ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
ইসলামের দৃষ্টিতে মানবাধিকার আল্লাহ প্রদত্ত, মানুষ প্রদত্ত নয়: মাশায়েখি রাদ
ইরানের আল-মুস্তাফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হুজ্জাতুল ইসলাম শাহাবুদ্দিন মাশায়েখি রাদ বলেছেন, ইসলামের দৃষ্টিতে যে মানবাধিকার কথা বলা হয়েছে সেটা মানুষ প্রদত্ত নয়, সেটা আল্লাহ প্রদত্ত। সেটা হচ্ছে আল্লাহর হুকুম আর আল্লাহর হুকুম বাস্তবায়ন করা মানে আল্লাহর অধিকার প্রদান করা।
তিনি বলেন, আজকের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ইসলাম ও মানবাধিকার। মানবাধিকার এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যদিও জাতিসংঘ কর্তৃক বিশ্বের মানুষদের জন্য মানবাধিকার এই মর্মে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা গুলোর পক্ষ থেকে এই মানবাধিকার বিষয়টি খুব হাইলাইট করা হয়ে থাকে এবং সেখানে খুব গভীরভাবে এটা পর্যালোচনা করা হয়ে থাকে। তবে আইন প্রণয়ন করা হয় কোনো বিশেষ কিছু দেশের স্বার্থ উদ্ধার করার জন্য এবং আইনগুলো সেই দেশের চিন্তা চেতনা অনুযায়ী হয়ে থাকে।
রোববার (৯ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মতত্ত্ব অনুষদ ভবনের ৪০১ নং কক্ষে ‘মানবতা ও ইসলাম’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (আইআইইআর) এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশিন (আইএডি)-এর যৌথ আয়োজনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
মাশায়েখি রাদ বলেন, বিশ্বের যে বড় বড় সংস্থাগুলো মানুষের মানবাধিকার নিয়ে কাজ করে থাকে; ইউনেস্কো, ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা আরো এ জাতীয় যে বড় বড় সংস্থাগুলো রয়েছে যদিও বলছি না যে মানুষের জন্য কিঞ্চিত হলেও কাজ হবে না, কিন্তু বড় বড় দেশের বিশাল স্বার্থ চরিতার্থ করার নিমিত্তে এই সংস্থাগুলো আইন প্রণয়ন করা হয়েছে বা সংস্থাগুলো সৃষ্টিই করা হয়েছে।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে যখন এই বড় বড় সংস্থাগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে তখন তাদের আমল বা আচরণের ক্ষেত্রে মানবাধিকার বিষয়টা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়। যদিও সেই প্রশ্নবিদ্ধটা খ্রিস্টান দ্বীনের পক্ষ থেকে, হিন্দুদের ক্ষেত্রে বা অন্যান্য দিনের পক্ষ হতে হয়ে থাকুক, বিশেষ করে ইসলামের পক্ষ থেকে যখন মানবাধিকার তুলে ধরতে চাই তখন তাদের চিন্তা চেতনার সাথে খুব বড় ধরনের একটা ফারাক রয়ে যায়।
মাশায়েখি রাদ বলেন, ইসলামে কেসাস পড়ে থাকি, কেসাসের বিধান ইসলামে প্রণীত হয়েছে কিন্তু মানবাধিকারের ওই বড় বড় সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে প্রণীত আইন সেখানে কেসাস বলে কোন শব্দ তাদের ওখানে দেখবেন না, সেই আইনও প্রণীত হয়নি। বিশ্বের বড় বড় মানবাধিকার সংস্থা গুলো যেখানে মানবাধিকার নিয়ে কথা বলা হয়েছে সেই মানবাধিকারের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান অধিকার তুলে ধরা হয়েছে এবং সম-অধিকার সেখানে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু ইসলামের নারী পুরুষের সম অধিকারের বিষয়টি এখানে উপস্থাপিত হয়নি।
আর এই নারী পুরুষের সম অধিকার বন্টন করার পরিপ্রেক্ষিতে যে সমস্যাটা সৃষ্টি করেছে তারা। নারী পরিবারের ব্যবস্থাপক হিসেবে পাঁচজন বাচ্চা লালন পালন করার বাচ্চাদেরকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মেধা, সময় সেখানে ব্যয় করবে। নারী ছিল বাড়ির রানী, রানীর মর্যাদায় যে ভূষিত ছিল সেই নারী ওই সম মর্যাদার কারণে এখন নেমে এসেছে রাস্তায় এবং ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছে, বাঁশি দিয়ে বলছে কোন গাড়ি কোন দিকে যাবে, কোন রাস্তা বন্ধ হবে সেই কাজে এখন ব্যস্ত হয়েছে তারা।
