অর্থনীতি
কেয়া কসমেটিকসের ৮৫৫২ কোটি টাকা উধাও, এফআরসির কাঠগড়ায় চার ব্যাংক
কেয়া কসমেটিকস লিমিটেডের ৬৬ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ৮,৫৫২ কোটি টাকা) রপ্তানি আয় কোম্পানির বৈদেশিক মুদ্রার অ্যাকাউন্টে (এফসি) জমা না হওয়ার ঘটনা দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে নিরীক্ষা ফার্ম নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, তার রিপোর্টের ভিত্তিতে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তে কেয়া কসমেটিকসকে পরবর্তী নির্দেশনা দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি অবহিত করে চিঠি দেওয়া হয় অভিযুক্ত চার ব্যাংক-সাউথইস্ট ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ন্যাশনাল ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসারকে (সিএফও)।
সম্প্রতি ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) এই ঘটনা দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১২ আগস্ট দৈনিক যুগান্তরে ‘২০ বছরেও রপ্তানি আয়ের অর্থ মেলেনি এফসি অ্যাকাউন্টে, কেয়া গ্রুপের ৮ হাজার কোটি টাকা উধাও’ শীর্ষক শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ওই রিপোর্ট আমলে নিয়েই এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয় এফআরসি।
এফআরসি মূলত সরকারি, আধাসরকারি এবং তালিকাভুক্ত বেসরকারি কোম্পানির আর্থিক দুর্নীতি, নিরীক্ষা ও আর্থিক প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা ও মানদণ্ড নিশ্চিত করতে কাজ করে।
জানা যায়, যুগান্তরের রিপোর্টের সূত্র ধরে অভিযুক্ত চার ব্যাংক, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিএসইসি ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান কেয়া কসমেটিকসকে তলব করে এফআরসি। সেখানে প্রকৃত ঘটনার অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্টদের জবাব গ্রহণ করা হয়। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিএসইসিকে উল্লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এদিকে এফআরসি নির্দেশনা দিলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে ধীরগতিতে পথ চলছে। বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি এগোচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠছে।
কেয়া কসমেটিকসের বিষয়ে এফআরসির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি বাংলাদেশ ব্যাংক অবহিত করেছে কি না জানতে চাইলে এফআরসির চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেন ভুইয়া যুগান্তরকে জানান, এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি আমাকে জানানো হয়নি। তবে অগ্রগতি এফআরসিকে নয়, কেয়া কসমেটিকসকে অবহিত করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তিনি বলেন, কেয়ার বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আমরা বলে দিয়েছি। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নিতে হবে।
এফআরসির নির্বাহী পরিচালক (আর্থিক প্রতিবেদন পরিবীক্ষণ বিভাগ) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কেয়া কসমেটিকসের উত্থাপিত বিষয়টি সম্পর্কে অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য যেসব তথ্য-উপাত্ত প্রয়োজন, সেগুলো কেবল বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছেই রয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকই যথোপযুক্ত একটি সমাধান বা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে।
জানতে চাইলে কেয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক পাঠান বলেন, আমার ৬৬ কোটি ডলার এফসি অ্যাকাউন্টে জমা না হওয়ার বিষয়ে এফআরসি যে নির্দেশনা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দিয়েছে, তা জানতে পেরেছি। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক কতটুকু তদন্ত করছে, আদৌ তদন্ত হচ্ছে কি না-এ সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। আমাকেও ডাকা হয়নি। তিনি বলেন, ব্যাংক যদি কোনো অর্থ পাওনা থাকে, তা সমন্বয় করতে পারে। কিন্তু এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইন অনুযায়ী আমার বৈদেশিক মুদ্রার আয় এফসি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করতে হবে। সেটি না করায় বিপুল অঙ্কের অর্থের কোনো অস্তিত্ব আমার হিসাবে নেই।
এদিকে এফআরসিতে কেয়া গ্রুপের অভিযোগে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে ডলার তছরুপের অভিযোগ করার কারণে কেয়া কসমেটিকসের আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। যদিও ব্যাংকগুলোয় যথেষ্ট পরিমাণ সম্পত্তি বন্ধক আছে। এর ফলে কোম্পানি প্রতিমাসে ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় বঞ্চিত হচ্ছে। ১৫ হাজার শ্রমিক ও কর্মচারী, এক হাজার (বাক ও শ্রবণ) প্রতিবন্ধীর কর্মসংস্থান হুমকির মধ্যে পড়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৫০ হাজার শেয়ারহোল্ডার তাদের বিনিয়োগে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। দেশের অর্থনীতি ও কোম্পানির স্বার্থে অভিযোগটি দ্রুত নিষ্পত্তি করা দরকার।
সূত্রমতে, বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে সম্প্রতি অভিযুক্ত চার ব্যাংক, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিএসইসি এবং কেয়া গ্রুপকে নিয়ে একটি বৈঠক করেছে এফআরসি। সেখানে সভাপতিত্ব করেন এফআরসির চেয়ারম্যান। বৈঠকে কেয়া গ্রুপের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট চারটি ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলার (এফইপিডি-এএমডিএএনআইএনআইটিআই ১১৭/২০১৭/১২) অমান্য করে আমাদের রপ্তানির ৬৬ কোটি মার্কিন ডলার এফসি হিসাবে জমা করেনি। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক, কাস্টমস, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক এবং রপ্তানিকারকের সঙ্গে ডলারের গরমিল থেকেই যাবে, যা আমার কোম্পানি, দেশ ও জাতির জন্য হুমকিস্বরূপ।
