আন্তর্জাতিক
বিশ্ববাজারে সোনার দামে নতুন রেকর্ড, বাড়তে পারে দেশেও
আন্তর্জাতিক বাজারে পুরোনো সব রেকর্ড ভেঙে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বর্ণের দাম। সেইসাথে বেড়েছে রুপার দামও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপের কয়েকটি শীর্ষ দেশকে শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ার পর এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বিশ্ববাজারে। ফলে, দেশের বাজারেও নতুন আরেক রেকর্ড সৃষ্টি হতে পারে সোনা-রুপার দামে।
সোমবার মার্কিন স্পট মার্কেটে লেনদেনের একপর্যায়ে প্রতি আউন্স সোনার দাম বেড়ে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৬৯০ দশমিক ৫৯ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে রুপার দাম উঠে যায় আউন্স প্রতি ৯৪ দশমিক ১২ ডলারে, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। (১ আউন্স = প্রায় ২ দশমিক ৪৩ ভরি)
গত শনিবার ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে নেওয়ার পরিকল্পনার বিরোধিতা করায় যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ডের ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এসব দেশ থেকে আমদানি করা সব ধরনের পণ্যের ওপর আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে বলে জানান তিনি।
পোস্টে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ড কেনার অনুমতি দেওয়া হবে ততক্ষণ ইউরোপের মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপ ক্রমবর্ধমান হারে অব্যাহত রাখা হবে। এমন উদ্বেগের মধ্যে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনা ও রুপার দিকে ঝুঁকেছেন বিনিয়োগকারীরা। এশিয়ার বাজারেও দিনের শুরুতেই সেই প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, শুল্ক আরোপ ও সম্ভাব্য বাণিজ্য উত্তেজনা ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়ায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ এড়িয়ে সোনা ও রুপার মতো নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন।
এদিকে দেশের বাজারে ইতোমধ্যে ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা। গত ১৫ জানুয়ারি থেকে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকায়। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ২৪ হাজার ৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বর্তমানে।
অন্যদিকে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৯৪৯ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ৭১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৬৭৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিশ্ববাজারে ফের সোনা-রুপার দামে যে লাফ দেখা গেছে, তার প্রভাব পড়তে পারে দেশের বাজারেও।
এমকে
আন্তর্জাতিক
তেলের দাম ছাড়াতে পারে ১৫০ ডলার : বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতে মহাবিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এড হারস সতর্ক করেছেন, কৌশলগত হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার এড হারস আল জাজিরাকে বলেন, ‘যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জ্বালানি তেলের অর্ধেক সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়, যদি মার্কিন নৌবাহিনী ট্যাঙ্কারগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যেতে না পারে, তাহলে পরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠে যেতে পারে এবং এটি আমরা দেখতেও পারি।’
তিনি আরও যোগ করেন, আমরা ইতিমধ্যেই এলএনজি (LNG) বাজারে এর প্রভাব দেখতে পাচ্ছি। হামলার প্রথম দিনেই দাম ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এমনকি সোমবার থেকে মঙ্গলবারের মধ্যে ইউরোপীয় দেশগুলোতে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
হারস জানান, তেলের পাশাপাশি ডিজেলের দামও অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। অনেক দেশ গ্যাসের বিকল্প হিসেবে এখনই পেট্রোলিয়াম মজুত করতে শুরু করেছে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যের ভবিষ্যতের জ্বালানি অর্ডারগুলোও প্রভাবিত হচ্ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এই পরিস্থিতির মারাত্মক প্রভাব পড়বে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইংল্যান্ড অঙ্গরাজ্যগুলোতে। যদি এমনটা ঘটে, তবে ঘরোয়া রাজনীতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত প্রতিকূল হয়ে উঠবে।’ কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন। ওই নির্বাচনে এর প্রভাব পড়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।
হরমুজ প্রণালী কেন এতো গুরুত্বপূর্ণ
হরমুজ প্রণালী হলো ওমান এবং ইরানের মাঝখানে অবস্থিত একটি সরু জলপথ, যা পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘অয়েল ট্রানজিট চোক পয়েন্ট’ বলা হয়। এর গুরুত্বের মূল কারণগুলো হলো— বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এবং সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই সরু পথ দিয়েই যায়। সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো বড় রপ্তানিকারকদের প্রধান পথ এটি।