নারীর এই রাস্তায় নেমে আসার মাধ্যমে তারা বলতে চাচ্ছে পুরুষের মত আমরা নারীকে সমমর্যাদা দিয়েছি কিন্তু আসলে এই নারীর রাস্তায় চলে আসা এবং পুরুষের কাজে শরিক হওয়া, পুরুষের দায়িত্বটা পালন করার মাধ্যমে তাদের মর্যাদা বাড়েনি বরং তাকে নিকৃষ্ট, অপমানিত এবং অপদস্থ করা হয়েছে। বরং যে নারী আমার বাড়িতে রানীর আসনে অধিষ্ঠিত হবে। স্বামী তার জন্য খাওয়া, পড়া, চলার জন্য অর্থ উপার্জন করে তার হাতে এনে দিবে। তার জন্য নিরাপত্তা বিধান করবে সেই পর্যায়ে থেকে তারা নারীকে সরিয়ে এখন পুতুলের মত রাস্তাঘাটে তাদেরকে নাচিয়ে বেড়াচ্ছে। এই নারী-পুরুষের সমমর্যাদা বিধান করতে যেয়ে তারা নারীকে নারীর নারীত্ব থেকে বঞ্চিত করে নারীকে পুরুষত্ব দান করেছে।
তিনি আরও বলেন, পবিত্র কোরআনের দৃষ্টিতে নারীকে এমন করে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে যে নারী এমন মর্যাদা সম্পন্ন যে পুরুষ তার খেদমতকর হিসেবে থাকবে। পুরুষ হচ্ছে নারীর খাদেমের যোগ্যতাসম্পন্ন। পুরুষ অর্থ উপার্জন করবে, নারীর খাদ্য ভরণ পোষণ, তার অর্থনৈতিক সমস্যা, সহযোগিতা এবং সমস্ত জীবনের উপকরণ। পুরুষ উপার্জন করবে নারীকে সম্মানের সহিত তার হাতে তুলে দেবে। আল্লাহর এই সৃষ্টিতে নারীকে এমন মর্যাদা দেয়া হয়েছে যে নারী রানীর আসনে বসে থাকবে পুরুষ তার চতুরদিকে কাবা ঘরের মতো তাওয়াফ করবে।
পশুদের ভিতরেও এই রীতি এমন উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আমরা যদি মৌমাছিকে দেখি রানী মৌমাছি কখনোই কিন্তু বাইরে বের হয় না। রানী মৌমাছি মৌচাকে বসে থাকে আর অন্য পুরুষ মৌমাছিগুলো খাদেম হিসেবে মধু সঞ্চয় করে নিয়ে আসে জমা করে রানীর কাছে। নারীদের চরিত্র এমন হওয়া উচিত কিন্তু সেটা না হয়ে নারীকে রাস্তায় নিয়ে আসে বরং এই নারীকে তৈরি করেছে পুরুষের খেদমত করার জন্য যেটা কুরআনের পরিপন্থী। পুরুষ এবং নারীর মর্যাদার ক্ষেত্রে এমনটা নয় যে, পুরুষ যে কাজগুলো করবে নারীও সেই একই কাজগুলো করবে এমনটা কুরআনের নির্দেশ নয়।
তিনি আরও বলেন, পরিপূর্ণতা অর্জন করার ক্ষেত্রে আধ্যাত্মিকতা, নুরানী, নারী-পুরুষের শিক্ষা অর্জন করার ক্ষেত্রে এগুলো কোন সমস্যা তৈরি করে না বরং নারী-পুরুষ উভয়ই এই আধ্যাত্মিকতা, ইবাদী ক্ষেত্রে সমমর্যাদা সম্পন্ন সমদায়িত্ব প্রাপ্ত। কিন্তু সামাজিক ক্ষেত্রে এবং কর্ম সম্পাদন করার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের কর্মস্থল এবং কর্মক্ষেত্র ভিন্ন এবং তাদের আনজাম দেয়ার বিষয়টিও ভিন্ন। নারীর জন্য কিছু নির্দিষ্ট কাজ নির্দিষ্ট করা আছে। পুরুষের জন্য পুরুষের নির্দিষ্ট বিভাগ নির্দিষ্ট করা আছে। তারা একে অপরের জন্য নির্দিষ্ট বিভাগে কর্মরত থাকবে। বর্তমান বিশ্বে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে যে মানবাধিকার প্রণীত হয়েছে এবং মানুষের জন্য যে অধিকার তারা বন্টন করে থাকে তার সাথে ইসলামের মানবাধিকার বন্টনের কিছু ভিন্নতা রয়েছে আমি দার্শনিক দিক থেকে সেই বিষয়গুলো সম্পর্কে কয়েকটি পার্থক্য তুলে ধরছি।
প্রথম পার্থক্যটা হচ্ছে জাতিসংঘের যে মানবাধিকার আইন প্রণয়ন করেছে সেটা মানুষ কর্তৃক প্রণীত এবং মানুষের চিন্তা গত দিক নির্দেশনা থেকে সেগুলো সৃষ্টি করা হয়েছে। ইসলামের যে মানবাধিকার রচিত হয়েছে সেটা আল্লাহর নির্দেশিত এবং কোরআনের মাধ্যমে সেটা আমাদের সামনে উপবিষ্ট হয়েছে। এবং আমাদের যে ইসলামী মানবাধিকার সেটা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রণোদিত হয়েছে।
