জাতীয়
‘আমি এই কাজ করিনি’—হাদি হত্যা প্রসঙ্গে ফয়সাল
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ। আজ রবিবার আদালতের সামনে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
রবিবার হাদি হত্যার প্রধান দুই অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেনের ১৪ দিন রিমান্ড শেষে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিধাননগর মহকুমা আদালতে তোলা হয়।
এসময় সাংবাদিকরা ফয়সালকে হাদি হত্যার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমি এই কাজ করিনি।
আমি এ ধরনের কোনো কাজে ছিলাম না।’
গত ৮ মার্চ ফয়সাল ও আলমগীরকে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। তারা দুজন অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁয় আত্মগোপন করেছিলেন। সুযোগ বুঝে ফের তারা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টার অপেক্ষায় ছিল বলে জানায় এসটিএফ সূত্র।
জাতীয়
বাসের পর এবার বাড়ল লঞ্চ ভাড়া, কার্যকর হচ্ছে নতুন হার
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাবে বাসের পর এবার লঞ্চের ভাড়ার হারও বাড়ানো হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় বুধবার (৬ মে) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে লঞ্চের এই নতুন ভাড়া কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একজন যাত্রীর জন্য কম দূরত্বের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারে ১৮ পয়সা এবং বেশি দূরত্বের ক্ষেত্রে ১৪ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। শতাংশের হিসাবে কম দূরত্বের লঞ্চ ভাড়া ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং বেশি দূরত্বের ক্ষেত্রে ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
সম্প্রতি সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করায় পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায়। বাসের ভাড়া আগেই সমন্বয় করা হলেও লঞ্চ মালিকদের দাবির মুখে আজ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এই নতুন ভাড়ার হার চূড়ান্ত করে।
লঞ্চ মালিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেলের দাম বাড়ায় পুরোনো ভাড়ায় লঞ্চ চালানো সম্ভব ছিল না। তবে যাত্রী সাধারণের কথা মাথায় রেখেই মন্ত্রণালয় এই সহনীয় বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন এই ভাড়ার হার আজ থেকেই কার্যকর হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে।
জাতীয়
বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় দক্ষ জনবল তৈরি অপরিহার্য
বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা জোরদার করতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি মানবসম্পদ ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর সমান গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ট্রেড নেগোসিয়েশন, ট্রেড ল, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বিধিবিধান এবং আধুনিক বাণিজ্য ব্যবস্থাপনায় দক্ষ জনবল তৈরি অপরিহার্য।
বুধবার (৬ মে) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর দফতরে বিশ্বব্যাংকের অপারেশনস ম্যানেজার গেইল মার্টিনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের চলমান সহযোগিতা, সক্ষমতা উন্নয়ন, দক্ষ জনবল গড়ে তোলা এবং বাণিজ্য খাতের আধুনিকায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ট্রেড নেগোসিয়েশন দক্ষতা উন্নয়ন, বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের জন্য শক্তিশালী রিসোর্স পুল গঠন এবং ট্রেড ল ও ডব্লিউটিও বিষয়ক ব্যবহারিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে আরও বিস্তৃত সহায়তা কামনা করেন।
এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, দেশে বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও সরকারি অর্থায়নে বড় প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও প্রকল্প পরিচালকদের (পিডি) দক্ষতা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। এ বিষয়ে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কর্মসূচি গ্রহণে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চান তিনি।
বৈঠকে গেইল মার্টিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়নাধীন ইসিফোর প্রকল্পকে সফল উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রকল্প এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের কার্যক্রমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং ভ্যালু ক্রিয়েশনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয়
সাংবাদিকতায় নীতিমালা ও আচরণবিধি প্রণয়ন হচ্ছে: তথ্য উপদেষ্টা
