জাতীয়
দেশে অবৈধ মাদক ব্যবহারকারী ৮২ লাখ: গবেষণা
দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ বা প্রায় ৮২ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের অবৈধ মাদক ব্যবহার করছেন। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) আয়োজিত একটি জাতীয় গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রোববার বিএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের কনফারেন্স হলের ৫০৪ নম্বর কক্ষে ‘বাংলাদেশে মাদক অপব্যবহারকারী ব্যক্তিদের সংখ্যা, ধরন ও সংশ্লিষ্ট কারণসমূহ’ শীর্ষক জাতীয় পর্যায়ের গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক মো. শাহিনুল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) মহাপরিচালক হাসান মারুফ।
গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশে মাদক ব্যবহার একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। তবে এই গবেষণায় সিগারেট সেবনকে মাদক ব্যবহারের আওতায় আনা হয়নি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত গবেষণাটি বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (বিএমইউ) ও রিসার্চ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্টস লিমিটেড (আরএমসিএল) যৌথভাবে সম্পন্ন করে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়কালে নেটওয়ার্ক স্কেল-আপ মেথড ব্যবহার করে দেশের আটটি বিভাগের ১৩টি জেলা ও ২৬টি উপজেলায় তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
গবেষণায় বিভাগভেদে মাদক ব্যবহারের হারে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে। ময়মনসিংহ (৬.০২ শতাংশ), রংপুর (৬.০০ শতাংশ) ও চট্টগ্রাম (৫.৫০ শতাংশ) বিভাগে মাদক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি। তুলনামূলকভাবে রাজশাহী (২.৭২ শতাংশ) ও খুলনা বিভাগে (৪.০৮ শতাংশ) হার কম।
সংখ্যার হিসাবে সবচেয়ে বেশি মাদক ব্যবহারকারী ঢাকা বিভাগে—প্রায় ২২ লাখ ৯০ হাজার। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে ১৮ লাখ ৭৯ হাজার এবং রংপুর বিভাগে প্রায় ১০ লাখ ৮০ হাজার মানুষ। সব মিলিয়ে দেশে যেকোনো ধরনের মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮১ লাখ ৯৫ হাজার।
মাদক প্রকারভেদ বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মাদক গাঁজা (ক্যানাবিস)। এর ব্যবহারকারী প্রায় ৬০ লাখ ৮০ হাজার। এরপর রয়েছে ইয়াবা বা মেথামফেটামিন (প্রায় ২৩ লাখ), অ্যালকোহল (২০ লাখ), কোডিনযুক্ত কাশির সিরাপ, ঘুমের ওষুধ ও হেরোইন। ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ৩৯ হাজার, যাদের মধ্যে এইচআইভি ও হেপাটাইটিসসহ সংক্রামক রোগের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।
গবেষণায় আরও জানা যায়, একজন মাদক ব্যবহারকারী গড়ে মাসে প্রায় ছয় হাজার টাকা মাদকের পেছনে ব্যয় করেন। একই ব্যক্তি একাধিক ধরনের মাদক সেবন করতেও পারে।
বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মাদক ব্যবহারকারীদের বড় একটি অংশ খুব অল্প বয়সেই মাদকে জড়িয়েছে। প্রায় ৩৩ শতাংশ ব্যবহারকারী ৮–১৭ বছর বয়সে প্রথম মাদক গ্রহণ করে এবং ৫৯ শতাংশ শুরু করে ১৮–২৫ বছর বয়সে।
বেকারত্ব, বন্ধুমহলের চাপ, আর্থিক অনিশ্চয়তা, পারিবারিক অস্থিরতা, মানসিক চাপ ও অনানুষ্ঠানিক পেশায় যুক্ত থাকা মাদক ব্যবহারের প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। আশঙ্কাজনকভাবে, প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন—মাদক সহজেই পাওয়া যায়।
চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ নিয়েও গবেষণায় হতাশাজনক চিত্র উঠে এসেছে। মাত্র ১৩ শতাংশ মাদক ব্যবহারকারী কখনো চিকিৎসা বা পুনর্বাসন সেবা পেয়েছেন। যদিও অর্ধেকের বেশি ব্যবহারকারী মাদক ছাড়ার চেষ্টা করেছেন, পর্যাপ্ত চিকিৎসা, কাউন্সেলিং ও সামাজিক সহায়তার অভাবে অধিকাংশই সফল হতে পারেননি।
মাদক ব্যবহারকারীরা চিকিৎসা ও পুনর্বাসন (৬৯ শতাংশ), কাউন্সেলিং (৬২ শতাংশ) এবং কর্মসংস্থান সহায়তাকে (৪১ শতাংশ) সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া ৬৮ শতাংশ ব্যবহারকারী সামাজিক ও পারিবারিক পর্যায়ে অপবাদ ও বৈষম্যের শিকার হওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই গবেষণা স্পষ্ট করে দেখিয়েছে—মাদক সমস্যা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়। এটি একটি বহুমাত্রিক জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সংকট। তাই দমনমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রতিরোধ, চিকিৎসা, পুনর্বাসন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক পুনঃএকত্রীকরণ নিশ্চিত করাই সময়ের দাবি।
অনুষ্ঠানে বিএমইউর ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, “আমরা ভাবি মাদকাসক্তরা অন্য কেউ। কিন্তু বাস্তবে আমরা এবং আমাদের সন্তানেরাও ঝুঁকির মধ্যে আছি। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই বিপদ মোকাবিলা করতে হবে।”
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ বলেন, পরিবার থেকেই মাদক প্রতিরোধ শুরু করতে হবে। মাদকাসক্তদের চিকিৎসা সম্প্রসারণে ঢাকা ছাড়াও সাত বিভাগে ২০০ শয্যার পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।
বিএমইউর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার বলেন, শিশু ও তরুণদের মাদকের ভয়াবহ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সরবরাহ ও চাহিদা— দুটিই কমাতে হবে।
এমকে
জাতীয়
জ্বালানি সংকট সমাধানে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও সংকটের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি তেল সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় সংসদে ১০ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ থেকে ৩০ দিন।