পবিত্র কুরআনে যে আয়াতগুলো আমাদের সামনে এসেছে সেখান থেকে বোঝা যায় যে মানুষকে জাতিগতভাবেই, সত্যাগতভাবেই মানুষকে সম্মানিত করা হয়েছে। আল্লাহ ইনসানকে সম্মানিত করেছেন। আল্লাহ বলেননি যে আমি পাহাড়কে সম্মানিত করেছি, পরিবেশকে সম্মানিত করেছি কিংবা আরো এগুলো কোন বিষয়েই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সম্মানিত করেছি এ কথা বলেনি। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন যে আমি বনি আদমকে সম্মানিত করেছি।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন আগে সম্মানের ভিত্তিতে মানুষকে সম্মান দিয়ে সৃষ্টি করেছি। পরের বার বলেছেন আমি এবাদতের ভিত্তিতে, ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে পুরুষ এবং নারীকে পরিচালনা করে থাকি। দ্বিতীয় সূত্রটি হচ্ছে ন্যায়পরায়ণতা।
তৃতীয় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে নিরাপত্তা এবং জীবন পরিচালনা করার অধিকার সেটা সবারই রয়েছে। আল্লাহ যাদেরকে জীবন দিয়েছেন তাদেরকেই নির্বিঘ্নভাবে জীবন পরিচালনা করার এখতিয়ার রয়েছে এবং নিরাপত্তা সহকারে জীবন পরিচালনা করার অধিকার আমাদের সবার রয়েছে।
ইসলাম এখানে স্বাধীন চেতনা নিয়ে, মন মানুষ নিয়ে আকিদাগত ভাবে স্বাধীনতার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। ইসলামে কখনো প্রেসার ক্রিয়েট করে অথবা জোর জবরদস্তি করে কখনো ভয় ভীতি দেখিয়ে কোন আকিদা, বিশ্বাস তৈরি করা যায় না। এটা যার যার নিজস্ব ব্যাপার যার যার স্বাধীনতার ব্যাপার রয়েছে।
চতুর্থ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যে পুরুষ এবং নারীর একে অপরের অধিকার সম্পন্ন করা। পুরুষের ও নারী উভয়ের জন্য পারস্পরিক কিছু অধিকার রয়েছে। আয়াতে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে যে এমনটা নয় যে শুধু নারী খাটবে আর পুরুষ সেগুলো ব্যবহার করবে। বা শুধু পুরুষ খাটবে নারী ব্যবহার করবে এমনটি নয় বরং নারীর কিছু দায়িত্ব রয়েছে পুরুষের ব্যাপারে আনজাম দেওয়া পুরুষেরও তদ্রুপ কিছু দায়িত্ব রয়েছে নারীর ব্যাপারে আনজাম দেয়ার। পঞ্চম বৈশিষ্ট্যটি হচ্ছে হাক্কে মালিক বা মালিকের হক যিনি আমাদের মালিক থাকবে সে পরিচালকের একটি হক আমাদের আদায় করতে হবে সে দায়িত্বও আমাদের উপরে রয়েছে।
দ্বিতীয় পার্থক্য মুসলিম মানবাধিকারের সাথে সেটা হচ্ছে এই যে নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করা, মানুষের অধিকার বাস্তবায়নের যে কমিটমেন্ট থাকা দরকার সে কমিটমেন্ট তাদের নাই। যে আইন বা মানুষের অধিকার তারা তৈরি করেছে এমন যে, শুধুমাত্র শাস্তি দেয়ার বিধানটা এখানে প্রণয়ন করছে। এবং সেই শাস্তি দিচ্ছে কারা? একদল মানুষ আরেকদল মানুষকে শাস্তি দিচ্ছে। যদিও আমাদের সমাজে অনেক মানবাধিকারের কাজ সম্পাদিত হয়ে থাকে সেই মানবাধিকারের কাজ আমরা দেখে সন্তুষ্ট হলেও তাদের নিয়ত টা কি আসলে এই মানবাধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে,পর্দার আড়ালে কি উদ্দেশ্যে মানবাধিকার বাস্তবায়ন করা হচ্ছে? তাদের কি চিন্তা চেতনা এটা আমরা ভেবে দেখি না এবং ভেবে দেখার ইচ্ছাও পোষণ করি না।
কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে যে মানবাধিকার বর্ণিত হয়েছে সেখানে দুইটা জিনিসই নিশ্চিত শাস্তির বিধান ও পুরস্কারের বিধান। সমাজে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আল্লাহর পক্ষ থেকে যে বিধান রয়েছে যদি পালন করি তাহলে পুরস্কৃত হব অন্যথায় শাস্তি পাব। এটাই হচ্ছে আল্লাহ প্রদত্ত বিধান। এক্ষেত্রে সয়ংক্রিয়ভাবে একটা দায়িত্ব চলে আসে মুসলিম হিসেবে আল্লাহ বলেছেন তাই এই কাজটাকে আনজাম দিচ্ছি।