অনলাইন ও ডিজিটাল গণমাধ্যমের দ্রুত বিস্তারের প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকতার পেশাগত মান ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার নতুন নীতিমালা ও আচরণবিধি প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের শেষ দিনের অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে অনলাইনভিত্তিক গণমাধ্যম সহজেই চালু করা গেলেও সেগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অভাব রয়েছে। জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জন্য নির্দিষ্ট মানদণ্ড ও আচরণবিধি নির্ধারণের প্রস্তাব এসেছে। এ লক্ষ্যে তথ্য মন্ত্রণালয় একটি রেগুলেটরি কাঠামো তৈরির কাজ শুরু হয়েছে এবং তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
সরকারের স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ বলেন, বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর এবং তথ্য গোপনের সংস্কৃতি থেকে সরে আসবে। তিনি জানান, দীর্ঘদিন অকার্যকর থাকা তথ্য কমিশন দ্রুত পুনর্গঠন করা হবে। কমিশনকে এমনভাবে স্বাধীন করা হবে যাতে তথ্যপ্রাপ্তি সংক্রান্ত যে কোনো অভিযোগ ও সমস্যার কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়। তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তি বলে, বর্তমান সরকার তথ্য গোপন করার পথে হাঁটবে না।’
গুজব ও অপতথ্য মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে উপদেষ্টা জানান, ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম জোরদার করতে এরইমধ্যে একটি বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় জেলা পর্যায়ের তথ্য অবকাঠামোকে আধুনিক ও সমন্বিত করা হবে। এ ছাড়া বিদ্যমান তথ্যসেবা কাঠামোর দক্ষতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রশাসন, গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয়ে দেশে একটি উন্মুক্ত ও কার্যকর তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
জাতীয়
সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে ইতালির সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ পুলিশ
সাইবার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সক্ষমতা বাড়াতে ইতালির সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। এ বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির ইতালির রাষ্ট্রদূত ড. আন্তোনিও আলেসান্দ্রোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
বুধবার (৬ মে) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অনুষ্ঠিত সৌজন্য সাক্ষাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
পুলিশ সদরদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে রাষ্ট্রদূত নবনিযুক্ত আইজিপিকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে ইতালি বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার এবং অনিয়মিত অভিবাসন, মানবপাচার, চোরাচালান ও নিরাপত্তা সহায়তা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধিতে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
আইজিপি বৈঠকে সাইবার নিরাপত্তা খাতে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ইতালির সহায়তা কামনা করেন। পাশাপাশি, দুই দেশের পুলিশ বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় জোরদার ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয়
মাঠপর্যায়ে দায়িত্বরত সেনা সদস্যদের ব্যারাকে ফিরবেন ৬ জুন থেকে
বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য মাঠপর্যায়ে মোতায়েন থাকা সেনাসদস্যদের ধাপে ধাপে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ৬ জুন থেকে এ প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং জুন মাসের মধ্যেই তা সম্পূর্ণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে দেশের প্রত্যন্ত জেলা থেকে সেনাসদস্যদের প্রত্যাহার করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় শহর ও বড় জেলাগুলো থেকেও তাদের ফিরিয়ে আনা হবে।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কোর কমিটির প্রথম বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা, বিজিবি প্রধানসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টার এই আলোচনায় সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চাঁদাবাজি দমন, মাদকবিরোধী অভিযান এবং পুলিশের কাঠামোগত কিছু পরিবর্তন নিয়েও আলোচনা হয়।
সরকারি সূত্রে জানা যায়, মাঠপর্যায়ে বর্তমানে প্রায় ১৭ হাজার সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ সময় ধরে মোতায়েন থাকায় তাদের ধীরে ধীরে নিজ নিজ ইউনিটে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আগেই উদ্যোগ নিয়েছিল।
এ ছাড়া বৈঠকে সাম্প্রতিক সময়ের কিছু আইনি প্রক্রিয়া, সাংবাদিকদের জামিন-সংক্রান্ত বিষয়, অস্ত্র লাইসেন্স বাতিল এবং সিটি করপোরেশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করা এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
পুলিশের পোশাক পরিবর্তন নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গও বৈঠকে উঠে আসে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমান নির্ধারিত ইউনিফর্ম অপরিবর্তিত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।




