আন্তর্জাতিক
হরমুজে মার্কিন বাহিনী ঢোকার চেষ্টা করলে হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের
হরমুজ প্রণালী ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটি কঠোরভাবে সতর্ক করে জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী এ জলপথে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে।
সোমবার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান দাবি করেছে যে হরমুজ প্রণালী-এর নিরাপত্তা সম্পূর্ণভাবে তাদের সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ কারণে এ অঞ্চলে যেকোনো নৌ চলাচল বা নিরাপত্তা কার্যক্রমে তাদের অনুমতি ও সমন্বয় বাধ্যতামূলক।
ইরানের সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে, তারা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকেও সতর্ক করে বলা হয়েছে, ইরানের নিয়োজিত সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া যেন তারা এ পথে যাতায়াত না করে, যাতে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি এড়ানো যায়।
বিবৃতিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, কোনো বিদেশি সশস্ত্র বাহিনী-বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা-যদি হরমুজ প্রণালীর দিকে অগ্রসর হয় বা প্রবেশের চেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলা চালানো হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চলমান উত্তেজনার কারণে যেসব নিরপেক্ষ দেশের জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়েছে, সেগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে। এই উদ্যোগকে তিনি ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে অভিহিত করেছেন।
আন্তর্জাতিক
মমতার গাড়ি দেখেই ‘চোর-চোর’ স্লোগান, জমায়েত স্থলে ভাঙচুর
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভোট গণনাকেন্দ্রে পৌঁছানোর সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি লক্ষ্য করে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা; এ সময় উত্তেজনার মধ্যে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। সোমবার (৪ মে) স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, মমতার আগমনের আগেই সেখানে বিজেপি কর্মীদের জটলা ছিল এবং এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে তার গাড়ি গণনাকেন্দ্রে পৌঁছালে ‘চোর-চোর’ ও ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে শুরু করেন বিজেপি সমর্থকরা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাখাওয়াত মেমোরিয়ালে পৌঁছোনোর কিছু আগেই ওই কেন্দ্রের অদূরে একটি পাম্পে বসেছিলেন তৃণমূলের কর্মীরা। তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীও সেখানে ছিলেন।
পরে জানা যায়, পুলিশ তৃণমূল কর্মীদের সেখান থেকে উঠে যেতে বলে। যদিও ওই সময়ে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সেখানে ছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। এর কিছু পরেই এজেসি বোস রোড ধরে এগিয়ে আসা বিজেপি সমর্থকদের সঙ্গে তর্কাতর্কি শুরু হয় পুলিশের। পরে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা তৃণমূলের জমায়েতস্থলে পৌঁছে যায়। তৃণমূল কর্মীদের পেতে রাখা চেয়ার ভাঙচুরেরও অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে।
উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতেই সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে ভোট গণনা কেন্দ্রের চত্বরে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়। বাড়ানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের সংখ্যাও। এর মধ্যেই বিজেপি সমর্থকরা মমতার বিরুদ্ধে ‘চোর-চোর’ স্লোগান তুলতে থাকেন। ওঠে ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও।
গণনা কেন্দ্রের কাছে মোতায়েন পুলিশকর্মী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা ওই বিজেপি সমর্থকদের সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। তারা বিজেপির সমর্থকদের সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলচত্বর থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যান।
