জাতীয়
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাঁড়াশি অভিযান, ১১৮৬ ভুয়া শিক্ষক চিহ্নিত
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) সাঁড়াশি অভিযানে ধরা খেলো ১১৮৬ জন ভুয়া সনদধারী শিক্ষক। এদের মধ্যে চার শতাধিক শিক্ষকের সনদ জাল ও ভুয়া এবং তিন শতাধিক শিক্ষকের সনদ অগ্রহণযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব শিক্ষকের কাছ থেকে বেতন-ভাতা হিসেবে তাদের নেওয়া ২৫৩ কোটি টাকা আদায় করতে সুপারিশ করেছে অধিদপ্তর। এ ছাড়া সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেহাত হওয়া ৭৯৩ একর জমি উদ্ধারেও সুপারিশ করেছে ডিআইএ।
ডিআইএ সূত্র জানায়, দেড় দশক ধরে জাল সনদ ধরার ব্যাপারে কার্যকর কোনো অভিযান হয়নি। বরং বহু ক্ষেত্রে জাল সনদ ধরা হলেও ঘুষের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। জাল সনদের সাড়ে ১২ হাজার আটকে থাকা ফাইল নতুন করে যাচাই করতে গিয়েই বেরিয়ে এসেছে ভয়াবহ চিত্র, যেখানে ১২ জন পরিদর্শকের নেতৃত্বে একটি চক্র শিক্ষকদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে ভুয়া সনদধারীদের ছাড় দিত। এখন এসব সনদ যাচাই করে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি ডিআইএ অডিটের নামে কোনো কর্মকর্তা যেন অর্থ লেনদেন করতে না পারে, সে বিষয়েও কঠোর সতর্কতা জারি করেছে অধিদপ্তর।
নথি বলছে, ডিআইএ গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাল সনদ বিরোধী অভিযানে ১ হাজার ১৮৬ জনকে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রাজশাহী বিভাগে রয়েছে ৭৭৯ জন, খুলনা বিভাগে ১৭৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৪ জন ও ঢাকা বিভাগে ৭০ জন। পুলিশের সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চ আরও ১৩৪ জন জাল সনদধারী শিক্ষকের তালিকা পাঠিয়েছে। এ ছাড়া মাদ্রাসা অধিদপ্তর আলাদা তদন্ত করে ১২০ জন শিক্ষকের জাল সনদ বাতিল করে তাদের ইনডেক্স কর্তন করেছে। ধরা পড়া জাল সনদের মধ্যে রয়েছে এনটিআরসিএ শিক্ষক নিবন্ধন, জাতীয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, রয়েল, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ, যেটাকে নেকটার সনদ বলা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন একাডেমিক সনদও রয়েছে। চিহ্নিত হওয়া জাল সনদের মধ্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ রয়েছে ১৪৮টি ও শিক্ষক নিবন্ধন বা এনটিআরসিএ সনদ ১২০টি। বাকিগুলো বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সনদ।
কর্মকর্তা জানান, ডিআইএর প্রধান কাজ স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর বা সংস্থায় পরিদর্শন ও নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা। পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা তুলে ধরার পাশাপাশি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এর ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিয়ে থাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংস্থাটি গত এক বছরে চার শতাধিক শিক্ষকের জাল ও ভুয়া সনদ চিহ্নিত করে তাদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। আরও তিন শতাধিক শিক্ষকের সনদ অগ্রহণযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেহাত হওয়া ৭৯৩ একর জমি উদ্ধারে সুপারিশ, ভুয়া নিয়োগ, অর্থ আত্মসাৎ এবং ভ্যাট, আইটিসহ বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অনিয়মের কারণে প্রায় ২৫৩ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতের সুপারিশ করেছ সংস্থাটি।
জানতে চাইলে ডিআইএ পরিচালক অধ্যাপক এম এম সহিদুল ইসলাম বলেন, এ দপ্তরের মূল কাজ হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক, প্রশাসনিক ও নিয়োগের প্রক্রিয়া ঠিক আছে কি না, তা অডিট করা। পাশাপাশি ওইসব প্রতিষ্ঠানে একাডেমিক সুপারভিশন ঠিক আছে কি না, দেখে সুপারিশ করা। কিন্তু বিগত সময়ে এ কাজটি যথাযথভাবে হয়নি। আমি যোগদান করেই জাল সনদ ধরতে একটি সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছি। সেই অভিযানে চার শতাধিক ভুয়া সনদ, তিন শতাধিক অগ্রহণযোগ্য সনদ চিহ্নিত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। সামনে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি জানান, সুপারিশে এসব শিক্ষকের এমপিও বাবদ নেওয়া অর্থ (বেতন-ভাতা) ফেরত নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এখন নিয়মানুযায়ী চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করার আগে শিক্ষাগত সব সনদ যথাযথভাবে যাচাই করার কথা। কিন্তু জাল সনদ জানার পরও অবৈধ সুবিধা নিয়ে বিষয়টি চেপে যান মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা। ফলে সনদ জাল হওয়ার পরও তারা এমপিওভুক্ত হয়ে যান। পেতে থাকেন বেতন-ভাতা বাবদ সরকারি অর্থও। তবে এনটিআরসিএর মাধ্যমে অনলাইনে সনদ যাচাইয়ের ব্যবস্থা করার পর জাল সনদের হার কিছুটা কমেছে।
মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক বি এম আব্দুল হান্নান ডিআইএর অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, একজন শিক্ষক যদি জাল সনদে চাকরি নেন, তিনি শুধু সরকারের সঙ্গে প্রতারণা নয়, তার পুরো চাকরি জীবনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করেন। এসব শিক্ষককে ধরতে অধিদপ্তরের যদি কোনো সহযোগিতা প্রয়োজন হয়, আমরা তা-ও করতে প্রস্তুত আছি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব (নিরীক্ষা ও আইন) জহিরুল ইসলাম বলেন, জাল সনদধারীদের একটি তালিকা শিক্ষা উপদেষ্টার কাছে জমা হয়েছে শুনেছি। তালিকায় থাকা শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি ও নিয়োগ বাতিল এবং অর্থ ফেরত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও করতে চাই আমরা, যাতে ভবিষ্যতে কেউ যেন এমন কাজ করার সুযোগ না পায়।
ঘুষ নিয়ে জাল সনদ ছাড়, সাড়ে ১২ হাজার ফাইলে বাণিজ্য: সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিআইএতে জাল সনদধারী শিক্ষকদের ফাইল আটকে রেখে এক ধরনের বাণিজ্যে হতো। কয়েকজন পরিদর্শক সিন্ডিকেট করে জাল সনদের নামে এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সূত্র বলছে, এই সিন্ডিকেটে অন্যতম সদস্য ছিলেন ২৪তম বিসিএসের কর্মকর্তা সাবেক পরিদর্শক ড. এনামুল হক ও মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম মাসুম। সিন্ডিকেটে আরও ছিলেন পরিদর্শক কে এম শফিকুল ইসলাম, মনকিউল হাসানাত, দেলোয়ার হোসেন, শাহিনুর ইসলাম, সাদিয়া সুলতানা, আশরাফুল রহমান খান, রিপন মিয়া, সরকার মোহাম্মদ শফিউল্লাহ দিদার, কামরুন নাহার, মোহাম্মদ ওয়ায়েছ আলকারনী মুন্সী। তারা প্রায় সাড়ে ১২ হাজার ফাইল আটকে রেখেছিলেন, যার বেশিরভাগই ছিল ভুয়া সনদধারী শিক্ষকদের ফাইল। এসব ফাইল নতুন করে যাচাই-বাছাই করতে গিয়েই বেরিয়ে এসেছে জালিয়াতির ভয়াবহ চিত্র।
এ বিষয়ে ডিআইএ পরিচালক সহিদুল ইসলাম বলেন, একটি দপ্তরে প্রায় ১২ হাজারের বেশি ফাইল অনিষ্পত্তি অবস্থায় ছিল। এখন সেই ফাইল যাচাই করতে গিয়ে দেখি বেশিরভাগ ফাইল জাল সনদ-সংক্রান্ত। এসব ফাইলে কী হয়েছিল তা বুঝে নেন।
ডিআইএর কড়া সতর্কতা, অভিযোগ জানালে পরিচয় গোপন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) পরিদর্শনের নামে যে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন থেকে সবাইকে কঠোরভাবে সতর্ক থাকতে বলেছে। এক গণবিজ্ঞপ্তিতে অধিদপ্তর জানিয়েছে, তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অফিস আদেশ ছাড়া কোনো পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না এবং এই কাজের জন্য অর্থ লেনদেন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।
ডিআইএ বলেছে, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে তারা সব সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পরিদর্শন ও নিরীক্ষা পরিচালনা করে। এই অডিট চলাকালীন যদি কোনো প্রতিষ্ঠান প্রধান অথবা অন্য কোনো ব্যক্তি পরিদর্শন ও নিরীক্ষার নামে কোনো ধরনের টাকা দাবি করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে অধিদপ্তরকে মোবাইল বা ইমেইলে অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে। অভিযোগ তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় কঠোরভাবে গোপন রাখা হবে বলেও জানানো হয়।
এমকে
জাতীয়
বেগম খালেদা জিয়াসহ ১৫ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে স্বাধীনতা পুরস্কার
জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে এ বছর সর্বোচ্চ এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননার জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিজয়ীদের এই তালিকা প্রকাশ করা হয়।
এ বছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য যারা স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন:
স্বাধীনতা ও দেশগঠন: স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে সামগ্রিক অবদানের জন্য মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া। এ ছাড়া জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর) মনোনীত হয়েছেন।
