ধর্ম ও জীবন
জুমার দিন যেসব আমলে গুনাহ মাফ হয়
ইসলামে জুমার দিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কোরআনে জুমার দিন দ্রুত মসজিদে গমনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া হাদিসে গুরুত্বপূর্ণ আমলের কথা বর্ণিত হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! জুমার দিন নামাজের আজান হলে তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং বেচাবিক্রি বন্ধ কোরো, তা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বুঝো।
এরপর নামাজ শেষ হলে ভূপৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (জীবিকা) অনুসন্ধান করো এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা : জুমা, আয়াত : ৯-১০)
জুমার দিনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো—
১. জুমার দিনের বিশেষ মর্যাদা
আবু লুবাবা বিন আবদুল মুনজির (রা.) থেকে বর্ণিত, হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন। সেগুলো হলো—এক. আল্লাহ তাআলা এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেছেন। দুই. আল্লাহ তাআলা এই দিনে আদম (আ.)-কে জমিনে অবতরণ করিয়েছেন।
তিন. এই দিনে আদম (আ.)-কে মৃত্যু দিয়েছেন। চার. এই দিনে এমন একটি সময় আছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে যা কিছুই প্রার্থনা করবে তিনি তা দেবেন। যতক্ষণ সে হারাম কিছু প্রার্থনা করবে না। পাঁচ. এই দিনে কিয়ামত সংঘটিত হবে।
’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৮৯৫)
২. জুমার নামাজ আদায়
সালমান ফারসি থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, সাধ্যমতো পবিত্র হলো, তেল ব্যবহার করল, ঘর থেকে সুগন্ধি ব্যবহার করল, অতঃপর মসজিদে এলো, সেখানে দুজন মুসল্লির মধ্যে ফাঁক করে সামনে এগিয়ে যায় না, নির্দিষ্ট পরিমাণ নামাজ পড়ল, অতঃপর ইমাম কথা শুরু করলে চুপ থাকল; তাহলে আল্লাহ তাআলা তাঁর দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ করবেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৮৩)
অন্য হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা, এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজান মধ্যবর্তী সময়ের পাপ মোচন করে; যদি সেই ব্যক্তি সব ধরনের কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকে।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৩৩)
৩. জুমার দিন গোসল করা
জুমার দিন গোসল করা ও আগে আগে মসজিদে যাওয়া অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। আউস বিন আউস সাকাফি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন ভালো করে গোসল করল, দ্রুততর সময়ে মসজিদে গেল ও (ইমামের) কাছাকাছি বসে মনোযোগসহ (খুতবা) শুনল, তাঁর জন্য প্রতি কদমের বদলে এক বছরের রোজা ও নামাজের সওয়াব থাকবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৪৫)
৪. মসজিদে প্রথমে প্রবেশ করা
জুমার দিন মসজিদে আগে প্রবেশ করা ও মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনার বিশেষ গুরুত্ব আছে।
রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, অতঃপর প্রথমে মসজিদে গেল সে যেন একটি উট কোরবানি করল। যে এরপর মসজিদে গেল, সে যেন একটি গরু কোরবানি করল। আর যে এরপর ঢুকল, সে যেন ছাগল কোরবানি করল, এরপর যে ঢুকল সে যেন মুরগি কোরবানি করল, আর যে এরপর ঢুকল সে ডিম সদকা করল। অতঃপর ইমাম খুতবার জন্য এলে ফেরেশতারা আলোচনা শোনা শুরু করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৪১)
৫. দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত
জুমার দিন দোয়া কবুল হয় জুমার দিন একটি সময় আছে, যখন মানুষ আল্লাহর কাছে কোনো দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘জুমার দিন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে ভালো কিছুর দোয়া করলে আল্লাহ তাকে তা দেন। তোমরা সময়টি আসরের পর অনুসন্ধান কোরো।’ (আবু দাউদ, হাদিস নম্বর : ১০৪৮)
জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনের বারো ঘণ্টার মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে যদি কোনো মুসলিম এ সময় আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে, তাহলে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে দান করেন। এই মুহূর্তটি তোমরা আছরের শেষ সময়ে অনুসন্ধান কোরো। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৮)
৬. সুরা কাহাফ পাঠ
জুমার অন্যতম আমল সুরা কাহাফ পাঠ করা। আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ পড়বে তা দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ে তার জন্য আলোকিত হয়ে থাকবে। আর যে ব্যক্তি এই সুরার শেষ ১০ আয়াত পাঠ করবে অতঃপর দাজ্জাল বের হলে তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’ (সহিহ তারগিব, হাদিস : ১৪৭৩, আল মুসতাদরাক : ২/৩৯৯)
