জাতীয়
ঈদের ছুটি বাড়ল একদিন
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে সরকারি ছুটি আরও একদিন বাড়িয়ে সাত দিন করেছে সরকার। মূলত মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ছুটি বাড়ানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।
বৈঠক শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঈদে সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঈদের আগে ১৮ মার্চ আরও একদিন ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে আগামী ১৬ মার্চ অফিস করেই সরকারি চাকরিজীবীদের ঈদের ছুটি শুরু হচ্ছে। কারণ ১৭ মার্চ (মঙ্গলবার) শবে কদরের ছুটি রয়েছে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। সম্ভাব্য এই তারিখ ধরে আগেই পাঁচ দিনের ছুটির তারিখ নির্ধারণ করে রেখেছে সরকার। সে অনুযায়ী ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ছিল ছুটি। তবে, নতুন করে একদিন বাড়ানোয় ১৮ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ছুটি কাটাতে পারবেন সরকারি চাকরিজীবী। এরসঙ্গে ১৭ মার্চ (মঙ্গলবার) শবে কদরের ছুটি যোগ হওয়ায় টানা সাতদিন ছুটি ভোগ করতে পারবেন তারা।
এমএন
জাতীয়
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ-এর সঙ্গে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাঁর অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বৈঠককালে তাঁরা দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু, সৌদি আরবে বসবাসরত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাদের (মিয়ানমার নাগরিক) বাংলাদেশী পাসপোর্ট প্রদান, পর্যটন ও জ্বালানি খাতে সৌদি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান। রাষ্ট্রদূত নতুন পোর্টফোলিওতে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।
মন্ত্রী বলেন, “সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ। দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতার অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। জনশক্তি রপ্তানি ছাড়াও বাংলাদেশের জ্বালানি ও পর্যটন খাতে সৌদি আরবের বিনিয়োগের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।” তিনি এসব খাতে বিনিয়োগসহ দু’দেশের সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করেন।
সৌদি আরবে অবস্থানরত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গার বাংলাদেশী পাসপোর্ট ইস্যুর প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রদূত এই প্রক্রিয়াকে আরো ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জবাবে মন্ত্রী জানান যে, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস বা প্রমাণক সাপেক্ষে ইতোমধ্যে ২২ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশী পাসপোর্ট প্রদান করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশ থেকে বিশেষ টিম পাঠানো হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি দেন যে, পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না।
মন্ত্রী আরো বলেন, যেসব মিয়ানমার নাগরিকের বাংলাদেশী ডকুমেন্টস রয়েছে বা যারা প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেছে, তাদের দ্রুত পাসপোর্ট প্রদান করতে হবে। এক্ষেত্রে সৌদি আরব থেকে পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিয়ে পুনরায় যাচাই-বাছাই করার জন্যও তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানান। মন্ত্রী আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং আগামী জুলাই মাসের প্রথমার্ধে তিনি সৌদি আরব সফর করতে পারেন বলে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয়
ডিসি-এসপিদের জন্য নতুন নির্দেশনা
জেলা সদরে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর আগমন ও বিদায়ের সময় অভ্যর্থনা ও বিদায় সংবর্ধনা জানাবেন জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের স্থানীয় পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তবে এ কারণে ডিসি বা এসপিকে তাদের নির্ধারিত সরকারি সফর বাতিল বা পরিবর্তন করতে হবে না।
যদি ডিসি বা এসপি জেলা সদরে উপস্থিত না থাকেন, তাহলে জ্যেষ্ঠ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ দায়িত্ব পালন করবেন। তবে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী বিশেষভাবে চাইলে ডিসি বা এসপি নিজ সফরসূচি বাতিল করে উপস্থিত থাকবেন।
সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা জারি করেছে, যা সোমবার (২০ এপ্রিল) প্রকাশ করা হয়। নতুন এ নির্দেশনা ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট জারি করা পূর্বের নির্দেশনার পরিবর্তে কার্যকর হবে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীদের বিদেশ গমন ও দেশে ফেরার সময় মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্ম সচিব বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন। দেশের অভ্যন্তরে সফরকালে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী তার ঢাকা ত্যাগ ও প্রত্যাবর্তনস্থলে মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর একান্ত সচিব উপস্থিত থাকবেন।
উপজেলা সদর বা উপজেলার অন্যকোনো স্থানে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর সফরকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের স্থানীয় পর্যায়ের জ্যেষ্ঠতম কর্মকর্তা অভ্যর্থনা ও বিদায় সংবর্ধনা জানাবেন। আবশ্যক না হলে জেলা প্রশাসক কিংবা পুলিশ সুপারের এ ক্ষেত্রে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই।
কোনো জেলা বা উপজেলায় আগমন বা প্রস্থানের সময় আশপাশের জেলার বিমানবন্দর বা রেলস্টেশন ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহৃত হলে সেখানে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের উপযুক্ত প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন। বিভাগীয় কমিশনার সদর দপ্তরে উপস্থিত থাকলে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর আগমনের পর সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ করতে পারেন।
মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর সফরসূচি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এসপি নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। রেলযোগে ভ্রমণের ক্ষেত্রে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর সফরসূচি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রেলওয়ে পুলিশ সুপার তৎক্ষণাৎ সংশ্লিষ্ট রুটের সব পুলিশ স্টেশন বা ফাঁড়িকে জানাবে।