ভবানীপুর আসনে মোট ২০ রাউন্ড গণনা রয়েছে। এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত ২০টির মধ্যে ১২টি রাউন্ডের ফল ঘোষণা হয়েছে। গণনাপর্বে সকাল থেকে দৃশ্যত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে ভবানীপুরে। প্রথম দিকে কখনও মমতা, কখনও শুভেন্দু এগিয়ে ছিলেন। তার পরের বেশ কয়েকটি রাউন্ডে এগিয়ে যান মমতা। আবার কিছু রাউন্ডে ব্যবধান কমাতে শুরু করেন শুভেন্দুও।
সূত্র: আনন্দবাজার
আন্তর্জাতিক
প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই চমকের পথে থালাপতি বিজয়
দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার সুপরাস্টার থালাপতি বিজয় (সি. জোসেফ বিজয়) প্রথমবারের মতো তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচন অংশ নিয়েছেন। প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ের দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগাম (টিভিকে) চমক দেখানোর পথে আছে। থালাপতি বিজয় দুটি আসন থেকে নির্বাচন করছেন, পেরাম্বুর এবং তিরুচিরাপল্লি (পূর্ব)।
নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর মধ্যে আছে, স্নাতকদের জন্য মাসে ৪ হাজার রুপি ভাতা, নারীদের জন্য ২ হাজার ৫০০ রুপি সহায়তা এবং বিয়ের উপহার হিসেবে সোনা ও শাড়ি। এছাড়া তিনি সরকারি পরীক্ষাগুলো সময়মতো নেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছেন।
সোমবার (৪ মে) দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়, তামিলনাড়ুতে ভোট গণনা চলছে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তার দল ১০১ আসনে এগিয়ে আছে। এআইএডিএমকে জোট এগিয়ে আছে ৭৮ আসনে এবং ডিএমকে এগিয়ে আছে ৫০ আসনে। এই রাজ্যে সরকার গঠনের জন্য ১১৮টি আসন লাগে।
নির্বাচনে তিনি নিজেকে ‘প্রত্যেক তামিল পরিবারের সদস্য’ হিসেবে প্রচারণা চালান। এছাড়া বর্তমান শাসক দল দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝগমকে (ডিএমকে) সরাতে ‘হুইসেল রেভলিউশনের’ ডাক দেন। তার এই সিদ্ধান্ত কিছুটা ১৯৯১ সালে জয়ললিতার দুই আসনে লড়ার কৌশলের মতো। তবে বর্তমান তৃতীয় উপ-মুখ্যমন্ত্রী উধয়নিধি স্ট্যালিন বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন।
বিজয়ের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছে সফল চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার থেকে। তবে তার পথে কিছু চ্যালেঞ্জও ছিল। যেমন ২০২৫ সালের কারুর স্ট্যাম্পিড-সংক্রান্ত তদন্ত। তবুও তিনি কোনো জোটে না গিয়ে একাই লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) ‘আদর্শগত শত্রু’ ও ডিএমকেকে ‘রাজনৈতিক শত্রু’ বলেছেন।
তিনি সম্পদের দিক থেকেও আলোচনায় ছিলেন। নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬২৪ কোটি রুপি, যা দেখে বোঝা যায় এই নির্বাচনের সবচেয়ে ধনী প্রার্থীদের একজন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি আলোচনায় ছিলেন, বিশেষ করে তার স্ত্রী সঙ্গীতার সঙ্গে বিচ্ছেদের খবরের কারণে।
পেরাম্বুর আসনে ভোটার সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ২২ হাজার এবং তিরুচিরাপল্লি (পূর্ব) আসনে প্রায় ২ লাখ ১৭ হাজার। এই দুটি এলাকাতেই শ্রমজীবী ও খ্রিস্টান ভোটারদের বড় অংশ আছে, যা বিজয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পেরাম্বুরে তিনি লড়ছেন ডিএমকের আর. ডি. সেকারের বিরুদ্ধে, আর তিরুচিরাপল্লিতে (পূর্ব) তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডিএমকের ইনিগো ইরুদয়ারাজ এবং এআইএডিএমকের কে. রাজাসেকরান।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে এই দুই আসনই ডিএমকে জোট জিতেছিল। তাই এবার বিজয়ের একক লড়াই তামিলনাড়ুর ঐতিহ্যবাহী দুই দলের প্রতিযোগিতাকে ত্রিমুখী লড়াইয়ে পরিণত করেছে।
আন্তর্জাতিক
পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পথে বিজেপি
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে প্রাপ্ত ফলাফলের ধারায় সরকার গঠনের পথে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তুঙ্গে। দলটির শীর্ষ নেতা শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ১৮৬টি আসনে এগিয়ে রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে আছে ১০৫টি আসনে। এ পরিস্থিতিতে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের জোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও নির্বাচনের চিত্র ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে। আসামে ক্ষমতাসীন বিজেপি অধিকাংশ আসনে এগিয়ে রয়েছে। তামিলনাড়ুতে ডিএমকে–কংগ্রেস জোট এবং কেরালায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে রয়েছে।
