জাতীয়
ফয়সাল করিমের ব্যাংক হিসাবে রহস্যজনক লেনদেন
ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় আততায়ী হিসেবে যার নাম উঠে এসেছে, তিনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ক্যাডার ফয়সাল করিম মাসুদ (ছদ্মনাম-দাউদ বিন ফয়সাল)। তাকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। তার রাজনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তথ্যও খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
জানা গেছে, ফয়সাল ছাত্ররাজনীতিতে প্রভাবশালী ছিলেন। তিনি সর্বশেষ ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি এবং আদাবর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জুলাই বিপ্লবের পর নিষিদ্ধ সংগঠনটির পক্ষে ঝটিকা মিছিল, চোরাগোপ্তা হামলা ও বৈঠকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন। এমনকি ভারতে পলাতক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে বলে গোয়েন্দা সংস্থার বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ফয়সালের রাজনৈতিক উত্থান ছিল দ্রুত। স্থানীয় পর্যায়ে তিনি শুধু পদধারী নেতা নন, বরং প্রভাব বিস্তারে দক্ষ সংগঠক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তার এই প্রভাবের পেছনে ছিল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতার আশীর্বাদ। বিশেষ করে ফ্যাসিবাদী দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও প্রভাবশালী নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং বর্তমানে ভারতে পলাতক কামালের অত্যন্ত বিশ্বস্ত অনুসারী ছিলেন ফয়সাল।
এই প্রভাবশালী নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতাই তাকে ক্ষমতার বৃত্তে অবস্থান করতে সাহায্য করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সবচেয়ে গুরুতর তথ্য হলো, গুলিবর্ষণের মাত্র কয়েক দিন আগে, গত ৯ ডিসেম্বর একটি কালচারাল বৈঠকে ফয়সালকে হাদির ঠিক পাশেই বসে থাকতে দেখা যায়। হামলাকারী হিসেবে সন্দেহে থাকা ওই ব্যক্তি হাদির ঘনিষ্ঠ হওয়ারও চেষ্টা করেন। ‘মানবতাবাদী মুক্ত চিন্তার অধিকারী’ জুলাই বিপ্লবী হাদির উদারতার সুযোগ নিয়ে হামলার বিষয়ে পূর্ব ধারণা বা প্রস্তুতি নিতেই হাদির আশপাশে ভিড়েছিলেন আততায়ী ফয়সাল।
গোয়েন্দা তথ্য বলছে, হাদির ওপর হামলার প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্যগুলোর একটি হলোÑজুলাই বিপ্লবের পর ফয়সালের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বিপুল অঙ্কের লেনদেন। একাধিক ব্যাংকে থাকা তার হিসাবগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, স্বল্প সময়ে বড় অঙ্কের টাকা জমা ও উত্তোলন হয়েছে। এই লেনদেনের একটি অংশ এসেছে বিদেশ থেকে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এসব অর্থ বৈধ চ্যানেলে এসেছে কি না। একই সঙ্গে দেশের ভেতর থেকেও বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তার অ্যাকাউন্টে অর্থ এসেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, কারা এই অর্থ দিয়েছেন এবং কী উদ্দেশ্যে দিয়েছেনÑতা জানাই এখন তদন্তের অন্যতম লক্ষ্য। বিদেশে অবস্থানরত কিছু ব্যক্তির সঙ্গে ফয়সালের নিয়মিত আর্থিক যোগাযোগের তথ্যও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ভারতে পলাতক কামালের কাছ থেকে অর্থ পাওয়ার তথ্য বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
সূত্র বলছে, রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের এই যোগসূত্র হামলার পেছনের পরিকল্পনা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ফয়সালকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য সরকার ইতোমধ্যে ৫০ লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছে। ফয়সালের বিরুদ্ধে আগেও গুরুতর অপরাধের অভিযোগ ছিল, যা তার বর্তমান কর্মকাণ্ডকে আরো রহস্যময় করে তুলেছে। ২০২৪ সালের ৮ নভেম্বর ডাকাতির সময় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে আদাবর থানায় অস্ত্র আইনে মামলা হয়।
গ্রেপ্তারের পর দ্রুততার সঙ্গে তার পক্ষে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করা হয়। চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ তাকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করে। তবে এই জামিন প্রক্রিয়া নিয়ে আইন অঙ্গনে প্রশ্ন ওঠে যখন দেখা যায়, জামিন আদেশের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে ১৯ ফেব্রুয়ারি আদেশটি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ পায়। পরে ১২ আগস্ট হাইকোর্টের অন্য একটি বেঞ্চ তার জামিনের মেয়াদ আরও এক বছরের জন্য বাড়িয়ে দেয়।
