ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
ইসলামের দৃষ্টিতে মানবাধিকার আল্লাহ প্রদত্ত, মানুষ প্রদত্ত নয়: মাশায়েখি রাদ
ইরানের আল-মুস্তাফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হুজ্জাতুল ইসলাম শাহাবুদ্দিন মাশায়েখি রাদ বলেছেন, ইসলামের দৃষ্টিতে যে মানবাধিকার কথা বলা হয়েছে সেটা মানুষ প্রদত্ত নয়, সেটা আল্লাহ প্রদত্ত। সেটা হচ্ছে আল্লাহর হুকুম আর আল্লাহর হুকুম বাস্তবায়ন করা মানে আল্লাহর অধিকার প্রদান করা।
তিনি বলেন, আজকের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ইসলাম ও মানবাধিকার। মানবাধিকার এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যদিও জাতিসংঘ কর্তৃক বিশ্বের মানুষদের জন্য মানবাধিকার এই মর্মে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা গুলোর পক্ষ থেকে এই মানবাধিকার বিষয়টি খুব হাইলাইট করা হয়ে থাকে এবং সেখানে খুব গভীরভাবে এটা পর্যালোচনা করা হয়ে থাকে। তবে আইন প্রণয়ন করা হয় কোনো বিশেষ কিছু দেশের স্বার্থ উদ্ধার করার জন্য এবং আইনগুলো সেই দেশের চিন্তা চেতনা অনুযায়ী হয়ে থাকে।
রোববার (৯ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মতত্ত্ব অনুষদ ভবনের ৪০১ নং কক্ষে ‘মানবতা ও ইসলাম’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (আইআইইআর) এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশিন (আইএডি)-এর যৌথ আয়োজনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
মাশায়েখি রাদ বলেন, বিশ্বের যে বড় বড় সংস্থাগুলো মানুষের মানবাধিকার নিয়ে কাজ করে থাকে; ইউনেস্কো, ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা আরো এ জাতীয় যে বড় বড় সংস্থাগুলো রয়েছে যদিও বলছি না যে মানুষের জন্য কিঞ্চিত হলেও কাজ হবে না, কিন্তু বড় বড় দেশের বিশাল স্বার্থ চরিতার্থ করার নিমিত্তে এই সংস্থাগুলো আইন প্রণয়ন করা হয়েছে বা সংস্থাগুলো সৃষ্টিই করা হয়েছে।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে যখন এই বড় বড় সংস্থাগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে তখন তাদের আমল বা আচরণের ক্ষেত্রে মানবাধিকার বিষয়টা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়। যদিও সেই প্রশ্নবিদ্ধটা খ্রিস্টান দ্বীনের পক্ষ থেকে, হিন্দুদের ক্ষেত্রে বা অন্যান্য দিনের পক্ষ হতে হয়ে থাকুক, বিশেষ করে ইসলামের পক্ষ থেকে যখন মানবাধিকার তুলে ধরতে চাই তখন তাদের চিন্তা চেতনার সাথে খুব বড় ধরনের একটা ফারাক রয়ে যায়।
মাশায়েখি রাদ বলেন, ইসলামে কেসাস পড়ে থাকি, কেসাসের বিধান ইসলামে প্রণীত হয়েছে কিন্তু মানবাধিকারের ওই বড় বড় সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে প্রণীত আইন সেখানে কেসাস বলে কোন শব্দ তাদের ওখানে দেখবেন না, সেই আইনও প্রণীত হয়নি। বিশ্বের বড় বড় মানবাধিকার সংস্থা গুলো যেখানে মানবাধিকার নিয়ে কথা বলা হয়েছে সেই মানবাধিকারের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান অধিকার তুলে ধরা হয়েছে এবং সম-অধিকার সেখানে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু ইসলামের নারী পুরুষের সম অধিকারের বিষয়টি এখানে উপস্থাপিত হয়নি।
আর এই নারী পুরুষের সম অধিকার বন্টন করার পরিপ্রেক্ষিতে যে সমস্যাটা সৃষ্টি করেছে তারা। নারী পরিবারের ব্যবস্থাপক হিসেবে পাঁচজন বাচ্চা লালন পালন করার বাচ্চাদেরকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মেধা, সময় সেখানে ব্যয় করবে। নারী ছিল বাড়ির রানী, রানীর মর্যাদায় যে ভূষিত ছিল সেই নারী ওই সম মর্যাদার কারণে এখন নেমে এসেছে রাস্তায় এবং ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছে, বাঁশি দিয়ে বলছে কোন গাড়ি কোন দিকে যাবে, কোন রাস্তা বন্ধ হবে সেই কাজে এখন ব্যস্ত হয়েছে তারা।
