আন্তর্জাতিক
কে এই মোজতবা খামেনি, যার কণ্ঠস্বর শোনেননি অনেক ইরানিও!
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের শুরুতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু তেহরানের শাসনব্যবস্থায় এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে। এই কঠিন সময়ে দেশ পরিচালনার হাল কে ধরবেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। আর এই দৌড়ে সবচেয়ে জোরালোভাবে উঠে এসেছে তার দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনির নাম।
ইরান সরকার এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও, পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি— ৪৭ বছরের পুরনো এই ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পরবর্তী ‘সুপ্রিম লিডার’ বা সর্বোচ্চ নেতা হতে যাচ্ছেন কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত মোজতবা।
উল্লেখ্য, গত শনিবার তেহরানে খামেনির বাসভবনে চালানো ভয়াবহ হামলায় মোজতবার মা, স্ত্রী এবং এক বোন প্রাণ হারান। তবে সেই সময় ঘটনাক্রমে সেখানে উপস্থিত না থাকায় মোজতবা অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। দেশজুড়ে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ আর রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে মোজতবা খামেনির এই টিকে থাকা এবং তার সম্ভাব্য ক্ষমতায় আরোহণকে যুদ্ধের ময়দানে ইরানের ভবিষ্যৎ কৌশলের এক ‘নতুন মোড়’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ব্যক্তিগত জীবন ও বর্তমান অবস্থা
৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি কখনও সরাসরি নির্বাচনে লড়েননি কিংবা জনমতের মুখোমুখি হননি। অথচ গত কয়েক দশক ধরে তিনি ইরানের শাসনব্যবস্থার ‘নিউক্লিয়াস’ বা ক্ষমতার কেন্দ্রে এক অতি-প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বিশেষ করে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শাখা বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (IRGC) সঙ্গে তার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর।
দীর্ঘ ৩৬ বছর ইরানের নিরঙ্কুশ ক্ষমতায় থাকা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গত শনিবার নিহত হওয়ার পর, তার শূন্যস্থানে মোজতবার নাম আসা কেবল পারিবারিক উত্তরাধিকার নয়, বরং রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। তিনি ক্ষমতায় আসা মানেই হলো— ইরানের প্রশাসনে কট্টরপন্থীদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হওয়া এবং অদূর ভবিষ্যতে পশ্চিমাদের সঙ্গে যে কোনো আপস বা আলোচনার পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া।
বিস্ময়কর বিষয় হলো, মোজতবা খামেনি বরাবরই নিজেকে লোকচক্ষুর অন্তরালে রাখতে পছন্দ করেন। তিনি জনসমক্ষে কোনো বক্তৃতা বা ধর্মীয় ভাষণ দেন না। ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও তার এই নিরবতা এতটাই রহস্যময় যে, অনেক ইরানি আজও তার কণ্ঠস্বর শোনেননি।
বিতর্ক ও রাজবংশতন্ত্রের শঙ্কা
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মূল লক্ষ্য ছিল রাজতন্ত্র উৎখাত করা। এখন যদি খামেনির স্থলাভিষিক্ত তার ছেলে হন, তবে তা এক নতুন ‘ধর্মীয় রাজবংশ’ তৈরির বিতর্ক উসকে দেবে— যা পাহলভি রাজবংশের সেই পুরনো স্মৃতিকেই মনে করিয়ে দেয়।
বিক্ষোভ দমনে কঠোর ভূমিকা
মোজতবার বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি বিরোধীদের প্রধান অভিযোগ হলো— বিক্ষোভ দমনে তার কঠোর ভূমিকা। সংস্কারপন্থীরা তার বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপি এবং আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’ ব্যবহার করে শান্তিকামী বিক্ষোভকারীদের (২০০৯ সালের গ্রিন মুভমেন্ট) ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ এনেছিলেন।
মাত্র দুই মাস আগে ইরানে যে নজিরবিহীন বিক্ষোভ হয়েছে, যাতে জাতিসংঘের মতে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, সেই রক্তক্ষয়ী অভিযানেও তার প্রত্যক্ষ প্রভাব ছিল বলে মনে করা হয়।
যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা ও অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য