অস্ত্র মামলার আসামি, যিনি জামিনে থাকাকালীন সময়েই সম্ভাব্য একজন প্রার্থীর ওপর এমন ভয়াবহ হামলার প্রধান সন্দেহভাজন হলেন, সেই প্রক্রিয়া এখন আইনের শাসন নিয়ে জনমনে গভীর সংশয় তৈরি করেছে। তদন্তকারীরা ফয়সালের জামিনকালীন চলাফেরা ও যোগাযোগগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছেন।
ফয়সালের রাজনৈতিক সংযোগ শুধু তার ব্যক্তিগত পরিচয়েই সীমাবদ্ধ নয়। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, তার পরিবারও আওয়ামী রাজনীতিতে জড়িত। যদিও তার বাবা একজন ছোট ব্যবসায়ী, তবে পরিবারের এই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা তাকে এবং পরিবারকে মোহাম্মদপুর এলাকায় প্রভাব বিস্তারে ব্যাপকভাবে সাহায্য করেছে। হামলার ঘটনার পর পরিবারের দুই সদস্যকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
ফয়সাল তথ্যপ্রযুক্তিতে বেশ দক্ষ। সূক্ষ্ম পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি গুলি করার আগেই তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডিঅ্যাক্টিভ করা হয়। গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, অত্যন্ত উচ্চপর্যায়ের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হাদিকে গুলি করা হয়। ঘটনার দিন আততায়ী ফয়সাল মোবাইল ফোনও ব্যবহার করেনি। এমনকি তাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য আশপাশে কিলার গ্রুপের রেসকিউ টিমও ছিল।
ফয়সাল ‘অ্যাপল সফট আইটি’ নামে একটি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মালিক। তিনি দুবছর আগে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসেরও (বেসিস) সদস্য হন। বেসিসের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপল সফট আইটি ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি। এটি আদাবর এলাকায় অবস্থিত। এর মাধ্যমে দেশের আইসিটি খাতে দক্ষ কর্মী তৈরি এবং প্রশিক্ষণের কাজ করা হয়। কোম্পানির সেবার মধ্যে আরো আছেÑ ওয়েব ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট, প্রশিক্ষণ, আউটসোর্সিং ট্রেনিং, সার্টিফাইড প্রফেশনাল ইন ট্রেনিং ম্যানেজমেন্ট, এসকিউএল ডাটাবেস পরিচালনা, গেম ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ও লোগো ডিজাইন, ২ডি-৩ডি অ্যানিমেশন, অ্যানিমেশন কার্টুন ডেভেলপমেন্ট, বিজ্ঞাপন তৈরি এবং অন্যান্য ডিজিটাল সমাধান।
হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কায় নাম প্রকাশ না করে বেসিসের এক সদস্য জানান, এইট পিয়ারস সলুশনস লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ শাহজালালের সুপারিশে ফয়সালকে বেসিসের সদস্য পদ দেওয়া হয়। ফয়সাল ২০২০ সালের ৯ জুন বেসিসের সদস্য হন।
এসব তথ্যের মাধ্যমে সন্দেহভাজন হামলাকারীর পরিচয় এবং তার ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক সংযোগও আলোচনায় এসেছে। তবে শাহজালাল বলেন, এ ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। ফয়সালকে চেনেনও না।
হাদির ওপর সশস্ত্র হামলা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; এটি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে নির্বাচনি পরিবেশ ও নেতা-কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, ‘আমরা প্রাইম সাসপেক্টকে খুঁজছি। হোপফুলি আমরা হিট করতে পারব। আমরা জনগণের সহযোগিতা চাইছি।’
এমকে
জাতীয়
১২ পুলিশ সুপারসহ ৩৯ কর্মকর্তাকে রদবদল
বাংলাদেশ পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। ১২টি জেলায় নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) নিয়োগসহ মোট ৩৯ জন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ রদবদলের আদেশ জারি করা হয়। আদেশটি জনস্বার্থে অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী-পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার রবিউল ইসলামকে নৌ পুলিশে, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা এপিবিএন-২ এর পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানকে পঞ্চগড়ে, বান্দরবানের পুলিশ সুপার আবদুর রহমানকে আরএমপির উপপুলিশ কমিশনার, এসবির (ঢাকা) পুলিশ সুপার ওহাবুল ইসলাম খন্দকারকে বান্দরবানে, জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদাকে ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার, ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজির পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগমকে জয়পুরহাটে, পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদকে এসবিতে, এসবির (ঢাকা) পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহকে পাবনার পুলিশ সুপার, নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলামকে ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার, শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন খাঁনকে নীলফামারীতে এবং নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদারকে ট্যুরিস্ট পুলিশে বদলি করা হয়েছে।