আরেকটা বিধান রয়েছে। হক এবং দায়িত্বের ভেতরে কিছু বিষয় রয়েছে যদি কোন বিষয়ের ব্যাপারে আমার হক থাকে তাহলে অন্যদের উচিত হবে তাদের অর্পিত দায়িত্ব যেন তারা আদায় করে। যদি অন্যদের ব্যাপারে আমার কোন দায়িত্ব থাকে তাহলে আমার উচিত হবে তাদের সেই হকটা যেন আমি আদায় করি।
উদাহরণস্বরূপ, যেমন আমার অধিকার রয়েছে স্বাধীনভাবে জীবন যাপন করার তাই আপনার উচিত হবে আমাকে স্বাধীনভাবে জীবন যাপন করার সুযোগ দেওয়া। এটা আপনাদের দায়িত্ব। একই সাথে আমার অধিকার এবং আপনাদের দায়িত্ব বলে একটি বিষয় রয়েছে। কিন্তু ইসলাম এরকমটা বলা হয়নি। ইসলাম বলছে যে অধিকারটা আমার আছে এবং অন্যদের উপর আমি দায়িত্বপ্রাপ্ত, আমার উপরে যে অধিকার বর্তাচ্ছে ঠিক এভাবে আমার দায়িত্বও বাড়ছে যে অধিকারটা আমি পেলাম সে অধিকারের প্রেক্ষাপটে বিপরীতমুখী যদি চিন্তা করি, অন্যদের প্রতি আমার দায়িত্বও বেড়ে গেল।
আমার অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে এরকমটা কখনোই করা যাবে না যে, আমি অধিকার প্রাপ্ত আর আপনারা দায়িত্বপ্রাপ্ত।
কালকে আমাদের ময়দানে আমাকে জিজ্ঞাসা করা হবে তুমি এমনটা কেন করেছো যে তুমি শুধু অধিকার প্রাপ্ত আর অন্যেরা দায়িত্বপ্রাপ্ত, তোমার কি কিছু করার ছিল না অন্যের নিমিত্তে? তখন আমাকে অবশ্যই দায়িত্বের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হবে। সর্বশেষ যে বিষয়টি বলবো সেটা হচ্ছে ইসলামের দৃষ্টিতে যে মানবাধিকার কথা বলা হয়েছে সেটা মানুষ প্রদত্ত নয়, সেটা আল্লাহ প্রদত্ত। সেটা হচ্ছে আল্লাহর হুকুম আর আল্লাহর হুকুম বাস্তবায়ন করা মানে আল্লাহর অধিকার প্রদান করা।
তাই যদি ইসলামের দৃষ্টিতে মানবাধিকার আদায় না করি ,আল্লাহর অধিকার বাস্তবায়ন না করি তাহলে আল্লার নিমিতে আল্লাহর অধিকারে আমরা আনজাম দিলাম না। আমরা তেমন একটি সময় অতিবাহিত করছি যে এই মানবাধিকার আমরা লঙ্ঘিত হতে দেখছি গাজায়, সুদানে এবং বিশ্বের আরো অনেক জায়গায়। মানবাধিকার যে লঙ্ঘিত হচ্ছে এটা বুঝানোর জন্য আপনাদের সামনে দার্শনিক আলোচনা করার দরকার নাই। একটু তাকিয়ে দেখলে আমরা দেখতে পাবো বিশ্বে মানবাধিকার কিভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। আজকের বিশ্বে আমেরিকা সবথেকে বেশি মানবাধিকার লংঘন করছে। আমেরিকা বলেছে ইসরাইলের অধিকার আছে যে মানুষের উপরে বম্বিং করে ৭০ হাজার মানুষকে সেখানেই কতল করে ফেলা।
পরিশেষে তিনি কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আল-মুস্তাফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা সম্পর্ক উন্নয়ন ঘটানোর বিষয়-সহ ভবিষ্যতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রছাত্রীদের ইরানের ভূমিতে দেখবেন বলে প্রত্যাশা করেন।
সেমিনার অনুষ্ঠানে ইরানের আল-মুস্তাফা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধি হুজ্জাতুল ইসলাম শাহাবুদ্দিন মাশায়েখি রাদ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সেমিনারে আইআইইআরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রোউপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এয়াকুব আলী ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।
অর্থসংবাদ/কাফি/সাকিব
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছেন ড. মিজানুর রহমান আজহারি
আগামী ১৪ জানুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) যাচ্ছেন বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার ও জনপ্রিয় বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারি। রোববার (১১ জানুয়ারি) জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ড. মিজানুর রহমান আগামী ১৪ জানুয়ারি (বুধবার) সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘আধুনিক যুগে ইসলামিক লাইফস্টাইল’ শীর্ষক একটি সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে অংশ নেবেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রারসহ অনেকেই উপস্থিত থাকবেন।
জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম জানান, মিজানুর রহমান আজহারি বাংলাদেশের একজন খ্যাতিনামা ইসলামিক স্কলার এবং তিনি বাংলাদেশের তরুণ সমাজের কাছে একটি জনপ্রিয় মুখ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার কথা বিবেচনা করে বুদ্ধিভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম—পাঠাশালার উদ্যোগে আমরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং তিনি আসবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
সেমিনারটিতে অংশগ্রহণের জন্য আসন সংখ্যা সীমিত থাকায় শিগগিরই গুগল ফরমের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু করা হবে।
এমকে
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আজ, মানতে হবে ৫ নির্দেশনা
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এর লিখিত পরীক্ষা আজ শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৩টা থেকে ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এই লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া দেশের সব জেলায় একযোগে এই পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। এ পরীক্ষায় অংশ নেবেন ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০ জন পরীক্ষার্থী। কেন্দ্রে প্রবেশসহ একাধিক বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
পরীক্ষার্থীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা
প্রবেশের সময়: পরীক্ষা বিকেল ৩টায় শুরু হলেও পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই অন্তত ১ ঘণ্টা আগে (দুপুর ২টার মধ্যে) কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে কেন্দ্রের সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এরপর আর কোনো প্রার্থীকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
কান উন্মুক্ত রাখা: ব্লুটুথ বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস শনাক্ত করতে এবার পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ শর্ত দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার্থীদের উভয় কান উন্মুক্ত রাখতে হবে। তল্লাশির সময় প্রয়োজনে টর্চলাইট দিয়ে কান পরীক্ষা করা হবে।
নিষিদ্ধ সামগ্রী: কেন্দ্রে মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, স্মার্ট ওয়াচ, যেকোনো ধরনের ঘড়ি, পার্টস বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এসব সামগ্রী পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক বহিষ্কার ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য রঙিন প্রিন্ট করা প্রবেশপত্র ও মূল জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সঙ্গে আনা বাধ্যতামূলক। উত্তরপত্র (ওএমআর) পূরণে অবশ্যই কালো কালির বলপয়েন্ট কলম ব্যবহার করতে হবে।
সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে প্রতিটি কেন্দ্রে ১৪৪ ধারা জারি থাকবে। নিয়োগের নামে কোনো অসাধু চক্রের সঙ্গে লেনদেন না করার জন্য প্রার্থীদের সতর্ক করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
জকসু নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হয়েছে: ভিপি প্রার্থী রাকিব