নারীর এই রাস্তায় নেমে আসার মাধ্যমে তারা বলতে চাচ্ছে পুরুষের মত আমরা নারীকে সমমর্যাদা দিয়েছি কিন্তু আসলে এই নারীর রাস্তায় চলে আসা এবং পুরুষের কাজে শরিক হওয়া, পুরুষের দায়িত্বটা পালন করার মাধ্যমে তাদের মর্যাদা বাড়েনি বরং তাকে নিকৃষ্ট, অপমানিত এবং অপদস্থ করা হয়েছে। বরং যে নারী আমার বাড়িতে রানীর আসনে অধিষ্ঠিত হবে। স্বামী তার জন্য খাওয়া, পড়া, চলার জন্য অর্থ উপার্জন করে তার হাতে এনে দিবে। তার জন্য নিরাপত্তা বিধান করবে সেই পর্যায়ে থেকে তারা নারীকে সরিয়ে এখন পুতুলের মত রাস্তাঘাটে তাদেরকে নাচিয়ে বেড়াচ্ছে। এই নারী-পুরুষের সমমর্যাদা বিধান করতে যেয়ে তারা নারীকে নারীর নারীত্ব থেকে বঞ্চিত করে নারীকে পুরুষত্ব দান করেছে।
তিনি আরও বলেন, পবিত্র কোরআনের দৃষ্টিতে নারীকে এমন করে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে যে নারী এমন মর্যাদা সম্পন্ন যে পুরুষ তার খেদমতকর হিসেবে থাকবে। পুরুষ হচ্ছে নারীর খাদেমের যোগ্যতাসম্পন্ন। পুরুষ অর্থ উপার্জন করবে, নারীর খাদ্য ভরণ পোষণ, তার অর্থনৈতিক সমস্যা, সহযোগিতা এবং সমস্ত জীবনের উপকরণ। পুরুষ উপার্জন করবে নারীকে সম্মানের সহিত তার হাতে তুলে দেবে। আল্লাহর এই সৃষ্টিতে নারীকে এমন মর্যাদা দেয়া হয়েছে যে নারী রানীর আসনে বসে থাকবে পুরুষ তার চতুরদিকে কাবা ঘরের মতো তাওয়াফ করবে।
পশুদের ভিতরেও এই রীতি এমন উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আমরা যদি মৌমাছিকে দেখি রানী মৌমাছি কখনোই কিন্তু বাইরে বের হয় না। রানী মৌমাছি মৌচাকে বসে থাকে আর অন্য পুরুষ মৌমাছিগুলো খাদেম হিসেবে মধু সঞ্চয় করে নিয়ে আসে জমা করে রানীর কাছে। নারীদের চরিত্র এমন হওয়া উচিত কিন্তু সেটা না হয়ে নারীকে রাস্তায় নিয়ে আসে বরং এই নারীকে তৈরি করেছে পুরুষের খেদমত করার জন্য যেটা কুরআনের পরিপন্থী। পুরুষ এবং নারীর মর্যাদার ক্ষেত্রে এমনটা নয় যে, পুরুষ যে কাজগুলো করবে নারীও সেই একই কাজগুলো করবে এমনটা কুরআনের নির্দেশ নয়।
তিনি আরও বলেন, পরিপূর্ণতা অর্জন করার ক্ষেত্রে আধ্যাত্মিকতা, নুরানী, নারী-পুরুষের শিক্ষা অর্জন করার ক্ষেত্রে এগুলো কোন সমস্যা তৈরি করে না বরং নারী-পুরুষ উভয়ই এই আধ্যাত্মিকতা, ইবাদী ক্ষেত্রে সমমর্যাদা সম্পন্ন সমদায়িত্ব প্রাপ্ত। কিন্তু সামাজিক ক্ষেত্রে এবং কর্ম সম্পাদন করার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের কর্মস্থল এবং কর্মক্ষেত্র ভিন্ন এবং তাদের আনজাম দেয়ার বিষয়টিও ভিন্ন। নারীর জন্য কিছু নির্দিষ্ট কাজ নির্দিষ্ট করা আছে। পুরুষের জন্য পুরুষের নির্দিষ্ট বিভাগ নির্দিষ্ট করা আছে। তারা একে অপরের জন্য নির্দিষ্ট বিভাগে কর্মরত থাকবে। বর্তমান বিশ্বে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে যে মানবাধিকার প্রণীত হয়েছে এবং মানুষের জন্য যে অধিকার তারা বন্টন করে থাকে তার সাথে ইসলামের মানবাধিকার বন্টনের কিছু ভিন্নতা রয়েছে আমি দার্শনিক দিক থেকে সেই বিষয়গুলো সম্পর্কে কয়েকটি পার্থক্য তুলে ধরছি।
প্রথম পার্থক্যটা হচ্ছে জাতিসংঘের যে মানবাধিকার আইন প্রণয়ন করেছে সেটা মানুষ কর্তৃক প্রণীত এবং মানুষের চিন্তা গত দিক নির্দেশনা থেকে সেগুলো সৃষ্টি করা হয়েছে। ইসলামের যে মানবাধিকার রচিত হয়েছে সেটা আল্লাহর নির্দেশিত এবং কোরআনের মাধ্যমে সেটা আমাদের সামনে উপবিষ্ট হয়েছে। এবং আমাদের যে ইসলামী মানবাধিকার সেটা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রণোদিত হয়েছে।