সেখানে সাইথইস্ট ব্যাংক প্রসঙ্গে বলা হয়, রপ্তানি বাবদ আদায়কৃত ১০৬৪.০৭ মিলিয়ন ডলার থেকে ৬৫৯.৫৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কেয়া কসমেটিকসের এফসি অ্যাকাউন্টে জমা করলেও ৪০৪.৮১ মিলিয়ন ডলার জমা করেনি। কিন্তু সেটি লোকাল মার্জিনাল অ্যাকাউন্টে জমা করে। অপরদিকে এফসি হিসাবে জমাকৃত ৬৫৯.৫৬ মিলিয়ন ডলার থেকে ৪০৩.০৪ মিলিয়ন ডলার ব্যাংক পুনরায় ডেবিট করেছে।
বৈঠকে উপস্থিত সাউথইস্ট ব্যাংকের সিনিয়র সহসভাপতি কামরুজ্জামান বলেন, কেয়া কসমেটিকসকে যে পরিমাণ টাকা ঋণ দেওয়া হয়, ঠিক সেই পরিমাণ টাকা ডেবিট করা হয়েছে। এখানে ঋণের সুদ ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ ডেবিট করা হয়নি।
এ সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ অপারেশন ডিপার্টমেন্টের যুগ্মপরিচালক মোহন কুমার সাহা জানতে চান, রপ্তানি আয় থেকে কি ঋণের পরিমাণ বেশি ছিল। জবাবে কামরুজ্জামান বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঋণের পরিমাণ বেশি ছিল। তবে দীর্ঘসময় ধরে বিল অনিষ্পন্ন থাকায় এমনটি হতে পারে। সাধারণত এ ধরনের পরিস্থিতি হয় না বললেই চলে।
এফআরসির চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন ভুইয়া সাউথইস্ট ব্যাংকের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, রপ্তানি বাবদ আদায়কৃত ১০৬৪.০৭ মিলিয়ন ডলারের সঙ্গে আপনাদের প্রদত্ত ঋণ যোগ করলে আমরা কেয়া কসমেটিকসের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ জানতে পারি। পরবর্তী সময়ে জমা অর্থ থেকে রপ্তানি আয়ের অর্থ বাদ যাবে বা ব্যাংক ডেবিট করবে। এ বিষয়ে কি কোনো অনিয়ম বা ত্রুটি ব্যাংক করছে কি না। এর জবাবে কামরুজ্জামান বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম বা ত্রুটি হয়নি।
বৈঠকে আরও বলা হয়, ২০০৭-২০১৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, পূবালী ব্যাংকে ২০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় আসে কেয়া কসমেটিকসের। কিন্তু ২০১ মিলিয়ন ডলার এফসি অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়নি।
পূবালী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতানা সারিফুন নাহার জবাবে বলেন, কেয়া কসমেটিকসের সংশ্লিষ্ট দৈনিক লেনদেন বিশেষ নিরীক্ষার জন্য নিরীক্ষা ফার্মকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিরীক্ষা চলাকালীন ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত তথ্যে কোনো প্রকার অসংগতি বা হিসাবনিকাশের অমিল পরিলক্ষিত হয়নি।
বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়, ন্যাশনাল ব্যাংকের মাধ্যমে ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি হয়েছে, সে অর্থ আদায়ও হয়েছে। কিন্তু কেয়া কসমেটিকস পেয়েছে ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, অবশিষ্ট ৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এফসি অ্যাকাউন্টে জমা হয়নি।
এ বিষয়ে ন্যাশনাল ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রহিম বলেন, রপ্তানি করেছে ৩০ মিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে রিয়ালাইজড হয় ২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
জানা যায়, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের মাধ্যমে ২০০৮-২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ৬৫ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করলেও এফসি অ্যাকাউন্টে জমা দেয়নি। জবাবে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, কেয়া কসমেটিকসের আমাদের সব ব্যাংকেরই একই অবস্থা। ইতোমধ্যে অন্য ৩টি ব্যাংক থেকে যা শুনলেন, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ক্ষেত্রেও একই অবস্থান।
বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা পরিচালনা বিভাগের যুগ্মপরিচালক মোহন কুমার সাহা বলেন, কেয়া কসমেটিকসের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে আমার ডিপার্টমেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। অভিযোগটি নিষ্পত্তি করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিস ডিপার্টমেন্টের (এফআইসিএসডি) সংশ্লিষ্টতা একান্ত আবশ্যক।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চিফ অ্যাকাউন্ট অফিসার কামরুল আনাম খান বলেন, এ বিষয়ে বিশেষ নিরীক্ষার জন্য নিরীক্ষা ফার্ম নিয়োগ দিয়েছে বিএসইসি। এর নিরীক্ষা প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মতামত দেওয়া হবে।
সূত্র: যুগান্তর
এমএন
অর্থনীতি
এপ্রিলের ১৫ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১৭৮ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার
চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৫ দিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৭৮ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১১ কোটি ৯২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৫ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৭৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১৪৭ কোটি ২০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে এসেছে ২ হাজার ৭৯৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ২০ দশমিক ৪০ শতাংশ।
এর আগে গত মার্চে দেশে এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা দেশের ইতিহাসে যে কোনো এক মাসের সর্বোচ্চ।