মুক্তিযুদ্ধ: এই ক্ষেত্রে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ এবং মেজর মোহাম্মদ আব্দুল জলিল (মরণোত্তর) মনোনীত হয়েছেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম।
চিকিৎসাবিদ্যা: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
সাহিত্য ও সংস্কৃতি: সাহিত্যে ড. আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর) এবং সংস্কৃতিতে হানিফ সংকেত (এ কে এম হানিফ) ও বশির আহমেদ (মরণোত্তর) মনোনীত হয়েছেন।
সমাজসেবা ও জনসেবা: ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক, মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), এস ও এস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এই বিভাগে পুরস্কার পাচ্ছেন।
গবেষণা ও প্রশিক্ষণ: মোহাম্মদ আবদুল বাকী পিএইচডি, অধ্যাপক ড. এম এ রহিম এবং অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া।
অন্যান্য: ক্রীড়া ক্ষেত্রে জোবেরা রহমান লিনু, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং পরিবেশ সংরক্ষণে আব্দুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু) মনোনীত হয়েছেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কমিটি ও অর্থনৈতিক) মো. হুমায়ুন কবিরের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে পুরস্কার প্রাপ্তদের নাম চূড়ান্ত করা হয়। শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীতদের হাতে এই পদক তুলে দেয়া হবে।
এমএন
জাতীয়
অতিরিক্ত ভাড়া নিলে বাতিল হবে রুট পারমিট: সেতুমন্ত্রী
আসন্ন ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সরকার। সড়ক পরিবহন, রেল ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, ঈদে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পরিবহনের রুট পারমিট বাতিলসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সচিবালয়ে ঈদযাত্রা সংক্রান্ত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, সীমিত সময়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের এই স্থানান্তর একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও অতীতের অভিজ্ঞতায় এবার আরও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
সড়কে চাঁদাবাজির বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মন্ত্রী বলেন, ঈদযাত্রায় সড়কে কোনো ধরনের চাঁদাবাজির সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে তৎপর রয়েছে।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের অনৈতিক সুবিধা নেয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সমিতির নামে নিবন্ধিত ফি ছাড়া অন্য কোনো অবৈধ অর্থ আদায় করলে তাৎক্ষণিক কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এক টাকাও বেশি নেয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে এসি বাসগুলোর ক্ষেত্রে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পরিবহনের রুট পারমিট বাতিলসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঈদের আগে যানজট কমাতে পোশাক কারখানার ছুটি ধাপে ধাপে কার্যকর করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। ১৬ মার্চ থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকার গার্মেন্টস ছুটি হবে। এ ছাড়া মহাসড়কের ওপর অস্থায়ী দোকানপাট, যত্রতত্র পার্কিং এবং থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধে হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন কাজ করবে। ঈদের আগে ও পরে কয়েক দিন পচনশীল দ্রব্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া ভারী ট্রাক ও লরি চলাচল সীমিত রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
সড়কের অবস্থা নিয়ে মন্ত্রী জানান, ঢাকার প্রবেশপথ এবং মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো ঈদের ১০ দিন আগেই সংস্কার সম্পন্ন করার জন্য প্রকৌশলীদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। টোল প্লাজায় যানজট কমাতে প্রয়োজনে আগাম টিকিট সিস্টেম চালুর প্রস্তাবও বিবেচনা করছে সরকার। এ ছাড়া নৌপথে সদরঘাটের চাপ কমাতে বসিলা ও কাঞ্চনঘাটে দুটি নতুন অস্থায়ী স্টেশন চালু করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, গার্মেন্টস কর্মীদের যাতায়াত সহজ করতে বিআরটিসির বিশেষ বাস প্রস্তুত রাখা হবে এবং বাস টার্মিনাল ও মহাসড়কে যাত্রী হয়রানি রোধে মোবাইল কোর্টের সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়েছে।
এ ছাড়া রেলওয়ের লেভেল ক্রসিংগুলোতে সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যাতে ক্রসিংয়ের কারণে সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি না হয়।