মোজতবা ১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধে আইআরজিসি-র ‘হাবিব ব্যাটালিয়ন’-এ সরাসরি যুদ্ধ করেছেন। তার তৎকালীন অনেক সহযোদ্ধা বর্তমানে ইরানের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বিভাগের শীর্ষ পদে রয়েছেন। এছাড়া পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ছদ্মনামে তিনি একটি বিশাল অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন, যার মাধ্যমে কোটি কোটি ডলার লেনদেন হয়। গত বছর দেউলিয়া হওয়া ‘ব্যাংক আয়ান্দেহ’-এর সঙ্গেও তার নাম জড়িয়েছে ব্লুমবার্গ।
ধর্মীয় পদমর্যাদা
ইরানের আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ নেতা হতে হলে ‘আয়াতুল্লাহ’ পদমর্যাদার হতে হয়। কিন্তু মোজতবা বর্তমানে একজন মধ্যম সারির আলেম বা ‘হুজ্জাতুল ইসলাম’। তবে ১৯৮৯ সালে তার বাবা যখন নেতা হন, তিনিও আয়াতুল্লাহ ছিলেন না; তার জন্য আইন সংশোধন করা হয়েছিল। মোজতবার ক্ষেত্রেও একই পথ অনুসরণ করা হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতি
দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট এবং ভয়াবহ যুদ্ধের কারণে পরবর্তী নেতার ঘোষণা কখন আসবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। বর্তমানে তিন সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল দেশ পরিচালনা করছে। তারা হলেন— গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য আলি রেজা আরাফি, বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেন মহসেনি-এজেই এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
ইরানের সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী, ওই তিন সদস্যসহ ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস’ নতুন সর্বোচ্চ নেতার নাম ঘোষণা করবে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় রাষ্ট্রীয় অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের পাশাপাশি এই শক্তিশালী পর্ষদের কার্যালয়েও ভয়াবহ বোমাবর্ষণ করা হয়েছে, যা পুরো প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সূত্র : আল-জাজিরা।
এমএন
আন্তর্জাতিক
তেহরান-ওয়াশিংটন সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন, অগ্রগতি সত্ত্বেও ‘অধরা’ শান্তি
ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধই থাকবে।
ইরানের এক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ও দেশটির সংসদ মজলিসে শূরার স্পিকার বাকের কালিবাফ জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হলেও একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে দু’দেশ এখনো ‘অনেক দূরে’ অবস্থান করছে। পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে অত্যন্ত গঠনমূলক আলোচনার কথা স্বীকার করলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ে তিনি তেহরানকে কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করার সুযোগ দেবেন না।
ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধই থাকবে।
তেহরানের দৃষ্টিতে এই অবরোধ হলো যুদ্ধবিরতির শর্তের সরাসরি লঙ্ঘন। তবে পরিস্থিতির মোড় ঘুরাতে ওয়াশিংটন কিছু নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যা বর্তমানে ইরান সক্রিয়ভাবে পর্যালোচনা করছে।
এই টানাপোড়েন আসলে বিশ্ব রাজনীতির এক জটিল দাবার চাল। হরমুজ প্রণালী হলো আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের ফুসফুস, যা বন্ধ থাকলে পুরো পৃথিবীর তেলের বাজারে ধস নামতে পারে। ইরান এই ভৌগোলিক শক্তিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে মার্কিন অবরোধ ভাঙতে চাইছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন আলোচনার জানালা খোলা রাখার বার্তা দিচ্ছে, কিন্তু একইসাথে তারা তেহরানের ওপর থেকে চাপ কমাতেও নারাজ।
ওয়াশিংটনের নতুন প্রস্তাবগুলো যদি ইরানের অর্থনৈতিক অবরোধের গেরো খুলতে না পারে, তবে আলোচনার এই টেবিলে বসা কেবল কালক্ষেপণ ছাড়া আর কিছু হবে না।
আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন তেহরানের পর্যালোচনার ওপর। শান্তি আলোচনার এই ধীরগতি প্রমাণ করে যে দু’দেশের দীর্ঘদিনের অবিশ্বাসের দেয়াল এখনো কতটা শক্ত। একদিকে সামরিক উত্তজনা আর অন্যদিকে কূটনৈতিক দরকষাকষি- এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে বিশ্ববাসী এখন শান্তির আশায় থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি বলছে দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য হয়তো আমাদের আরো অনেকটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। দু’পক্ষই নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে অনড় থাকায় সামনের দিনগুলোতে এই কূটনৈতিক লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, তাই এখন দেখার বিষয়।
