সারাদেশ
চট্টগ্রামে ঘরে ঢুকে গুলি, বিএনপি নেতা ও তার মা গুরুতর আহত
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির বাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে প্রকৌশলী ওসমান (৪২) ও তার মা আছিয়া বেগম (৭০) গুরুতর আহত হয়েছেন।
রবিবার (২২ মার্চ) রাত আনুমানিক ৮টা ১০ মিনিটে উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ওসমান সরফভাটা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গঞ্জম আলী সরকারের বাড়ির বাসিন্দা এবং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি।
তার বাবা রশিদ আহমদ জানান, চারজন সশস্ত্র ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ করে হঠাৎ গুলি ছুড়তে শুরু করে। এতে ওসমান হাত ও পেটে গুলিবিদ্ধ হন। ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার মা আছিয়া বেগমের দুই পায়েও গুলি লাগে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
জানা গেছে, ওসমানের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার মায়ের চিকিৎসা স্থানীয়ভাবে চলছে। এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হিলাল উদ্দীন আহমেদ জানান, গুলির ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
সারাদেশ
পাবনায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নারীর মৃত্যু, আহত ১০
পাবনার সুজানগরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক গৃহবধূ মারা গেছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ১০ জন। সোমবার সকাল আটটার দিকে উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত গৃহবধুর নাম চায়না খাতুন ৪০)। তিনি ওই গ্রামের শুকুর আলীর স্ত্রী।
সুজানগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাদিক আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হাটখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাফিউল ইসলাম রাজা গ্রুপের সাথে মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা গ্রামের বিএনপি সমর্থক ইসলাম প্রামাণিক গ্রুপের সাথে বিরোধ চলছিল। রোববার দিবাগত রাতে দুই পক্ষের ছেলেদের মধ্যে মারামারি হয়। এ নিয়ে গতরাত থেকেই দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।
আজ সোমবার সকালে ইসলাম প্রামানিক গ্রুপের লোকজন লাঠি সোটা নিয়ে এলাকায় জড়ো হচ্ছিল। এমন সময় রাজা গ্রুপের লোকজন লাঠিসোটা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের উপরে হামলা চালিয়ে গুলিবর্ষণ ও বাড়ি ভাঙচুর করে। গুলিতে গৃহবধূ চায়না খাতুন ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এছাড়া গুরুতর আহত ১০ জনকে উদ্ধার করে সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইসলাম প্রামানিক বলেন, আমার ভাগ্নে ফরহাদ আওয়ামী লীগ সমর্থক ছিল। এজন্য রোববার রাতে ভিটবিলা বাজারে তাকে মারধর করে রাজা গ্রুপের লোকজন। আমি খবর পেয়ে তখনি সেখানে গিয়ে ঘটনা শুনে তাদেরকে এ বিষয়ে মারামারি না করার অনুরোধ করি। কিন্তু তারা উল্টো আমার উপরও হামলা করে মারধর করে। খবর পেয়ে আমার গ্রামের লোকজন জড়ো হয়ে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেয় মুরুব্বিদের সাথে বসে আলোচনা করে এ বিষয়ে সমঝোতা করা হবে। সকালে আমরা বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় রাজার গ্রুপের লোকজন লাঠিসোঠক অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে রাজার নেতৃত্বে এসে অতর্কিত আমাদের গ্রামের লোকজনের উপরে গুলি ও হামলা চালায়। এতে গুলিতে স্পটে মারা গেছে চায়না খাতুন। আরো ৮-১০ জন আহত হয়েছে। তাদেরকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্ত রাফিউল ইসলাম রাজা বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। ঘটনার সময় আমি স্পটেও ছিলাম না। আমার এক আত্মীয়ের বিয়ের দাওয়াত খেতে আসছি। এখানে আমার নাম জড়ানো ষড়যন্ত্রমূলক। গুলিবর্ষণ হয়েছে কিনা বা গুলিতে চায়না খাতুন মারা গেছে কিনা আমি জানি না। আমি শুনেছি চায়না খাতুন স্ট্রোক করে মারা গেছে। আপনারা ভালো করে তদন্ত করে দেখেন আমি সেখানে ছিলাম কিনা আমার নেতৃত্বে হামলা হয়েছে কিনা। আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, দুই পক্ষই বিএনপি সমর্থক। ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া বাজার এলাকা ও পুর্বপাড়া এলাকার দুই পক্ষের ছেলেদের মধ্যে গতরাতে ঝামেলা হয় শুনেছি। সেই ঘটনার পর পূর্বপাড়ার লোকদের (রাজা গ্রুপের) পশ্চিমপাড়া বাজারে যেতে দেবে না বলে ঘোষণা দেয় পশ্চিমপাড়া এলাকার (ইসলাম গ্রুপের) লোকজন। আজ সকালে লাঠি সোটা নিয়ে পাহারা বসায় তারা এবং বাজারে যাওয়া পুর্বপাড়ার লোকদেরকে ফিরিয়ে দেয় পশ্চিমপাড়া লোকজন। পরে পূর্বপাড়ার লোকজন একজোট হয়ে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসে পূর্বপাড়ার লোকদের উপর হামলা চালায়।
সুজানগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাদিক আহমেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। কি বিষয় নিয়ে হামলার ঘটনা সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। পরে বিস্তারিত জানানো যাবে।
সারাদেশ
সাড়ে ৭ ঘণ্টা পর চট্টগ্রামের সঙ্গে দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার প্রায় সাড়ে ৭ ঘণ্টা পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে।
রোববার (২২ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে রিলিফ ট্রেন পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত ঢাকা মেইল ট্রেন উদ্ধার করে এবং রেললাইনে আটকে থাকা বাসটি সরিয়ে নেয়। সকাল সাড়ে ১০ টার পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় ‘মামুন পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা দেয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেন। সংঘর্ষের পর বাসটি প্রায় আধা কিলোমিটার দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায় ট্রেনটি।
এই দুর্ঘটনায় প্রথমে ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ জনে।
ঘটনার পরপরই চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন।
সারাদেশ
হবিগঞ্জে বাস-পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে নিহত ৪
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় পিকআপ ভ্যান ও বাসের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২১ মার্চ) রাতে উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আঞ্জুরা নামক স্থানে এই ঘটনা ঘটে।
মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহতদের নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
তিনি জানান, মাধবপুরে পিকআপ ভ্যান ও বাসের সংঘর্ষ হয়েছে। এরপর পিকআপ ভ্যানটি পাশে থাকা পুকুরে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা পিকআপ ভ্যানে থাকা ৪ জনকে উদ্ধার করে মাধবপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
সারাদেশ
ঈদের দিন শ্বশুরবাড়িতে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে জখম
নাটোরে ঈদের দিন শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের হামলায় আলী আজগর ভূঁইয়া ওরফে খোকন মাস্টার (৫০) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতা গুরুতর জখম হয়েছেন।
শনিবার (২১ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সদর উপজেলার লক্ষীপুর খোলাবাড়িয়া ইউনিয়নের হাজিগঞ্জ এলাকায় তার শ্বশুরবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আহত আলী আজগর ভূঁইয়া লক্ষীপুর খোলাবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং শহরের শেরেবাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, ঈদের নামাজ আদায় শেষে তিনি হাজীগঞ্জ এলাকায় তার শ্বশুর মজিবুর রহমানের বাড়িতে বেড়াতে যান।
সন্ধ্যার দিকে যুবদল নেতা শাহীনের নেতৃত্বে সজীব, সাদ্দামসহ ১০-১৫ জনের একটি দল তার অবস্থান নিশ্চিত করে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা দেশীয় ধারাল অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। হামলার সময় বাড়িতে থাকা নারীদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগও করা হয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।
সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, আহত ব্যক্তি আত্মগোপনে ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। শনিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় কিছু দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সারাদেশ
কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে নিহত ১২, আহত অন্তত ১৫
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অন্তত ১৫ জন। আহতদের কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (২১ মার্চ) রাত ২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ারবাজার লেভেল ক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ৩ জন শিশু রয়েছে। তারা সবাই বাসের যাত্রী। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
পুলিশ জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেনের সংঘর্ষ হয়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, রেলওয়ে ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসটি লেভেল ক্রসিং অতিক্রম করার সময় রেললাইনে উঠে যাওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত নার্স মো. বোরহান উদ্দিন জানান, হাসপাতালে ১২ জনের মরদেহ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ৪ জন আহত রোগী ভর্তি আছেন এবং আরো প্রায় ১৫ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।
হাসপাতালে ভর্তি আহত যাত্রী ওমর ফারুক বলেন, ‘আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ প্রচণ্ড ঝাঁকুনি অনুভব করি। পরে দেখি বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। এরপর আর কিছু মনে নেই।’



