জাতীয়
দুদকের উচ্চপর্যায়ে রদবদল, ৫ কর্মকর্তাকে বদলি
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রশাসনে উচ্চপর্যায়ে রদবদল করা হয়েছে। এতে উপপরিচালক ও উপসহকারী পরিচালক পদমর্যাদার পাঁচ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) দুদকের পরিচালক মো. নাজমুল হাসান স্বাক্ষরিত এক চিঠির সূত্রে এই বদলির বিষয়টি জানা গেছে।
বদলির আদেশ অনুযায়ী, উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামকে রাঙামাটি থেকে প্রধান কার্যালয়ে আনা হয়েছে। উপপরিচালক মো. আবদুল ওয়াদুদকে প্রশাসন শাখা থেকে প্রধান কার্যালয়ের অনুসন্ধান ও তদন্ত-৬ বিভাগে পদায়ন করা হয়েছে। এছাড়া উপপরিচালক কমলেশ মন্ডলকে রিজার্ভ শাখা থেকে রাঙামাটিতে বদলি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, উপপরিচালক মাহবুবুল আলমকে মাদারীপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এবং উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জুলফিকারকে রিজার্ভ শাখা থেকে ময়মনসিংহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।
এমএন
জাতীয়
হাম ও উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ শিশুর মৃত্যু
দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাম ও হামের উপসর্গ শনাক্ত হয় ১ হাজার ৪৩৫ শিশুর।
শনিবার (৯ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৪৬। সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৭৬৯। আর একই সময়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া রোগীর সংখ্যা ৪৮৯। গত ১৫ মার্চের পর থেকে এখন পর্যন্ত হামে ৬১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ২৯১। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঢাকায়। ১৫ মার্চের পর থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৯৭৯ শিশু। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৭ হাজার ৬৫৬ শিশু। এখন পর্যন্ত হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৩ হাজার ৬৩১ শিশু এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ২৯ হাজার ৭৪৬ জন।
জাতীয়
বিশ্বব্যাপী একই দিনে ঈদ পালনের দাবি দলীলভিত্তিক নয়: বায়তুল মোকাররমের খতিব
বিশ্বব্যাপী একই তারিখে রোজা ও ঈদ পালনের দাবি দলীলভিত্তিক নয় এবং কার্যক্ষেত্রে এর বাস্তবায়নও অসম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক। শনিবার (৯ মে) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে দাওয়াতুস সুন্নাহ বাংলাদেশ আয়োজিত জাতীয় সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মুফতি আবদুল মালেক বলেন, ইসলামি শরিয়তে চন্দ্রমাস শুরুর মানদণ্ড হলো হেলাল দেখা বা হেলালের সাক্ষ্য, অন্যথায় মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ করা। এ মানদণ্ড বাদ দিয়ে অমাবস্যা থেকে মাস শুরু করা শরিয়ত পরিবর্তনের শামিল। একইভাবে জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক আগাম প্রস্তুতকৃত ক্যালেন্ডারকে মানদণ্ড বানানোও স্পষ্ট নাজায়েজ।
তিনি বলেন, মুসলমানদের ঈদ নিছক আনন্দ-উৎসব নয়, বরং এটি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাই একে অন্যদের উৎসবের আদলে উদযাপনের চিন্তা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। হেলাল দেখাকে একমাত্র ভিত্তি ধরে পুরো বিশ্বে একই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া উম্মতের ইজমা পরিপন্থী এবং নির্দিষ্ট কোনো শহরের চাঁদ দেখার ভিত্তিতে অন্য অঞ্চলের সিদ্ধান্ত নেওয়াও শরিয়তসম্মত নয়।
খতিব আরও বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে যে পদ্ধতিতে রোজা ও ঈদ পালিত হয়ে আসছে, দেশের অধিকাংশ আলেম-মাশায়েখ সে বিষয়ে একমত। তাই এই ধারা পরিবর্তনের কোনো শরয়ি কারণ নেই, বরং পরিবর্তন করলে সমাজে বিভ্রান্তি ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারে। শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো আপত্তি না থাকলে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত মেনে চলা মুসলিম নাগরিকদের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন মুফতি মাহমুদুল হাসান। দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ও ইসলামি চিন্তাবিদরা এতে উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয়
একটি যুদ্ধ শেষ হয়েছে, এখন আরেকটি শুরু হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমাদের একটি যুদ্ধ শেষ হয়েছে। এখন আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়েছে। সেটা হলো, আমরা মানুষকে যে কথা দিয়েছিলাম তার বাস্তবায়ন করা।’ এ সময় তিনি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে দলের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা চেয়েছেন।
আজ সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে ধারণ করে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দলের সমর্থন ও সমন্বয় ছাড়া সরকার সফল হতে পারবে না। তাই নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে করা সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য আমাদের ‘নতুন সংগ্রামে’ নামতে হবে।”
তিনি আরো বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আপনারা মাঠে ছিলেন।