আন্তর্জাতিক
নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিতে ইসরায়েলে বিক্ষোভ
ইসরায়েলের তেল আবিবের রাস্তায় শনিবার হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার সরকারের পদত্যাগের দাবিতে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
বিক্ষোভকারীদের একজন রাফায়েল পিনাইনা বলেন, নেতানিয়াহু দেশের অভ্যন্তরীণ সামাজিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন এবং ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক দুর্বল করে দিচ্ছেন। এ কারণেই তিনি প্রতিবাদে অংশ নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, বিক্ষোভকারীরা ৭ অক্টোবরের ঘটনা এবং পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন, যাতে সত্য প্রকাশ পায়।
সমাজকর্মী লি হফম্যান-আজিভ বলেন, তিনি মূলত সেখানে এসেছেন ৭ অক্টোবরের পর থেকে চলমান সংঘাতে প্রাণ হারানোদের পরিবারের প্রতি সমর্থন জানাতে।
অন্যদিকে, বিক্ষোভকারী হাইম ট্রিভ্যাক্স দাবি করেন, লেবানন ও ইরানে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি ইসরায়েলের জন্য ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। তার অভিযোগ, নেতানিয়াহু দেশের স্বার্থ নয়, বরং ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্বার্থে এসব পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা সরকারের নীতির বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত রাজনৈতিক পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক
কিউবার সার্বভৌমত্ব রক্ষার আহ্বান জানাল মেক্সিকো, স্পেন ও ব্রাজিল
কিউবার পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে মেক্সিকো, স্পেন ও ব্রাজিল। দেশ তিনটি কিউবাকে আরও সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে দেশটির সার্বভৌমত্ব সম্মান করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বার্সেলোনায় বিশ্বজুড়ে বামপন্থি নেতাদের এক বৈঠকে দেশগুলো এ বিষয়ে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে।
বিবৃতিতে দেশগুলো কিউবার জনগণের ‘গুরুতর মানবিক সংকট’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। শীতল যুদ্ধের সময় ১৯৬০-এর দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে। এরপর সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে। এটিকে দেশটির নেতৃত্ব পরিবর্তনের চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার তেল আমদানি নিষিদ্ধ করেছেন। এছাড়া কিউবায় তেল সরবরাহ করলে অন্যান্য দেশগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছেন। এতে করে দেশটিতে জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট তৈরি হয়েছে। এটিকে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমনকি কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়েজ কানেলকে অপসারণেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।
বিবৃতিতে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শিনবাউম, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেডরো সানচেজ এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। তারা বলেন, কিউবার জনগণের কষ্ট লাঘবে আমরা আমাদের মানবিক সহায়তা বাড়াতে সমন্বিতভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
যৌথ বিবৃতিতে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না থাকলেও, জাতিসংঘ সনদে বর্ণিত ‘ভৌগোলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌম সমতা এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির’ প্রতি সম্মান জানানোর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
দেশগুলো জানিয়েছে, কিউবার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার শুধুমাত্র কিউবার জনগণেরই থাকা উচিত এবং তা হতে হবে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে।
এদিকে চলদি সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধ শেষ হলে কিউবার দিকে নজর দেওয়া হতে পারে। তিনি বলেন, আমরা এটা শেষ করার পর কিউবায়ও যেতে পারি।
