জাতীয়
সীমান্তে অতন্দ্র প্রহরীর দায়িত্ব পালন করছে বিজিবি: প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দেশের ভৌগলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখার পাশাপাশি সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান রোধ, মাদক ও নারী-শিশু পাচার রোধে বিজিবি ‘সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানেও বিজিবি প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সীমান্ত উত্তেজনা ও পুশইন রোধসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় পেশাদারত্ব বজায় রেখে কাজ করে যাচ্ছে।
আজ শনিবার (২০ ডিসেম্বর) ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দিবস-২০২৫ উদযাপন’ উপলক্ষ্যে দেওয়া বাণীতে গতকাল শুক্রবার অধ্যাপ মুহাম্মদ ইউনূস এ কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বিজিবি দিবস উপলক্ষে বাহিনীর সব সদস্যকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এই অঞ্চলের সুদীর্ঘ ইতিহাস ও গৌরবময় ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী।
তিনি আরও জানান, ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে দু’জন বীরশ্রেষ্ঠসহ ১১৯ জনের খেতাবপ্রাপ্তি এবং ৮১৭ শহীদের আত্মত্যাগ বিজিবির ইতিহাসকে মহিমান্বিত করেছে।
মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে দেশমাতৃকার বৃহত্তর কল্যাণে এ বাহিনীর যে সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে আত্মোৎসর্গ করেছেন, তাদের আত্মার শান্তি কামনা করেন তিনি।
অধ্যাপক ইউনূস বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ দিবস-২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
জাতীয়
২৯৯ আসনে ব্যালট বিতরণ শুরু আজ
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য ২৯৯টি সংসদীয় আসনের ব্যালট পেপার মুদ্রণ ও জেলাওয়ারী পাঠানোর কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তারা তাদের সংশ্লিষ্ট আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের (এআরও) কাছে ব্যালট ও প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সামগ্রী বিতরণ শুরু করেছেন।
সারাদেশে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে সংসদীয় ২৯৯ আসনের ব্যালট পাঠানো শেষ হয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) গতকাল শনিবার এই বিতরণ শেষ করেন। তাদের পাঠানো ব্যালট বুঝে নিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এখন রিটার্নিং কর্মকর্তারা সেখানে থেকে স্ব-স্ব আসনে ব্যালট পাঠাতে পারবেন। তিনি বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তারা চাইলে রোববার থেকে আসনওয়ারী বিতরণ করতে পারবেন। কমিশন থেকে চিঠি দিয়ে তাদের এ সংক্রান্ত নিদের্শনা দেয়া হয়েছে। ইসি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সংসদ নির্বাচনের ব্যালট বিতরণ শাখার ইসির উপ-সচিব রাশেদুল ইসলাম জানান, গত ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ হয়। এর পর থেকেই ব্যালট মুদ্রণ শুরু করা হয়। যখন যে আসনে ব্যালট মুদ্রণ শেষ হয়েছিল, সেখানে পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ শনিবার একটি বাদে সবগুলোতেই পাঠানো শেষ হয়।
রোববার সকালে একটিতে পাঠানোর মাধ্যমে জেলাওয়ারী ব্যালট পাঠানোর কাজ শেষ হবে। এখন রিটার্নিং কর্মকর্তারা সেখানে থেকে স্ব-স্ব আসনে ব্যালট পাঠাতে পারবেন। তিনি বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তারা চাইলে রোববার থেকে আসনওয়ারী বিতরণ করতে পারবেন। কমিশন থেকে চিঠি দিয়ে তাদের এ সংক্রান্ত নিদের্শনা দেয়া হয়েছে।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, আইনে পোস্টাল ব্যালটে ভোটের বিধান থাকলেও তা এতোদিন অকার্যকর ছিল। এবারই প্রথম সরকারি কর্মকর্তা, কারাবন্দী ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বাইরে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটদানের ব্যবস্থা করে নির্বাচন কমিশন। সর্বোচ্চ ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটার পোস্টাল ভোট বিধি অ্যাপে নিবন্ধন করেন। নিবন্ধিতরা ভোট দিয়ে এরইমধ্যে দেশে ব্যালট পাঠানো শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত ভোট প্রদান করা বিভিন্ন নাগরিকের সংখ্যা ৩ লাখ ৯ হাজারের বেশি। এসব পোস্টাল ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তারা গ্রহণ করেছেন।
এর বাইরে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি হয়ে ভোট দেবেন ১২ কোটি ৬২ লাখের বেশি ভোটার। তাদের ব্যালট মুদ্রণ করে ইসি। শনিবার মুদ্রিত ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো শেষ করেছে। আজ রোববার থেকে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা তাদের কার্যালয় থেকে স্ব-স্ব সংসদীয় আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের (এআরও) কাছে এ ব্যালট বন্টন করবেন। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা তাদের কাছ থেকে ব্যালট ও নির্বাচনী সামগ্রী বুঝে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে রাতেই পৌছে যাবেন। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে। এর আগে ভোটের নির্বাচনী সামগ্রী মাঠ পর্যায়ে পাঠানো হয়।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম হোসেন জানান, তার জেলায় সবগুলোর আসনের ব্যালট তিনি বুঝে পেয়েছেন। গণমাধ্যমে তিনি শনিবার জানান, আগামীকাল (৮ ফেব্রুয়ারি) ব্যালটগুলো স্ব-স্ব আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত এআরওদের কাছে বিতরণ শুরু করবেন। নির্বাচন কমিশন থেকে শনিবার চিঠি দিয়ে এই প্রক্রিয়ায় ব্যালট বিতরণের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, যারা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিচ্ছেন তাদের নাম সম্পূরক ভোটার তালিকায় রাখা হয়েছে। পোস্টাল ব্যালটের বাইরে যারা ভোট দিচ্ছেন শুধু তাদের সংখ্যা অনুযায়ী ব্যালট ছাপা হয়েছে।