অন্যদিকে, কাতার থেকে বিশ্ববাজারে সরবরাহকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) প্রায় পুরোটাই এই প্রণালী দিয়ে পার হয়। বর্তমানে ইউরোপে গ্যাসের দাম দ্বিগুণ হওয়ার পেছনে এই পথের নিরাপত্তাহীনতা বড় ভূমিকা রাখছে।
এই প্রণালীর বিকল্প হিসেবে খুব কম পাইপলাইন রয়েছে এবং সেগুলোর ধারণক্ষমতাও সীমিত। ফলে এই পথ বন্ধ বা বাধাগ্রস্ত হওয়া মানেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানির হাহাকার।
অর্থনীতিবিদ এড হারসের মতে, সরবরাহ সামান্য বিঘ্নিত হলেও তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলারে উঠে যেতে পারে, যা বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি এবং পরিবহন খরচ বাড়িয়ে দেবে।
সূত্র : আল-জাজিরা।
এমএন
আন্তর্জাতিক
ভোরে ইসরায়েলকে নিশানা করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান
ইরান আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ভোরে ইসরায়েলকে নিশানা করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এর জেরে লাখো ইসরায়েলি বোমা থেকে সুরক্ষা পেতে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানায়।
ইসরায়েলের জরুরি পরিসেবা সংস্থার বরাত দিয়ে এএফপি বলছে, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হতাহতের কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এএফপির প্রতিবেদকরা জেরুজালেমে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছেন।
এদিকে ইরানের ছোড়া ড্রোনের আঘাতে কুয়েতের একটি ট্যাংকার জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। পরে সেটি ডুবে গিয়ে তেল সাগরে ছড়িয়ে পড়ছে। বুধবার গভীর রাতে জাহাজটিতে আঘাত হানা হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা ব্রিটিশ মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সি (ইউকেএমটো)।
ক্রুদের বরাত দিয়ে ইউকেএমটো জানিয়েছে, ইরান থেকে আসা ড্রোনের আঘাতে কুয়েতের উপকূলে একটি ট্যাংকার জাহাজে আগুন ধরে যায়। শেষমেশ সেটি ডুবে গিয়ে কার্গো জাহাজটি থেকে তেল সাগরে ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তবে জাহাজটি ডুবে গেলেও ক্রুরা সবাই নিরাপদ আছেন। ড্রোনের আঘাতেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে যথেষ্ট প্রমাণ থাকার কথা জানিয়েছে ইউকেএমটো।
এমএন
আন্তর্জাতিক
হরমুজ প্রণালীতে আটকা ২০ হাজার নাবিক, জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা
বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কঠোর অবস্থানের কারণে প্রায় ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়েছেন। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংস্থার (আইএমও) প্রধান আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে বিভিন্ন প্রমোদতরীর আরও প্রায় ১৫ হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
হরমুজ প্রণালী বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। যা পারস্য উপসাগরের বন্দরগুলোকে উন্মুক্ত সমুদ্রের সঙ্গে যুক্ত করেছে। সাধারণ পরিস্থিতিতে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান এই পথ কার্যত বন্ধ করে রেখেছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরান জানিয়েছে, তারা শুধু চীনা জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেবে। গত বুধবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এমনটা দাবি করা হয়।
ইরানের সেনাবাহিনী সতর্ক করেছে, অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করলে সেটাকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর জানিয়েছে, এখন তাদের প্রণালীর ওপর ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে এবং যেকোনো জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান সামরিক আগ্রাসনের কারণে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হবে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টনের এই লেকচারার আল-জাজিরাকে বলেন, ‘যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসা তেলের অর্ধেকও বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে তেলের দাম একটা সময়ে প্রতি ব্যারেল ১৫০ ডলারে উঠে যেতে পারে। মার্কিন নৌবাহিনী এই প্রণালী দিয়ে চলাচল করা ট্যাংকারগুলোকে আর পাহারা দিতে না পারায় এমন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।’
হির্স বলেন, ‘তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বাজারে আমরা এরই মধ্যে প্রভাব পড়তে দেখছি। (হামলার) প্রথম দিনেই দাম ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গত সোম ও মঙ্গলবারের মধ্যে ইউরোপের দেশগুলোতে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।’
ডিজেলের দামও অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে উল্লেখ করে হির্স বলেন, ‘গ্যাসনির্ভর দেশগুলো এখন পেট্রোলিয়াম মজুত করতে শুরু করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যের ভবিষ্যৎ অর্ডারেও প্রভাব ফেলছে।’
হির্স সতর্ক করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলের অঙ্গরাজ্যগুলোতে এই পরিস্থিতির বড় প্রভাব পড়বে। এমনটা ঘটলে অভ্যন্তরীণভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য পরিস্থিতি খুব খারাপ হবে, বিশেষ করে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে।’
এমএন
আন্তর্জাতিক
কে এই মোজতবা খামেনি, যার কণ্ঠস্বর শোনেননি অনেক ইরানিও!