রোববার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেল নিয়ে বৈশ্বিক সংকট তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। এ অবস্থায় করণীয় নির্ধারণে সংসদে ঐক্যমতের ভিত্তিতে বিরোধী দলের প্রস্তাব অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের সমন্বয়ে একটি ১০ সদস্যবিশিষ্ট কমন কমিটি গঠনে সম্মত হন।
চিফ হুইপ জানান, সংসদ নেতা সরকারি দলের ৫ জন এবং বিরোধী দলের নেতা ৫ জন সদস্যের নাম প্রস্তাব করেন।
কার্যপ্রণালী বিধির ২৬৬ বিধি অনুযায়ী চিফ হুইপ কমিটির সদস্যদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব করেন। পরে স্পিকার বিষয়টি ভোটে দিলে সর্বসম্মতিক্রমে তা পাস হয়।
কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
কমিটিতে সরকারি দলের পাঁচ সদস্য হলেন—জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহামুদ টুকু, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফউদ্দিন, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মইনুল ইসলাম শান্ত এবং শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু।
বিরোধী দলের পাঁচ সদস্য হলেন—সাইফুল আলম মিলন (ঢাকা-১২), আবদুল বাতেন (ঢাকা-১৬), মো. নূরুল ইসলাম (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩), এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত (কুমিল্লা-৪) এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসান (সিলেট-৫)।
কমিটির কার্যপরিধি অনুযায়ী, তারা বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করবে।
জাতীয়
এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বাতিলের বিল পাস
সংসদ সদস্যদের (এমপি) জন্য বিদ্যমান শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। ‘সংসদ সদস্য পারিতোষিক ও ভাতাদি সংশোধন বিল-২০২৬’ নামে এই বিলটি পাসের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের একটি সুবিধা প্রত্যাহার করা হলো।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব নীতিগত ও চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করা হয়। সংশ্লিষ্ট বৈঠকে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং সরকারি ব্যয় হ্রাসের লক্ষ্যকে বিবেচনায় রেখে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানানো হয়।
মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন করা হলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। গেজেট প্রকাশের পর নতুন এই বিধান কার্যকর হবে।
এর আগে ‘দ্য মেম্বার্স অব পার্লামেন্ট (রেমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাওয়েন্সেস) অর্ডার, ১৯৭৩’-এর আওতায় সংসদ সদস্যরা শুল্কমুক্তভাবে গাড়ি আমদানির সুবিধা পেয়ে আসছিলেন, যা এখন থেকে আর বহাল থাকবে না।
জাতীয়
সরকারের ১৫ সংস্থা ও অধিদপ্তরের শীর্ষ পদে নতুন মুখ
সরকার একযোগে ১৫টি সংস্থা, অধিদপ্তর ও কর্তৃপক্ষের শীর্ষ পদে নতুন নিয়োগ দিয়েছে। এর মধ্যে ১১টি অধিদপ্তর ও সংস্থায় নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) এবং চারটি প্রতিষ্ঠানে চেয়ারম্যান ও রেজিস্ট্রার জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এসব নিয়োগের আদেশ জারি করে।
এর মধ্যে রয়েছে খাদ্য, পরিবেশ, কৃষি বিপণন, ট্রেডমার্কস, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর; জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিট, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগ, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোসহ ১১ অধিদপ্তর ও সংস্থায় নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ), বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের রেজিস্ট্রার জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মু. জসীম উদ্দিন খানকে খাদ্য অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাকে এই নিয়োগ দিয়ে তার চাকরি খাদ্য মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরে নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. লুৎফর রহমান। এজন্য তার চাকরি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরে মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এম এম আরিফ পাশা। এজন্য তার চাকরি কৃষি মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব দিল আফরোজকে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক করা হয়েছে। এজন্য তার চাকরি স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। পেটেন্ট, শিল্প নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হয়েছেন বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এ এস এম মুস্তাফিজুর রহমান। এজন্য তার চাকরি শিল্প মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে নতুন মহাপরিচালক হয়েছেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের পরিচালক খোন্দকার আনোয়ার হোসেন। এজন্য তার চাকরি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) মহাপরিচালক হয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুন। এজন্য তার চাকরি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তার চাকরি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামানকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক করে তার চাকরি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পরিকল্পনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবুল হাসনাত মুহম্মদ আনোয়ার পাশা। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব দেলোয়ার হোসেনকে গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিটের (জিআইইউ) মহাপরিচালক নিয়োগ দিয়ে তার চাকরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের রেজিস্ট্রার জেনারেল হয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাসান মাহমুদ। তার চাকরি স্থানীয় সরকার বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
এদিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রাজা মো. আব্দুল হাইকে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার চাকরি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হয়েছেন অতিরিক্ত সচিব মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বর্তমানে গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু/কালভার্ট নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক। তার চাকরি খাদ্য মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ হাবীবুর রহমানকে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার চাকরি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
জাতীয়
একনেকে ১৭ প্রকল্প উত্থাপন, পাস ১৫ : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১৭টি প্রকল্প উত্থাপন করা হলেও ১৫টি প্রকল্প পাস হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।
রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একনেকের ১০ম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয় এবং বাস্তবায়ন, প্রয়োজনীয়তা ও ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
ব্রিফিংয়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, একনেক সভায় মোট ১৭টি প্রকল্প উত্থাপন করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১৫টি প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং অধিকাংশ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। তবে কয়েকটি প্রকল্প শর্তসাপেক্ষে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং কিছু প্রকল্পের ক্ষেত্রে সংশোধন বা অতিরিক্ত যাচাইয়ের নির্দেশনা রয়েছে। তিনি জানান, প্রকল্পগুলোর বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় মন্তব্য দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে চলমান ও প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো পুনর্বিবেচনার একটি সিদ্ধান্ত আগে থেকেই নেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী যেসব প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা কমে গেছে বা যেগুলো বর্তমান প্রেক্ষাপটে আর প্রাসঙ্গিক নয়, সেগুলো চিহ্নিত করে পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। অনেক প্রকল্প এমন অবস্থায় রয়েছে, যেগুলোর বাস্তব প্রয়োজন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার বিষয়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, ব্যয়ের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী হওয়া এবং প্রতিটি খাতে অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জানান, নেওয়া প্রকল্পগুলো দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কতটা ভূমিকা রাখবে এবং সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ এসব বিষয় গভীরভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ একনেকের সদস্যবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয়
তরুণ প্রজন্ম শিক্ষক-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধেও অশালীন মন্তব্য করতে দ্বিধা করে না: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বর্তমান তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ, এমনকি ইউনিফর্ম পরিহিত শিক্ষার্থীরাও শিক্ষক কিংবা মন্ত্রীদের বিরুদ্ধেও অশালীন মন্তব্য করতে দ্বিধা করে না।
রোববার (২৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত ‘বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে এক কর্মশালায় তিনি এ মন্তব্য করেন। গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা এবং উদ্ভাবকদের স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করাই কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে অনেকেই ফেসবুকে লাইভে এসে অপ্রাসঙ্গিক ও অসংলগ্ন মন্তব্য করছেন। কেউ কেউ ‘হাই’, ‘গো অ্যাহেড’, ‘ডু আ রিসার্চ’—এ ধরনের মন্তব্য করেন, যা অনেক সময় উদ্দেশ্যহীনভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ অবস্থায় তরুণ প্রজন্ম নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আজকের তরুণরা, এমনকি ইউনিফর্ম পরিহিত শিক্ষার্থীরাও শিক্ষক বা মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য করতে দ্বিধা করছে না। এতে প্রশ্ন উঠছে—আমরা আমাদের তরুণ প্রজন্মকে কোন পথে নিয়ে যাচ্ছি এবং তারা কি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে? দেশের ভবিষ্যৎ শক্তি হিসেবে পরিচিত ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে আমরা কতটা কাজে লাগাতে পারছি, সেটিও ভাবার বিষয়।
মেধাস্বত্ব বিষয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ব ব্যবস্থায় বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে আছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেশের উদ্ভাবন ও মেধাস্বত্ব বিদেশে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন ও ট্রেডমার্ক পাচ্ছে, কিন্তু দেশে তা যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না। এর পেছনে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার দুর্বলতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কর্মশালায় উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
এমএন