পবিত্র কুরআনে যে আয়াতগুলো আমাদের সামনে এসেছে সেখান থেকে বোঝা যায় যে মানুষকে জাতিগতভাবেই, সত্যাগতভাবেই মানুষকে সম্মানিত করা হয়েছে। আল্লাহ ইনসানকে সম্মানিত করেছেন। আল্লাহ বলেননি যে আমি পাহাড়কে সম্মানিত করেছি, পরিবেশকে সম্মানিত করেছি কিংবা আরো এগুলো কোন বিষয়েই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সম্মানিত করেছি এ কথা বলেনি। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন যে আমি বনি আদমকে সম্মানিত করেছি।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন আগে সম্মানের ভিত্তিতে মানুষকে সম্মান দিয়ে সৃষ্টি করেছি। পরের বার বলেছেন আমি এবাদতের ভিত্তিতে, ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে পুরুষ এবং নারীকে পরিচালনা করে থাকি। দ্বিতীয় সূত্রটি হচ্ছে ন্যায়পরায়ণতা।
তৃতীয় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে নিরাপত্তা এবং জীবন পরিচালনা করার অধিকার সেটা সবারই রয়েছে। আল্লাহ যাদেরকে জীবন দিয়েছেন তাদেরকেই নির্বিঘ্নভাবে জীবন পরিচালনা করার এখতিয়ার রয়েছে এবং নিরাপত্তা সহকারে জীবন পরিচালনা করার অধিকার আমাদের সবার রয়েছে।
ইসলাম এখানে স্বাধীন চেতনা নিয়ে, মন মানুষ নিয়ে আকিদাগত ভাবে স্বাধীনতার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। ইসলামে কখনো প্রেসার ক্রিয়েট করে অথবা জোর জবরদস্তি করে কখনো ভয় ভীতি দেখিয়ে কোন আকিদা, বিশ্বাস তৈরি করা যায় না। এটা যার যার নিজস্ব ব্যাপার যার যার স্বাধীনতার ব্যাপার রয়েছে।
চতুর্থ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যে পুরুষ এবং নারীর একে অপরের অধিকার সম্পন্ন করা। পুরুষের ও নারী উভয়ের জন্য পারস্পরিক কিছু অধিকার রয়েছে। আয়াতে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে যে এমনটা নয় যে শুধু নারী খাটবে আর পুরুষ সেগুলো ব্যবহার করবে। বা শুধু পুরুষ খাটবে নারী ব্যবহার করবে এমনটি নয় বরং নারীর কিছু দায়িত্ব রয়েছে পুরুষের ব্যাপারে আনজাম দেওয়া পুরুষেরও তদ্রুপ কিছু দায়িত্ব রয়েছে নারীর ব্যাপারে আনজাম দেয়ার। পঞ্চম বৈশিষ্ট্যটি হচ্ছে হাক্কে মালিক বা মালিকের হক যিনি আমাদের মালিক থাকবে সে পরিচালকের একটি হক আমাদের আদায় করতে হবে সে দায়িত্বও আমাদের উপরে রয়েছে।
দ্বিতীয় পার্থক্য মুসলিম মানবাধিকারের সাথে সেটা হচ্ছে এই যে নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করা, মানুষের অধিকার বাস্তবায়নের যে কমিটমেন্ট থাকা দরকার সে কমিটমেন্ট তাদের নাই। যে আইন বা মানুষের অধিকার তারা তৈরি করেছে এমন যে, শুধুমাত্র শাস্তি দেয়ার বিধানটা এখানে প্রণয়ন করছে। এবং সেই শাস্তি দিচ্ছে কারা? একদল মানুষ আরেকদল মানুষকে শাস্তি দিচ্ছে। যদিও আমাদের সমাজে অনেক মানবাধিকারের কাজ সম্পাদিত হয়ে থাকে সেই মানবাধিকারের কাজ আমরা দেখে সন্তুষ্ট হলেও তাদের নিয়ত টা কি আসলে এই মানবাধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে,পর্দার আড়ালে কি উদ্দেশ্যে মানবাধিকার বাস্তবায়ন করা হচ্ছে? তাদের কি চিন্তা চেতনা এটা আমরা ভেবে দেখি না এবং ভেবে দেখার ইচ্ছাও পোষণ করি না।
কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে যে মানবাধিকার বর্ণিত হয়েছে সেখানে দুইটা জিনিসই নিশ্চিত শাস্তির বিধান ও পুরস্কারের বিধান। সমাজে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আল্লাহর পক্ষ থেকে যে বিধান রয়েছে যদি পালন করি তাহলে পুরস্কৃত হব অন্যথায় শাস্তি পাব। এটাই হচ্ছে আল্লাহ প্রদত্ত বিধান। এক্ষেত্রে সয়ংক্রিয়ভাবে একটা দায়িত্ব চলে আসে মুসলিম হিসেবে আল্লাহ বলেছেন তাই এই কাজটাকে আনজাম দিচ্ছি।