যে স্টেশনে ট্রেন থেকে নামবেন এবং ট্রেনে পুনরায় উঠবেন বা কোনো জংশনে ট্রেন বদলের প্রয়োজন হবে সেসব স্থানে পুলিশের একজন ইন্সপেক্টর বা সাব ইন্সপেক্টর উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া রেলযোগে চট্টগ্রামে গমন ও প্রস্থানের সময় সেখানে চট্টগ্রাম রেলওয়ের পুলিশ সুপার উপস্থিত থাকবেন।
সাধারণ নির্দেশাবলি
মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীদের সফরসূচি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে যথাসময়ে পাঠাতে হবে।
সফরসূচিতে কোনো পরিবর্তন হলে তাও যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানাতে হবে। সার্কিট হাউস বা সরকারি রেস্ট হাউস ছাড়া নিজ বাড়ি কিংবা অন্যত্র অবস্থানের ক্ষেত্রেও প্রটোকল সংক্রান্ত বিদ্যমান নির্দেশাবলি প্রযোজ্য হবে। সংশ্লিষ্ট জেলার এসপি নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
সফরসূচি প্রণয়নের সময় সফরটি সরকারি না ব্যক্তিগত তা মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীদের দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানাতে হবে। সরকারি সফরের সময় মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীদের জন্য যানবাহন ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
জাতীয়
ব্রাসেলসে পিসিএ চুক্তির প্রাথমিক সই করলো বাংলাদেশ–ইইউ
বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি (পিসিএ)-এর প্রাথমিক স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে ব্রাসেলসে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মু. নজরুল ইসলাম এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক) পাওলা পাম্পালনি।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ইউরোপীয় কমিশনের হাই রিপ্রেজেনটেটিভ/ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজা কাল্লাস।
এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ–ইইউ সম্পর্ক আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
এমএন
জাতীয়
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক জোরদারে ঢাকায় মার্কিন স্পেশাল এনভয় চার্লস হার্ডার
বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্লোজ সম্পর্ক রয়েছে। সে সম্পর্ককে এগিয়ে নেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এসেছেন স্পেশাল এনভয় চার্লস হার্ডার।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বেলা ১১টায় রাজধানীর শাহজাদপুর লাইট ফেয়ার স্কুলে টিকা ক্যাম্পেইন পরিদর্শনে আসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগত স্পেশাল এনভয় চার্লস হার্ডার, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত বলেন, হামের টিকা ও লোকবলের কোনো কমতি নেই। যতক্ষণ পর্যন্ত সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা হচ্ছে এবং ক্যাম্পেইন চলবে।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন জানান, আগামী প্রজন্মের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ও দুদেশের পার্টনারশিপগুলো এগিয়ে নিতে স্পেশাল এনভয় চার্লস হার্ডারকে পাঠিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।
আর বাংলাদেশ হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র পাশে আছে জানিয়ে চার্লস হার্ডার জানান, সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
এমএন
জাতীয়
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির জন্য দায়ী নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী
দেশের বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। তিনি বলেছেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি দেশের মূল্যস্ফীতির জন্য দায়ী নয়। আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানির দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সোমবার (২০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সংসদে রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে জানতে চান, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে মূল্যস্ফীতি ডাবল ডিজিটে ছিল, যা এখনো খাদ্যদ্রব্যের ক্ষেত্রে ৯ শতাংশের উপরে। এই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ আছে কি না।
জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি কেন বাড়ছে, সেটি আমাদের বুঝতে হবে। সারা পৃথিবীতে জ্বালানি তেলের দাম যে অনুপাতে বেড়েছে, তার তুলনায় বাংলাদেশে সেটি অনেক কম। আমরা জ্বালানির দাম খুবই মডারেট হারে বাড়িয়েছি।
তিনি বলেন, একটি শিল্প কারখানায় মোট উৎপাদন খরচের মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ ব্যয় হয় জ্বালানির পেছনে। সেখানে ডিজেলের দাম ১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ, উৎপাদন খরচের সেই ৭-৮ শতাংশের ওপর ১৫ শতাংশ প্রভাব পড়েছে, যা খুব বড় কোনো অভিঘাত নয়।
পরিবহন খাতের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, একটি বাস ২০০ কিলোমিটার চলতে ২৫-৩০ লিটার ডিজেল ব্যবহার করে। এতে খরচ বেড়েছে ৪৫০ টাকা। এই ৩০ লিটার ডিজেলের জ্বালানি দিয়ে যে ট্রাকটি পণ্য পরিবহন করে, সেটি ১০ হাজার কেজি পণ্য বহন করতে পারে। অর্থাৎ, এই ৪৫০ টাকার প্রভাব ১০ হাজার কেজি পণ্যের ওপর পড়ে। শুনলে মনে হতে পারে দাম অনেক বেড়েছে, কিন্তু পরিবাহিত পণ্যের ইউনিটের ভিত্তিতে হিসাব করলে এটি মূল্যস্ফীতি ঘটানোর মতো কোনো বড় উদ্দীপক নয়।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশে জ্বালানি তেলের দাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয় (অটোমেটেড)। সেখানে সরকারের আলাদা পদক্ষেপের প্রয়োজন হয় না। আমেরিকার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধের আগে সেখানে গ্যালনপ্রতি দাম ২ ডলার ৭০-৮০ সেন্ট থাকলেও তা পরে ৫ ডলার ছাড়িয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, আপনি অর্থনীতিকে এমন জায়গায় নিয়ে যেতে পারবেন না, যে জায়গায় ফান্ডামেন্টাল ব্যালেন্স ইমব্যালেন্সে পৌঁছে যায়। সেই ভারসাম্য রক্ষার্থে পৃথিবীর সব দেশ যে নীতি নিয়েছে, আমরাও সেই নীতি অবলম্বন করে মডারেটভাবে মূল্যবৃদ্ধি করেছি।
এমএন