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনে পরাজয়ের পর ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ছাত্রদল সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের ভিপি প্রার্থী এ কে এম রাকিব। তিনি নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ বলে অভিহিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ফেসবুক পোস্টে রাকিব বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রার্থী হিসেবে আমি হেরে গেলেও, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে বুক ফুলিয়ে বলতে পারি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জগন্নাথেও ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, এটাই আমার গর্ব।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই আমার লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কাজ করা। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে যাবেন এটাই আমার প্রত্যাশা।
এ সময় তিনি বিজয়ী প্রতিনিধিদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, জকসু নির্বাচনে জয়ী সব প্রার্থীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
প্রসঙ্গত, গতকাল মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত জকসু নির্বাচনে শিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল থেকে ৫,৫৫৮ ভোট পেয়ে ভিপি নির্বাচিত হন রিয়াজুল ইসলাম। অন্যদিকে, ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী এ কে এম রাকিব পেয়েছেন ৪,৬৮৮ ভোট।
এমকে
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
‘স্থায়ী বহিষ্কার’ হচ্ছেন ঢাবির আওয়ামীপন্থী চার শিক্ষক
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী চার শিক্ষককে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট। অভিযুক্ত চার শিক্ষককেএক সপ্তাহের মধ্যেকারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমদ।
অভিযুক্ত চার শিক্ষক হলেন- অধ্যাপক জিনাত হুদা, অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন, অধ্যাপক সাদেকা হালিম ও অধ্যাপক মশিউর রহমান।
এমকে
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
জকসুতে শিবির সমর্থিত প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয়
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের ভিপি, জিএস, এজিএস পদে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করেছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত ১১ টা ৩০ মিনিটে কেন্দ্রীয় সংসদের ৩৮ কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড . কানিজ ফাতিমা কাকলী ।
৩৮ কেন্দ্রের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে শিবির সমর্থিত অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের ভিপি রিয়াজুল ইসলাম ৫৫৬৪ ভোট পেয়ে জয়লাভ করে। তার নিকটতম ছাত্রদল সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নির্ভিক জবিয়ান প্যানেলের ভিপি প্রার্থী এ কেএম রাকিব পেয়েছেন ৪৬৮৮ ভোট। তাদের দুজনের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ৮৮০ টি।
সাধারন সাধারন (জিএস) পদে শিবির সমর্থিত অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের আব্দুল আলিম আরিফ পেয়েছেন ৫৪৭০ ভোট। তার নিকটতম ছাত্রদল সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নির্ভিক জবিয়ান প্যানেলের জিএস প্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ২২০৩ ভোট। ছাত্রদলের জিএস থেকে ৩২৬৭ ভোট বেশি পেয়েছে শিবির সমর্থিত ভিপি প্রার্থী।
এজিএস পদে শিবির সমর্থিত অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের মাসুদ রানা পেয়েছেন ৫০০২ ভোট। তার নিকটতম ছাত্রদল সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নির্ভিক জবিয়ান প্যানেলের এজিএস প্রার্থী বিএম আতিকুর তানজিল পেয়েছেন ৩৮৬৮ ভোট।
এমকে