আরেকটা বিধান রয়েছে। হক এবং দায়িত্বের ভেতরে কিছু বিষয় রয়েছে যদি কোন বিষয়ের ব্যাপারে আমার হক থাকে তাহলে অন্যদের উচিত হবে তাদের অর্পিত দায়িত্ব যেন তারা আদায় করে। যদি অন্যদের ব্যাপারে আমার কোন দায়িত্ব থাকে তাহলে আমার উচিত হবে তাদের সেই হকটা যেন আমি আদায় করি।
উদাহরণস্বরূপ, যেমন আমার অধিকার রয়েছে স্বাধীনভাবে জীবন যাপন করার তাই আপনার উচিত হবে আমাকে স্বাধীনভাবে জীবন যাপন করার সুযোগ দেওয়া। এটা আপনাদের দায়িত্ব। একই সাথে আমার অধিকার এবং আপনাদের দায়িত্ব বলে একটি বিষয় রয়েছে। কিন্তু ইসলাম এরকমটা বলা হয়নি। ইসলাম বলছে যে অধিকারটা আমার আছে এবং অন্যদের উপর আমি দায়িত্বপ্রাপ্ত, আমার উপরে যে অধিকার বর্তাচ্ছে ঠিক এভাবে আমার দায়িত্বও বাড়ছে যে অধিকারটা আমি পেলাম সে অধিকারের প্রেক্ষাপটে বিপরীতমুখী যদি চিন্তা করি, অন্যদের প্রতি আমার দায়িত্বও বেড়ে গেল।
আমার অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে এরকমটা কখনোই করা যাবে না যে, আমি অধিকার প্রাপ্ত আর আপনারা দায়িত্বপ্রাপ্ত।
কালকে আমাদের ময়দানে আমাকে জিজ্ঞাসা করা হবে তুমি এমনটা কেন করেছো যে তুমি শুধু অধিকার প্রাপ্ত আর অন্যেরা দায়িত্বপ্রাপ্ত, তোমার কি কিছু করার ছিল না অন্যের নিমিত্তে? তখন আমাকে অবশ্যই দায়িত্বের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হবে। সর্বশেষ যে বিষয়টি বলবো সেটা হচ্ছে ইসলামের দৃষ্টিতে যে মানবাধিকার কথা বলা হয়েছে সেটা মানুষ প্রদত্ত নয়, সেটা আল্লাহ প্রদত্ত। সেটা হচ্ছে আল্লাহর হুকুম আর আল্লাহর হুকুম বাস্তবায়ন করা মানে আল্লাহর অধিকার প্রদান করা।
তাই যদি ইসলামের দৃষ্টিতে মানবাধিকার আদায় না করি ,আল্লাহর অধিকার বাস্তবায়ন না করি তাহলে আল্লার নিমিতে আল্লাহর অধিকারে আমরা আনজাম দিলাম না। আমরা তেমন একটি সময় অতিবাহিত করছি যে এই মানবাধিকার আমরা লঙ্ঘিত হতে দেখছি গাজায়, সুদানে এবং বিশ্বের আরো অনেক জায়গায়। মানবাধিকার যে লঙ্ঘিত হচ্ছে এটা বুঝানোর জন্য আপনাদের সামনে দার্শনিক আলোচনা করার দরকার নাই। একটু তাকিয়ে দেখলে আমরা দেখতে পাবো বিশ্বে মানবাধিকার কিভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। আজকের বিশ্বে আমেরিকা সবথেকে বেশি মানবাধিকার লংঘন করছে। আমেরিকা বলেছে ইসরাইলের অধিকার আছে যে মানুষের উপরে বম্বিং করে ৭০ হাজার মানুষকে সেখানেই কতল করে ফেলা।
পরিশেষে তিনি কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আল-মুস্তাফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা সম্পর্ক উন্নয়ন ঘটানোর বিষয়-সহ ভবিষ্যতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রছাত্রীদের ইরানের ভূমিতে দেখবেন বলে প্রত্যাশা করেন।
সেমিনার অনুষ্ঠানে ইরানের আল-মুস্তাফা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধি হুজ্জাতুল ইসলাম শাহাবুদ্দিন মাশায়েখি রাদ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সেমিনারে আইআইইআরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রোউপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এয়াকুব আলী ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।
অর্থসংবাদ/কাফি/সাকিব
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
বাংলাদেশ ও কোরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একাডেমিক সহযোগিতার অঙ্গীকার
