জাতীয়
হাদিকে কনজারভেটিভ ম্যানেজমেন্টে রেখেছে মেডিকেল বোর্ড
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে বর্তমানে কনজারভেটিভ ম্যানেজমেন্টে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) মেডিকেল বোর্ডের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিষয়টি জানানো হয়।
বিবৃতিতে মেডিকেল বোর্ডের পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্তগুলো তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো-
১. রোগীর মস্তিষ্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেহেতু সার্জিক্যাল হস্তক্ষেপ সম্পন্ন হয়েছে, তাই বর্তমানে তাকে কনজারভেটিভ ম্যানেজমেন্টে রাখা হয়েছে। ব্রেন প্রোটেকশন প্রটোকল অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সব সাপোর্ট চালু থাকবে। শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলে পুনরায় ব্রেনের সিটি স্ক্যান করা হতে পারে।
২. ফুসফুসে ইনজুরি বিদ্যমান রয়েছে। চেস্ট ড্রেইন টিউব দিয়ে অল্প পরিমাণ রক্ত নির্গত হওয়ায় তা আপাতত চালু রাখা হয়েছে। ফুসফুসে সংক্রমণ ও এআরডিএস (ARDS) প্রতিরোধের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট অব্যাহত রাখা হবে।
৩. কিডনির কার্যক্ষমতা বর্তমানে ফিরে এসেছে। এটি বজায় রাখার জন্য পূর্বনির্ধারিত ফ্লুইড ব্যালেন্স যথাযথভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে।
৪. পূর্বে শরীরে রক্ত জমাট বাঁধা ও রক্তক্ষরণের মধ্যকার অসামঞ্জস্যতা (DIC) দেখা দিলেও বর্তমানে তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এ অবস্থা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত ও রক্তজাত উপাদান সঞ্চালন অব্যাহত থাকবে।
৫. ব্রেন স্টেম ইনজুরির কারণে রক্তচাপ ও হৃৎস্পন্দন ওঠানামা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে যে সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে তা চলমান থাকবে। হৃৎস্পন্দন বিপজ্জনকভাবে কমে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে টেম্পোরারি পেসমেকার স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট টিম সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
৬. ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার, রেডিওলজি, আইসিইউ, অ্যানেস্থেশিয়া, নিউরোসার্জারি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের চিকিৎসক ও সাপোর্টিভ স্টাফদের অসাধারণ ও মানবিক অবদানের জন্য এই মেডিকেল বোর্ড তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে।
৭. বর্তমানে রোগীর সার্বিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
৮. এই মেডিকেল সামারি রোগীর ভাই ও নিকটাত্মীয়দের বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। তারা চাইলে গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেশবাসীকে এ বিষয়ে অবহিত করতে পারেন। মেডিকেল টিমের পক্ষ থেকে সবার প্রিয় শরিফ মো. ওসমান হাদীর জন্য বিনীতভাবে দোয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
৯. অপ্রয়োজনে কেউ হাসপাতালে এসে ভিড় করবেন না। কোনো ধরনের ভিজিটর অনুমোদিত নয়।
১০. কোনো ধরনের অনুমানভিত্তিক বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করে মেডিকেল বোর্ডের প্রতি আস্থা রাখার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে। রোগীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হলো।
১১. আমাদের মেডিকেল টিম সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে তার চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে। রোগীর দ্রুত আরোগ্যের জন্য মেডিকেল বোর্ড ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ রইলো।
এমকে
জাতীয়
সেনাবাহিনীর সঙ্গে জামায়াত প্রার্থীর দুর্ব্যবহার, প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা
ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এসএম খালেকুজ্জামানের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের বিষয়টি প্রমাণিত হলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে অপেশাদার আচরণের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ইসি মাছউদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের বিষয়টি প্রমাণিত হলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাহিনীর মনোবল ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।
নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ কেমন আছে—প্রশ্নের জবাবে ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আমরা মনে করি, নির্বাচনি পরিবেশ যথেষ্ট ভালো আছে। অবশ্যই বলব তুলনামূলকভাবে ভালো আছে।
ভোটের পরিবেশ ভালো রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা চেয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমরা সব রাজনৈতিক দলের কর্মী, তাদের নেতৃত্বের নিকট এবং সংশ্লিষ্ট সবার নিকট আবেদন জানাই, তারাও একটা সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচনি পরিবেশ বজায় রাখার জন্য আমাদের সহযোগিতা করবেন এবং তাদের তরফ থেকে যে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার তারা সেটাই গ্রহণ করবে।