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের শুরুতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু তেহরানের শাসনব্যবস্থায় এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে। এই কঠিন সময়ে দেশ পরিচালনার হাল কে ধরবেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। আর এই দৌড়ে সবচেয়ে জোরালোভাবে উঠে এসেছে তার দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনির নাম।
ইরান সরকার এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও, পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি— ৪৭ বছরের পুরনো এই ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পরবর্তী ‘সুপ্রিম লিডার’ বা সর্বোচ্চ নেতা হতে যাচ্ছেন কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত মোজতবা।
উল্লেখ্য, গত শনিবার তেহরানে খামেনির বাসভবনে চালানো ভয়াবহ হামলায় মোজতবার মা, স্ত্রী এবং এক বোন প্রাণ হারান। তবে সেই সময় ঘটনাক্রমে সেখানে উপস্থিত না থাকায় মোজতবা অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। দেশজুড়ে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ আর রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে মোজতবা খামেনির এই টিকে থাকা এবং তার সম্ভাব্য ক্ষমতায় আরোহণকে যুদ্ধের ময়দানে ইরানের ভবিষ্যৎ কৌশলের এক ‘নতুন মোড়’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ব্যক্তিগত জীবন ও বর্তমান অবস্থা
৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি কখনও সরাসরি নির্বাচনে লড়েননি কিংবা জনমতের মুখোমুখি হননি। অথচ গত কয়েক দশক ধরে তিনি ইরানের শাসনব্যবস্থার ‘নিউক্লিয়াস’ বা ক্ষমতার কেন্দ্রে এক অতি-প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বিশেষ করে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শাখা বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (IRGC) সঙ্গে তার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর।
দীর্ঘ ৩৬ বছর ইরানের নিরঙ্কুশ ক্ষমতায় থাকা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গত শনিবার নিহত হওয়ার পর, তার শূন্যস্থানে মোজতবার নাম আসা কেবল পারিবারিক উত্তরাধিকার নয়, বরং রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। তিনি ক্ষমতায় আসা মানেই হলো— ইরানের প্রশাসনে কট্টরপন্থীদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হওয়া এবং অদূর ভবিষ্যতে পশ্চিমাদের সঙ্গে যে কোনো আপস বা আলোচনার পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া।
বিস্ময়কর বিষয় হলো, মোজতবা খামেনি বরাবরই নিজেকে লোকচক্ষুর অন্তরালে রাখতে পছন্দ করেন। তিনি জনসমক্ষে কোনো বক্তৃতা বা ধর্মীয় ভাষণ দেন না। ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও তার এই নিরবতা এতটাই রহস্যময় যে, অনেক ইরানি আজও তার কণ্ঠস্বর শোনেননি।
বিতর্ক ও রাজবংশতন্ত্রের শঙ্কা
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মূল লক্ষ্য ছিল রাজতন্ত্র উৎখাত করা। এখন যদি খামেনির স্থলাভিষিক্ত তার ছেলে হন, তবে তা এক নতুন ‘ধর্মীয় রাজবংশ’ তৈরির বিতর্ক উসকে দেবে— যা পাহলভি রাজবংশের সেই পুরনো স্মৃতিকেই মনে করিয়ে দেয়।
বিক্ষোভ দমনে কঠোর ভূমিকা
মোজতবার বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি বিরোধীদের প্রধান অভিযোগ হলো— বিক্ষোভ দমনে তার কঠোর ভূমিকা। সংস্কারপন্থীরা তার বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপি এবং আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’ ব্যবহার করে শান্তিকামী বিক্ষোভকারীদের (২০০৯ সালের গ্রিন মুভমেন্ট) ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ এনেছিলেন।
মাত্র দুই মাস আগে ইরানে যে নজিরবিহীন বিক্ষোভ হয়েছে, যাতে জাতিসংঘের মতে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, সেই রক্তক্ষয়ী অভিযানেও তার প্রত্যক্ষ প্রভাব ছিল বলে মনে করা হয়।
যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা ও অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য
মোজতবা ১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধে আইআরজিসি-র ‘হাবিব ব্যাটালিয়ন’-এ সরাসরি যুদ্ধ করেছেন। তার তৎকালীন অনেক সহযোদ্ধা বর্তমানে ইরানের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বিভাগের শীর্ষ পদে রয়েছেন। এছাড়া পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ছদ্মনামে তিনি একটি বিশাল অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন, যার মাধ্যমে কোটি কোটি ডলার লেনদেন হয়। গত বছর দেউলিয়া হওয়া ‘ব্যাংক আয়ান্দেহ’-এর সঙ্গেও তার নাম জড়িয়েছে ব্লুমবার্গ।