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম সুঙসিল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একাডেমিক সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন উভয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সিউলে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শামসুল আলম লিটন এবং সুঙসিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট (ভাইস-চ্যান্সেলর) ড. ইয়ুনজাই লীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের মধ্যে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সুঙসিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক দপ্তর এর পরিচালক ইয়ং জিন আহন উপস্থিত ছিলেন।
আরো উপস্থিত ছিলেন কোরিয়ায় বাংলাদেশের অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌশলগত সহযোগী সোল গেটওয়ে কর্পোরেশনের প্রেসিডেন্ট ড. মুন জে-কিউন, এজেন্সি ফর ডিফেন্স ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকো এর ডিরেক্টর ড. লি ওন-হি, এসএমই এআই ইনোভেশন ফোরাম এর প্রেসিডেন্ট এবং সোল গেটওয়ে কর্পোরেশনের অ্যাডভাইজর ড. হোয়াং জে-কিউ, ব্যাংকো এর প্রেসিডেন্ট জাং মিন-সিওক।
বৈঠকে উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময় কর্মসূচি, যৌথ গবেষণা উদ্যোগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি পারস্পরিক একাডেমিক সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে দ্রুত একটি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সময় সুঙসিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ডিন ড. জংমিন শন এবং গ্লোবাল ফিউচার এডুকেশন ইনস্টিটিউটের পরিচালক গো ডং উহানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সুঙসিল বিশ্ববিদ্যালয় ১৮৯৭ সালে পিয়ংইয়ংয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং কোরিয় যুদ্ধের পর সিউলে স্থানান্তরিত হয়। এটি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃত। অন্যদিকে, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং ভবিষ্যৎমুখী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শামসুল আলম লিটন সিউলে বেসরকারি খাতে দক্ষতা উন্নয়নমূলক একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘স্পার্কস’ পরিদর্শন করেন।
প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স এবং আধুনিক প্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের হাইটেক শিল্পে কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তুলছে এবং ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।
পরিদর্শনকালে বাংলাদেশে দক্ষতা উন্নয়ন খাতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে পারস্পরিক আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে এ সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
গাকৃবিতে আন্তর্জাতিক সিবিআই কোর্স অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগে সভা অনুষ্ঠিত