এমএন
জাতীয়
বন্ধ থাকা সরকারি পাটকলগুলো দ্রুত চালু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী
বর্তমান সরকার বন্ধ থাকা সরকারি পাটকলগুলো দ্রুত পুনরায় চালুর লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সচিবালয়ে ‘জাতীয় পাট দিবস-২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিপুল পরিমাণ কাঁচা পাট ভারতসহ অন্যান্য দেশে রফতানি হলেও কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাচ্ছে না বাংলাদেশ। এর ফলে দেশীয় শিল্প কাঁচামাল ঘাটতিতে পড়ছে। অন্যদিকে, ভারত বাংলাদেশের পাট দিয়ে উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরি ও রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। তাই কাঁচা পাট রফতানি থেকে সরে এসে ফিনিসড প্রোডাক্ট তৈরিতে নজর দিতে হবে।
আগামী শুক্রবার (৬ মার্চ) রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন অনলাইনে জাতীয় পাট দিবসের উদ্বোধন করবেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিজেএমসির অধীনে ২৫টি পাটকল রয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে ইজারার মাধ্যমে ১৪টি চালু করা হয়েছে। রাজশাহী, নরসিংদীসহ বিভিন্ন এলাকার আরও ৭টি পাটকল দ্রুত চালুর প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
জাতীয়
সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণে যা থাকবে জানালেন তথ্যমন্ত্রী
আগামী ১২ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণে সরকার গৃহীত জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ ও উদ্যোগগুলো প্রতিফলন থাকবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেন, বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং কৃষিঋণ মওকুফের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলো এ ভাষণে গুরুত্ব পাবে।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাশেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে যাচ্ছে। এ অধিবেশনে সরকারি দল হিসেবে সরকারের যে সমস্ত সংশ্লিষ্টতা আছে, সেসব বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ একটি প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা যে সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছি— ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, তারপরে কৃষিঋণ মওকুফ, সরকারের এ সমস্ত পদক্ষেপগুলো রাষ্ট্রপতির ভাষণের মধ্য দিয়ে যাতে প্রতিফলিত হয়, সে বিষয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
এ ছাড়া ইতোমধ্যে যেসব প্রতিশ্রুতি এবং সরকারের পক্ষ থেকে যেসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে— সে বিষয়ে বৈঠকে আলাপ হয়েছে।
বিশ্বের বর্তমান যুদ্ধাবস্থা প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে ডাকবেন। অর্থমন্ত্রী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলে বৈঠকে থাকবেন।’
এমএন
জাতীয়
বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সকলের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কেবল মৌখিক আহ্বানই নয়, তিনি নিজেও বিদ্যুৎ ব্যবহারকে সাশ্রয়ী করতে সচিবালয়ে নিজের কক্ষের অর্ধেক লাইট ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সকল মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, আজ সকাল ৯টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে নিজের দফতরে আসেন। তিনি অফিসে এসে নিজের কক্ষের ৫০ শতাংশ লাইটের সুইচ অফ করে দেন এবং এসির বিদ্যুৎ প্রবাহ ২৫ দশমিক ১ মাত্রায় নিয়ে আসেন। এই মাত্রা নিলে বিদ্যুৎ খরচ কম হয়।
শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রবেশ করেই কক্ষের অর্ধেক লাইট বন্ধ করে দিতে এবং এসির মাত্রা কমিয়ে দিতে বলেন।
সচিবালয়ের ১ নং ভবনটি প্রধানমন্ত্রীর দফতর। এই দফতরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ প্রধানমন্ত্রীর অধীনস্থ বিভিন্ন বিভাগ রয়েছে।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব আরো জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যক্তিক্রমী উদ্যোগের পরে তাঁর দফতরের সব কক্ষে তাৎক্ষনিকভাবে অর্ধেক লাইট বন্ধ এবং এসির মাত্রা কমানো হয়।
প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ের সকল মন্ত্রণালয়, সারাদেশে সরকারি অফিস-আদালত, বেসরকারি ভবন, শপিংমল, বিপনী বিতানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
একইসঙ্গে তিনি লাইট কম ব্যবহার করে দিনের বেলা অফিস বা বাড়ি-ঘরের জানালার পর্দা সরিয়ে সূর্যের আলো ব্যবহারের জন্যও সকলকে পরামর্শ দেন।
এমএন