ধর্মীয় পদমর্যাদা
ইরানের আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ নেতা হতে হলে ‘আয়াতুল্লাহ’ পদমর্যাদার হতে হয়। কিন্তু মোজতবা বর্তমানে একজন মধ্যম সারির আলেম বা ‘হুজ্জাতুল ইসলাম’। তবে ১৯৮৯ সালে তার বাবা যখন নেতা হন, তিনিও আয়াতুল্লাহ ছিলেন না; তার জন্য আইন সংশোধন করা হয়েছিল। মোজতবার ক্ষেত্রেও একই পথ অনুসরণ করা হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতি
দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট এবং ভয়াবহ যুদ্ধের কারণে পরবর্তী নেতার ঘোষণা কখন আসবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। বর্তমানে তিন সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল দেশ পরিচালনা করছে। তারা হলেন— গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য আলি রেজা আরাফি, বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেন মহসেনি-এজেই এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
ইরানের সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী, ওই তিন সদস্যসহ ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস’ নতুন সর্বোচ্চ নেতার নাম ঘোষণা করবে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় রাষ্ট্রীয় অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের পাশাপাশি এই শক্তিশালী পর্ষদের কার্যালয়েও ভয়াবহ বোমাবর্ষণ করা হয়েছে, যা পুরো প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সূত্র : আল-জাজিরা।
এমএন
আন্তর্জাতিক
সৌদি আরামকোর বৃহত্তম তেল শোধনাগারে ইরানের হামলা
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় রাস তানুরায় দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। সৌদি আরামকোর বৃহত্তম পরিশোধনাগার ওই স্থাপনায় রয়েছে। বুধবার সকালের দিকে সেখানে আবারও ড্রোন হামলা হয়েছে বলে দেশটির সরকারি এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
হামলার বিষয়ে অবগত দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের দেশীয় চাহিদা পূরণ করা সৌদি আরামকোর বৃহত্তম তেল শোধনাগার রাস তানুরায় একটি ড্রোন আঘাত হেনেছে।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি সৌদি আরামকো ওই পরিশোধনাগারটি পরিচালনা করে। সৌদির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, বুধবারের এই হামলা একটি ড্রোনের মাধ্যমে চালানো হয়েছে। তবে এতে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে, গত সোমবারও সৌদি আরামকোর রাস তানুরার তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে ইরানের ছোড়া আরও দু’টি ড্রোন ভূপাতিত করে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
পরে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে শোধনাগারটিতে আগুন ধরে যায়। সেই ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ প্ল্যান্টটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় আরামকো। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে আবারও সেখানে হামলা চালিয়েছে ইরান।
• ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের সদরদপ্তরে হিজবুল্লাহর হামলা
ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের (আইএআই) সদরদপ্তর লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে লেবাননের সশস্ত্রগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। একই সঙ্গে ইসরায়েলের ড্রোন নিয়ন্ত্রণকারী একটি সামরিক ঘাঁটিতেও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, মনুষ্যবিহীন ড্রোনসহ যুদ্ধের অস্ত্র, স্যাটেলাইট ও মহাকাশ কার্যক্রমের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রতিরক্ষা এবং বেসামরিক পণ্য তৈরি করে ইসরায়েলের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার রাতে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে ইসরায়েলি সামরিক সরঞ্জামপ্রস্তুতকারক কোম্পানি আইএআইর সদরদপ্তরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ।
ইরানপন্থী লেবাননের সশস্ত্র এই গোষ্ঠী বলেছে, লেবাননের কয়েক ডজন শহর ও জনপদে ইসরায়েলি অপরাধমূলক আগ্রাসনের জবাবে বুধবার রাত ২টার দিকে ড্রোন দিয়ে অধিকৃত ফিলিস্তিনের কেন্দ্রে অবস্থিত ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের (আইএআই) সদরদপ্তরে হামলা চালানো হয়েছে।
সূত্র: এএফপি।