৭. গুনাহ মাফ হয়
সালমান ফারসি থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, সাধ্যমতো পবিত্র হলো, তেল ব্যবহার করল, ঘর থেকে সুগন্ধি ব্যবহার করল, অতঃপর মসজিদে এলো, সেখানে দুজন মুসল্লির মধ্যে ফাঁক করে সামনে এগিয়ে যায় না, নির্দিষ্ট পরিমাণ নামাজ পড়ল, অতঃপর ইমাম কথা শুরু করলে চুপ থাকল; তাহলে আল্লাহ তাআলা তাঁর দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ করেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৮৩)
৮. দরুদ পাঠ
জুমার দিন নবীজি (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা কর্তব্য। আউস বিন আবি আউস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। এই দিনে শিঙায় ফুঁ দেওয়া হবে এবং এই দিনে সবাইকে বেহুঁশ করা হবে। অতএব, তোমরা এই দিনে আমার ওপর বেশি পরিমাণ দরুদ পড়ো। কারণ জুমার দিনে তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়।’ সাহাবারা বললেন, আমাদের দরুদ আপনার কাছে কিভাবে পেশ করা হবে, অথচ আপনার দেহ একসময় নিঃশেষ হয়ে যাবে? তিনি বলেন, ‘আল্লাহ জমিনের জন্য আমার দেহের ভক্ষণ নিষিদ্ধ করেছেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭)
এমএন
ধর্ম ও জীবন
আজ পবিত্র শবে বরাত
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) পবিত্র শবেবরাত। হিজরি সনের শাবান মাসের ১৪ তারিখের মুসলমানদের কাছে‘সৌভাগ্যের রাত’ হিসেবে পরিচিত। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিশ্বাস, এ রাতে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য অশেষ রহমতের দরজা খুলে দেন।
‘শবেবরাত’ ফারসি শব্দ। এখানে ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ অর্থ মুক্তি, শান্তি ও সৌভাগ্য। আরবি ভাষায় এ রাতকে বলা হয় ‘লাইলাতুল বরাত’। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, এ মহিমান্বিত রাতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর অসংখ্য বান্দার গুনাহ মাফ করেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন।
পবিত্র এ রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার এবং দোয়ায় মগ্ন থাকেন। অতীত জীবনের ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জীবনের কল্যাণ কামনায় মোনাজাত করেন তারা। একই সঙ্গে মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, সমাজ, রাষ্ট্র ও সমগ্র বিশ্বের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা হয়।
হাদিসে এ রাতের বিশেষ মর্যাদার কথা উল্লেখ করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহান আল্লাহ মধ্য শাবানের রাতে তাঁর সৃষ্টির প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং শিরিককারী ও হিংসুক ব্যক্তি ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৫৬৬৫)
শবেবরাতের আগের দিন বা পরের দিন রোজা রাখা সুন্নত। এ কারণে অনেক মুসলমান দুই দিন নফল রোজা পালন করেন।
পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে এদিন দেশের সব সরকারি অফিস, আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
উল্লেখ্য, শবেবরাত মুসলমানদের কাছে পবিত্র রমজানের আগমনী বার্তাও বহন করে। শাবান মাসের পরই শুরু হয় মাহে রমজান। তাই এ রাত থেকেই কার্যত রমজানের প্রস্তুতি শুরু করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
এমএন
ধর্ম ও জীবন
একমাসে ১ কোটি ৪৮ লাখের বেশি মুসল্লির ওমরাহ পালন
সৌদির ভেতর ও বাইরে থেকে রজব মাসে এ পর্যন্ত ওমরাহ আদায় করেছেন ১ কোটি ৪৮ লাখ মুসল্লি। সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় এবং মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর বিষয়ক সাধারণ কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দেখা গেছে, শুধু রজব মাসে বিদেশ থেকে ওমরাহ পালন করতে সৌদি আরবে প্রবেশ করেছেন ২০ লাখের বেশি মুসল্লি। তারা বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশসহ নানা অঞ্চল থেকে এসেছেন।
কর্তৃপক্ষ বলছে, ওমরাহ পালনকারীর এই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি সৌদি আরবের আধুনিক ও দক্ষ সেবাব্যবস্থার প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি হাজি ও মুসল্লিদের জন্য গড়ে তোলা উন্নত সুযোগ-সুবিধা ও ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতাও তুলে ধরে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভিসা ও ভ্রমণ প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল সেবা চালু করা, অনলাইন বুকিং, স্মার্ট অ্যাপ ব্যবহার এবং সমন্বিত পরিবহন ও আবাসন ব্যবস্থার কারণে মুসল্লিদের যাতায়াত ও ইবাদত আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে। এতে স্বল্প সময়ে বেশি মানুষ নির্বিঘ্নে ওমরাহ পালন করতে পারছেন।
হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সৌদি ভিশন ২০৩০–এর লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই হজ, ওমরাহ ও জিয়ারত ব্যবস্থার উন্নয়নে ধারাবাহিক কাজ করে যাচ্ছে সরকার। এর উদ্দেশ্য হলো দুই পবিত্র মসজিদে মুসল্লিদের প্রবেশ সহজ করা এবং যাত্রা পরিকল্পনা থেকে শুরু করে দেশে ফেরার আগ পর্যন্ত একটি নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও পরিপূর্ণ আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা।
মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীতে সেবার মান আরও বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল সিস্টেমের আরও আধুনিকায়ন, ভিড় ব্যবস্থাপনা জোরদার করা এবং স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সেবার সম্প্রসারণ।
কর্তৃপক্ষের আশা, এসব পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে ওমরাহ ও হজ পালনকারীদের সংখ্যা আরও বাড়বে এবং মুসল্লিরা আরও স্বস্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে তাদের ইবাদত সম্পন্ন করতে পারবেন।
এমকে
জাতীয়
জানা গেল শবে বরাত কবে
দেশের আকাশে হিজরি ১৪৪৭ সনের পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন।
সভায় জানানো হয়, সোমবার দেশের কোথাও শাবান মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় ২০ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) রজব মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং ২১ জানুয়ারি (বুধবার) থেকে শাবান মাস গণনা শুরু হবে। সে অনুযায়ী ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে শবে বরাত পালিত হবে।
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ের কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং স্পারসো থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান, প্রধান তথ্য অফিসার মো. নিজামুল কবীর, উপ-ওয়াকফ প্রশাসক মো. আকবর হোসেন, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল অধ্যাপক মোহাম্মদ ওবায়দুল হক, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের গভর্নর মাওলানা সৈয়দ মো. মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানি, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম মিয়া, ইসলামিক ফাউন্ডেশন দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ. বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) এর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়া ও ইসলামিক শিক্ষা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবদুল্লাহ ফারুক ও জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়ার উপাধ্যক্ষ আবদুল গাফফার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ধর্ম ও জীবন
হজযাত্রীদের সেবায় ১০০ হজ গাইড নিয়োগ দিলো সরকার
চলতি বছরে সরকারি মাধ্যমের হজযাত্রীদের সেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে শর্তসাপেক্ষে ১০০ জনকে হজ গাইড হিসাবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সম্প্রতি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।
অফিস আদেশে বলা হয়, হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা বিধিমালার শর্তাবলী পরিপালন সাপেক্ষে ২০২৬ সালের সরকারি মাধ্যমের সৌদি আরবের মক্কা, মদিনা, মিনা, আরাফা, মুজদালিফাসহ বিভিন্ন স্থানে হজযাত্রীদের সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে শর্তসাপেক্ষে ১০০ জনকে হজ গাইড হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে।
হজ গাইড এর দায়িত্ব-কর্তব্য ও নিয়োগের শর্তাবলী প্রসঙ্গে বলা হয়, এই নিয়োগ আদেশ জারির পর হজ গাইডকে হজ অফিস, ঢাকায় নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা সম্পাদন করতে হবে; হজ গাইড হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনার জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না এবং এজন্য কোনো প্রকার ক্ষতিপূরণ দাবি করা যাবে না; মনোনীত গাইডকে আবশ্যিকভাবে প্রশিক্ষণে অংশ গ্রহণ করতে হবে; হজ গাইডকে ৪৬ জন (কম/বেশি) হজযাত্রীর হজে গমন থেকে প্রত্যাগমন পর্যন্ত সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করতে হবে ।