আমি বলেছিলাম নির্বাচন কিন্তু কঠিন হবে। আপনারা প্রত্যেকেই পরতে পরতে সেটা অনুভব করেছেন। মানুষ আমাদের দলের পক্ষে, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের পক্ষে সমর্থন দিয়েছে।’
নির্বাচনের আগে দেওয়া ইশতেহার এখন জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত আমাদের দেওয়া ইশতেহার ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ম্যানিফেস্টো।
নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পরে বিশেষ করে আমরা সরকার গঠন করার পরে এই ইশতেহারটি আমাদের সরকারের তথা বাংলাদেশের জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘কারণ ভোট দেওয়া দেশের ৫২ শতাংশ মানুষ মূলত আমাদের এই ম্যানিফেস্টোর পক্ষেই রায় দিয়েছেন। কাজেই এই ম্যানিফেস্টোতে যা যা বলেছিলাম, আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে তা বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা মানুষকে বলেছিলাম যে আমরা সুশাসন দেব। আমরা এমন একটি দেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে শিক্ষার্থীরা একটি সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ পাবে।
নারী-পুরুষ, শিশু সবাই নিরাপদে রাস্তায় চলতে পারবে।’
তিনি বলেন, আমরা যখন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছিলাম তখন বলেছিলাম যে আমাদের ওপরে যে রকম অত্যাচার-নির্যাতন হচ্ছে, গুম-খুনের শিকার হতে হচ্ছে, তাতে আমরা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা চাই দেশে এমন একটি রাজনৈতিক পরিস্থিতি হোক, যেখানে আমরা বিতর্ক করব, স্বাধীনভাবে নিজেদের মত প্রকাশ করব।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা বলি বর্তমান সরকার বিএনপি সরকার। অর্থাৎ সরকার ঠিকই আছে। কিন্তু বিএনপি সরকার। সে জন্য বিএনপি যদি সহযোগিতা না করে, অনেক ক্ষেত্রেই সরকার সফল হতে পারবে না।’
এর আগে সকাল পৌনে ১১টায় ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট (কেআইবি) মিলনায়তনে এই মতবিনিময় সভা শুরু হয়।
দিনব্যাপী রুদ্ধদ্বার এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও এ জেড এম জাহিদ হোসেনও উপস্থিত রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি এয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরে দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এটি প্রথম মতবিনিময় সভা।
জাতীয়
প্রতিবন্ধী কলেজছাত্রের তৈরি স্মার্ট কারে চড়ে উৎসাহ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
শারীরিক প্রতিবন্ধী কলেজছাত্র ওয়াকিমুল ইসলামের তৈরি বিশেষ স্মার্ট কারে চড়ে তাকে উৎসাহ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৯ মে) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিনি ওয়াকিমুলের তৈরি এই বিশেষ স্মার্ট কারটি পরিদর্শন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু) ও শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীনসহ আরও অনেকে।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জাতীয়
জুলাই বিপ্লবের পরও শাসনতান্ত্রিক ইকোসিস্টেম বদলায়নি: টিআইবি নির্বাহী পরিচালক
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, বরং এটি একটি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সুশাসনের প্রত্যক্ষ প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
শনিবার জার্নালিজম কনফারেন্সের দ্বিতীয় দিনে ‘রাজনৈতিক-শাসনতান্ত্রিক ইকোসিস্টেম ও স্বাধীন গণমাধ্যম’ শীর্ষক সেশনে মূল বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার মধ্যে গভীর দ্বিমুখী সম্পর্ক রয়েছে। গণতন্ত্রের অবস্থা ও রাজনৈতিক জবাবদিহিতার স্তরই নির্ধারণ করে দেয় গণমাধ্যম কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে ‘জিরো-সাম গেম’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এ ব্যবস্থায় রাজনৈতিক শক্তিগুলো যেকোনো মূল্যে জয়ী হতে চায়। আর এই আধিপত্য ধরে রাখতে ভিন্নমত দমন, তথ্য প্রকাশে বাধা এবং সমালোচকদের কণ্ঠরোধের মতো কৌশল ব্যবহার করা হয়, যা সরাসরি গণমাধ্যমের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
জুলাই বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরও দেশের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক বাস্তুসংস্থান আগের মতোই রয়ে গেছে। টাকা ও পেশিশক্তির প্রভাব এখনো বিদ্যমান এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে বের হতে পারছে না। রাজনীতি এখন ব্যবসায় পরিণত হয়েছে এবং এর ফলে যে অপরাধীকরণ ঘটেছে, তা গণমাধ্যমের পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূচকের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, গণতন্ত্র, আইনের শাসন, সুশাসন ও প্রেস ফ্রিডম — সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের অবস্থান হতাশাজনক। দক্ষিণ এশিয়ায় অনেক সূচকে কেবল আফগানিস্তানের উপরে রয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো নিবর্তনমূলক আইন এবং গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সেশনে আরও অংশ নেন দ্য ডনের সম্পাদক জাফর আব্বাস, ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ, বিবিসির সাবেক সাংবাদিক শাকিল আনোয়ার এবং দৈনিক সমকালের সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী।




