আন্তর্জাতিক
ইরানের হামলায় লণ্ডভণ্ড ইসরাইলের আরাদ, নিহত ৬
ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আরাদে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে অন্তত ৬জন নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে আরও ৮৮ জন। অবৈধ ভূখণ্ডটির একাধিক শহরে শক্তিশালী মিসাইল হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, ধসে গেছে অন্তত ২০টি ভবন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স সেবা বিভাগ জানিয়েছে।
অ্যাম্বুলেন্স সেবা বিভাগ জানায়, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর। এছাড়া ১৯ জনের আঘাত মাঝারি ধরনের।
ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আরাদে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এরপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে আহতের সংখ্যা। কিছুক্ষণের মধ্যেই ছয় জনের মৃত্যুর খবর প্রচার হয়।
এই হামলার পর শহরটির একটি হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলো।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরাইল জানায়, আরাদ শহরে ইরানের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার কারণেই এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় মোট ছয়জন নিহত এবং আরও ৮৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১০ জনের অবস্থা ‘আশঙ্কাজনক’।
যদিও এর আগে ইসরাইলের জরুরি সেবা বিভাগ প্রায় ৭০ জনকে চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলেছিল। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুর অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
আন্তর্জাতিক
পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শুভেন্দু
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার (৬ মে) সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, আগামী শুক্রবার ৮ মে কলকাতায় বিজেপির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হবে। সেখানে শুভেন্দু অধিকারীকে দলের নেতা হিসেবে নির্বাচন করা হবে।
দলীয় নেতা হিসেবে শুভেন্দুর নাম প্রস্তাব করবেন বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি সমিত ভট্টাচার্য। এরপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আইনসভা পার্টির নেতা হিসেবে শুভেন্দুর নাম ঘোষণা করবেন। এতে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পথ খুলবে শুভেন্দুর।
গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের আইনসভার নির্বাচন হয়। এরপর ৪ মে ভোটগণনা করে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
এবারের নির্বাচনে হেরে গেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সেখানকার ভবানিপুর আসনে নির্বাচন করেন তিনি। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন শুভেন্দু। মমতাকে ভবানিপুরে ১৫ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন শুভেন্দু।
বিজেপির এ নেতা ভবানিপুরের পাশাপাশি নন্দিগ্রাম নামে একটি আসনেও নির্বাচন করেন। সেখানেও বড় ব্যবধানে জেতেন তিনি। আগামী ১০ দিনের মধ্যে তিনি একটি আসন ছেড়ে দেবেন।
আগামী ৯ মে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেবেন শুভেন্দু। এ পর্যন্ত দলীয় সমর্থকদের কোনো উৎসব না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচনে জেতার পর ব্যাপক সহিংসতা শুরু করেছেন বিজেপির কর্মী সমর্থকরা। তারা তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকদের ওপর নৃশংস হামলা এবং অফিসে ভাঙচুর করছেন।
এরমধ্যে কলকাতার নিউমার্কেটের মাংসের দোকানে হামলা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার রাতে নিউমার্কেটের ঐতিহাসিক হগ মার্কেট এলাকায় বুলডোজার নিয়ে আসেন বিজেপির উগ্র কর্মীরা। তারা সেখানে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেন। ওই সময় সেখানে থাকা মাংসের দোকানেও হামলা চালানো হয়।
ব্যস্ত মার্কেটে এমন ভাঙচুর দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ব্যবসায়ীরা। তারা তখন দ্রুত তাদের দোকানের সাটার বন্ধ করে দেন।
সূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে
আন্তর্জাতিক
হরমুজ প্রণালীতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত, ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানালেন শাহবাজ
পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সামরিক অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত করার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এই সাহসী সিদ্ধান্তের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৬ মে) পাকিস্তানের স্থানীয় পত্রিকা ডন এই খবর জানিয়েছে।
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন নৌবাহিনী ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ শুরু করেছিল। তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তজনা প্রশমনে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় এবং কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতির পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাময়িকভাবে এই অভিযান স্থগিত করার ঘোষণা দেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেয়া এক বার্তায় শাহবাজ শরিফ বলেন, “হরমুজ প্রণালীতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিতের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাহসী নেতৃত্ব এবং সময়োপযোগী ঘোষণায় আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”