গত ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসে যথাক্রমে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার; নভেম্বরে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।
এছাড়া গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর গত আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।
এদিকে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।
অর্থনীতি
নিলামে আরও ৫ কোটি ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক,
দেশে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে নিলামে আরও ৫ কোটি মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি মাসে এ নিয়ে মোট ১২ কোটি ডলার কেনা হল।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
আরিফ হোসেন খান বলেন, ৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৫ কোটি মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কাটঅফ মূল্য ছিল ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কয়েক দফায় নিলামের মাধ্যমে ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন পর্যন্ত মোট কেনা হয়েছে ৫৬১ কোটি ৩৫ লাখ বা ৫.৬১ বিলিয়ন ডলার। ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে বাজারে ডলার বিক্রির পরিবর্তে ডলার কেনার দিকেই মনোযোগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এমএন
অর্থনীতি
উন্নয়ন প্রকল্পে আমূল সংস্কারের পথে নতুন সরকার: তিতুমীর
নতুন সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় মৌলিক পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, অতীতে প্রকল্প গ্রহণে স্বজনতোষী প্রবণতা ছিল, তবে এখন থেকে পরিকল্পনার মূল দর্শন হবে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন এবং সর্বস্তরের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সরকারের অর্থনৈতিক কৌশল নির্ধারণে গঠিত অ্যাডভাইজারি কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।
তিতুমীর জানান, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পর্যালোচনার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং আগামী বছরের জুনের মধ্যে এই বিশ্লেষণ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জকে সুযোগে রূপান্তর করতে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা নেওয়া হবে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে এবং সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগের মধ্যে সমন্বয় বাড়াবে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও সরকারের নতুন কৌশল তুলে ধরে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের ঝুঁকি মোকাবিলায় খাদ্যের পাশাপাশি জ্বালানি খাতেও কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা হবে। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার এবং বিদ্যুৎ–জ্বালানির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই থাকবে অগ্রাধিকার।
এদিকে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য মনজুর হোসেন জানিয়েছেন, নতুন পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে শেষ হতে পারে।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী সাকি বলেন, চলমান প্রকল্পগুলো পুরোপুরি বাতিল না করে প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্গঠন করা হবে, যাতে বাস্তবায়নে গতি আসে।
উল্লেখ্য, কমিটির প্রথম সভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক পরিকল্পনা উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, যদিও তিনি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না।
অর্থনীতি
রুপার দামে বড় লাফ
দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এ দফায় রুপার দাম ভরিতে এক লাফে ৩৫০ টাকা বেড়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৬৫ টাকা। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি রুপার (পিওর সিলভার) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের রুপার দাম পড়বে ৬ হাজার ৬৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৭৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সবশেষ গত ৯ এপ্রিল সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। সেবার ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩৫০ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৭১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৩৪ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম।
অর্থনীতি
এপ্রিলের ১৪ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৬০৭ মিলিয়ন ডলার
চলতি এপ্রিল মাসের প্রথমার্ধে দেশে প্রবাসী আয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে। মাসের প্রথম ১৪ দিনে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৬০৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, গত ১৩ ও ১৪ এপ্রিল দুই দিনেই দেশে ১৭১ মিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে।
হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, গত বছরের এপ্রিলের প্রথম ১৪ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ২৮৪ মিলিয়ন ডলার।
এ হিসাবে মাসিক ভিত্তিতে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২৫ দশমিক ২ শতাংশ।
অপরদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২৭ হাজার ৮১৬ মিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ২৩ হাজার ৬৯ মিলিয়ন ডলার। এর ফলে অর্থবছরের এই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০ দশমিক ৬ শতাংশ।



