের কারণে তেল উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কুয়েত।
দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (কেপিসি) মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, কৌশলগত জলপথে জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি বাড়ায় সাময়িকভাবে তেল উৎপাদন কমানো হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার আগের মতো উৎপাদন শুরু হবে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই উৎপাদন কমানো শুরু হয়েছে। ১০ মার্চ কুয়েত মাত্র ৫ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলন করেছে, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক উৎপাদন ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ এই পথ ব্যবহার করে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই প্রণালীতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। একাধিক তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
এদিকে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এবং তাদের সমর্থনকারী দেশগুলোকে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যতদিন যুদ্ধ চলবে, ততদিন এসব দেশের জাহাজের ওপর হামলা চলতে পারে বলেও সতর্ক করেছে তেহরান।