আরও বলা হয়, হজযাত্রীর নামের তালিকা পাওয়ার পর হজ গাইড সকলকে সংযুক্ত করে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করবেন। গ্রুপের মাধ্যমে সকল ধরনের যোগাযোগ রাখবেন এবং গ্রুপের সকলকে একত্রিত করে হজের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন; হজ ভিসা প্রক্রিয়াকরণের জন্য বায়োমেট্রিক সম্পাদন, টিকা গ্রহণ ও পাসপোর্ট সংগ্রহ করে হজযাত্রীদের ভিসার আবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিচালক, হজ অফিস, আশকোনা, ঢাকায় দাখিল এবং বিমানের টিকিট সংগ্রহে সহায়তা করবেন; হজযাত্রীদের হজের আরকান-আহকাম সম্পর্কে তা’লিম দেবেন; সৌদি আরবে হজ প্রশাসনিক দল/ কাউন্সেলর (হজ)/ সহকারী মৌসুমী হজ অফিসারের তত্ত্বাবধানে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
দায়িত্ব-কর্তব্য ও নিয়োগের শর্তে বলা হয়, হজগাইড কোনো হজযাত্রীর ব্যক্তিগত কাজে সংশ্লিষ্ট হবেন না; হজ গাইড খাবার ক্রয় বা অন্য কোনো আর্থিক লেনদেনে জড়িত হবেন না; হজযাত্রীদের সাথে নম্র ও ভদ্র আচরণ করবেন; সরকার বা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনো কাজে জড়িত না হওয়া; হজযাত্রীদের জন্য আয়োজিত প্রশিক্ষণে গ্রুপের সকল হজযাত্রীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা; হাজী হারানো গেলে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করা ও অসুস্থ হাজীদের চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়ার ব্যবস্থা করা; জেদ্দা, মক্কা ও মদীনায় অবস্থিত বাংলাদেশ হজ অফিসের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন; নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরিধান ও সফরের সময় দৃশ্যমানভাবে জাতীয় পতাকা বহন করবেন; হজযাত্রীদের নিজস্ব ব্যয়ে মক্কা ও মদিনায় জিয়ারার ব্যবস্থা করবেন; বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের পর হজ সংক্রান্ত সার্বিক কার্যক্রম উল্লেখ করে একটি প্রতিবেদন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে জমা দেবেন।
চাকুরিরত হজ গাইডদের সৌদি আরব অবস্থানকাল কর্মকাল (অন ডিউটি) হিসেবে গণ্য হবে। প্রার্থীকে তার নিজ কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র দাখিল করতে হবে। প্রত্যেক হজ গাইড গ্রুপের হজযাত্রীর মতো সুযোগ-সুবিধা এবং সৌদি আরবে মোবাইল ও আনুষঙ্গিক ব্যয় বাবদ নির্ধারিত অর্থ পাবেন বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
ধর্ম ও জীবন
রমজানে ওমরাহ পালনে ইচ্ছুকদের জন্য দুঃসংবাদ
পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে ওমরাহ পালনের পরিকল্পনা করা বিদেশিদের দ্রুত বুকিং দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন ভ্রমণসেবা সংশ্লিষ্টরা। দেরি করলে ওমরাহ প্যাকেজের খরচ দ্বিগুণ-তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠানগুলো।
বিশেষ করে রমজান মাসে মক্কা ও মদিনায় লাখ লাখ মুসল্লির আগমনের কারণে পরিবহন ও আবাসন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে বলে জানানো হয়েছে। খবর খালিজ টাইমসের।
ওমরাহ অপারেটরদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাসে ওমরাহ প্যাকেজের খরচ প্রায় এক হাজার ২০০ দিরহাম হলেও আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তা বেড়ে ১ হাজার ৪০০ দিরহামে পৌঁছাতে পারে। রমজান যত ঘনিয়ে আসবে, এই ব্যয় দুই হাজার দিরহামেরও বেশি হয়ে যাবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, অনেকেই শেষ মুহূর্তে সস্তা প্যাকেজের আশায় বুকিং পিছিয়ে দেন, কিন্তু রমজানের মতো ব্যস্ত সময়ে আসন ও হোটেল সীমিত হয়ে পড়ায় উল্টো বেশি দাম গুনতে হয়।
আকাশপথে ওমরাহর ক্ষেত্রে খরচ আরও বেশি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে বিমানযাত্রাসহ ওমরাহ প্যাকেজ শুরু হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ দিরহাম থেকে। তবে রমজান শুরু হলে এই প্যাকেজের দাম ৫ হাজার ২০০ দিরহাম ছাড়িয়ে ৮ হাজার দিরহাম পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে রমজানের শেষ দশকে খরচ সবচেয়ে বেশি হবে বলে জানিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ট্যুর অপারেটররা।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উড়োজাহাজের টিকিটের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও হোটেল ভাড়াই ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ। মসজিদুল হারাম থেকে হাঁটা দূরত্বে অবস্থিত হোটেলগুলোর ভাড়া রমজানে দ্বিগুণ এবং শেষ দশ দিনে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়।
এছাড়া, হজের প্রস্তুতির কারণে ওমরাহ ভিসার সময়সীমাও গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ১৭ মার্চের পর ওমরাহ ভিসা আবেদন বন্ধ হবে এবং ২ এপ্রিলের মধ্যে সৌদি আরবে প্রবেশ করতে হবে। ১৮ এপ্রিলের মধ্যে দেশ ছাড়ার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। তাই খরচ ও সময়-দুটো বিষয় মাথায় রেখে আগেভাগে পরিকল্পনার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এমকে