উচ্চশিক্ষাকে আরও বাস্তবমুখী, যুগোপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকুবি)-এ সেন্টার ফর এগ্রিকালচার অ্যান্ড বায়োসায়েন্সেস ইন্টারন্যাশনাল (সিবিআই) একাডেমির কোর্সসমূহকে শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল সভাকক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞানে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব সমস্যার সমাধানমুখী, দক্ষ ও মানবিক পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সিবিআই একাডেমির কোর্সগুলো আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কনটেন্ট, সমস্যা-ভিত্তিক শিক্ষা, অনলাইন লার্নিং সুবিধা এবং স্বীকৃত সার্টিফিকেট প্রদানের মাধ্যমে কৃষি ও পরিবেশ খাতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক, সিবিআই বাংলাদেশের কান্ট্রি প্রতিনিধি ড. মো. সালেহ আহমেদ এবং সিবিআই-এর ডিজিটাল টুলস ইউজের গ্লোবাল লিড ড. মালভিকা চৌধুরীসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
সভায় ড. সালেহ আহমেদ সিবিআই-এর বৈশ্বিক কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন। ড. মালভিকা চৌধুরী ডিজিটাল লার্নিং কোর্স নিয়ে একটি তথ্যবহুল উপস্থাপনা দেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য ও অর্জন নিয়ে ডকুমেন্টারি উপস্থাপন করেন ড. মো. মাহবুবুর রহমান।
উন্মুক্ত আলোচনায় সিবিআই-এর আধুনিক ও গবেষণাভিত্তিক কোর্সসমূহ গাকুবির কারিকুলামে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে নীতিগত সম্মতি প্রদান করা হয়। পাশাপাশি গাকুবির ডিজিটাল হার্বেরিয়ামকে সিবিআই-এর সঙ্গে সংযুক্ত করা এবং যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, “বর্তমান বিশ্বে শুধু ডিগ্রি নয়, প্রয়োজন বাস্তব দক্ষতা ও উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তি। সিবিআই-এর মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় শিক্ষার্থীদের সেই সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করবে এবং দেশের কৃষি ও পরিবেশ খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।”
উল্লেখ্য, সিবিআই একটি আন্তর্জাতিক ও আন্তঃসরকারি সংস্থা, যা তথ্যভিত্তিক জ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক দক্ষতার সৃজনশীল প্রয়োগের মাধ্যমে কৃষি ও পরিবেশের জটিল সমস্যার টেকসই সমাধান নিয়ে কাজ করে।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
কারিকুলাম পরিবর্তন করতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নেই: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান জানিয়েছেন এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, বিদ্যমান কারিকুলামে পরিবর্তন আনতেই হবে এবং এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এসএসসি পরীক্ষা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা জানান।
পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কিছু ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে অনিয়মের ঘটনা পাওয়া গেছে। মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরের একটি কেন্দ্রে খাতা দেখাদেখির অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।
এছাড়া বাজারসংলগ্ন একটি কেন্দ্রে ভিড় ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা থাকলেও অভিভাবকদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে অভিযোগ তদন্তের জন্য সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ট্রাফিকজনিত কারণে পরীক্ষার্থীদের দেরি হলে শিক্ষকদের মানবিক আচরণের আহ্বান জানান তিনি।
প্রবেশপত্র জটিলতা প্রসঙ্গে বলেন, কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ও প্রিন্ট সমস্যার কারণে বিলম্ব হলেও পরে তা সমাধান করা হয়েছে।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
এসএসসি ও সমমানের হলে বসলো ১৮ লক্ষাধিক পরীক্ষার্থী
একযোগে সারাদেশে আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলা প্রথম পত্র।
পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশের নির্দেশনা থাকায় শিক্ষার্থীরা আগেভাগেই কেন্দ্রে উপস্থিত হয়। সারা দেশের ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার পরীক্ষার্থী এবার অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন ছেলে এবং ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন মেয়ে।
পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সরকার নানা প্রস্তুতি নিয়েছে। গতকাল সোমবার (২০ এপ্রিল) সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ. ন. ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন জানান, তিন হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে কেন্দ্র এলাকাগুলো যানজটমুক্ত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে অহেতুক আতঙ্ক সৃষ্টি না করার আহ্বানও জানান শিক্ষা উপদেষ্টা।
স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আগে থেকেই সক্রিয় রয়েছে শিক্ষাবোর্ডগুলো। গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতিদিনই জারি করা হয়েছে জরুরি নির্দেশনা। ইতোমধ্যে ৩ হাজার ২০৯টি পরীক্ষা কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।
আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, অনেক কেন্দ্রেই আগে থেকেই সিসি ক্যামেরা ব্যবহারের অভ্যাস রয়েছে। নতুন কেন্দ্রগুলোতেও এ বিষয়ে কেন্দ্র সচিবদের উৎসাহিত করা হয়েছে।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণিল বর্ষবরণ, শোভাযাত্রার সঙ্গে বলীখেলা-পুতুলনাচ
নাচ-গান, আবৃত্তি, বলীখেলা, বউছি ও পুতুলনাচসহ নানা আয়োজনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্যাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণে মুখর ছিল পুরো ক্যাম্পাস।
বর্ষবরণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান। শোভাযাত্রাটি জারুলতলায় গিয়ে শেষ হয়। সেখানে স্থাপিত বৈশাখী মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় মূল অনুষ্ঠান।
বলীখেলার আয়োজন হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চ প্রাঙ্গণে। উন্মুক্ত মঞ্চে চলে পুতুলনাচ। শহীদ আবদুর রব হলের মাঠে কাবাডি খেলা এবং চাকসু প্রাঙ্গণে বউছি খেলার আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া নববর্ষ উপলক্ষে বুদ্ধিজীবী চত্বর ও শহীদ মিনার চত্বরে সকাল থেকে শুরু হয়েছে দুই দিনের উদ্যোক্তা মেলা।
নববর্ষ উপলক্ষে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী জীবনধারার প্রদর্শনীর আয়োজনও করা হয়। সেখানে স্থান পায় নাগরদোলা, পালকি, গরুর গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ি, বায়োস্কোপসহ নানা কিছু।
মূল ক্যাম্পাসে ফেরার কারণে প্রায় দেড় দশক পর এবার বর্ষবরণের আয়োজনে চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের ছিল সক্রিয় অংশগ্রহণ। আলপনা আঁকা ও মোটিফ তৈরির মাধ্যমে অনুষ্ঠানকে আরও বর্ণিল করে তোলেন তাঁরা।
দুপুরে ক্যাম্পাসে বর্ষবরণ প্রসঙ্গে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী রাফসান হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘অনেক দিন পর ক্যাম্পাসে খুবই বর্ণিল এক উৎসব উপভোগ করেছি। প্রতিবছরই এমন অনুষ্ঠানের আয়োজন হোক।’
বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত মূলমঞ্চে চলে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সমাপনী অনুষ্ঠানে সুন্দর আয়োজনে সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান উপাচার্য।
নাইম