নির্বাচনি বিধি ভঙ্গ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ‘অবনমন’ ও দুই দলের শীর্ষ নেতাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যেন বিষয়ে কমিশন কী ব্যবস্থা নিচ্ছে জানতে চাইলে কমিশনার মাছউদ বলেন, পুরো দেশে ৩০০ জন জজের সমন্বয়ে ৩০০টি ইলেক্টোরাল ইনকয়ারি এবং এডজুডিকেশন কমিটি কাজ করছে। তা ছাড়া অনেক এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে। কাজেই আমরা মনে করি, যে কেউ যদি আচরণবিধি ভঙ্গ করেছে, এই ধরনের যদি অভিযোগ কেউ করেন, অনুগ্রহপূর্বক ইলেক্টোরাল ইনকয়ারি এবং জুডিকেশন কমিটির কাছে আপনারা প্রতিকার চাইতে পারেন।
আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা বিভিন্ন জায়গায় বহু লোককে আচরণবিধি ভঙ্গের কারণে ইতিপূর্বে শাস্তি দিয়েছেন, জরিমানাও করেছেন।
যদি মোবাইল কোর্ট বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ নিজেরাই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকে, সে বিষয়ে ইসির পক্ষ থেকে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—জানতে চাইলে ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, যদি নির্বাচনে নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তা নিজেই আচরণবিধি ভঙ্গ করেন বা তার ভেতরে পক্ষপাতিত্ব দেখা দেয়, সেক্ষেত্রেও যে কেউ ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি এবং এডজুডিকেশন কমিটির কাছে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।
নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, গুরুতর কোনো বিষয় কমিশন নিজেও আমলে নিতে পারে এবং একটা কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ নিতে পারে।
কোনো প্রার্থী যদি কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা কোনো বিশেষ বাহিনীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বা যেখানে যাওয়ার সুযোগ নেই সেখানে যদি যাওয়ার চেষ্টা করেন, সেটা আচরণ ভঙ্গ হয় কি না—জানতে চাইলে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, এই প্রশ্নটা খুব জটিল প্রশ্ন। কি ধরনের দুর্ব্যবহার, সেই দুর্ব্যবহার যদি আইনের কাঠামোতে আচরণবিধি ভঙ্গ বোঝা যায়, তাহলে নিশ্চয়ই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, এটা ফ্যাক্টস টু ফ্যাক্টস, কেস টু কেস ভিত্তিতে বলতে হবে। একেবারে ইউনিফর্ম একটা কথা কিন্তু বলা যাবে না।
জাতীয়
নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে ১০৫১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে দেশজুড়ে ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
নিয়োগপ্রাপ্ত এই ম্যাজিস্ট্রেটরা নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোটগ্রহণের আগে ও পরে মাঠপর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলার সার্বিক তদারকি করবেন। মূলত নির্বাচনের ময়দানে অপরাধ প্রতিরোধ এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে শৃঙ্খলা বজায় রাখাই হবে তাদের প্রধান কাজ।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, এই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন। তারা আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করবেন। তবে দায়িত্ব পালনের আগে তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে যাতে তারা নির্বাচনী আইন ও বিধিনিষেধগুলো সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারেন। তারা নির্বাচনী এলাকায় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্বরত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্টগার্ড এবং সশস্ত্র বাহিনীর টিমকে প্রয়োজনীয় আইনি দিকনির্দেশনাও প্রদান করবেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, নিয়োগপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটরা মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯-এর ৫ ধারা অনুযায়ী ক্ষমতা প্রাপ্ত হবেন। তারা ভোটগ্রহণের দুই দিন পর পর্যন্ত নির্ধারিত এলাকায় অবস্থান করবেন এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা তাদের নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে এসব ম্যাজিস্ট্রেটের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব বণ্টন এবং এলাকা নির্ধারণ করে দেবেন। এর ফলে নির্বাচনী সহিংসতা রোধ এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে বলে মনে করছে সরকার।
এমএন
জাতীয়
নির্বাচনে সংশ্লিষ্টদের শতভাগ নিরপেক্ষ থাকার নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন নিয়োজিত কর্মকর্তাদের সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বিগত ১৬ বছর অস্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের বীজ বপন করা হয়েছিল। রাষ্ট্রের পুরো যন্ত্র পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এবার এমন এক মানদণ্ড স্থাপন করা হবে যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হবে।
নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে এদেশের আপামর জনগণ, রাজনৈতিক দলসহ সর্বমহলের প্রত্যাশা অনেক। সেই প্রত্যাশা পূরণে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব আপনাদের কাঁধে।
কোনো ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম বা ব্যালটবাক্স ছিনতাই হলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি ‘কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল’ গঠন করা হয়েছে। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট যে কোনো অভিযোগ এ সেলে করা যাবে। এই সমন্বয় সেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি থাকবেন। এর মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের প্রতিটি মুহূর্তের তথ্য তাৎক্ষণিক আদান-প্রদান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা করা যায়।
উপদেষ্টা আরও বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের দ্রুত প্রবেশপত্র প্রদান সম্পন্ন করতে হবে এবং ভোটকেন্দ্রে তাদের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকদের দ্রুত পরিচয়পত্র প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। তারা নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য চাইতে পারেন। এ বিষয়ে তাদের পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পরিবেশ এমন উন্নত করতে হবে যাতে সবাই আনন্দ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে আসতে পারে।
এমএন
জাতীয়
১২ ফেব্রুয়ারির আগে শেরপুর-৩ আসনে তফসিল নয়: ইসি
শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আবদুর রহমান মাছউদ। তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির আগে এই আসনে পুনরায় নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার কোনো আইনি সুযোগ নেই।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসি মাছউদ জানান, বর্তমানে সারা দেশে ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের যেকোনো ঘটনায় সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা সরাসরি ‘ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি’-র কাছে অভিযোগ জমা দিতে পারবেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনে নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তা যদি নিজে আইন ভঙ্গ করেন বা কোনো প্রার্থীর প্রতি পক্ষপাতিত্ব প্রদর্শন করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধেও ইনকোয়ারি কমিটির কাছে অভিযোগ দেওয়া যাবে। অভিযোগ গুরুতর প্রকৃতির হলে সরাসরি নির্বাচন কমিশন (ইসি) ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
দেশের সামগ্রিক নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ইসি মাছউদ বলেন, আমরা মনে করি নির্বাচনী পরিবেশ যথেষ্ট ভালো আছে। একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কাছে আমাদের আবেদন- তারা আমাদের সহায়তা করবেন।
সম্প্রতি ঢাকা-১৭ আসনের এক প্রার্থীর সেনাবাহিনীর সদস্যদের সাথে অপেশাদার আচরণের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন এই কমিশনার। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনো আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএন
জাতীয়
নির্বাচন ও গণভোটের সব তথ্য মিলবে ৩৩৩ হেল্পলাইনে
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট ঘিরে বিশেষ তথ্যসেবা চালু করেছে সরকার। এখন থেকে নাগরিকরা ন্যাশনাল হেল্পলাইন ৩৩৩-এ টোল ফ্রি কল করে ৯ প্রেসের মাধ্যমে সহজেই নির্বাচন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা নিতে পারবেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে এক বিবৃতির মাধ্যমে এই নতুন সেবার কথা জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, এই সেবার আওতায় ভোটাররা ভোট দেওয়ার নিয়ম ও পদ্ধতি, ভোটকেন্দ্রের অবস্থান, জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত তথ্য, নির্বাচনকালীন আচরণবিধি, প্রবাসী ভোটারদের ভোট দেওয়ার নিয়ম, প্রতিবন্ধী, প্রবীণ ও নারী ভোটারদের জন্য বিশেষ সুবিধা, পাশাপাশি জরুরি নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় যোগাযোগ নম্বর সম্পর্কে জানতে পারবেন।
এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত Smart Election Management BD ও Postal Vote BD অ্যাপ ব্যবহারের পদ্ধতি সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ১৬ জানুয়ারি থেকে পাইলট আকারে চালু হওয়া এই বিশেষ সেবার মাধ্যমে এরইমধ্যে ১ হাজার ৬৪৩ অন নাগরিক তথ্য ও সহায়তা গ্রহণ করেছেন।
একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য গ্রহণ, সম্ভাব্য অস্থিরতা আগাম শনাক্তকরণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অবহিত করার একটি সহায়ক মাধ্যম হিসেবে ৩৩৩ এর ৯ নম্বর ব্যবহারের সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে। তবে এটি সরাসরি পুলিশ কন্ট্রোল রুম হিসেবে কাজ করবে না, বরং একটি ‘Information Intake, Early Warning & Forwarding System’ হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রাপ্ত তথ্য ৯৯৯ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
এমএন