এছাড়া ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামীকে নড়াইলে, সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েলকে এপিবিএনের পুলিশ সুপার, রাজশাহীর সারদার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলমকে সাতক্ষীরায়, চাঁদপুরের পুলিশ সুপার রবিউল হাসানকে ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার, ঝালকাঠির পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানকে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার, সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদারকে ঝালকাঠির পুলিশ সুপার, মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনকে নৌ পুলিশ সুপার, আরএমপির উপপুলিশ কমিশনার রিয়াজুল ইসলামকে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁনকে এপিবিএনের পুলিশ সুপার, ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মাসুদ আলমকে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার, ফেনীর পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলামকে পুলিশ সদরদফতরের এআইজি এবং সিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানকে ফেনীর পুলিশ সুপার করা হয়েছে।
এদিকে আরেক প্রজ্ঞাপনে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মুশফেকুর রহমানকে পুলিশ অধিদফতরের ডিআইজি, আরএমপির পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) জিল্লুর রহমানকে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, এসবির (ঢাকা) ডিআইজি মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরকে আরএমপির কমিশনার (ডিআইজি), বরিশালের পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলামকে ট্যুরিস্ট পুলিশের ডিআইজি, পুলিশ অধিদফতরের (ঢাকা) ডিআইজি আশিক সাঈদকে বরিশালের পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি), ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) এস এন মো. নজরুল ইসলামকে সিআইডির ডিআইজি, সিআইডির (ঢাকা) ডিআইজি আবুল বাশার তালুকদারকে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিআইজি), ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (বর্তমানে ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) সানা শামীনুর রহমানকে সিআইডির ডিআইজি, সিআইডির ডিআইজি মোহাম্মদ শামসুল হককে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি), উপসচিব পদ থেকে প্রত্যাগত ড. শাহেদুল আকবর খানকে এসবির (ঢাকা) বিশেষ পুলিশ সুপার, ১৩ এপিবিএনের পুলিশ সুপার ড. এলিজা শারমীনকে পুলিশ অধিদফতরের পুলিশ সুপার (টিআর পদে), ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমানকে এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার, এপিবিএনের পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলমকে এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার, ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মোর্শেদ আলমকে কেএমপির উপপুলিশ কমিশনার, ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়াকে কেএমপির উপপুলিশ কমিশনার এবং এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত সাজেদুর রহমানকে ডিএমপির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার) পদে বদলি করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রশাসনিক ও জনস্বার্থ বিবেচনায় এই ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে।
জাতীয়
চট্টগ্রামের নতুন পুলিশ সুপার হলেন ডিসি মাসুদ
ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের আলোচিত উপকমিশনার মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নতুন দায়িত্বে বদলি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
জানা যায়, তিনি বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ২৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা। তার স্থায়ী ঠিকানা বগুড়া জেলায়। রমনা বিভাগের উপকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন কারণে তিনি আলোচনায় আসেন এবং একই সঙ্গে দক্ষতার স্বীকৃতিও পান।
বিশেষ করে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা যমুনা, সচিবালয়, হাইকোর্ট ও টিএসসি এলাকায় বিভিন্ন দাবি-দাওয়া কেন্দ্রিক আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে তার ভূমিকা প্রশংসিত হয়।