ট্রাম্প প্রশাসন বারবার দাবি করেছে, কিউবার বর্তমান মানবিক সংকটের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নীতি দায়ী নয়। বরং এটি দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক দুর্ব্যবস্থাপনার ফল। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার ফিদেল কাস্ত্রোর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ৬৫তম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হতে পারে। অমাাদের গুরুতর হুমকি, এমনকি সামরিক আগ্রাসনের মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তবে আমরা তা চাই না। এটি এড়াতে প্রস্তুত থাকা আমাদের দায়িত্ব। আর যদি তা অনিবার্য হয়, তাহলে তা মোকাবিলা করতে হবে।
আন্তর্জাতিক
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের নতুন হামলা
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ‘হলুদ রেখা’র দক্ষিণে সম্ভাব্য হুমকি লক্ষ্য করে এই অভিযান পরিচালনা করেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার বেশ কয়েকটি গ্রামে কামান ও গোলাবর্ষণের পাশাপাশি মেশিনগানের গুলিবর্ষণ অব্যাহত ছিল। একই সঙ্গে ইসরায়েল দুটি বিমান হামলার কথাও নিশ্চিত করেছে।
ইসরায়েলের দাবি, একটি হামলায় হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের একটি দলকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, যারা ‘হলুদ রেখা’র দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। অন্য হামলায় ওই রেখার দক্ষিণে একটি সুড়ঙ্গের প্রবেশপথের কাছে থাকা এক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয় এবং প্রবেশপথটি ধ্বংস করা হয়।
তবে ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র দাবি করেছেন, এসব পদক্ষেপ যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন নয়; বরং আত্মরক্ষার অংশ হিসেবেই অভিযান চালানো হয়েছে।
এদিকে নাইম কাসেম এই চুক্তিকে লেবাননের জন্য অপমানজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কূটনৈতিক আলোচনা চললেও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি এখনও অস্থির। দক্ষিণ লেবাননের অনেক মানুষ নিজ নিজ গ্রামে ফেরার চেষ্টা করছেন, তবে যুদ্ধবিরতি টিকবে কিনা এ নিয়ে অনিশ্চয়তায় অনেকেই এখনও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
আন্তর্জাতিক
লোকসভায় ভোটে বড় পরাজয় মোদির
ভারতের লোকসভায় পাস হতে ব্যর্থ হলো নারী আসন সংরক্ষণ ও লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধির সংশোধনী বিল। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) লোকসভায় বিলটির পক্ষে পর্যাপ্ত ভোট না পড়ায় এটি বাতিল হয়ে যায়। দেশটির সংসদীয় ইতিহাসে একে নরেন্দ্র মোদি সরকারের বড় পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু এ খবর জানিয়েছে।
জানা গেছে, বিলের পক্ষে ২৯৮ জন সদস্য ভোট দিলেও বিপক্ষে ভোট পড়ে ২৩০টি। প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় বিলটি বাতিল হয়। বিলটি ২০২৯ সাল থেকে আইনসভায় নারী কোটা কার্যকর করা এবং লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রস্তাব করা হয়েছিল। এই বিলটির পরাজয়ের পর সংশ্লিষ্ট আরও দুটি বিল থেকেও সরে আসার ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, তারা এই সংক্রান্ত অন্য দুটি বিল নিয়েও আর এগোবে না। সরকারের মতে, বিষয়গুলো আলাদাভাবে বিবেচনা করা সম্ভব নয়।
বিলটি খারিজ হওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, তারা এই সংক্রান্ত অন্য দুটি বিল নিয়েও আর এগোবে না। সরকারের মতে, বিষয়গুলো আলাদাভাবে বিবেচনা করা সম্ভব নয়। বিলটি পাস না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, গুরুত্বপূর্ণ একটি সংস্কারে ঐকমত্য গড়ে তোলার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিতর্কের জবাবে জানান, ভোটার ও সংসদ সদস্যদের অনুপাতের ভারসাম্যহীনতা সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঠিক করা সম্ভব। তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালে জনগণকে সীমানা পুনর্নির্ধারণ থেকে বঞ্চিত করেছিল এবং এখনও একই অবস্থান বজায় রেখেছে।
বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী লোকসভায় তার বক্তব্যে সরকারের এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি দাবি করেন, এই বিলটির সঙ্গে নারী সংরক্ষণের কোনও সম্পর্ক নেই। বরং এটি দেশের নির্বাচনী মানচিত্র বদলের একটি প্রচেষ্টা।
রাহুল গান্ধী বলেন, দক্ষিণ ভারত, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং ছোট রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব কেড়ে নেওয়ার এই চেষ্টা একটি ‘দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড’ ছাড়া আর কিছুই নয়।