এমএন
জাতীয়
সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনের প্রচারণা চলছে: প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ইতিবাচক পরিবেশে নির্বাচনের প্রচারণা চলছে। কেউ কারো বিরুদ্ধে কটু কথা বলছেন না। কোনো অভদ্র আচরণও হচ্ছে না। আমাদের অভদ্র কথাও হচ্ছে না। আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাস ও সংস্কৃতির জন্য এটি খুবই ইতিবাচক পরিবর্তন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) যমুনায় সভা শেষে প্রধান উপদেষ্টার বরাত দিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
প্রেস সচিব বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চলছে। এ নির্বাচনে প্রচারকালে কেউ কারও বিরুদ্ধে কটু কথা বলছেন না।
নির্বাচন সংক্রান্ত একটি হাই-প্রোফাইল সভা হয়েছে, সারা দেশের আইনশৃঙ্খলাসহ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ পর্যন্ত নির্বাচনের প্রস্তুতি সঠিকভাবে চলছে এবং এতে অন্তর্বর্তী সরকার সন্তুষ্ট বলে সভায় জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
শফিকুল আলম বলেন, এদেশের নারী-পুরুষ উৎসবমুখর একটি পরিবেশে ভোট দেবেন এবং এবারের ভোট স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
এরইমধ্যে নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ চালু করা হয়েছে। নির্বাচনে দেশের কোথাও কোন আইনশৃঙ্খলার অবনতি হলে এ অ্যাপের মাধ্যমে খুব দ্রুত নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে বার্তা চলে আসবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, এবারে নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। ১২৪টি দেশে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছিল। এ পর্যন্ত দেশের বাইরে থেকে ৪ লাখ ২২ হাজার ৯৬০টি ব্যালট বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। বিদেশি পর্যবেক্ষক প্রায় ৪০০ জন এবং দেশীয় পর্যবেক্ষক ৫০ হাজার থাকবেন।
এসব পোস্টাল ব্যালটের ভোট কীভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে-সে বিষয়ে ভারত ও পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশ জানতে চেয়েছে বলেও অবগত করেন তিনি।
‘পাশা’ নামে যে পর্যবেক্ষক সংস্থাটির ব্যাপারে অভিযোগ উঠেছে তাদেরকে নির্বাচন পর্যবেক্ষক কার্ড দেয়া স্থগিত রেখেছে নির্বাচন কমিশন বলেও জানান শফিকুল।
প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন-আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নির্বাচনের ভোটটা যেন সুষ্ঠু করা হয় । নির্বাচনের সময়টা আসলে একটা কঠিন সময় পার করা হচ্ছে জানান প্রেস সচিব।
এমএন
জাতীয়
আজ মাঠে নামছে ১০৫১ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে আজ (রবিবার) মাঠে নামছেন থেকে ১ হাজার ৫১ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তারা ভোটের মাঠে থাকবেন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান। একই সঙ্গে নির্বাচনের দায়িত্ব শুরু হচ্ছে সেনাবাহিনীর আরও সদস্যসহ অন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের।
ইসি মাছউদ বলেন, সেনাবাহিনী আগে থেকেই মাঠে আছে। রোববার থেকে আরও যুক্ত হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে তারা ভোটের আগে-পরে সাত দিন থাকবে। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করেছি। তারা সবাই বলেছে যে মাঠের অবস্থা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভালো এবং নির্বাচনের জন্য সহায়ক আছে।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘সব ব্যালট বাক্স জেলায় জেলায় পাঠানো হয়েছে। রিটার্নিং অফিসাররা সেগুলা গ্রহণ করছে। এখন সবাই ভোটের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।
এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক পরিপত্রে বলা হয়, নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনার জন্য শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখাতে পুলিশ, বিজিবি, আনসার-ভিডিপিসহ কোস্ট গার্ড মোতায়েন করা হবে এবং স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারের আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এবার বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৯ লাখ ৭০ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৩ জন, সেনাবাহিনী ১ লাখ ৩ হাজার, নৌবাহিনী ৫ হাজার, বিমানবাহিনী ৩ হাজার ৭৩০, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩, কোস্ট গার্ড ৩ হাজার ৫৮৫, পুলিশ ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩, র্যাব ৯ হাজার ৩৪৯ এবং চৌকিদার-দফাদার ৪৫ হাজার ৮২০ জন সদস্য মোতায়েন করা হবে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়, নির্বাচনী এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, র্যাব, পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং আনসার ব্যাটালিয়ন মোবাইল এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। বিজিবি, র্যাব, এপিবিএন এবং আনসার ব্যাটালিয়ন জেলা, উপজেলা ও থানাভিত্তিক কাজ করবে।