তিনি উল্লেখ করেন যে পাকিস্তান ও অন্যান্য বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর অনুরোধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। বিশেষ করে সৌদি আরব এবং দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে নেয়া এই সিদ্ধান্ত বর্তমান সংবেদনশীল সময়ে আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমঝোতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পুনর্ব্যক্ত করেন যে পাকিস্তান সবসময়ই সংযম প্রদর্শন এবং কূটনীতি ও সংলাপের মাধ্যমে সঙ্ঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রচেষ্টায় দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান এ ইতিবাচক ধারাটি শেষ পর্যন্ত একটি স্থায়ী চুক্তির দিকে নিয়ে যাবে, যা এই অঞ্চল ও অঞ্চলের বাইরে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।
আন্তর্জাতিক
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ অবৈধ
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিয়ে নতুন করে অবস্থান জানিয়েছে চীন। বেইজিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠকের পর চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ বৈধ নয়।
ওয়াং ই বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং দ্রুত উত্তেজনা কমানো জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংঘাত নিরসনে সংলাপ ও কূটনৈতিক আলোচনাই একমাত্র কার্যকর পথ। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং দ্রুত উত্তেজনা কমানো জরুরি। ওয়াং ই আরও জানান, সংঘাত নিরসনে সংলাপ ও কূটনৈতিক আলোচনাই একমাত্র কার্যকর পথ, আর এজন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ প্রয়োজন।
চীন এই অঞ্চলে শান্তি ফেরাতে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও বৈঠকে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, এখনই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির দিকে এগোনো জরুরি, না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে, বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি চীনের অবস্থানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী। একইসঙ্গে তিনি চীনকে ইরানের দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেন।
আরাগচি আরও জানান, তেহরান আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চায়, তবে তা হতে হবে ন্যায্য ও সকল পক্ষের স্বার্থ রক্ষাকারী চুক্তির ভিত্তিতে।
এই বৈঠকের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিয়ে চীনের কূটনৈতিক অবস্থান আবারও স্পষ্ট হলো বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই
আন্তর্জাতিক
চূড়ান্ত সমঝোতা স্মারকে অগ্রগতি, শেষ হচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে একটি প্রাথমিক সমঝোতা কাঠামো চূড়ান্ত করার পথে অগ্রগতি হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী পক্ষগুলোর সূত্রের বরাতে বলা হচ্ছে, দুই দেশের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত নথির মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে, সাম্প্রতিক আলোচনায় একটি এক পাতার সমঝোতা খসড়া নিয়ে কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মধ্যস্থতাকারীদের ভাষ্যমতে, উভয় পক্ষই দ্রুত একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর বিষয়ে আশাবাদী এবং আলোচনা এখন শেষ ধাপে রয়েছে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার অংশ হিসেবে সামরিক তৎপরতা কিছুটা সীমিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকটি চলমান সামরিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।
আলোচনার সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্রের মতে, অল্প সময়ের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত অবস্থান পাওয়া যেতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই ধরনের সমঝোতা হলে দীর্ঘদিন ধরে চলা উত্তেজনা কিছুটা হলেও কমার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো অনিশ্চিত।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক
ইরানের সঙ্গে সমঝোতার লক্ষ্যে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত ঘোষণা ট্রাম্পের
ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিতে চলমান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর সিবিসি নিউজ।
বাংলাদেশ সময় বুধবার (৬ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।
ট্রাম্প জানান, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধ এবং ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতির কারণে প্রজেক্ট ফ্রিডম স্থগিত করা হলো। তবে ইরানের বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর থাকবে।
চুক্তি চূড়ান্ত করা ও স্বাক্ষর করা সম্ভব কি না, তা দেখার জন্য প্রজেক্ট ফ্রিডম স্থগিত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
উল্লেখ্য, হরমুজে আটকে পড়া বিভিন্ন দেশের জাহাজকে প্রণালি থেকে বের হতে সহায়তা করতে গত সোমবার সকাল থেকে প্রজেক্ট ফ্রিডম নামের একটি অভিযান শুরু করে মার্কিন সেনাবাহিনী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের প্রচেষ্টাকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের শামিল আখ্যা দিয়ে তা প্রতিরোধের ঘোষণা দেয় ইরান।