আসামের ১২৬টি আসনের মধ্যে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে বড় ব্যবধানে, যেখানে কংগ্রেস ও তাদের মিত্ররা তুলনামূলকভাবে অনেক পিছিয়ে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার পরই পরিষ্কার হবে চূড়ান্ত চিত্র। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গঠনের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও পিটিআই
আন্তর্জাতিক
হরমুজে নতুন প্রকল্প ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণা করলেন ট্রাম্প
হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে চলাচলে সহায়তা দিতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্র। রোববার (৩ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এ ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আরব উপসাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্তকারী প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ। বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের বড় একটি অংশ এই পথ দিয়ে সম্পন্ন হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরান। ফলে প্রণালি, আরব উপসাগর ও পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে শতাধিক জাহাজ।
রোববারের পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’-এর মূল উদ্দেশ্য হবে হরমুজ প্রণালি ও তার আশপাশে আটকা পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে প্রণালি পার হতে সহায়তা করা; অর্থাৎ হরমুজ পেরোতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে প্রহরা দেবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী।
ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, “বিশ্বের অনেক দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজে আটকা পড়েছে। এসব দেশের অধিকাংশই মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট নয় এবং তারা আমাদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে যে আমাদের নৌবাহিনী যেন আটকা পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে প্রণালি থেকে বের হতে সহযোগিতা করে।”
“আমরা তাদের অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আটকা পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলো যেন নিশ্চিন্তে তাদের গন্তব্য রওনা হতে পারে— তা নিশ্চিত করতে এবং সেসব জাহাজের নিরপেক্ষ-নিরপরাধ ক্রুদের মুক্ত করতে হরমুজ প্রণালিতে শিগগিরই প্রজেক্ট ফ্রিডম প্রকল্প শুরু হচ্ছে।”
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সোমবার সকাল, অর্থাৎ বাংলাদেশ স্থানীয় সময় সোমবার রাত থেকে হরমুজে ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ শুরু হচ্ছে বলে ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।
রোববারের পোস্টে ট্রাম্প হরমুজের নতুন এই প্রকল্পকে ‘মানবিক সহায়তা প্রচেষ্টা’ উল্লেখ করে বলেছেন, দিনের পর দিন আটকে থাকার কারণে অনেক জাহাজে ক্রুদের খাদ্য ও জরুরি সরবরাহের সংকট দেখা দিয়েছেন। ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ কার্যকর হলে এই প্রকল্প থেকে সবপক্ষ লাভবান হবে বলেও দাবি করেছেণ তিনি।
“আমি আমার সব প্রতিনিধিকে এই মর্মে নির্দেশ দিয়েছি যে তারা যেন বিভিন্ন দেশকে জানায় যে তাদের জাহাজ এবং ক্রুদের নিরাপদে হরমুজ থেকে বের করতে আমরা আমাদের সেরা প্রচেষ্টা চালাব।”
যদি নতুন এই প্রকল্প কার্যকরের পথে কোনো প্রকার ‘হস্তক্ষেপ’ ঘটে— তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ‘শক্তির সঙ্গে’ তার বিরুদ্ধে সাড়া দেবে বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
সূত্র : এএফপি, ইন্ডিয়া টুডে
আন্তর্জাতিক
পরমাণু ইস্যু পেছনে রেখে ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাব, দ্বিধায় যুক্তরাষ্ট্র
চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামনে ১৪ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। এতে পরমাণু ইস্যুকে সাময়িকভাবে পেছনে রেখে যুদ্ধবিরতি, অবরোধ প্রত্যাহার ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে ওয়াশিংটন এখনো দ্বিধায় রয়েছে।