আর উপকূলীয় এলাকার জন্য কোস্ট গার্ড মোতায়েন থাকবে। সব বাহিনী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে রিপোর্ট করবে। এ ছাড়া তাঁর নির্দেশ এবং পরামর্শ অনুসারে সবার দায়িত্ব পালন করবে।
এমএন
জাতীয়
দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ৫ দিনের ছুটি
দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলতি ফেব্রুয়ারিতেই আসছে টানা পাঁচ দিনের ছুটি। ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকেই একের পর এক ছুটি মিলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবারও বন্ধ থাকবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণি কার্যক্রম।
আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ছুটি, ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্র ও শনিবার।
এরই ঠিক পরদিন ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রী শ্রী শিবরাত্রি ব্রত উপলক্ষে বন্ধ থাকবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ছুটির তালিকা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বছরের প্রথম বড় ছুটি এটি। আর তালিকায় থাকা পঞ্চম ছুটি এটি।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
আর ১০ ফেব্রুয়ারি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য সাধারণ ছুটি থাকবে বলে সিদ্ধান্ত রয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন সাধারণ ছুটি থাকবে, যা আগেই ঘোষণা করা হয়।
জাতীয়
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ‘না’ নিয়ে যা বললেন বায়তুল মোকাররমের খতিব
গণভোটে একাধিক বিষয়ের ওপর একসঙ্গে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলতে বাধ্য করায় জনগণকে এক ধরনের পেরেশানি ও যন্ত্রণার মধ্যে ফেলা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) জুমার খুতবায় তিনি ভোটের অধিকারকে একটি পবিত্র ‘আমানত’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
মুফতি আবদুল মালেক বলেন, গণভোটে পাঁচ থেকে আটটি বিষয়ে একসঙ্গে ভোট নেওয়া হচ্ছে। অথচ ভোটারদের প্রতিটি বিষয়ে আলাদাভাবে মত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি। আলাদা আলাদা অপশন নাই কেন। আপনাদের সিলে কম পড়ছে, না কালিতে টান পড়ছে; কিসে কম পড়ছে। ‘হ্যাঁ’ বলতে হলে সব বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ বলতে হলে সব বিষয়ে ‘না’ বলতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ পেরেশানিতে পড়েছে।
তিনি বলেন, একজন ভোটার কোনো কোনো বিষয়ের সঙ্গে একমত হতে পারেন, আবার কিছু বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। আলাদা আলাদা প্রশ্ন থাকলে তিনি সেভাবেই উত্তর দিতে পারতেন। কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থায় তা সম্ভব নয়। এ কারণে মানুষকে জোরপূর্বক একটি অবস্থান নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।
খুতবায় তিনি ভোটকে একটি পবিত্র ‘আমানত’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ভয়, লোভ বা প্ররোচনায় পড়ে নয়, বরং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ও সচেতনভাবে ভোট দেওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে বিজ্ঞ ও সৎ ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করার কথাও বলেন তিনি।
জাতীয় মসজিদের খতিব বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’- দুটি বিকল্প থাকায় জনগণের যেকোনোটি বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। সরকার বা কোনো দল ‘হ্যাঁ’ ভোটে উৎসাহ দিলেও ‘না’ ভোট দেওয়া কোনো অপরাধ নয়। কাউকে কোনো একটি পক্ষ নিতে বাধ্য করা উচিত নয়।
ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে দলীয় নাম, প্রতীক বা স্লোগানে প্রভাবিত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ইসলামের নাম ব্যবহার করলেই কোনো দল ইসলামসম্মত- এমন ধারণা ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন মুফতি আবদুল মালেক। দলগুলোর আদর্শ, ইশতেহার ও কর্মকাণ্ড যাচাইয়ের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, অনেক দল ইসলামের নাম ব্যবহার করলেও বাস্তবে তাদের কর্মকাণ্ড সেকুলার ধারার মতো হতে পারে। তাই ভোট দেওয়ার আগে সঠিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
খুতবার মূল বক্তব্যে মুফতি আবদুল মালেক বলেন, ভোটাধিকার সচেতনভাবে প্রয়োগ করতে হবে। কোনো চাপ বা প্রলোভনে পড়ে নয়, বরং চরিত্র, তাকওয়া ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।