রমনা বিভাগে যোগদানের আগে তিনি পাবনা জেলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর পাশাপাশি তিনি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ছয়-এর ঝিনাইদহ ক্যাম্পেও কর্মরত ছিলেন।
মাসুদ আলম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন।
জাতীয়
পশ্চিমবঙ্গে যে সরকারই আসুক, পরিবর্তন হবে না বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি
পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তন হলেও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতেই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালিত হবে।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের একটি অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেখুন, ভারতের নির্বাচন ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। বাংলাদেশের ফরেন পলিসি অ্যাক্রস দ্য বোর্ড একই থাকবে।
তিনি বলেন, আমাদের ‘বাংলাদেশ প্রথম’ বা ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে আমাদের ফরেন পলিসি। সেটা যে সরকারই আসুক না কেন, আমাদের ফরেন পলিসি পরিবর্তন হবে না। আমরা আমাদের ফরেন পলিসি নিয়েই সবার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এগোবো।
উল্লেখ্য, গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দু’দফায় পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল সোমবার (৪ মে) সেই নির্বাচনের ফল ঘোষণা করে দেশটির নির্বাচন কমিশন। তাতে দেখা গেছে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৬টি আসনে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থীরা।
এমএন
জাতীয়
এক বছরের মধ্যেই সব ধাপের স্থানীয় সরকার নির্বাচন: মন্ত্রী মির্জা ফখরুল
আগামী এক বছরের মধ্যেই সব ধাপের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের ষষ্ঠ অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আগেও বলেছি, এখনও বলছি—আমরা চাই এবং চেষ্টা করবো, এক বছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে।’
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার শক্তিশালী হলে রাষ্ট্রও শক্তিশালী হবে। ডিসি সম্মেলনে আমরা তাদের সামনে এই বিষয়টি তুলে ধরেছি।’
উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকারের, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেওয়া কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে।’
জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার তাগিদ দিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, আমরা ডিসিদের বলেছি জনগণকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে হবে। কারণ জনগণই এই দেশের মালিক। তৃণমূল পর্যায়ের মানুষই সবকিছু নির্ধারণ করেন।’
ডিসি সম্মেলনের গুরুত্ব তুলে ধরে মির্জা ফখরুল জানান, সরকারের জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের এমন মতবিনিময় অত্যন্ত ফলপ্রসূ। ভবিষ্যতে এ ধরনের মতবিনিময় ও যোগাযোগ আরও বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
জাতীয়
ঈদ যাত্রায় ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি ১৩ মে থেকে শুরু
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেন যাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রির তারিখ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। গত ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ রেলওয়ের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১৩ মে থেকে ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে।
এদিন যাত্রীরা ২৩ মে’র ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে ২৪ মে’র টিকিট ১৪ মে, ২৫ মে’র টিকিট ১৫ মে, ২৬ মে’র টিকিট ১৬ মে এবং ২৭ মে যাত্রার টিকিট ১৭ মে বিক্রি করা হবে।
এবার ঈদযাত্রা রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যাত্রী সাধারণের টিকিট ক্রয় সহজলভ্য করার জন্য পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলরত সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট সকাল ৮টা এবং পূর্বাঞ্চলে চলাচলরত সকল আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট দুপুর ২টা থেকে বিক্রি শুরু হবে।
এসব টিকিটের শতভাগই অনলাইনে বিক্রি হবে। একজন যাত্রী ঈদে অগ্রিম এবং ফেরত যাত্রার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ একবার করে টিকিট ক্রয় করতে পারবেন। এক্ষেত্রে প্রতিবার সর্বোচ্চ চারটি টিকিট ক্রয় করতে পারবেন।
এছাড়া রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঈদের অগ্রিম এবং ফেরত যাত্রার টিকিট রিফান্ড করা যাবে না।