২০২৬ সালের মে মাসের শুরুতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সামরিক উত্তেজনা, সমুদ্রপথে অবরোধ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে তেহরান এই নতুন প্রস্তাব পেশ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রস্তাবের ‘ধারণা’ সম্পর্কে অবহিত হলেও এর শর্তাবলী ও বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশটিতে বোমাবর্ষণ শুরু করে। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। উল্লেখ্য যে, বিশ্বের প্রায় ২০% জ্বালানি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত চার সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের বোমাবর্ষণ স্থগিত রাখলেও পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত ভঙ্গুর।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তেহরান একটি কৌশলগত পরিবর্তন এনেছে। তাদের নতুন প্রস্তাবে পরমাণু আলোচনার চেয়ে যুদ্ধ বন্ধ এবং অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহারের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবের মূল বিষয়গুলো হলো:
- নৌপথ উন্মুক্ত করা: হরমুজ প্রণালী দিয়ে পুনরায় জাহাজ চলাচল শুরু করা।
- অবরোধ প্রত্যাহার: যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া।
- সামরিক প্রত্যাহার: ইরানের আশেপাশের অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনী সরিয়ে নেওয়া।
- অর্থনৈতিক দাবি: ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ প্রদান।
- আঞ্চলিক শান্তি: লেবাননসহ সকল ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ইরান বর্তমানে পরমাণু আলোচনাকে পরবর্তী ধাপের জন্য সরিয়ে রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। আগে শান্তি স্থাপন ও অবরোধ প্রত্যাহার হবে, তারপর পরমাণু ইস্যুতে আলোচনা চলবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে এক কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন। একদিকে তিনি ইরানকে ‘যথেষ্ট মূল্য দিতে হয়নি’ বলে দাবি করছেন, অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি সংকটের মুখে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে মার্কিন গ্যাসোলিন পাম্পগুলোতে।২০২৬ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন। জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করতে পারে, যা রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ইরান যদি কোনো ‘ভুল আচরণ’ করে, তবে পুনরায় বিমান হামলা শুরু করা হবে। তিনি কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার আইনি সক্ষমতার কথাও উল্লেখ করেছেন।
ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, পরমাণু ইস্যুকে আলোচনার শেষ ধাপে নিয়ে যাওয়া একটি ‘বড় ছাড়’। তাদের লক্ষ্য হলো প্রথমে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা যাতে স্থায়ী শান্তি সম্ভব হয়। ইরান এখনো তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার রক্ষার দাবি জানিয়ে আসছে, যদিও তারা শান্তি চুক্তির বিনিময়ে সাময়িক স্থগিতাদেশে রাজি হতে পারে।
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস মনে করছে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ছাড়া যেকোনো চুক্তি হবে অর্থহীন। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘তারা আমাকে চুক্তির ধারণাটি বলেছে, এখন আমি লিখিত নথির অপেক্ষায় আছি।
এই যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজার অস্থির হয়ে পড়েছে। হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার কালো ছায়া দেখা দিয়েছে। যদি হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া না হয় এবং মার্কিন অবরোধ বহাল থাকে, তবে জ্বালানি সংকট আরও প্রকট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২০২৬ সালের ৩ মে পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, বল এখন হোয়াইট হাউসের কোর্টে। ট্রাম্প কি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে ইরানের প্রস্তাব মেনে নেবেন, নাকি পরমাণু ইস্যুতে অনড় থেকে পুনরায় সামরিক অভিযানের পথে হাঁটবেন? এর ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্য তথা সমগ্র বিশ্বের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা। ইরানের এই নতুন প্রস্তাব একটি কূটনৈতিক সাফল্যের সুযোগ তৈরি করলেও, অবিশ্বাসের দেয়াল এখনো অনেক উঁচু।
এমএন




